page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

গাঁজা সেবনকারীদের জিন পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা, ফলাফল বিপদজনক

gaza1

কিছুদিন আগের এক গবেষণায় দেখা গেছে সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকিসম্পন্ন জিন যাদের শরীরে আছে তারা মারিজুয়ানা বা গাঁজা সেবনের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে থাকে। গাঁজা সেবনের ফলে সিজোফ্রেনিয়া হয় বা সিজোফ্রেনিয়া থাকলেই গাঁজা সেবন করে থাকে এমন নিশ্চয়তা না দিলেও এই দুয়ের মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিস্তারিত:

যে জিনগুলি আপনার সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় সেই জিনগুলিই আপনাকে গাঁজা বা মারিজুয়ানা বেশি ব্যবহার করতে প্ররোচিত করে।

কিছুদিন আগে মোলিকিউলার সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে যাদের শরীরে সিজোফ্রেনিয়ার সাথে সম্পর্কিত জিন আছে তারা গাঁজা সেবন করতে বেশি পছন্দ করে।

এটা অনেক বড় ব্যাপার। বিজ্ঞানীরা অনেক বছর ধরে মারিজুয়ানার সাথে সিজোফ্রেনিয়ার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু তারা এই সম্পর্কটির ধরন বা প্রকৃতি বুঝতে পারেন নি। লন্ডন কিংস কলেজের জেনেটিক গবেষক রবার্ট পাওয়ার বলেছেন, কিছু ফিজিশিয়ান আগেই বলেছেন গাঁজা সেবনে মস্তিষ্কের ডিজর্ডার ঘটতে পারে, এর ফলে আক্রান্তরা ভীতিকর চিন্তার মধ্য দিয়ে যায় এবং প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়।

কেউ কেউ বলেছেন এই অসুস্থতার কারণে আক্রান্তরা শুধুমাত্র অন্যদের মাদক ব্যবহার করতে প্ররোচিত করে। সাম্প্রতিক সময়ের অধিকাংশ গবেষণা রবার্ট পাওয়ারই পরিচালনা করেছেন।

গাঁজার গাছ

গাঁজার গাছ

পাওয়ার বলেছেন, এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে একটা সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনটি প্রথমে সে ব্যাপারে গবেষকরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না।

নতুন গবেষণাটি দ্বিতীয় ধারণাটিকে সমর্থন করে, সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় এমন জিন যাদের আছে তারা মারিজুয়ানা সেবন করতে বেশি পছন্দ করে। সম্পর্কটি সোজা — যাদের ঝুঁকিপ্রবণ জিন বেশি আছে, তারা প্রায়ই মাদক নিতে পছন্দ করে এবং তারা পরিমাণে বেশি মাদক নেয়। যদি আপনার জিনের কারণে আপনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, তাহলে আপনি হয়ত মারিজুয়ানা সেবন করতেও বেশি পছন্দ করেন।

বিস্তারিত — পাওয়ারের গবেষণা টিম দুই হাজার সুস্থ মানুষের জিন এবং মারিজুয়ানা সেবন পরীক্ষা করে, এই দুই হাজার জনের মধ্যে প্রায় এক হাজার জন ছিলেন জমজ। দেখা গেছে যাদের সিজোফ্রেনিয়ার ‘ঝুঁকি সম্পন্ন জিন’ রয়েছে তারা এই জিনবিহীন বা অল্প পরিমাণে জিন যাদের আছে তাদের চেয়ে শুধু মারিজুয়ানা সেবন করতে বেশি পছন্দই করে না, তারা পরিমাণেও বেশি সেবন করতে পছন্দ করে।

Marijuana

জমজদের মধ্যে এই সম্পর্কটি আরো বেশি স্পষ্ট। উদাহারণ হিসেবে বলা যায়, যদি দুইজনই মারিজুয়ানা সেবন করে তাহলে তাদের সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকিসম্পন্ন জিন বেশি রয়েছে। প্যারিসে, যে ক্ষেত্রে কেউ কখনো মাদক সেবন করে নি সেখানের উভয় জমজেরই অল্প পরিমাণ সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকিসম্পন্ন জিন রয়েছে। আর প্যারিসেই, যে ক্ষেত্রে একজন জমজ মারিজুয়ানা সেবন করেছে এবং আরেকজন করে নি তাদের জেনেটিক প্রোফাইল মিশ্র ধরনের।

গবেষণাটি যা বলে না – গবেষকরা শেষপর্যন্ত বলেন নি গাঁজা সেবন করলে সিজোফ্রেনিয়া ঘটে। তারা এটাও বলেন নি, সিজোফ্রেনিয়া থাকার কারণে আপনি গাঁজা সেবন করেন।

গত কয়েক বছরের গবেষণা থেকে দেখা যায় মারিজুয়ানা এবং সিজোফ্রেনিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আছে, কিন্তু কোনোটি থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় নি যে একটার কারণে আরেকটা ঘটে। যারা বলে যে তারা পঞ্চাশ বারের বেশি গাঁজা সেবন করেছে তাহলে ১৫ বছর পরে যারা করে নি তাদের চেয়ে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছয়গুণ বেশি থাকে। ২০১৩ সালে সিজোফ্রেনিয়া বুলেটিনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা টানা তিন বছর প্রতিদিন গাঁজা সেবন করেছে তাদের মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন এই পরিবর্তন হলো মস্তিষ্কের সিজোফ্রেনিয়া সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতা।

(mic.com এ প্রকাশিত এরিন ব্রডউইন Erin Brodwin এর ২৪ জুন ২০১৪ এর প্রতিবেদন ‘Scientists Studied the Genes of Pot Smokers, and the Results Are Troubling’ থেকে অনুবাদ। নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের লেখক এরিন ব্রডউইন বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখালেখি করেন। )

 

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক