page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মেডিকেল বিস্ময়: দুর্ঘটনায় হৃৎপিণ্ড ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেও আহত ব্যক্তি বেঁচে আছে!

heart4

ইতালিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির হৃদপিণ্ড বুকের বাম দিক থেকে সরে ডান পাশে চলে এসেছে। এই মারাত্মক আহত অবস্থা সত্ত্বেও সেই ব্যক্তি বেঁচে আছেন। এ ধরনের ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার উদাহারণ এটিই প্রথম।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে থাকা যেসব চিকিৎসক এই ৪৮ বছর বয়সী ভদ্রলোকের চিকিৎসা করেছেন তারা জানিয়েছেন তারা যখন তার হার্ট বিট শোনার চেষ্টা করছিলেন তখন তারা দেখেন তার হার্টটি অস্বাভাবিক অবস্থানে রয়েছে। এরপর বুকের এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় ওই ব্যক্তির হার্ট ডান দিকে ৯০ ডিগ্রী ঘুরে গেছে।

heart3

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক্সরের ছবি। বাম দিকের এক্সরেতে ঘুরে যাওয়ার পরে হার্টের অবস্থান। এবং ডান দিকের এক্সরেতে ২৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে এসেছে হার্ট।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ প্রকাশ করা প্রতিবেদনে এই কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিউ ইয়র্ক সিটির লেনক্স হিল হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিস সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. গ্রেগরি ফন্টানা বলেছেন, এটি খুবই আগ্রহোদ্দীপক অ্যানাটমিকাল বিষয়। এবং এটা খুবই অস্বাভাবিক।

লাইভ সায়েন্সকে ফন্টানা বলেন, আমি কখনো এরকম দেখি নি। তিনি জানান এরকম মারাত্মক পরিবর্তনের পরেও ওই ব্যক্তির বেঁচে যাওয়ায় তিনি খুব আশ্চর্য হয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার বিশেষ দিকটি হলো, হার্ট এত দূরে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে ঘুরে গেছে, এবং তারপরও ওই রোগী তখনো জাগ্রত এবং সচেতন ছিলেন।

heart6

বাম পাশের ছবিতে ঘুরে যাওয়ার পরে হার্টের অবস্থান। ডান দিকের ছবিতে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসার পরে হার্ট।

 

ফন্টানা বলেন, প্রথমেই এটা মনে হওয়া যুক্তিসঙ্গত যে দুর্ঘটনার সময় ওই ব্যক্তির দেহ মারাত্মকভাবে বেকায়দায় পড়ার কারণে ওই ব্যক্তির হার্ট ঘুরে গেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দুর্ঘটনার পরে সম্ভবত কয়েক মিনিট ধরে, এমনকি হয়ত এক ঘণ্টা ধরে হার্ট বিপরীতে দিকে ঘুরে গেছে।

চিকিৎসকরা রিপোর্টে আরো লিখেছেন, যে দুর্ঘটনার সময়ে ওই ব্যক্তির ফুসফুসে ছিদ্র হওয়ার কারণে ফুসফুস থেকে বাতাস বুকের ভিতরে বেরিয়ে যায়।

ফন্টানা বলেছেন, সম্ভবত ফুসফুসের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে বুকের ভিতরে জমা হওয়া এই বাতাসের ধাক্কায় হার্ট ডান দিকে ঘুরে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসকরা বাতাস বের করে দেয়ার পরে হার্ট বাম দিকে ঘুরে যায়। এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হার্ট আবার আসল অবস্থানে ফিরে গেছে।

ফুসফুস ছিদ্র হয়ে যাওয়া ছাড়াও ওই ব্যক্তির পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল এবং প্লীহায় আঘাত লেগেছিল। তবে হার্ট জায়গা বদল করলেও হার্টে কোনো আঘাত লাগে নি। চিকিৎসকরা বলেছেন, হার্টের জায়গা বদল হওয়ার কারণে রক্তনালী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং এতে তার রক্তচাপ কমে যায়।

ফন্টানা বলেন, তবে অস্বাভাবিক হলেও কোনো কোনো মানুষের জন্মগত ত্রুটি থাকার কারণে হার্টের অবস্থান বুকের ডানপাশে দেখা যায়। ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় যখন ডান-ফুসফুসটি ফেলে দেয়া হয় তখন হার্ট সরে যাওয়ার মত জায়গা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, হার্টের পিছনের গঠন থাকে। এবং বড় আর্টারি মেরুদণ্ডের স্পাইন এবং টিস্যুর সাথে লাগানো। তবে এগুলির মধ্যে হার্ট থলের মধ্যে কিছুটা ভাসমান অবস্থায় থাকে। থলেটি আলগা হয়ে গেলে অথবা আঘাতপ্রাপ্ত হলে হার্টের চলমান অংশটি স্পাইন এবং টিস্যুর সাথে লাগানো অবস্থায়ই বুকের ভুল জায়গায় চলে যেতে পারে।

ফন্টানা বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এটি অসাধারণ একটি ব্যাপার, যা আমরা এখনো দেখি নি এবং ভবিষ্যতে আরো মুগ্ধ হয়ে দেখব এমন অনেক কিছুই আছে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক