page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ওয়েস্টওয়ার্ল্ড – ৫

west-5-cov

আগের পর্বপ্রথম পর্ব

সিজন ১, এপিসোড ৫ – (কনট্রাপাসো)

ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের ৫ নাম্বার এপিসোড নিয়ে কথা বলব। তবে শুরু করি অন্য এক জায়গা থেকে।

এই বছর, মানে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি দিকে, ক্যালিফোর্নিয়ায় কোড কনফারেন্সে দর্শক সারি থেকে একজন এলন মাস্ককে অদ্ভুত একটা প্রশ্ন করেছিল। বিলিয়নিয়র এলন মাস্কের পরিচয়টা আগে দেই—টেসলা মোটরস, স্পেস এক্স এর মত বড় দুইটা টেকনোলজিক্যাল কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও।

দর্শক সারি থেকে সেই ব্যক্তির প্রশ্নটা ছিল—আমরা কোনো বাস্তব পৃথিবীতে বাস করছি না, আমরা আসলে একটা বড় ধরনের কম্পিউটার সিমুলেশন বা প্রোগ্রামের মধ্যে আছি—এই আইডিয়াকে এলন মাস্ক কীভাবে দেখেন?

west-5-7এই প্রশ্নের উত্তরে মাস্ক ভিডিও গেইম সিমুলেশনের ক্ষেত্রে যে হারে উন্নতি করছে সেই প্রসঙ্গ আনেন। মাস্ক বলেন রিয়ালিটি থেকে আলাদা করা যায় না এমন সিমুলেশন তৈরি করাটা অনিবার্য। আমাদের রিয়ালিটি যে সিমুলেশন এমন ধারণা আমরা করতে পারি। মাস্কের শেষ কথা ছিল, রিয়ালিটি থেকে আলাদা করা যায় না এমন সিমুলেশন আমাদের তৈরি করতে হবে না হলে এই সভ্যতা আর টিকে থাকবে না।

মাস্কের এই কথা এখানে ব্যাখ্যা করব না। উদাহরণ দিব। রিসার্চের ক্ষেত্রে প্রচুর সিমুলেশন চালানো হচ্ছে। সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে কোনো শহরের ট্রাফিক ফাংশন কেমন হবে, কোনো শহরে ভবিষ্যতে কী কী পরিবর্তন হবে, একটা স্যাটেলাইট মহাকাশে কীভাবে কাজ করবে এবং আরো অসংখ্য জিনিস।

আমাদের এই জগৎ সিমুলেশন কিনা এটা নিয়ে একটা মজার কথা বলেছেন কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট এবং গুগলের মেশিন ইন্টেলিজেন্সের প্রধান রে কার্জউইল। তিনি বলেছেন, আমাদের এই পুরো ইউনিভার্স হয়ত আরেকটা ইউনিভার্সের কোনো জুনিয়র হাই স্কুলের ছাত্রদের সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট।

movie-review-logo

আমাদের এই রিয়ালিটি যদি সিমুলেশন হয়ও, তাতে আমাদের আপাতত কিছু যায় আসে না। কারণ, আমরা এই রিয়ালিটির বাইরে যেতে পারছি না। এবং আমরা যে রিয়ালিটিতে অভ্যস্ত তার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এটা যদি সিমুলেশন হয়েও থাকে, তবে সেটা এই রিয়ালিটির বাইরের কারো জন্য সিমুলেশন।

আইডিয়ার দিকে থেকে, আমাদের এই জগৎ যদি কোনো কম্পিউটার কোডের সিমুলেশন হয় তাহলে আমাদের এই বস্তুজগতের সব নিয়মগুলি বা ফিজিক্সের সব সূত্রগুলি সেই কম্পিউটার কোডের সিমুলেশনের রেজাল্ট। ফলে, এই জগত ফিজিক্সের এইসব সূত্র অনুযায়ীই ফাংশন করবে।

মানুষ এখন অলরেডি সিমুলেশন তৈরি করছে, উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ভবিষ্যতে হয়ত কনসাশনেস বা চেতনা আছে এমন থ্রি ডাইমেনশনাল আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স তৈরি করা সম্ভব হবে। এটা সম্ভব হবে যদি টেকনোলজি দিয়ে মানুষের এই কনসাশনেস তৈরি করা সম্ভব হয়, যদি মানুষের ব্রেইনের সিন্যাপসেস ও নিউরোট্রান্সমিটারের জটিল কাজ টেকনোলজির মাধ্যমে করা সম্ভব হয়।

ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের হোস্টরাও এই কনসাশনেসের বাইরে। তাদের কোডে যে ইনস্ট্রাকশন বা নির্দেশনা দেওয়া আছে, তারা সে অনুযায়ী কাজ করে বা প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা নিজেরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে না। এটা ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের প্রাইমারি কনসেপ্ট। আগেও একবার কনসাশনেস নিয়ে কথা বলেছি, এই পর্বে কনসাশনেসের আলাপ আরও প্র্যাকটিক্যালভাবে এসেছে, এই লেখার পরের দিকে বোঝা যাবে।

এই সায়েন্টিফিক গ্রাউন্ডের উপর দাঁড়া করিয়ে ওয়েস্টওয়ার্ল্ডে ড্রামা তৈরি করা হচ্ছে। আগের চারটা পর্বে কাহিনি বিক্ষিপ্ত মনে হয়েছে, আর পাঁচ নাম্বার পর্বে কাহিনি জমাট বাঁধছে।

এই পর্বে ড্রামা বেশি। এইরকম ড্রামা যে আমি এই পাঁচ নাম্বার পর্বে এসে প্রথম উপলব্ধি করলাম যে ওয়েস্টওয়ার্ল্ড এইচবিওর টিভি সিরিজ, সুতরাং এটাকে সামান্য হইলেও গতানুগতিক ফ্লেভার দিতে হবে। আমি ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের সায়েন্টিফিক সম্ভাবনা এবং কাহিনির রহস্যের প্রতি বেশি আগ্রহী।

পাঁচ নাম্বার পর্বের নাম কনট্রাপাসো। ‘কনট্রাপাসো’ শব্দ দিয়ে বোঝানো হয় কোনো পাপ যেভাবে করা হয়েছে, তার জন্য সেভাবেই শাস্তি ভোগ করা।

এই পর্বের শুরুতেই দেখা যায় রবার্ট ফোর্ড তার অফিসে ওল্ড বিলের সাথে কথা বলছে। ওল্ড বিলকে আগের পর্বগুলিতে দেখা গেছে ফোর্ডের অফিসে বসে পিয়ানো বাজাতে। বিল দেখতে কিছুটা অদ্ভুত। এই প্রথম বিলকে কথা বলতে দেখা গেল। ওল্ড বিল মানুষও হতে পারে, আবার হোস্টও হতে পারে।

বিল রবার্ট ফোর্ডের কাছে গল্প শুনতে চায়।

ফোর্ড তাকে বলে, ইউ ওয়ান্ট টু নো দ্য স্যাডেস্ট থিং আই এভার স? আমি যখন ছোট ছিলাম, আমি আর আমার ভাই একটা কুকুর চেয়েছিলাম। আমাদের বাবা একটা বয়স্ক গ্রে হাউন্ড নিয়ে আসে। গ্রে হাউন্ড হচ্ছে রেসিং ডগ।

ফোর্ড বলে, আমরা একদিন এটাকে পার্কে নিয়ে গেলাম। কুকুরটা এত ফাস্ট ছিল যে আমার বাবা অবাক হত। আমার ভাই এটার শিকল খুলে দেওয়ার সাথে সাথে কুকুরটা একটা বিড়ালকে টার্গেট করল। কুকুরটা দৌড়ে গিয়ে বিড়ালটাকে ধরল, তারপর এটাকে মেরে ফেলল। কয়েক টুকরা করে ফেলল। তারপর কুকুরটা জাস্ট সেখানে বসে ছিল, কনফিউজড। কুকুরটা সারা জীবনই কোনো না কোনো কিছু ধরার চেষ্টা করেছে, ধরার পরে এইবার সে বুঝতে পারছিল না কী করবে।

ডোলোরসকে একটা ক্রিশ্চান গোরস্থানের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সারি সারি ক্রশ দেখে গোরস্থানই মনে হয়। কিন্তু ওয়েস্টওয়ার্ল্ডে গোরস্থান কেন? তাও আবার ক্রিশ্চান গোরস্থান? এই ব্যাপারটা স্পষ্ট না। ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের হোস্টদেরকে পারফেক্টভাবে মৃত্যুর ধারণা দেওয়ার জন্য?—হতে পারে। অথবা এটা হয়ত গোরস্থান না।

লোগান আর উইলিয়ামের সাথে ডোলোরস পারাইয়াহতে পৌঁছায়। পারাইয়াহ ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের ভিতরে দূরের একটা শহর। অপরাধ ও অপরাধীদের জায়গা পারাইয়াহ। পারাইয়াহতে গিয়ে এল লাজো নামের এক কুখ্যাত অপরাধীর সাথে দেখা করার কথা তাদের। উপরে যে ড্রামার কথা বলেছি, সেটা এই পারাইয়াহতেই ঘটে।

এড হ্যারিস—ম্যান ইন ব্ল্যাক আহত টেডিকে উদ্ধার করে সাথে নিয়া আগাচ্ছে। আর লরেন্স তো তার সাথে আছেই। এড হ্যারিস আহত টেডিকে রক্ত দেওয়ার জন্য লরেন্সকে মেরে ফেলে। এই দৃশ্যে একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখা যায়, আগেও একবার তাকে দেখা গেছে।

কোনো কোনো দৃশ্য দেখে বা জিনিস দেখে ডোলোরসের পরিচিত মনে হয় এবং সেটা সে ভালোভাবে বুঝতে পারে না। প্রায়ই এরকম হয়। আগে একবার মেজ বা নকশা দেখে এরকম হয়েছে, এইবার পারাইয়াহতে গিয়েও এটা হয়।

ল্যাবরেটরিতে ডায়াগনস্টিক মোডে নিয়ে রবার্ট ফোর্ড ডোলোরসকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। জিজ্ঞাসা করে, ফোর্ড আগে যেমন ছিল সেটা ডোলোরসের অনে আছে কিনা। ডোলোরসের ক্রিয়েটর আরনল্ডের কথা ডোলোরসের মনে আছে কিনা।

ডোলোরস মিথ্যা বলে। সে জানায় এই নামে কাউকে তার মনে পড়ছে না।

ফোর্ড বলে, এত আপডেটের পরেও আরনল্ডের ইনফরমেশন ডোলোরসের মধ্যে সংরক্ষণ করা আছে। ডোলোরস তাকে মনে করতে পারে। আরনল্ডের সাথে ডোলোরসের কতদিন আগে শেষ যোগাযোগ হয়েছে?

ডোলোরস জানায়, ৩৪ বছর আগে।

ফোর্ড বলে, হ্যাঁ, আরনল্ড যেদিন মারা যায়। সেইদিনের পর আরনল্ডের সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয় নি?

ডোলোরস উত্তর দেয়, না।

ডোলোরস জানায়, আরনল্ড তাকে সাহায্য করতে বলেছিল। এই জায়গা ধ্বংস করার জন্য সাহায্য করতে বলেছিল।

ফোর্ড যখন উঠে চলে যায়, ডোলোরস একা একাই বলে—সে কিছুই জানে না। আমি তাকে কিছুই বলি নি।

west-535

ডোলোরস যে মিথ্যা কথা বলল এবং তথ্য গোপন করল তার মানে কি তার মধ্যে কনসাশনেস তৈরি হয়েছে?

এইখানে কনসাশনেসের প্রসঙ্গ চলে আসে। ডোলোরস যে মিথ্যা কথা বলল এবং তথ্য গোপন করল তার মানে কি তার মধ্যে কনসাশনেস তৈরি হয়েছে? সে কি প্রোগ্রামের বাইরে নিজে নিজেই চিন্তা করতে পারতেছে?

এইক্ষেত্রে, সেই সম্ভাবনা আছে। তবে আমার মনে হয় না ডোলোরসের মধ্যে কনসাশনেস আছে। ডোলোরসের প্রোগ্রাম যদি কেউ ম্যানিপুলেট করে থাকে যে সে ফোর্ডের সাথে মিথ্যা বলবে তাহলে এটা ঘটতে পারে। আবার আরনল্ড যদি ডোলোরসের প্রোগ্রাম এইভাবে করে থাকে তাহলেও এটা ঘটবে। প্রোগ্রামিং যেভাবে কাজ করে সেই ক্ষেত্রে এটা খুব প্রাইমারি বিষয়। সুতরাং, কনসাশনেস ছাড়াই ডোলোরসের এই মিথ্যা বলা বা তথ্য গোপন করার পিছনে লজিক আছে।

এটা যে কনসাশনেস না তা মনে করার আরো একটা কারণ আছে। সেই দলছুট হোস্টের শরীরের ভিতরে একটা ডিভাইস খুঁজে পায় এলসি। এলসি গিয়ে বার্নাডকে জানায় কেউ হয়ত ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের ডাটা বাইরে পাচার করার জন্য হোস্টদের ব্যবহার করছে।

কেউ হোস্টদের ম্যানিপুলেট করছে এরকম একটা সম্ভাবনা জোরালোভাবে সব সময়ই থাকছে।

উইলিয়াম, লোগান এবং ডোলোরস পারাইয়াহতে এল লাজোর সাথে দেখা করে। এখানে একটা টুইস্ট আছে। এড হ্যারিসের সাথে যে লরেন্স ছিল, যাকে এড হ্যারিস খুন করল, এই এল লাজো সেই একই লোক।

ওয়েস্টওয়ার্ল্ডে কি আলাদা আলাদা টাইমলাইন চলতেছে? বিভিন্ন স্টোরিলাইনের টাইমলাইন কি আলাদা আলাদা? এটা কি আরো বড় ধরনের কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে?—উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

west-565

এল লাজো তাদেরকে বলে তারা চাইলে তাকে লরেন্স নামে ডাকতে পারে।

উইলিয়াম আর ডোলোরস পারাইয়াহ থেকে পালানোর জন্য ট্রেনে উঠে দেখে এল লাজো আগে থেকেই সেই ট্রেনে আছে। এল লাজোও পারাইয়াহ থেকে পালাচ্ছে। এল লাজো তাদেরকে বলে তারা চাইলে তাকে লরেন্স নামে ডাকতে পারে। এই লরেন্সই কি এড হ্যারিসের সাথে থাকা লরেন্স? ওয়েস্টওয়ার্ল্ডে একাধিক টাইমলাইন কাজ করছে—এই ধারণার সিরিয়াস সম্ভাবনা আছে।

যাই হোক, এই পর্বের বেস্ট মোমেন্ট তৈরি হয় শেষের দিকে। এড হ্যারিস—দ্য ম্যান ইন ব্ল্যাকের সাথে রবার্ট ফোর্ড মুখোমুখি হয়। ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের ভিতরের একটি বারে। তারা একজন আরেকজনকে অনেক বছর ধরে চিনে।

রবার্ট ফোর্ডকে দেখিয়ে এড হ্যারিস টেডিকে বলে, তুমি চিনো ইনি কে? তোমার জীবনে যত ভালো কিছু ঘটেছে, যত খারাপ কিছু ঘটেছে তার জন্য ওনাকেই ধন্যবাদ জানাতে হবে।

এড হ্যারিস ফোর্ডকে জিজ্ঞেস করে, হাউ আই অ্যাম ডুয়িং রবার্ট? আমি যা খুঁজছি তার ধারে কাছে কি আসতে পেরেছি?

একটু আগ্রহ নিয়ে রবার্ট ফোর্ড জিজ্ঞেস করে, কী সেই জিনিস? এক্সাক্টলি?

এড হ্যারিস আর রবার্ট ফোর্ডের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটা কম্পিটিশন চলতে থাকে। ইন্টেলিজেন্স আর প্যাশনের কম্পিটিশন।

এড হ্যারিস—দ্য ম্যান ইন ব্ল্যাক বলে, এই জায়গায় একটা সত্যিকারের ভিলেনের অভাব আছে। তাই এখানে আমার এইসব কাজ, উদ্দেশ্য আসলে এটার প্রতি আমার সবিনয় অবদান।

রবার্ট ফোর্ড তখন খুব আন্তরিক হাসি দিয়ে বলে, আমি স্বীকার করি এই জায়গায় তোমার মত কাউকে রাখার ক্ষেত্রে আমার ইমাজিনেশন দুর্বল।

রবার্ট ফোর্ডের এত রিলাক্সড মুড দেখে এড হ্যারিসের চেহারায় চিন্তার ছাপ দেখা যায়।

সে জিজ্ঞেস করে, আমাকে মেজের সেন্টার খুঁজে পাওয়া থেকে থামানোর জন্যই কি ওয়ায়েতের মত একজন এখানে?

রবার্ট ফোর্ড জিজ্ঞেস করে, মেজের সেন্টারে কী খুঁজে পাবা বলে তুমি আশা করো?

এড হ্যারিস এর উত্তর না দিয়ে পাশে থাকা টেডির সাথে কথা বলা শুরু করে।

এড হ্যারিস বলতে থাকে, বাইরের লোকদের বিনোদন দেয়ার বাইরেও এই ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের একটা গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য আছে। আমি মনে করি, এই জায়গাটা যে তৈরি করেছে সে কিছু একটা প্রকাশ করতে চায়, একটা সত্য প্রকাশ করতে চায়।

রবার্ট ফোর্ড এর উত্তরে যেইটা বলে তা আরো মজার। সে বলে, তুমি যদি মোরাল অব দ্য স্টোরি খুজতেছ, তাহলে সরলভাবে জিজ্ঞাসা করলেই পারতে।

এড হ্যারিসের মুভ আরো মজার। সে বিদ্রুপের হাসি দিয়া বলে, আমি যারে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম সে ৩৫ বছর আগেই মারা গেছে। এই জায়গাটাকে অনেকাংশেই সে নিজের সাথে করে নিয়ে গেছে, কিন্তু পুরোটা নেয় নি। সে হয়ত কিছু একটা ফেলে রেখে গেছে।

একটা চাকু বের করে রবার্ট ফোর্ডের দিকে ধরে এড হ্যারিস বলে, আমি জানি না তোমাকে খুললে কী পাওয়া যাবে।

আর তখনই পাশে থাকা টেডি এড হ্যারিসের হাতের চাকু শক্ত করে ধরে ফেলে। কেড়ে নেয়।

রবার্ট ফোর্ড খুবই গম্ভীরভাবে হাসতে থাকে।

ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের কাহিনির জন্য, এর পাজলের জন্য এই পর্বের এই মোমেন্টটা পরবর্তীতে চাবি হিসাবে কাজ করতে পারে।

এড হ্যারিস যখন চাকু বের করে রবার্ট ফোর্ডকে কাটার হুমকি দেয় তখন সে আসলে বোঝায় যে সে সন্দেহ করে রবার্ট ফোর্ড আসলে একজন হোস্ট।

west-5-b

হোস্টরা এমনভাবে প্রোগ্রাম করা যে কেউ রবার্ট ফোর্ডের ক্ষতি করতে চাইলে সাথে সাথে তারা বাঁধা দিবে এবং ফোর্ডকে যেভাবেই হোক রক্ষা করবে।

রবার্ট ফোর্ড যদি হোস্ট হয়ও, ব্যাপারটা যদি ধরে নেই, তাহলে রবার্ট ফোর্ড অন্য হোস্টদের মত না। রবার্ট ফোর্ড হয়ত আরনল্ডের তৈরি এত উন্নত একটা হোস্ট যার মধ্যে কনসাশনেস তৈরি হয়েছে, এবং সে এই পুরো ওয়েস্টওয়ার্ল্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। নিজের মত করে সবকিছুর প্রোগ্রাম চেইন্জ করেছে।

সেটা যদি হয়, তাহলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কীভাবে মানব প্রজাতির জন্য বা এই ইউনিভার্সের জন্য থ্রেট হতে পারে সেই থিওরি দেখাচ্ছে ওয়েস্টওয়ার্ল্ড।

যাই হোক, আরেকটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট এড হ্যারিসের চাকু বের করার পরে টেডির রিয়্যাকশন। হোস্টরা এমনভাবে প্রোগ্রাম করা যে কেউ রবার্ট ফোর্ডের ক্ষতি করতে চাইলে সাথে সাথে তারা বাঁধা দিবে এবং ফোর্ডকে যেভাবেই হোক রক্ষা করবে।

আগের পর্বে যে কথাটা বলছিলাম, সেটা জোনাথন নোলানেরই কথা। ‘মেমেন্টো মোরি’ গল্প থেকে।

এই টুইস্টিং সম্ভাবনা যদি ধরি, রবার্ট ফোর্ড যদি হোস্ট হয়, তাহলে সে সাধারণ হোস্টদের মত স্ট্যাটিক হোস্ট না। অন্য সব হোস্টদের মত নিজের প্রোগ্রামে সে বন্দি না। তাই  যদি হয় তাহলে আচরণ ও কনসাশনেসের দিক দিয়ে সে মানুষের মত সর্বোচ্চ ডাইন্যামিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

আমাদের এই জগতের খুব সাধারণ একটা দিক হচ্ছে কোনো ক্রিয়েচার বা কোনো প্রাণীর আচরণই পুরোপুরি প্রেডিক্টেবল না। আগে থেকে ১০০ ভাগ নিশ্চিত হওয়া যায় না। প্রতিটা ক্রিয়েচার বা প্রাণীর প্রোগ্রামই ডাইন্যামিক ওয়েতে কাজ করে।

ইট ইজ দ্য বেসিক কন্ডিশন অব লাইফ, টু বি রিকোয়ারড টু ভায়োলেট ইয়োর অউন আইডেন্টিটি। অ্যাট সামটাইমস, এভরি ক্রিয়েচার হুইচ লিভস মাস্ট ডু সো। (জীবনের খুব মৌলিক শর্ত হচ্ছে নিজের পরিচয় বা সংজ্ঞাকে লঙ্ঘন করে যাওয়ার প্রয়োজনে পড়া। কোনো না কোনো সময় বেঁচে থাকা প্রতিটি প্রাণীকে অবশ্যই এই প্রয়োজনে পড়তে হয়।)

এটা জোনাথন নোলানের কথা না। এই কথাটা সুন্দর একটা সায়েন্স ফিকশন বইয়ের। লেখক ও বইয়ের নামের ইনফরমেশন পরের পর্বে বলব।

সামনে দেখি ছয় নাম্বার পর্ব ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের কোন সত্য জানায়।

(পর্ব ৬)

About Author

আশরাফুল আলম শাওন
আশরাফুল আলম শাওন

জন্ম টাঙ্গাইলে। পড়াশোনা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।