কুড়িল ফ্লাইওভার

Kuril 01

কুড়িল ফ্লাইওভার, পুর্বাচলের দিকে

হরতালের সুযোগে খিলক্ষেত সংযোগ দিয়ে ফ্লাইওভারটির উপরের দিকে উঠছিলাম ঘুরে দেখার ইচ্ছায়। দেখলাম আমার মত আরো অনেকেই ঘোরাঘুরি করছে ফ্লাইওভারে উঠে। এমনকি দেখলাম একজন ভ্যানচালক তার ভারি ভ্যান নিয়ে উপরের দিকে উঠছে। তাকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল তার অনেক পরিশ্রম হচ্ছে। রিক্সা বা ভ্যান চলাচলের নিয়ম থাকার কথা না ফ্লাইওভারটিতে। ভাবলাম হরতাল বলে অথবা সে ঘুরে দেখার জন্য ফ্লাইওভারটিতে উঠেছে।


কুড়িল ফ্লাইওভার

ফ্লাইওভারের উপরে ওঠার পর অনেকে রাস্তা হারিয়ে ফেলতে পারে কারণ কোনটার সাথে কোনটা যুক্ত এটা দেখে বোঝা খুব মুশকিল। তবে প্রত্যেকটি মোড়ে দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড রয়েছে। নিচে রেললাইনও আছে। কিছুক্ষণ পর পর ট্রেন যাওয়া-আসা করতে দেখা গেল। যখন নিচের দিকে নামছি, লক্ষ করলাম পাশ দিয়ে একটি বাস যাওয়ার সময় ফ্লাইওভারটি কাপঁছে।

আশেপাশে এখনো সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। লেক, পার্কসহ বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলছে।

Kuril 02

কুড়িল ফ্লাইওভার, খিলক্ষেত সংযোগ নিকুঞ্জের দিকে

বিকাল হয়ে আসলো। লোকজনের সংখ্যাও বেড়ে গেল। ফ্লাইওভারের নিচে বিভিন্ন খাবারের দোকান রয়েছে। লোকজন ঘুরতে আসলে এখানে খাওয়া-দাওয়া করে। আমিও আর বেশিক্ষণ থাকলাম না। সন্ধ্যা হয়ে আসছে দেখে চলে আসলাম।

‘কুড়িল ফ্লাইওভার’ — এই নামেই বেশি পরিচিত। কিন্তু সরকারিভাবে এর নাম ‘কুড়িল বহুমুখী ফ্লাইওভার’।

ঢাকার পুবদিকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং যানজট কমানোর জন্য ২০১০ সালের মে মাসের ২ তারিখে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট উদ্ধোধন করা হয় ফ্লাইওভারটির। মাত্র ৩৮ মাসেই এর কাজ শেষ করে রাজউক।

বিভিন্ন উৎস থেকে জানতে পারলাম, প্রথম দিকে নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছিল ২৫৪ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৬ কোটি টাকা।

পুরো ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার, প্রস্থ ৯ দশমিক ২ মিটার,উচুঁ ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার। ২৯২টি পাইল, ৬৮টি পাইল ক্যাপ, ৬৭টি পিলার ও ৪টি লুপ রয়েছে।

বালুনদীর উপর দিয়ে ১০৮ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে যেটি খিলক্ষেতের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জকে যুক্ত করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি ও রেল মালিকানাধীন ১৩ একর জমি ৪৭ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে। এছাড়া ২০ হাজার ৮শ বর্গমিটার আয়তনের একটি লেকও নির্মাণ করা হয়েছে ফ্লাইওভারের পুবদিকে।

Kuril 09

ফ্লাইওভারের দুই অংশ

ফ্লাইওভারটির নির্মাণ ও বাস্তবায়নের কাজ করেছে রাজউক। এছাড়া নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত ছিল বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ফ্লাইওভারটির কারণে কুড়িল রেলক্রসিং এখন মুক্ত। এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের কারণে আটকে থাকতে হয় না। প্রতিদিন গড়ে ৯৮ বার ট্রেন চলাচল করে। ৫ মিনিট করে হলেও প্রায় ৪৭৫ মিনিট বা প্রায় ৮ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হত আগে।

Kuril 10

ফ্লাইওভারের নিচে নৌকায় এলাকাবাসী

ফ্লাইওভারটি দেখতে অনেকটা চতুর্ভুজের মত। প্রথম কেউ দেখলে ভাববে অনেকগুলো ফ্লাইওভারের মিলে তৈরি এটি। কারণ কোন পথের সঙ্গে কোন পথের যোগ তা বুঝে ওঠা মুশকিল। কোন পথ কোন দিকে গেছে আরো বেশি নির্দেশনা থাকলে ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীরা উপকৃত হবেন।

(লেখা ও ছবি: কামরুল হাসনাত, ভিডিও: সাঈদ রূপু)

 

About Author

কামরুল হাসনাত
কামরুল হাসনাত

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন। ‌'রেডিও আমার' এ নিউজ প্রেজেন্টার ও রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।