page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

উজ্জ্বল ও সতেজ ত্বকের জন্যে যা যা খাবেন

eit1

বাজারের বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে করতে যারা ক্লান্ত তাদের জন্যে এই পোস্ট।  দামি লোশন, বিউটি ক্রিম এসব ভুলে গিয়ে শুরু করুন ভালো খাওয়া দাওয়া। অনেক মজার মজার পুষ্টিকর খাবার আছে যেগুলি আপনাকে  ন্যাচারালি সুন্দর করে তুলবে।  তেমন ৮টি খাবারের কথা থাকছে এখানে।

১. পালং শাক

পালং শাক

পালং শাক

পালং শাক অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত একটি খাবার। এতে আছে আয়রন, ক্লোরোফিল, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ, ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ভিটামিন সি।

এসব উপাদান শরীরের সাথে সাথে ত্বকেরও স্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করে। পালং শাকে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে তা সব ধরনের চর্মরোগ মোকাবেলায় কাজ করে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বককে রিংকল বা বলিরেখামুক্ত করে।

দি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার -এর একটি সাম্প্রতিক আর্টিকেল থেকে জানা গেছে যে, যারা নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি খান তাদের স্কিন টিউমার অন্যান্যদের তুলনায় কম হয়। তাই ত্বক ও স্বাস্থ্যরক্ষায় আপনার প্রতিদিনের খাবারে পালং শাক যোগ করতে পারেন।

সাবধানতা: কিডনি ও পিত্তে পাথর থাকলে, রক্তে ইউরিক এসিড বেশি থাকলে, গ্যাস্ট্রিক, হেপাটাইটিসের সমস্যা থাকলে পালং শাক এড়িয়ে চলুন।

২. মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু খেতে যেমন মজার তেমনি এর পুষ্টিগুণও অনেক। মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা ত্বককে নমনীয় ও মসৃণ রাখে। এবং ভিটামিন এ এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট তৈরি করে যা ত্বককে ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে।

৩. গাজর

গাজর

গাজর

গাজর আপনার চোখ এবং ত্বক দুইয়ের জন্যই উপকারী। আপনার ত্বককে দাগমুক্ত রাখতে এটি বিশেষভাবে কাজ করে। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ গাজর ত্বক হতে ক্যান্সারের সেলগুলিকে প্রতিরোধ করে। কচি গাজর ত্বকের জন্য অধিকতর ভালো।

৪. পেঁপে

পেঁপে

পেঁপে

পেঁপেতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম (প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ৩৯ গ্রাম) এবং পেঁপে একেবারেই কোলেস্টেরল মুক্ত। তাই ওজন কমাতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিদিন পেঁপে খাওয়া। পেঁপেতে শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত কম তাই এটা হজমে উপকারি। পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং বিটা ক্যারোটিন আর এসব উপাদান আপনার ত্বককে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করবে।

এছাড়াও ভিটামিন সি সান ড্যামেজের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

৫. টমেটো

টমেটো

টমেটো

বেশিরভাগ মানুষের ধারণা টমেটো খাওয়ার কারণে ত্বকে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটো ত্বকের জন্য খুবই ভালো। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন নামে একটি অনন্য অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আপনার ত্বকের স্বাভাবিক রং ধরে রাখে এবং বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ থেকে সুরক্ষিত রাখে।


৬. গ্রীন টি

গ্রীন টি

গ্রীন টি

প্রতিদিন এক কাপ গ্রীন টি আপনাকে দেবে সতেজতা। গ্রীন টি তে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যামিনো এসিড। তাই প্রতিদিন এক কাপ গ্রীন টি আপনার ত্বককে রাখবে ফ্রেশ এবং তরুণ। একই সাথে গ্রীন টি শরীরের মেদ কমাতেও সাহায্য করে।

তাই আপনার পছন্দের দুধ চা কিংবা ব্ল্যাক টির পরিবর্তে গ্রীনটি পানের অভ্যাস করুন।

৭. ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেট

সব চকলেট প্রেমীদের জন্যই এটা একটা সুখবর। বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে, ডার্ক চকলেটে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সাইড, ফ্যাটি এসিড এবং আর এই উপাদানগুলি ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

ডার্ক চকলেটের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে ত্বককে মসৃণ করে এবং সান ড্যামেজের হাত থেকেও ত্বককে রক্ষা করে। এছাড়া কোকোয়া শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বককে স্বাস্থ্যসম্মত করে। তবে এক্ষেত্রে আপনার ডার্ক চকলেটটি অতিরিক্ত চিনি এবং দুধমুক্ত কিনা সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন।

৮. দই

দই

দই

দই এ রয়েছে এক ধরনের প্রোটিন যা আপনার ত্বককে রাখে রিংকল মুক্ত এবং দৃঢ়। তবে হ্যা চিনিভর্তি মিষ্টি দই থেকে দূরে থাকাই ভালো। মিষ্টি দই এর পরিবর্তে কিংবা টক দইকে আরো বেশি সুস্বাদু করতে প্লেইন টক দই এর সাথে বিভিন্ন ফল মিশিয়ে খেতে পারেন। তাতে আপনি দ্বিগুণ উপকার পাবেন।

 

৯. বীজ

বীজ

বীজ

বিভিন্ন ধরনের বীজ যেমন শন বীজ, মিষ্টি কুমড়া বীজ, সূর্যমুখী বীজ ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। মিষ্টি কুমড়া বীজ এবং সূর্যমুখী বীজে রয়েছে সেলেনিয়াম, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রোটিন।

সেলেনিয়াম এবং প্রোটিন বলিরেখা দূর করে। ভিটামিন ই ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং ম্যাগনেসিয়াম ত্বককে স্ট্রেসমুক্ত সতেজ করে। তাই প্রতিদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসব বীজ ভেঁজে খেতে পারেন।

দই এর সাথে বিভিন্ন ফল মিশিয়ে খাওয়ার সময় উপরে এসব বীজ ছড়িয়ে দিতে পারেন।

 

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক