page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানোর সহজ পদ্ধতি

ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাস্তা হিসাবে খুবই জনপ্রিয় ফ্রেঞ্চ টোস্ট। অনেকেই ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানাতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েন। কিন্তু দেখতে সোনালি এবং কোণার দিকগুলি মচমচে, সুস্বাদু ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানো তেমন কঠিন কোনো ব্যাপার না।

ফ্রেঞ্চ টোস্ট দেখতে বাদামি, বাইরের দিকটা মচমচে। ফ্রেঞ্চ টোস্ট খুব বেশি শুকনা বা রসালো না। এটা সাধারণত কাস্টার্ড ফ্লেভারের হয়ে থাকে (তবে বেশি ডিম দেওয়া নয়)। মিষ্টি করার জন্য চিনি দেওয়া হয়ে থাকে। আর ফ্রুট সিরাপ, টাটকা ফল অথবা বাটার দিয়ে গার্নিশ করা হয়। তবে পুদিনা বা সালাদ জাতীয় জিনিস দিয়েও এটা সার্ভ করা যেতে পারে।

ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানাতে খুব অল্প কিছু জিনিসের দরকার হয়। বড় সাইজের ভালো কোয়ালিটির ডিম এবং ভাল মানের পাউরুটি থাকলে ভাল। সাথে ফ্রুট সিরাপ দিতে পারেন।

পাউরুটি
পাউরুটি যেহেতু ফ্রেঞ্চ টোস্টের মূল উপকরণ, তাই কী ধরনের পাউরুটি তা গুরুত্বপূর্ণ। এগ-ব্রেড ডিম ও মাখন দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে এগ ব্রেড দিয়ে ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানালে ভিতরের নরম ভাবটা ভাল হয়। তবে সাধারণ পাউরুটি দিয়েও ভাল ফ্রেঞ্চ টোস্ট হয়। বেশি শক্ত বা নরম পাউরুটি দিয়ে ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানো যাবে না।

পাউরুটির পুরুত্ব ৩/৪ ইঞ্চি থেকে ১ ইঞ্চি পর্যন্ত হওয়া উচিৎ। পুরুত্ব এর চেয়ে কম হলে পাউরুটি বেশি রসালো হয়ে যায়। ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানোর জন্য একদিনের পুরনো পাউরুটি হলে ভাল। ফ্রেশ পাউরুটি বেশি নরম হয়ে থাকে। তবে ফ্রেশ পাউরুটি দিয়েও ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানো যায়।

এগ ব্রেড হলে আগের রাতে সেগুলি প্যাকেটের বাইরে বের করে রাখতে হবে, কিন্তু নরমাল পাউরুটির ক্ষেত্রে তা করার দরকার নেই।

কাস্টার্ড
কাস্টার্ড হচ্ছে ডিম আর দুধের যে মিশ্রণের মধ্যে পাউরুটি ডুবাতে হবে সেই মিশ্রণ। বড় বড় এবং ভাল মানের ডিম বাছাই করতে হবে। দুধের ঘনত্ব পাতলা হলে চলবে না।

Like shamprotik on Facebook

পাউরুটি নরম হলে বেশিক্ষণ কাস্টার্ডে ভিজিয়ে রাখা যাবে না। সধারণ শক্ত পাউরুটি একটু বেশি সময় কাস্টার্ডে ডুবিয়ে রাখতে হবে। তবে বেশি নরম হয়ে যাওয়া টোস্টের চেয়ে একটু শক্ত ধরনের টোস্টই খেতে ভাল।

অধিকাংশ সময় ফ্রেঞ্চ টোস্ট একটি মিষ্টি ডিশ হিসেবে পরিবেশন করা হয়ে থাকে। তবে ঝাল করেও ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানো যায়। সকালের নাস্তা হিসাবে ফ্রেঞ্চ টোস্ট ভাল একটি অপশন।

৮ স্লাইস পাউরুটির জন্য যা যা লাগবে

  • ৪টা ডিম
  • ২/৩ কাপ দুধ
  • ১ চা-চামচ চিনি (তবে যারা চিনি বেশি খান তারা চিনি বেশিও দিতে পারেন)
  • খুব সামান্য পরিমাণে লবণ
  • ৮ স্লাইস পাউরুটি
  • মাখন অথবা ভেজিটেবল অয়েল অথবা সয়াবিন তেল

পদ্ধতি
১. একটি পাত্রে ডিম ফেটিয়ে তাতে দুধ, চিনি ও লবণ ভালভাবে মিশিয়ে কাস্টার্ড বানিয়ে নিন। কাস্টার্ডটিকে একটু গভীর এবং গোলাকার পাত্রে রাখুন।

২. প্রতিটা পাউরুটির স্লাইসকে কিছুক্ষণ কাস্টার্ডে ভিজিয়ে রাখুন। একপাশ ভেজানো হলে উল্টে অন্য পাশ কাস্টার্ডে ডুবিয়ে রাখুন। লক্ষ রাখুন যাতে পাউরুটিতে কাস্টার্ড ভাল ভাবে লেগে যায়।

৩. অন্য একটি পাত্র আগুনে দিয়ে মাঝারি আঁচে মাখন গলিয়ে নিন। অথবা ভেজিটেবল অয়েল বা সয়াবিন তেল মাঝারি আঁচে গরম করে নিন।

ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানোর জন্য একদিনের পুরনো পাউরুটি হলে ভালো। ফ্রেশ পাউরুটি বেশি নরম হয়ে থাকে।

ফ্রেঞ্চ টোস্ট বানানোর জন্য একদিনের পুরনো পাউরুটি হলে ভালো। ফ্রেশ পাউরুটি বেশি নরম হয়ে থাকে।

৪. কাস্টার্ড মাখানো পাউরুটির স্লাইস এবার পাত্রে ছেড়ে দিন। একসাথে পাত্রে যতগুলির জায়গা হয় ততগুলিই পাত্রে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর পাউরুটি পাত্রে উল্টে দিন। দুই পাশ বাদামি না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। বাদামি রঙ হয়ে গেলেই পাউরুটি তুলে ফেলুন।

৫. এরপর সবগুলি হয়ে গেলে মাখন অথবা ফ্রুট সিরাপ অথবা ফল দিয়ে পরিবেশন করুন। তবে ফ্রেঞ্চ টোস্ট এমনিতেও খেতে সুস্বাদু।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক