page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খান আপনি

lobon5

সমুদ্রতীরে লবণ সংরক্ষণ

অনেকেই শুধু অভ্যাস থেকে খাবারে বাড়তি লবণ নিয়ে থাকেন। এটা আস্বাস্থ্যকর এবং অপ্রয়োজনীয়। অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই খাবারের স্বাদ ঠিক থাকে। বাসায় বা বাইরে লবণ নেওয়ার আগে দেখে নিতে হবে খাবারে লবণ ঠিকমত আছে কিনা। মনে রাখবেন খাবারে লবণ কমানো মানেই জীবন বাঁচানো!

অল্প পরিমাণ লবণ আমাদের শরীরের তরল পদার্থের ঘনত্ব সঠিক রাখে। বেশি লবণ খাওয়ার কারণে শরীরে তরল পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপ ভবিষ্যতে হৃদরোগ অথবা স্ট্রোকের সম্ভাবনা তৈরি করে।

স্বাস্থ্যক লাইফস্টাইলে সোডিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যথেষ্ট সোডিয়াম গ্রহণ না করলে শরীরে তরল পদার্থের ঘনত্ব ঠিক থাকবে না। সোডিয়ামের অভাব পেশীর প্রসারণে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ব্যায়াম করার সময়। সোডিয়াম স্নায়ুতে সঠিক উদ্দীপনা পাঠাতে সাহায্য করে। লবণ বা সোডিয়াম প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ইত্যাদির সমস্যা হতে পারে।

সোডিয়াম বেশি গ্রহণ করলে শরীর তা হজম করতে পারে না। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের কারণে শরীরের কোষগুলিতে পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। একজন স্বাস্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২৩০০ মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণ করা উচিৎ। শরীরে বাড়তি লবণের দরকার পড়ছে কিনা তা পরখ করার জন্য প্রতিবার খাওয়ার সময় ৫০০ মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণ করে দেখতে পারেন। অধিকাংশ মানুষই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাওয়ার সময়ে বাড়তি লবণ গ্রহণ কমিয়ে দেয়।

রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও লবণের এই মাত্রা জানাটা তেমন সমস্যাজনক কিছু না। খাবারে অতিরিক্ত লবণ অস্বাস্থ্যকর।

সচরাচর সব খাবারেই যে লবণ ব্যবহার করা হয় তা সোডিয়াম এবং ক্লোরাইড এই দুই উপাদানের সমন্বয়। ১ চা চামচ লবণে ২৩২৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এই দুইটি উপাদান ইলেক্ট্রোলাইট নামে পরিচিত এবং এগুলি শরীরের কোষকে কার্যকর করে থাকে। এই কারণে অল্প পরিমাণ লবণযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ভালো; অধিক লবণ ক্ষতিকর!

সোডিয়ামের কাজ হলো শরীরে হাইড্রেশন লেভেলের সাম্যাবস্থা বজায় রাখা। যখন শরীর খুব বেশি পরিমাণে সোডিয়াম গ্রহণ করে তখন তা শরীরের অতিরিক্ত তরল পদার্থ সংরক্ষণের ক্ষমতা বাড়ায়। যারা খাবারের সময় অতিরিক্ত লবণ খায় তারা শরীরে সোডিয়ামের কারণেই অতিরিক্ত পানি ধারণ অনুভব করে থাকেন। শরীরে সোডিয়াম কম হলে কিডনি তখন জমিয়ে রাখা সোডিয়াম সরবরাহ করে। শরীরে সোডিয়াম বেশি মাত্রায় বেড়ে গেলে তা ইউরিনের মাধ্যমে বের করে দেয় কিডনি। এবং কিডনিকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় শরীরে পানির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য। যদি কোনো কারণে কিডনি শরীর থেকে সোডিয়াম বের করে দিতে না পারে তবে রক্তে সোডিয়াম জমতে থাকে। এতে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। এর ফলে হার্টের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় এবং আর্টারিতে চাপ বেড়ে যায়। হার্ট ফেউলিয়ার, সরোসিস এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনির সমস্যা ইত্যাদি রোগের কারণে কিডনি শরীরে সোডিয়ামের ব্যালেন্স রাখতে পারে না।

ঝাঁকি দিয়ে লবণ নিবেন না, তাতে লবণ বেশি খাওয়া হয়!

ঝাঁকি দিয়ে লবণ নিবেন না, তাতে লবণ বেশি খাওয়া হয়!

প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে কী পরিমাণ লবণ দরকার
নিউট্রিশন ফ্যাক্টস প্যানেল অব ফুড লেবেলস খাবারে লবণের পরিমাণকে সোডিয়াম নাম দিয়েছে। সাধারণ মানুষজন গড়ে প্রতিদিন ২৩০০ মিলিগ্রাম বা প্রায় এক চা চামচ লবণ গ্রহণ করে থাকে।

তবে যাদের লবণ খেলে সমস্যা হয়, যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং যাদের বয়স ৫১ বছর বা তার বেশি তাদের প্রতিদিন গড়ে ১৫০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ করা উচিৎ না। তবে মনে রাখা দরকার এগুলি উপরের সীমা। যত কম মাত্রায় সোডিয়াম গ্রহণ করা যায় ততই ভালো।

যে খাবারগুলি লবণের উৎস

প্রক্রিয়াজাত এবং তৈরী খাবার
প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন পাউরুটি, কুকড পাস্তা, ডিম ও মাংসের ডিশ, পিজা, পনির, স্যুপ, ফাস্ট ফুড ইত্যাদিতে লবণ বেশি থাকে। ফ্রোজেন ফুড বা জমানো খাদ্য তাজা রাখার জন্য সেগুলিতে প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম থাকে।

প্রাকৃতিক খাবার
কিছু প্রাকৃতিক খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। যেমন সবজি, দুধ, মাংস। এগুলিতে বাড়তি লবণ না থাকার কারণে এই খাবারগুলিই শরীরের লবণের চাহিদা পূরণ করে। যেমন এক কাপ (২৩৭ মিলিলিটার) সাধারণ ঘনত্বের ১০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে।

রান্নাঘর এবং খাবারের টেবিল
অনেক রেসিপিতেই প্রচুর লবণ যোগ করা হয়। এবং অনেকেই খাবার টেবিলে বাড়তি লবণ নিয়ে থাকেন।

কীভাবে বোঝা যাবে কোনো খাবারে সোডিয়াম বেশি আছে না কম আছে
দ্য নিউট্রিশন ফ্যাক্টস প্যানেল প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সোডিয়ামের পার্সেন্টেজ নির্ধারণ করেছে। তালিকায় যেসব খাবারে ৫% বা কম সোডিয়াম আছে সেসব খাবারে লবণের পরিমাণ কম। ৬% থেকে ২০% এর খাবারগুলিতে মোটামুটি মাত্রায় লবণ রয়েছে। ২০% এর অধিক যেসব খাবার তাতে লবণের পরিমাণ খুব বেশি। কম লবণের জন্য ৫% এর খাবারগুলো বেছে নিতে হবে।

লবণের বিকল্পগুলি নিরাপদ কিনা
অনেক সল্ট সাবস্টিটিউট বা লবণের বিকল্পগুলিতে পটাসিয়াম ক্লোরাইড থাকে। পটাসিয়াম ক্লোরাইড কিছু কিছু রোগের জন্য বিপদজনক। যেমন ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা ও হৃদরোগ। লবণের বিকল্প ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক