page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

“কীভাবে খেতে হবে?” — খাবার গ্রহণের ৯টি আয়ুর্বেদিক নিয়ম

প্রায় ৫০০ বছর ধরে চর্চিত ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি আয়ুর্বেদ। সংস্কৃত শব্দ ‘আয়ুস’ (‘জীবন’) ও ‘বেদ’ (‘বিজ্ঞান’) থেকে এসেছে আয়ুর্বেদ শব্দটি। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নিরাময়ের চাইতে স্বাস্থ্যকর লাইফ স্টাইলে গুরুত্ব দেওয়া হয় বেশি।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে বিশ্বের সব পদার্থই ৫টি বিশেষ উপাদান বা পঞ্চমহাভূতের সমষ্টি। এই ৫ উপাদান হলো পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু ও মহাশূন্য। উপাদানগুলি মানুষের শরীরেও ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় বর্তমান। যে খাদ্য মানুষ খায় তাতেও সেই একই উপাদান থাকে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে মানব দেহের সুস্থতা নির্ভর করে দেহে বর্তমান উপাদানগুলির ভারসাম্যমূলক পরিমাণ ও অবস্থানের ওপর। এই ভারসাম্যের অভাব ঘটে খাদ্যাভ্যাসের ভুলের কারণে বা সমস্যাজনক লাইফ স্টাইলের কারণে।

তাই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রানুসারে খাবার গ্রহণ করার নির্ধারিত কিছু নিয়ম রয়েছে। এগুলি খাবার পরিপাক বা হজমের জন্য বিশেষ সহায়ক। তা থেকে এখানে থাকছে খাবার গ্রহণের ৯টি আয়ুর্বেদিক নিয়ম:

১) যখন ক্ষুধা লাগবে শুধু তখনই খেতে হবে
ক্ষুধা লাগার অর্থ হচ্ছে এর আগেরবার যা খাওয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণরূপে পরিপাক হয়েছে। মাঝে মাঝে ক্ষুধা লেগেছে এরকম মনে হওয়া মানেই ক্ষুধা লাগা নয়। শরীরে পানিশূন্যতার কারণেও এরকম মনে হতে পারে। শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। এবং জানতে হবে সত্যিকার ক্ষুধার অনুভূতি কোনটা।

২) শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে বসে খাবার গ্রহণ করতে হবে
খাবার গ্রহণ করতে হলে বসতে হবে। খেতে হবে যতটা সম্ভব ঝামেলা ছাড়া। মানে, খাওয়ার সময় অন্য কাজ করা যাবে না। খাওয়ার সময় টিভি, বই, ফোন, ল্যাপটপ এগুলির সাথে ব্যস্ত থাকা যাবে না।

৩) সঠিক পরিমাণে খেতে হবে
প্রত্যেক মানুষের খাবার চাহিদা এবং পাকস্থলীর সাইজ আলাদা। সবার শারীরিক বৃদ্ধির গতিও আলাদা। তাই শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খেতে হবে। ক্ষুধা পূরণ হওয়ার দিকে লক্ষ রেখে খেতে হবে।

৪) গরম এবং তাজা খাবার খেতে হবে
তাজা এবং সদ্য রান্না হওয়া খাবার খাওয়া উচিৎ। সেইসাথে সরাসরি ফ্রিজ থেকে বের করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। এর ফলে হজম শক্তি ঠিক থাকবে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এই হজম শক্তিকে বলে অগ্নি। এই অভ্যাসের কারণে পরিপাক এনজাইম বা রস ভালোভাবে কাজ করতে পারবে।

৫) খাবারের ধরনের দিকে লক্ষ রাখতে হবে
খাবার গ্রহণের সময় লক্ষ রাখতে হবে খাবার যেন একটু রসালো হয়। একদম শুকনো খাবার পরিহার করতে হবে। রসালো ধরনের খাবার ভালোভাবে এবং সহজে হজম হয়। এ ধরনের খাবার খেলে শরীর ভালোভাবে খাবারের পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।

৬) পরস্পর অসুবিধাজনক খাবার একসাথে খাওয়া যাবে না
যেসব খাবার একসাথে খাওয়া যায় না সেগুলি কখনোই একসাথে খাওয়া যাবে না। না হলে, পাকস্থলীতে সমস্যা তৈরি হবে।

৭) খাবার গ্রহণের সময় পুরো মনোযোগ খাওয়ায় দিতে হবে
খাবার গ্রহণের সময় পাঁচটি ইন্দ্রিয়ই সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। ভালোভাবে খাবারের ঘ্রাণ নিতে হবে, খাবারের প্লেট দেখতে সুন্দর কিনা সেদিকে দেখতে হবে, প্রতিটা উপাদান ভালোভাবে স্পর্শ করতে হবে, খাবারের নানারকম স্বাদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং খাবার গ্রহণের সময় যে শব্দ তৈরি হয় তা শুনতে হবে।

৮) দ্রুত খাবার গ্রহণ করা যাবে না
খাবার গ্রহণের সময় খাবার শুধু গিললেই হবে না। ভালোভাবে খাবার চিবাতে হবে। ভালোভাবে খাবার চিবানো খাবার পরিপাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৯) নিয়মিত সময়ে খাবার খেতে হবে
প্রকৃতি চক্র এবং নিয়মানুবর্তিতা পছন্দ করে। তাই প্রতিবারের খাবার প্রতিটি দিন একই সময়ে খেতে হবে।

 

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক