page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ডায়াবেটিস ও আপনার পা — কী করবেন এবং করবেন না

বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস খুব সাধারণ ব্যাপার। আমাদের দেশে চল্লিশ বছর বয়সের পরে অনেক মানুষেরই ডায়াবেটিস হতে দেখা যায়। দিন দিন এই হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়াবেটিস রোগীদের অন্য অনেক ব্যাপারের মতই পায়ের ব্যাপারেও সচেতন থাকা উচিৎ। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের পায়ে নিউরোপ্যাথি বা স্নায়ু অবশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার কোনো ধরনের আঘাত থেকেও ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে মারাত্মক ইনফেকশন তৈরি হতে পারে, কারণ ডায়াবেটিসের কারণে কোনো ক্ষত বা ঘা সহজে শুকায় না। নিয়ম মেনে পায়ের যত্ন নিলে এসবের ঝুঁকি কমে যায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জানা থাকা উচিৎ পায়ের যত্নে তারা কী করবে আর কী করবে না। এখানে ডায়াবেটিস রোগীদের যা করা উচিৎ এবং উচিৎ না এরকম ১২টি করে পরামর্শ থাকছে। এগুলি মেনে চললে সরাসরি উপকার পাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিস আপনার পায়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর কারণ হলো, ডায়াবেটিস পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বা নার্ভ ড্যামেজ ঘটায়। অর্থাৎ স্নায়ু অবশ করে দেয়। এর ফলে আপনি আপনার পায়ের অনুভূতি হারাবেন অথচ জানতেও পারবেন পা কাটল কিনা বা পায়ে কোন আঘাত লাগল কিনা।

এর থেকে পরবর্তীতে সিরিয়াস ইনফেকশন বা ঘা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ ডায়াবেটিস রোগীদের কোনো ইনফেকশন বা ঘা হলে তা সহজে ভালো হয় না এবং পরবর্তীতে শরীরের ভিতরে টিস্যুগুলিতে ইনফেকশন ঘটায়। এই সমস্যা সিরিয়াস পর্যায়ে গেলে শরীরের সেই অংশ কেটে ফেলে দিতে হয়।

যদি আপনি জানেন কী করতে হবে তাহলে পায়ের যত্ন নেওয়া অনেক সহজ। প্রতিদিন ভালোভাবে দেখুন আপনার পায়ে ইনফেকশনের কোনো চিহ্ন আছে কিনা। দেখুন আপনার পা অস্বাভাবিক লাল হয়ে আছে কিনা, পায়ে ফোস্কা পড়েছে কিনা বা ফোঁড়া উঠেছে কিনা। আরো দেখুন আপনার পা ফুলে উঠেছে কিনা, পায়ে ব্যাথা আছে নাকি, কোথাও কেটে গেছে কিনা, পায়ের নখ বেশি বেড়ে গেছে কিনা বা পায়ে কালশিটে দাগ পড়েছে কিনা। আপনার জুতা-মোজা খোলার সময়েই আপনি এইসব বিষয় খেয়াল করতে পারেন। যদি আপনি নিজে আপনার পুরো পা দেখতে না পারেন তাহলে আয়না ব্যবহার করুন অথবা বাসার অন্য কাউকে আপনার পা দেখতে সাহায্য করতে বলুন।

আপনার পায়ের জন্য সবচেয়ে ভালো যে জিনিসটা করতে পারেন, তা হল আপনার ব্লাড সুগার লেভেল সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখুন। বছরে একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পা পরীক্ষা করান। যদি আপনার নার্ভ ড্যামেজ বা স্নায়ু অবশ হয়ে গিয়ে থাকেই, তাহলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং পায়ের যত্ন সতর্কতার সাথে নিন। তাহলে পরবর্তীতে আর কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আগের নার্ভ ড্যামেজ সেরেও যায়।

কী করবেন এবং কী করবেন না তার এই তালিকা আপনার পা সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

leg2

ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের যত্ন, যা করবেন এবং যা করবেন না


যা করবেন

প্রতিদিন সাবান এবং হাল্কা গরম পানি দিয়ে পা ধোবেন। তবে পানির তাপমাত্রা যেন কোনোভাবেই ৯০ ডিগ্রী বা ৯৫ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি না হয়। হাত দিয়ে বা থার্মোমিটার দিয়ে পানির তাপমাত্রা ভালোভাবে দেখে নিন। পা ধোওয়ার পর পা ভালভাবে আলতো করে মুছে শুকিয়ে নিন। পায়ের দুই আঙুলের মাঝখানে যেন ভেজা না থাকে।

যা করবেন না

একেবারে বেশি গরম পানিতে পা ধুবেন না। পা পুড়ে যেতে পারে বা ফোস্কা পড়তে পারে।


যা করবেন

পায়ের ত্বক নরম রাখার জন্য পায়ে লোশন বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন। পায়ে মোজা এবং জুতা পরার আগে মেডিসিন ছাড়া সাধারণ পাউডার দিয়ে নিন। এর ফলে পা শুকনা থাকবে।

যা করবেন না

পায়ের তালুতে বা দুই আঙুলের মাঝখানে কখনোই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না।


যা করবেন

leg3চিকিৎসকের কাছে জিজ্ঞাসা করুন আপনার পায়ের নখ আপনারই কাটা উচিৎ কিনা। ডাক্তার হ্যাঁ বললে, আপনার পায়ের নখ সোজাভাবে কাটবেন। এতে নখ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না। নখ কাটার পর নখ ঘষে নিন যাতে নখ কোনার দিকে তীক্ষ্ণ না থাকে।

যা করবেন না

পায়ের নখ কাটতে ছুরি ব্যবহার করবেন না। কখনোই পায়ের নখ হাত দিয়ে টেনে ছিঁড়বেন না।

যা করবেন

সবসময় জুতা ব্যবহার করবেন। ঘরে থাকলেও স্যান্ডেল পরে থাকবেন।

যা করবেন না

খালি পায়ে বা শুধু মোজা পরে হাঁটবেন না।


যা করবেন

যে জুতা আপনার পায়ে সহজে ফিট করে সেই জুতা ব্যবহার করুন। দেখুন জুতার ভিতরে যথেষ্ট জায়গা আছে কিনা। জুতার দোকানে দিনের শেষে যান, কারণ এ সময় আপনার পা যথেষ্ট প্রসারিত অবস্থায় থাকে।

যা করবেন না

যে জুতা টাইট বা আটোসাটো লাগে তা পরবেন না।


যা করবেন

যেসব জুতায় বাতাস ঢোকে সেসব জুতা ব্যবহার করুন। যেমন – চামড়া, ক্যানভাস বা সোয়েডের জুতায় বাতাস ঢোকে। নরম সোলের জুতা ব্যবহার করুন কারণ নরম সোলের জুতার চাপ সহ্য করার ক্ষমতা থাকে। ফিতাওয়ালা জুতা ব্যবহার করুণ, এগুলি ভালো সাপোর্ট দিবে আপনার পা’কে।

যা করবেন না

সাধারণত বাইরে যাওয়ার জন্য স্যান্ডেল পরবেন না। হাই-হিল, ফ্লিপ-ফ্লপস এবং ওপরের দিকে খোলা থাকে এমন জুতা এড়িয়ে চলুন।


যা করবেন

জুতাতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখামাত্রই তা বদলে ফেলুন। যেমন, জুতার হিল যদি নিচে একদিকে অথবা মাঝখানে ক্ষয়ে যায় তাহলে সে জুতা বাদ দিন। প্রায়ই জুতার ভিতর চেক করে দেখুন কোনো নুড়ি-পাথর আছে কিনা, জুতার ভিতরে কোনো অংশে অস্বাভাবিক কিছু হয়েছে কিনা অথবা ক্ষয়ে গেছে কিনা।

যা করবেন না

যেসব জুতার ভিতরের কোনো অংশ নষ্ট হয়েছে বা ক্ষয়ে গেছে সেসব জুতা পরবেন নয়া। সেগুলি ফেলে দিয়ে নতুন জুতা পরা শুরু করুন।


যা করবেন

পায়ের যেকোনো ধরনের সমস্যার জন্য ডাক্তারের কাছে যান। ছোট বড় যেকোনো সমস্যার জন্যই এ উপদেশ মেনে চলুন।

যা করবেন না

ছোট বড় কোনো সমস্যায়ই নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কিছু করবেন না। পায়ের সমস্যার জন্য ডাক্তার ছাড়া নিজের বা অন্য কারো পরামর্শে কোনো ওষুধ বা কিছু ব্যবহার করবেন না।


যা করবেন

সবসময় শুকনো মোজা পরবেন।

যা করবেন না

স্ট্রিচ মোজা বা নাইলনের মোজা পরবেন না।

১০
যা করবেন

কটনের মোজা ব্যবহার করবেন। অন্তত দুই জোড়া মোজা রাখুন। একদিন যেটা পরবেন পরের দিন সেটা না পরে আরেকটা পরবেন।

যা করবেন না

ভিতরে একাধিক স্তর আছে অথবা উপরের দিকে ইলাস্টিকের ব্যান্ড আছে এমন মোজা ব্যবহার করবেন না।

১১
যা করবেন

leg4আপনার পা যদি ঠাণ্ডা থাকে তাহলে ঘুমাতে যাবার আগে মোজা পরে ঘুমাতে যান।

যা করবেন না

পায়ে কখনোই তাপ দেওয়ার জন্য পানির বোতল, ইলেক্ট্রিক কম্বল অথবা হিটিং প্যাড ব্যবহার করবেন না। কারণ এর ফলে আপনার পা পুড়ে যেতে পারে।

১২
যা করবেন

আপনার পা দিনে বেশ কয়েকবার নাড়াচাড়া করুন। পায়ের উপরিভাগ বাঁকা এবং সোজা করুন। এতে রক্ত প্রবাহ ঠিক থাকবে।

যা করবেন না

এক জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না। পা ক্রস করে এক জায়গায় অনেকক্ষণ বসে থাকবেন না। এতে পায়ের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।

১৩
যা করবেন

সবসময় অ্যাকটিভ থাকুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট আপনার শরীরকে টানা নড়াচড়ার মধ্যে রাখুন। ডাক্তারের কাছে থেকে জেনে নিন আপনার জন্য কোন ধরনের ব্যায়াম উপযোগী।

যা করবেন না

ধূমপান করবেন না। ধূমপানের কারণেও আপনার পায়ে রক্ত প্রবাহে বাধা তৈরি হতে পারে।

১৪
যা করবেন

ডাক্তারকে যেকোনো ধরনের পায়ের সমস্যার কথা বলুন।

যা করবেন না

সবসময়ই পা খোলা অবস্থায় রাখবেন না। আপনার পাকে দিনে একবার কিছুক্ষণের জন্য ঢেকে রাখুন। এতে পা সুস্থ থাকে।

জুতার টিপস
অন্তত দুই জোড়া জুতা রাখুন। একেকদিন একেক জোড়া ব্যবহার করুন।
নতুন জুতা আস্তে আস্তে ব্যবহার করতে শুরু করুন। প্রথমে প্রতিদিন তাদের এক ঘণ্টা করে পরুন। কিছুদিন পর সেগুলি নিয়মিত পরতে পারবেন।

ডাক্তারের কাছে থেকে জেনে নিন আপনার পায়ের জন্য বিশেষ কোনো জুতার দরকার আছে কিনা।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক