page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

দিনে কয় কাপ চা খাবেন এবং চা খেলে কী হবে

tea-1

চা প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল চিনে। আর এখন সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন স্বাদের চা পান করে মানুষ।

চায়ের বিভিন্ন প্রকার ও স্বাদের অনেক ধরনের গুণাগুণ আছে। চায়ের উপকারিতা অনেক। চা সারাদিন আপনার শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। আপনি সারাদিনে ছয় থেকে আট কাপ চা পান করতে পারেন, তা আপনার উপকারে আসবে।

তবে ক্যাফেইনের পরিমাণের দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। ক্যাফেইন বিবেচনায়, সারাদিনে ৫ কাপের বেশি ক্যাফেইন সমৃদ্ধ চা খাওয়া উচিৎ নয়। আর বেশি ক্যালরি যাতে গ্রহণ করতে না হয় সেজন্য চায়ের সাথে চিনির পরিমাণের দিকে ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

শরীরের পানিশুষ্কতা প্রতিরোধের জন্য চা
আমাদের দেহের বেশিরভাগ অংশই তরল। শরীরের কোষ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও জয়েন্টগুলিকে সচল রাখতে ও ভালোভাবে কার্যকর রাখতে পানির ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শরীর যথেষ্ট পরিমাণ পানি না পেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সারাদিনে অন্তত ছয় থেকে আট গ্লাস পানি বা স্বাস্থ্যকর তরল পানীয় পান করা উচিৎ। এই স্বাস্থ্যকর তরল পানীয়ের মধ্যে চা-ও পড়তে পারে, তবে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সবচেয়ে আদর্শ হল পানি। আর ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয়, যেমন চা, যথাযথ বা নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে পান করলে তা শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করবে না।

কী পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ করবেন
দিনে ছয় থেকে আট কাপ চা পান করলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যাফেইনের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে। সারাদিনে ছয় থেকে আট কাপ চা পান করলে বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করার একটা আশঙ্কা থাকে। প্রায় সব ধরনের চায়েই বিভিন্ন পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। চায়ের ধরনের উপর নির্ভর করে আট আউন্স পরিমাণের এক কাপ চায়ে ৯ থেকে ৭২ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। শরীরে বেশি ক্যাফেইন প্রবেশ করলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ঘুম না হওয়া, বমি বমি ভাব, অস্থিরতা, প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ হওয়া ইত্যাদি।

tea-12988

যথেষ্ট পরিমাণ ক্যাফেইন আছে এমন চা পান করলে দিনে ৫ কাপের বেশি চা পান করা কোনোভাবেই উচিৎ না। তাও একবারে এক কাপের বেশি কখনোই না। আর ক্যাফেইন ছাড়া বা ডিক্যাফেইনেটেড চা পান করলে দিনে ছয় থেকে আট কাপ চা পান করতে পারেন। যেমন হার্বাল চায়ে ক্যাফেইন থাকে না।

গ্রিন টি বা সবুজ চা
গ্রিন  টি বা সবুজ চা এমন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় যে চা পাতাগুলিকে গাঁজানো হয় না বা ফার্মেন্টেশন করা হয় না।

গ্রিন  টিতে পলিফেনলের মাত্রা বেশি থাকে। পলিফেনল খুব শক্তিশালী ধরনের প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।

এটা আপনার শরীরের কোষগুলিকে নষ্ট বা ড্যামেজ হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়, শরীর থেকে ফ্রি র‍্যাডিকেল ও বিষাক্ত উপাদানগুলিকে বের করে দেয়।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার বলেছে, দিনে ২ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করলে গ্রিন টি এর পলিফেনলের সকল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাগুণ পাওয়া সম্ভব। গ্রিন  টিতেও ক্যাফেইন থাকে তবে পরিমাণে সাধারণ চা বা ব্ল্যাক টি এর চেয়ে কম। ডিক্যাফেইনড গ্রিন টিতে বা ক্যাফেইন বের করে নেওয়া গ্রিন টিতে পলিফেনলের পরিমাণ কম থাকে। ফলে, গ্রিন টি থেকে পলিফেনলের বেশি উপকারিতা পেতে চাইলে ক্যাফেইন সমৃদ্ধ গ্রিন টি পান করতে হবে। দিনে ছয় থেকে আট কাপ গ্রিন টি পান করতে পারবেন, তবে ক্যাফেইনের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকলে গ্রিন টি কাজে দেয়। চিনের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় পেটে গ্যাস হওয়ার সমস্যায় ও রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে গ্রিন টি ব্যবহার করা হয়।  গ্রিন টি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ও মানসিক বা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।

হার্বাল টি বা ভেষজ চা
সাধারণ চা গাছের পাতা থেকে হার্বাল টি বা ভেষজ চা তৈরি করা হয় না। বিভিন্ন ধরনের গুল্ম বা হার্ব থেকে হার্বাল টি তৈরি করা হয়।

হার্বাল টিতে প্রাকৃতিকভাবেই কোনো ক্যাফেইন থাকে না। এই কারণে ক্যাফেইন নিয়ে কোনো চিন্তা ছাড়াই আপনি সারাদিনে ৬ থেকে ৮ কাপ হার্বাল টি পান করতে পারবেন।

ক্যামোমিল ফুলের পাপড়ি থেকে ক্যামোমিল চা নামে এক ধরনের হার্বাল টি তৈরি করা হয়। এই হার্ব বা ভেষজ উপাদানটি সাধারণত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অস্থিরতা বা উদ্বেগ দূর করতে, ঘুম না হলে, পেটে বা পাকস্থলীতে সমস্যা হলে, ছোটোখাটো ইনফেকশন বা সংক্রমণ হলে এটা দারুণ কাজে দেয়।

ক্যামোমিলের মত পেপারমিন্ট বা মেন্থলও অনেক ব্যবহার করা হয়। অস্থিরতা দূর করতে ও নার্ভ শান্ত রাখতে এটা ব্যবহার করা হয়। ঠাণ্ডা, সর্দি, মৌসুমি জ্বরে, বমি বমি ভাব হলে ও মাথাব্যথায়  আদা-চা বা জিনজার টি খুব ভালো কাজ করে।

ক্যালরির দিকে নজর রাখবেন যেভাবে
চা পান করলে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা হয়ে গেল কিনা এমন চিন্তা আসতেই পারে। সেক্ষেত্রে চিনির দিকে লক্ষ্য রাখুন, চায়ের সাথে বেশি চিনি যোগ করবেন না।

এবং চায়ে দুধও দিবেন না। লো ফ্যাট যুক্ত দুধে, এক আউন্সে ১৩ ক্যালরি থাকে। ফলে, আপনি যদি দিনে ছয় থেকে আট কাপ দুধ-চা পান করেন, তাহলে ৭৮ থেকে ১০৪ ক্যালরি গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটা চলতে থাকলে ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাছাড়া, সাধারণ চা বা ব্ল্যাক টিতে যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, দুধ দিলে তা কমে যায়।

আর চায়ে যদি চিনি খান তাহলে আপনার জন্য সারাদিনে প্রচুর চিনি খাওয়া হয়। প্রতিবার এক চা চামচ করে চিনি খেলেও, যত কাপ চা পান করবেন তত চামচ চিনি আপনি খাচ্ছেন। আর সারা বিশ্বের সকল স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি যোগ করা খাবার খেলে আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি এবং তা এক সময় অবেসিটি বা স্থূলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সুতরাং আপনার চিনি ছাড়া চা পানের অভ্যাস করা উচিৎ।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক