page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

টিংকুজিয়া

charukola-654

ছোট বেলা থেকেই চারুকলা আমার খুব প্রিয় জায়গা। ছবি আঁকতে খুব ভালোবাসতাম বলে মা চারুকলা ঘুরতে নিয়ে যেতেন। মা চাইতেন তার ছেলেমেয়েগুলি সংস্কৃতিমনা হোক। তাই ছোট থেকেই চেষ্টা করতেন মানসিক ভাবে ইন্টেলেকচুয়াল বানাতে।

মা কী ভাবতেন তাতে তেমন মন ছিল না আমার কখনোই, কিন্তু চারুকলায় যাওয়ার ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিল প্রবল। তাই মা আর বড় ভাইয়ের হাত ধরে চারুকলায় যেতাম।

ডিমের চপ খেতেও ভালো লাগত। সাথে ফুচকা। চারুকলা যাওয়ার নাম শুনলে পুলকিত হতাম তার আরেকটা কারণ ছিল ফুচকা। মায়ের সাথে তেমন ভাবে বের হতে পারতাম না। খুব ব্যস্ত থাকতেন। বুটিক সপ, এনজিও, বাচ্চাদের গান নাচ এর একাডেমি সব নিয়ে মা ছিলেন ফুল টাইম ব্যস্ত মাদার। তাই ফুরসৎ পেতেন না। আমাদেরও বায়না করার সুযোগ আসতো না। তাই চারুকলা নিয়ে যাবেন বললে আমরা চারুকলার ব্যাপারে যত না বেশি আগ্রহি হতাম তার থেকেও বেশি আগ্রহ দেখাতাম। যাতে মা বাইরে নিয়ে যান। সেই অসম্পূর্ণ ভালো লাগা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে আমার।

একটু হাত পা মেলার সুযোগ পেতেই আড্ডা মানেই চারুকলা যাওয়ার ট্রেন্ড চলে আসলো আমাদের মধ্যে। আমাদের বলতে আমি, আদি, রিতা আপু, তন্ময় ভাইয়া আর আমার প্রিয় আর্টিস্ট আঙ্কেল শরফু। সবার মধ্যে উৎসব উৎসব আমেজ চারুকলায় আজ বিকালে আড্ডা দিব, ঘুরব, খাবো। আর ভারত থেকে খালামণি আসলে আরো ধুম পড়ে যেত চারুকলা ভ্রমণের। একই জায়গায় এতবার গিয়েও বিরক্ত লাগত না।

এখন বন্ধুদের নিয়েও চারুকলার ছাদে বসে অনেকক্ষণ উদাস হয়ে বসে থাকতেও ভালো লাগে। কোনো বন্ধু ছ্যাকা খেলেই ছুটতাম চারুকলায়। বন্ধু যেত দুঃখবিলাসে আর আমি সাথে যেতাম সান্ত্বনা দিতে। সবুজ শান্ত ক্রিয়েটিভ প্লেসে সান্ত্বনা দিতে ভালো মুড আসে। আর দুঃখ যাপন করতেও ভালো লাগত। প্রকৃত দুঃখের স্বাদ পাওয়া যেত মনে হয়।

মাঝে মাঝে উসকোখুশকো চেহারার ময়লা জামা পরা কোন ভাবুক আর্টমিস্ত্রির দিকে হা করে তাকিয়ে তাকিয়ে ভালোবাসার উদবেগ অনুভব হত। হাত পা ছড়িয়ে মাটিতে বসে গাছের শিকড় আঁকছে সেটাই ভালো লাগত। মনে মনে কল্পনা করতাম বড় হয়ে আমি এই আর্ট কলেজেই পড়বো, তখন এই ছেলে আর আমি দুজনে একসাথে বসে গাছ লতাপাতা আঁকবো।

এই ছেলেটার সাথে একটা জংলি টাইপের মেয়েকে প্রায় দেখতাম। টিংকু টিংকু বলে ডাকতো ওকে। আর টিংকু মেয়েটাকে বিন্তি বলত। তখন থেকেই টিংকুর নামটা জানলাম। আর বিন্তিকেও চিনলাম। খুব ইচ্ছা হত টিংকুর ময়লা চুলগুলো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে চিরুনি দিয়ে আচড়ে একটু ভদ্রস্থ করি।

কিন্তু এই টিংকুকে আমি একা একাই চিনি। টিংকুর দিকে তাকিয়ে থাকি। আহা… টিংকু কত সুন্দর লতাপাতা শিকড়বাকড় আঁকে! ও কত ক্রিয়েটিভ। একদিন আমাদের কথা হবে, তারপর টিংকু শিকড়-বাকড় ছেড়ে আমাকেই আঁকবে। আমি একটা নীল শাড়ি পরে এই আম গাছের ডালেই চেপে বসব পা ঝুলিয়ে। আর টিংকু আমাকে আঁকবে। ভাবলেই দুনিয়ার সব ভালো লাগা আমার ঘাড়ে ভূতের মত চেপে বসে। নামতেই চায় না। এসব ভেবে আমি একা একাই হাসি।

ক্লাস নাইন। এটাই মনে হয় ভালো লাগার উত্তম বয়স। আমার চোখে টিংকু হলো উত্তম পুরুষ। থুক্কু উত্তম ছেলে। আমি তখন প্রাথমিক কিশোরী আর টিংকু মিডিয়াম কিশোর। কী দারুণ কম্বিনেশন আমাদের!

এই টিংকুর জন্যই মাসে যেখানে দুইবার যাওয়া হত চারুকলা, সেখানে সপ্তাহে দুইবার আসার প্রাণপন চেষ্টায় থাকি। আর বাসায় বসে তো এখনি আর্ট কলেজে ভর্তির প্রস্তুতিতে ছবি আঁকা-আঁকির ব্যাপক ধূম পড়ে গেছে আমার। মা তো মহাখুশি। আমি কিছু এঁকে রাখলেই মা সেটা বাঁধাই করে আনেন। আর শরফু আঙ্কেলকে বলেন, “দেখ শরফু, অন্তরাকে তুমি যতদিন আছো আর্টের বিষয় আশয়গুলো বুঝিয়ে দাও। মেয়েটার আর্টের প্রতি বেশ টান।”

শরফু আঙ্কেলের বাড়ি আমার মায়ের দেশে ইন্ডিয়া। কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে আর্টিস্ট হয়ে বের হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন চাকরি করতে। শরফু আঙ্কেলের কলিগ আমার সুপ্তি আন্টি। আন্টিও আর্টিস্ট। একদিন আমাদের বাসায় নিয়ে আসলেন মায়ের সাথে দেখা করাতে। মা আবার নিজের দেশের কাউকে পেলে আল্লাদে আটখানা হয়ে যান। সেই আল্লাদ আট খানা থেকে বেড়ে নয় খানা হয়ে মা আঙ্কেলকে বলেই ফেললেন, “শরফু তুমি তো আমার ছোট ভাইয়ের মতই, আমার এখানেই থাকতে পারো। আমার মেয়েটা খুব ছবি আঁকতে ভালোবাসে। ওকে একটু শিখিয়ে দিতেও পারবা।”

সেই থেকে আঙ্কেল চার বছর হল আমাদের বাসায় থাকতেন। যেদিন সারা রাত আঙ্কেল বিশাল সব ক্যানভাসে রঙ তুলি নিয়ে ছবি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আমি আর আমার বড় ভাই আদি আঙ্কেলের ছবি আঁকা দেখতে বসে যাই আঙ্কেলের ছবিঘরে। কখন যে রাত পার হয়ে যেত টের পেতাম না। আমি ছবি আঁকা দেখায় মগ্ন থাকতাম।

আদি আঙ্কেলের সাথে দুনিয়ার গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসত, সাথে কাজু বাদাম আর পেপের জুস। এই বিচ্ছিরি পেপের জুস আমার মুখে রোচে না। সেখানে আদি আর অর্টিস্ট আঙ্কেল সারা রাত একের পর এক পেপের জুসে মুখ ডুবিয়ে গল্প করতেই তাকে। তবে কাজু বাদাম আমার ভালই লাগে। আমি আদির মত কাজু মুঠোয় মুঠোয় খাই না। একটা একটা মুখের ভিতর ছুড়ে ছুড়ে খাই আর আঙ্কেলর হাতের একটা একটা তুলির টান ব্রেন পর্যন্ত জমা রাখি।

আমার চোখ আর হাতের আঙুল নাকি ছবি আঁকার মত সুন্দর। ‌একেবারে ওরিয়েন্টাল স্টাইলের। তখন আর্টিস্ট আঙ্কেলর কাছে মাত্র ওরিয়েন্টাল আর ওয়েস্টার্ন স্টাইলের আর্টওয়ার্কের তালিম নিচ্ছি। আমাকে বড়দের মতই শেখাতেন আঙ্কেল। আর্টিস্ট আঙ্কেলর মুখে প্রশংসা শুনলে নিজেকে বেশ সুন্দরী মনে হত। তখন টিংকুর সাথে কথা বলার ইচ্ছাটা আরো প্রবল হয়ে যেত।

ক্লাস টেনে উঠে গেলাম। পড়ালেখার চাপ বেড়ে গেল। এখন আর মা চারুকলায় নিয়ে যেতেও চান না। আঙ্কেল উত্তরা চলে গেলেন, ওখানে একটা বাচ্চাদের আর্ট স্কুল দিয়েছেন বন্ধুরা মিলে।। মাঝে মাঝে আমাদের বাসায় আসেন। আসলে সারারাত ছবির সাথে রং তুলির ঘোরে কাটিয়ে দেন সময়। আমি এখন সারা রাত ছবি আঁকা দেখতে পারি না। বড় হওয়ার কারণে ক্রিয়েটিভিটি গ্রহণে কিঞ্চিৎ বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছে। মা মুখে কিছু বলেন নি কিন্তু ছোট বেলা থেকেই আমি খুব বুঝদার। কিছু কিছু ব্যাপার বলার আগেই সাবধান হয়ে যেতাম। তাই মন টানলেও ছবিঘর আমার মাথা টানতে পারত না। সকাল হতেই ছবিঘরে চলে যেতাম। ক্যানভাসে নতুন একটা ছবি আমাকে খুব আনন্দ দিত। সেই আনন্দ মনে মনে টিংকুর সাথে ভাগ করে নিতাম। কল্পনা করতাম আমি এমন ছবি এঁকেছি দেখলে টিংকু খুব খুশি হবে। আমার সমাজ বইয়ের লাস্ট পেজে টিংকুর একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করেছি।

চারুকলা

প্রায় তিনমাস হল টিংকুকে দেখি না। তবে লাস্ট যেদিন আমি আর রিতা আপু চারুকলায় খরখরে রোদের মধ্যে তপস্যা করে টিংকুকে দূর থেকে দেখছিলাম সেদিন টিংকু আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে বেশ কয়েকবার যে দেখছিল আমি বুঝতে পারছিলাম। রিতা আপুর চোখও এড়ালো না। আমার এত ভালো লাগছিল যে এক মাস না দেখেই আনন্দে আনন্দে কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু এর পরে ওকে দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। কোনো উপায় পেলাম না যাওয়ার। ইদানিং বের হতে পারি না। ছুতা-নাতা মা ধরে ফেলেন। মায়ের ধারণা ঘোরাফেরা ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নাই। দিন দিন নাকি আমি বাইরের দিকে চলে যাচ্ছি। মেয়েদের ঘরের দিকে মন দেয়াই কাজ।

অনেকদিন হল রিতা আপুও আসছে না বাসায়। আপু আসলে আমি আর রিতা আপু বের হতে পারতাম। বাসার টিএনটি ফোন থেকে আপুকে ফোন করেই ফেললাম। টিংকুকে ছাড়া আর দিন চলছেই না আমার। এখন একবার না দেখলেই নয়।

আপু বলল, কালই আসবে। কাল পর্যন্ত সময় কাটাতে খুব কষ্ট হচ্ছে এখন।

সারাদিন খুশিতে লাফাচ্ছি আমি। মাকে বললাম, “মা কাল রিতা আপু আসবে বাসায়। আপু ফোন দিয়েছিল।”

মা বললেন, “কখন ফোন করল? আমাকে দিলি না কেন? কতদিন মেয়েটা আসে না। দেখি কাল রিতার জন্য পুঁইশাক চিংড়ি রান্না করব। মেয়েটা খুব পছন্দ করে।”

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মনে মনে রেডি হচ্ছি বিকালে বের হবো, কোন ড্রেসটা পড়ব, চুল কীভাবে বাঁধলে আমাকে ভালো লাগবে। আপুকে এখনও বলি নি চারুকলা যাওযার প্ল্যান আমার। মাকে রাজি করাতে হবে আপুর। মা গোসল করতে গেলে আমি রিতা আপুকে ফোন দিলাম, “আপু চল না আজ আমরা ঘুরতে বের হই? আপু বলল, কোথায় যাবা? আন্টি যেতে দিবে? আমি তো আবার একটু ব্যস্ত। যদি যাই আজ তাহলে তোমাকে একা আসতে হবে চারুকলায়। আমি বাসা থেকে আসছি।”

আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, মনটাও খারাপ লাগছে। এখন কী হবে! আমি আপুকে বললাম, আপু মা তো এভাবে একা আমাকে যেতে দিবে না।

আপু বলল, আচ্ছা আমি আন্টিকে বলব তুমি পান্নার বাসায় আসবা, আমি এখানে থাকব। পান্নার বাসা তো কাছেই এর আগে আন্টি তোমাকে আসতে দিয়েছিল। বলল, পান্নার ছেলের জন্মদিন।

আমি মাকে বললাম, “মা রিতা আপু ফোন করেছে।”

মা গোসল থেকে বের হয়েছে ততক্ষণে। ফোনে আপুর সাথে কথা বললেন। তারপর আমাকে বললেন, “অন্তরা রেডি হয়ে নিও, দুপুরের পর পান্নার বাসায় যেতে হবে। ওর ছেলের জন্মদিন, টাকা নিয়ে গিয়ে কিছু কিনে নিও।”

দুপুরে খেয়ে খুব ভালো করে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। একা একা খুব একটা বের হই নি আমি। কিন্তু বেশ ভালোই লাগে। মা গিফট কেনার টাকা দিয়েছেন। এটা দিয়ে দিনটা ভালই কাটবে। রিক্সায় করে চুল খুলে দিয়ে শাহবাগ গেলাম। আকাশে মেঘ করেছে। আকাশ পুরা কালো হয়ে গেছে। আপু বলেছে চারটায় চারুকলার গেটে থাকবে। আমি তিনটায় চলে আসলাম। তার ওপর বৃষ্টির আবির্ভাব… টিংকু তো তাহলে আজ আর ছবি আঁকবে না বাইরে বসে। এছাড়া টিংকুকে আমি কোথায় পাবো! মনটা খারাপ করে রিকশাভাড়া দিয়ে নামতেই মুষল ধারায় বৃষ্টি নামল। আমি ভিজতে ভিজতে চারকলার গেটের ভিতর এসে দাঁড়ালাম। বৃষ্টিতে কোন ভাবেই ভেজা যাবে না। কিন্তু টিংকুকে না দেখার বেদনা আমাকে দুঃখী করে ফেলল। দূরে অনেকগুলি চারুকলার ছেলেমেয়ে ভিজছে। একটা ছেলে একটা মেয়ের চুলে ফুল গুজে দিল। ব্যাপারগুলি খুব রোমান্টিক। মনটা ভাল হয়ে গেল। আমারো ভিজতে ইচ্ছে হল।

সাড়ে তিনটাও বাজে না। কিছু না ভেবে হঠাৎ করে আমি একটা নিরিবিলি কোনায় গিয়ে ভিজতে থাকলাম। গাছ থেকে একটা জবা ফুল ছিঁড়ে চুলেও গুজলাম। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে নাচতেও ইচ্ছা হচ্ছিল। একটু আড়ালে এসে একাই ভিজছি। আশেপাশে অনেক দূর পর্যন্ত কেউ নেই।

হঠাৎ কেউ একজন পিছন থেকে ডাকল এই মেয়ে?

আমি পিছনে ফিরে দেখি ওমা এটা দেখি টিংকু! বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে মনে জপতে থাকলাম, আমি পাইলাম পাইলাম তাহারে।

হাসি হাসি মুখ নিয়ে বললাম, আমাকে বলছেন? টিংকু কর্কশ ভাবে বলল, “হুমম তোমাকেই বলছি। সমস্যা কী তোমার? কোন সাহসে গাছ থেকে ফুল ছিঁড়লা? গাছের অনুমতি নিয়েছিলা?

মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে বজ্রপাত হচ্ছে টিংকুর মুখ থেকে। বললাম, “সরি আমি ঠিক আপনার কথা বুঝলাম না?”

টিংকু আবার বলল, “না বোঝার কী আছে? তুমি গাছ থেকে ফুল ছিঁড়েছো এখন গাছে আবার লাগায় দাও।”

আমি বোকার মত বললাম, “আবার গাছে ফুল কীভাবে লাগিয়ে দিব? এটা কীভাবে সম্ভব? আপনি এসব কথা কেন বলছেন? আমি এমন কী করলাম?”

টিংকু এখন আমাকে অনেক জোরে ধমক দিয়ে বলল, একদম চুপ, যেটা বলছি সেটা করতে হবে তোমাকে। বেয়াদবের মত তর্ক করবা না। আমি এক থেকে দশ গুনব তুমি ফুলটা যেমন ছিল সেভাবে রেখে দিবা।

আমার আশে পাশে কেউ ছিল না। যারা ভিজছিল তারাও অনেকটা দূরে। শখের ঠেলায় বৃষ্টিতে ভিজতে এসে এখন কান্না পাচ্ছে। আমি কেঁদেই ফেললাম। আমাকে কাঁদতে দেখেও টিংকু থামল না। আরো জোরে বলল, কী হল, কী বললাম তোমাকে বুঝতে পারছ না? এই মেয়ে তোমার বাসা কোথায়? এই এলাকায় কোন সাহসে এসে ফুল ছিঁড়লা, আবার কাঁদছো? এক্ষণি বের হও এখান থেকে। নেক্সট টাইম তোমাকে আশেপাশে দেখলে ওই যে বট গাছের পাশে রুম আছে, ওখানে বেঁধে রেখে দিব।

আমি আরো জোরে কাঁদতে থাকলাম। হাত থেকে ব্যাগটা ফেলে দিলাম। ওখানে দাঁড়িয়েই কাঁদছি। আমার সামনে টিংকু, আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ছে এখনও। আমরা দুজনেই ভিজছি।

টিংকু আমার চুল থেকে জবা ফুলটা টেনে খুলে ফেলল।

আমি ব্যাগটা তুলে দৌড়ে বের হয়ে গেলাম চারুকলার গেট থেকে। হাঁটতে থাকলাম সামনের দিকে। কোন রিকশা নেই। একটা রিকশা দূর থেকে আসছে। বললাম, যাবেন বাসাবো মায়া কানন?

রিকশাঅলা বলল, ওঠেন।

ভাড়া না করেই উঠে বসলাম। রিকশায় উঠে আরো জোরে চিৎকার করে কাঁদছি আমি। রিকশাঅলা একটু পর পর পিছন ফিরে তাকাচ্ছে। আমি তাও কেঁদে যাচ্ছি। আস্তে আস্তে চারুকলা ঝাঁপসা হয়ে আসছে আমার দৃষ্টি থেকে।

About Author

নওয়াজ ফারহিন অন্তরা
নওয়াজ ফারহিন অন্তরা

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন। জন্ম- ঢাকা, মে ১৯৯৩।