page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

পাংখোপাড়া, বেলাইছড়ি

pangkhopara (6)

বেলাইছড়ি বাজারের পথে নদীতীরবর্তী একটি গ্রাম্য বাজার

রাঙামাটি জেলার একটি প্রত্যন্ত উপজেলা বেলাইছড়ি। বেলাইছড়ি বাজারের সামান্য আগে একটি গ্রাম পাংখোপাড়া। রাঙামাটি শহরের লেকের ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চার থেকে সাড়ে চার ঘন্টা টানা গেলে নদীর ধারে একটি ঘাট। পাংখোপাড়ার ঘাট। ঘাট থেকে উঠে গেছে একটি পাহাড়। সেই পাহাড়ে পাংখোদের গ্রাম।

pangkhopara (5)

পাংখোপাড়া, পাহাড়ি গ্রাম 

পাংখো বা পাংখোয়া বাংলাদেশে খুব ছোট্ট একটি কমিউনিটি। মোট ৫০ থেকে ষাটটি পরিবারের বসবাস পার্বত্য অঞ্চলে। তার সিংহভাগই এই পাংখোপাড়ায়। এদের মূল জাতিগত স্রোতটি সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরায়। এরা কবে, কিভাবে এখানে এসেছে, ইতিহাস জানি না। পাশাপাশি লাগোয়া কয়েকটি পাহাড়। এটিই পাংখোপাড়া। মানে পাংখোদের গ্রাম। গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। ইদানিং কিছু সোলার প্যানেল গেছে। তাতে দুয়েকটি বাড়িতে টিমটিম করে বাতি জ্বলে। পাহাড়ের ওপরে পানি ওঠে না। পাংখো মেয়েরা কলসে করে টিউবয়েলের পানি নিয়ে যায়। নদীর ঘাটে একটিই টিউবয়েল। সেটিই পানির উৎস।

pangkhopara (1)

পাংখোপাড়ার একটি দোকান 

নদীর ঘাট সংলগ্ন ছড়ানো একটি ছোট্ট সমতলভূমিতে একটি স্কুল। গ্রিন হিল নামে একটি বেসরকারি সংগঠন স্কুল চালায়। ক্লাস টেন পর্যন্ত স্কুল। তাতে পাংখো শিশুরা বাংলা ভাষায় পড়াশোনা করে। সবাই খ্রিস্টান। পাহাড়ের ওপরে পাংখোপাড়ায় একটি চার্চ আছে। দেখে মনে হলো না প্রতি রবিবার সেখানে প্রার্থনা বসে। কেননা, চার্চের বারান্দায় ধূলা জমেছে, বন্ধ জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেছি, ভেতরে ভাঙ্গা বেঞ্চ-চেয়ার। চার্চটি পরিত্যক্ত বলেই মনে হয়। খ্রিস্টান এই পরিত্যক্ত চার্চটি ছাড়া পাংখোদের ধর্মচর্চার আর কোনো নিদর্শন খুঁজে পাইনি।

পাংখোদের নিজস্ব একটি ভাষা আছে বটে। সেটির একটি লিখিত রূপও আছে শুনেছি। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কেউ সেই ভাষায় লিখতে পারে বলে মনে হয় না।

রাইখং নদী

পাংখো গ্রামে অতিথি হিসেবে থাকা যায়। স্কুলের সঙ্গে লাগোয়া মাঠের ধারে নদীর তীর ঘেষে একটি দোতলা ভবন। সেটির দুই তলায় দুটি কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায় থাকার জন্য। দুটি বিছানা। আমরা পাংখো পাড়ায় বেড়াতে গিয়েছিলাম ফেব্রুয়ারি মাসে। নদীর পানি তখন কাচের মতো টলটলে।

অমবশ্যা ছিল। সন্ধ্যার পরেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। আকাশ জুড়ে উপুড় করা থিকথিকে নক্ষত্র। টেলিভিশনের আওয়াজ নেই, রেডিওও বাজে না। আমরা যখন গিয়েছি (২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস), গ্রামীণের নেটওয়ার্ক নেই। কেবল রবির নেটওয়ার্ক সামান্য পাওয়া যায়।

pangkhopara (17)
পাংখোপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী

নদী বেয়ে সারাদিনে একটি কি দুটি নৌকা যায়।

চারিদিক নিশ্চুপ।

কোনো টুরিস্ট নেই।

মানুষের কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও নেই।

পাংখোপাড়ায় পৃথিবী এবং তার ঘূর্ণন, মানে ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে।

বিকেলে কিছু করার না থাকলে নৌকা নিয়ে আশপাশ ঘোরা যায়। বেশ কিছুদূর গেলে বেলাইছড়ি বাজার। নদীর পাশে এটি আরেকটি গ্রাম বই আর কিছু নয়।

আরও কিছুদূর গেলে একটি পাথুরে পাহাড়। সেখানে গিয়ে মনে হয়েছিল আমরা পৃথিবীর শেষ প্রান্তে এসে গেছি।

[nggallery id=1 template=sample1]

(ছবি ও ভিডিও: শিবব্রত বর্মন)

 

About Author

শিবব্রত বর্মন

কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও সাংবাদিক। জন্ম : ১৯৭৩, ডোমার, নীলফামারী। প্রকাশিত গ্রন্থ : ছায়াহীন; মিগুয়েল স্ট্রিট (অনুবাদ) ভি এস নাইপল; কদর্য এশীয় (অনুবাদ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ; পাইয়ের জীবন (অনুবাদ) আয়ান মার্টেল