page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

পিঁপড়ার বুদ্ধি

১০ টি বিষয় এখানে তুলে ধরা হল যা থেকে আপনারও মনে হতে পারে, পিঁপড়া মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান।

পিঁপড়া অনেক ভারি জিনিস বহন করতে পারে।

পিঁপড়া অনেক ভারি জিনিস বহন করতে পারে।

১) পিঁপড়া তাদের থেকে ৫০ গুণ বেশি ভরের জিনিস বহন করতে পারে

পিঁপড়া তাদের অতি ক্ষুদ্র শরীর কাজে লাগিয়ে অনেক ভারি জিনিস বহন করতে পারে। তাদের দেহের আকারের তুলনায় পেশীগুলি স্থূল। স্হূল পেশী বেশি শক্তি প্রয়োগ করে আরও বেশি ওজনের জিনিস বহনে সাহায্য করে। আমাদের শরীরের পেশী যদি পিঁপড়ার মতো সেই অনুপাতে বড় হত তবে আস্ত একটা গাড়ি অথবা ট্রাক আমরা বহন করতে পারতাম।

২) সৈনিক পিঁপড়া তাদের মাথাকে সংযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে

তাদের ঘরের ঢোকার জায়গায় শ্রমিক পিঁপড়ারা দাড়িয়ে থাকে। এর ফলে বহিরাগত কেউ সেখানে ঢুকতে পারে না। আর যখন কোনো শ্রমিক পিঁপড়া সেই ঘরে বা ডেরায় ঢুকতে চায় তখন সেই সৈন্য পিঁপড়ার মাথা স্পর্শ করে জানিয়ে দেয় যে সে তার এলাকারই পিঁপড়া। আর সৈনিক পিঁপড়ারাও মাথা স্পর্শ করেই বুঝে নেয় সে আসলেই ওই এলাকার পিঁপড়া কিনা!

৩। কিছু পিঁপড়া খাদ্য আর আশ্রয়ের জন্য গাছপালা রক্ষা করে

pipra3

পিঁপড়া গর্তের মাঝে প্রানরস নেয়া অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা প্রানীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে

এমন কিছু গাছ আছে যেখানে পিঁপড়া আশ্রয় নিতে পারে। এই ধরনের  গাছে স্বভাবতই গর্ত তৈরি হয় যেখানে পিঁপড়া বাস করে, সেই সাথে খাবারও সংরক্ষণ করে। পিঁপড়া গর্তের মাঝে প্রাণরস নেয়া অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা-প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এই পরজীবী প্রাণীরাই মূলত পিঁপড়ার প্রধান খাদ্য। এরা গাছের ক্ষতি করে। তাই এইসব পোকা ধ্বংস করে পিঁপড়া গাছের সুরক্ষা দেয়, আর গাছ পিঁপড়ার সুরক্ষা দেয়।

৪) পৃথিবীতে নির্দিষ্ট স্থানের আপেক্ষিক প্রাণীর সংখ্যায় পিঁপড়া অনেক এগিয়ে আছে

বিজ্ঞানীদের মতে,  প্রতি একজন মানুষের বিপরীতে ১.৫ মিলিয়ন পিঁপড়া আছে। পৃথিবীতে ১২ হাজারেরও বেশি প্রজাতির পিঁপড়া আছে। অ্যান্টার্কটিকা বাদে সব মহাদেশেই বিভিন্ন প্রজাতির পিঁপড়া ছড়িয়ে আছে। শুধু তাই নয়, আমাজনের প্রতি একরে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন পিঁপড়া রয়েছে।

৫) পিঁপড়া মাঝে-মধ্যে অন্যান্য পোকাদের সাথে থাকার চেষ্টা করে

শুধু মাত্র মিষ্ট স্বাদ পাবার জন্য পিঁপড়া বিভিন্ন প্রাণরস নেয় এমন পোকা অথবা ছোট ছোট প্রাণীর সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করে। কারণ তখন সে হানিডিউ নামের এক ধরনের স্বাদ পায়। আর মিষ্টি জাতীয় খাবার মজুদ রাখার জন্য সে অন্যান্য পোকামাকড়ের শরীরের মিষ্টি রস শুষে নেয়। সেগুলি এক গাছ থেকে আরেক গাছে বহন করে। এর ফলে পোকাদের বংশবিস্তারে সুবিধা হয়।

৬) পিঁপড়া অন্যান্য পিঁপড়াদের সবসময় ব্যস্ত রাখে

কিছু প্রজাতির পিঁপড়া সব ধরনের পিঁপড়ার উপর হুকুম চালায়, কাজ করতে আদেশ করে। মৌচাকের কিছু পিঁপড়া নিজ প্রজাতির পিঁপড়াকে দাস বানিয়ে রাখে। এছাড়াও অন্য এলাকা থেকে পিঁপড়ার সাহায্য নিয়ে বংশবিস্তার করে থাকে তারা। আমাজনের পিঁপড়া পলিগেরিস অন্য কলোনি থেকে ফরমিকা এসিডওয়ালা পিঁপড়ার সাহায্যে বংশবিস্তার করে। সেই আমাজনের পিঁপড়া ফরমিকা রানিকে খুঁজে বের করে মেরে ফেলে। এরপর সব ফরমিকা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করায়। সেখানে দাস পিঁপড়ারা তার বংশবিস্তারে সাহায্য করবে।

ant2৭) ডায়নোসরদের সময়েও পিঁপড়া ছিল

প্রায় ১৩০ মিলিয়ন বছর আগে পিঁপড়ার বসবাস পৃথিবীতে। সেই সময়টাকে বলা হয় ক্রেটেকিয়স। গাছপালা লতাগুল্ম নানা জায়গায় অনেক ধরনের ফসিল পাওয়া যায়, পোকামাকড় জীবজন্তুর সব থেকে পুরনো যে ফসিল পাওয়া যায় সেটা পিঁপড়ার। পিঁপড়ার এই প্রজাতির নাম স্ফিয়ারকমিরমা ফ্রিই। এটা ক্লিফউড সমুদ্রতীরে পাওয়া যায়। যদিও সেটা ৯২ মিলিয়ন বছর আগের, কিন্তু এটা ছাড়াও আরও একটা ফসিল পাওয়া যায় যেটা বর্তমান পিঁপড়াদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৮) পিঁপড়া মানুষের আগেই চাষ করা শুরু করে

পিঁপড়া ৫০ মিলিয়ন বছর আগে ফাঙ্গাস চাষ শুরু করে যখন মানুষ ফসল উৎপাদনের কথা চিন্তাও করতে পারত না। প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, পিঁপড়া অন্তত ৭০ মিলিয়ন বছর আগে চাষাবাদ শুরু করে। তারা শুধু চাষই করে না হর্টিকালচারেরও উদ্ভব করে পিঁপড়ারা। তারা গোপন রাসায়নিক দ্রব্য আর সারের মতো প্রাণরস দিয়ে চাষে বৈজ্ঞানিক আমেজ নিয়ে আসে।

পিঁপড়ার দল

পিঁপড়ার দল

৯) কিছু কিছু পিঁপড়ার দল হাজার মাইল লম্বা লাইন তৈরি করতে পারে

দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনার পিঁপড়ারা এখন প্রায় সব মহাদেশেই থাকে। এদের বেশ আলোচিত রাসায়নিক পরিচয় আছে যার কারণে এরা পৃথিবীবিখ্যাত। তারা একে অপরকে চিনতে পারে এবং অপরিচিত কিছু দেখলে সঙ্গীদের সাবধান করে দিতে পারে। এই সুপারকলোনি পিঁপড়ারা ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানে প্রায় একই পরিচয় নিয়ে বসবাস করে আসছে। এদের বৈশ্বিক পিঁপড়াও বলা যায়।

১০) খাওয়ার সময় পিঁপড়া গন্ধ অনুসরণ করে যা কর্মী পিঁপড়া রেখে দেয়

পিঁপড়া খাবার সংগ্রহ আর সংরক্ষণের জন্য ফেরোমেনের গন্ধ শোঁকে। প্রথমে কর্মী পিঁপড়া ডেরা ছেড়ে খাবার খুঁজতে যায়, কিছু না পাওয়া পর্যন্ত তারা ঘুরে বেড়ায়। অতপর একটি সোজা লাইন ধরে এরা কিছু খাবার নিয়ে বাড়ি ফেরে, তারপর বাকি পিঁপড়ারা সেই লাইনের গন্ধ শুঁকে খাবারের স্থানে পৌঁছায়। এরা প্রত্যেকেই খাবার আনার শেষ পর্যন্ত সেই গন্ধ রেখে আসে যাতে রেখা অনুসারে সঙ্গীদের খাবার পেতে সুবিধা হয়।

[ctt tweet=”http://ctt.ec/l0faT+ http://ctt.ec/2m6nN+” coverup=”l0faT”]

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক