page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

বিজ্ঞানীরা রোবটে কেঁচোর মস্তিষ্ক আপলোড করার পর রোবটটি যা করছে… (ভিডিও)

কোনো প্রাণী বা মানুষের মস্তিষ্ক হচ্ছে বৈদ্যুতিক সিগন্যালের সমাবেশ। যদি সিগন্যালগুলিকে ডিজিটালি সাজানো সম্ভব হয় তবে মস্তিষ্ককে কম্পিউটারে আপলোড করা যাবে। এ ভাবে কেউ চাইলে ডিজিটাল-অমরত্বও লাভ করতে পারবে।

কম্পিউটারে মস্তিষ্ক  বা ব্রেইন আপলোড ন্যায়সঙ্গত কিনা বা যুক্তির বাইরে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কিছু মানুষ কৃত্রিম মস্তিষ্ক  তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছেন। আমরা কীভাবে চিন্তা করি তা বোঝার জন্যে এবং মস্তিষ্কের সব যোগাযোগের মানচিত্র তৈরির জন্যে অনেকে চেষ্টা করছেন।

Worm1

সায়েনরহ্যাবডিটিস এলিগানসের ফলস-কালার মাইক্রোগ্রাফ

কম্পিউটারে পৃথিবীর প্রথম ভার্চুয়াল অর্গানিজম তৈরি করতে যাওয়া একটি সংস্থা ‘ওপেনওর্ম’।

সংস্থাটির ধারণা, মানুষের মস্তিষ্ককে বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের আরো সরল কোনো মস্তিষ্ক যেমন কেঁচোর মস্তিষ্ককে বুঝতে পারতে হবে। তেমনই একটি কেঁচোর নাম সায়েনরহ্যাবডিটিস এলিগানস বা সি. এলিগানস।

এই কেঁচোর স্বচ্ছ চামড়ার নিচে ৩০২টি নিউরন রয়েছে। এর সরল গঠন ও কম সংখ্যক নিউরণ থাকার কারণে বিশ্বের সর্বত্র গবেষণা কাজে কেঁচোটির ব্যবহার জনপ্রিয়।

‘ওপেনওর্ম’-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় সি. এলিগানস কেঁচোর নার্ভাস সিস্টেম EV3 নামের পায়ে চাকাঅলা একটি চলনশীল রোবটের শরীরে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Worm4

সি. এলিগ্যানস কেঁচোর ব্যবচ্ছেদ

সংস্থার বিজ্ঞানীরা সেন্সর ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেঁচোটির নিউরাল নেটওয়ার্ক বা মস্তিষ্ক জালের একটি প্রোগ্রাম তৈরি করে নিয়েছেন। ম্যাপিং করা নেটওয়ার্কের নাম কানেকটোম। প্রোগ্রামাররা এভাবে কানেকটোমের মাধ্যমে কেঁচোর নিউরনের সাথে রোবটের মস্তিষ্কের যোগ ঘটিয়েছেন। ফলে, রোবটটি দেখতে কেঁচোর মত না হলেও কেঁচোর মতই চিন্তা করতে পারছে।

রোবটটির স্নায়ু বিশেষ যোগাযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে (UDP প্যাকেটস) সক্রিয় থাকে। রোবটে তার দিয়ে যুক্ত ‘সোনার সেন্সর’ কেঁচোর নাকের কাজ করে। তাই রোবটটি কোনো জিনিসের ২০ সেন্টিমিটারের মধ্যে এলে ইউডিপি প্যাকেটসের মাধ্যমে এর সেন্সরি নিউরণগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

‘ওপেনওর্ম’-এর এই প্রজেক্টের নিকট লক্ষ্য সি. এলিগানসের একটি ভার্চুয়াল অর্গানিজম তৈরি করা। আপাতত রোবটটি একটি কেঁচোর শরীর এবং স্নায়ুব্যবস্থার মতই কাজ করছে। রোবটে কেঁচোর নাক সোনার সেন্সর দিয়ে প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি এর দুই পাশে সক্রিয় মোটর নিউরনগুলি মোটর হিসাবে রোবটের ডানে এবং বামে থাকছে।


সি. এলিগানস নিউরোরোবটিকস (ভিডিও)

প্রজেক্টের প্রোগ্রামার লুসি ব্ল্যাক বলছেন, রোবটটি সি. এলিগানস প্রজাতির কেঁচোর মত আচরণ করবে এমন দাবি করছি আমরা। নাক উত্তেজিত হলে এটি সামনের দিকে যাওয়া থামিয়ে দিবে। সামনের সেন্সরে স্পর্শের কারণে রোবটটি সামনের দিকে এবং পিছনের সেন্সরে স্পর্শের কারণে রোবটটি পিছনের দিকে চলবে। ফুড সেন্সর উত্তেজিত হলে রোবটটি সামনের দিকে যাবে।

প্রোগ্রামে যেহেতু কিছু সরলীকরণ আছে তাই বলা যায় কেঁচোকে পুরাপুরি রোবটে রূপান্তরণ সম্ভব হয় নি। রোবটটিতে কেঁচোর অনুকরণে একটি সংযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি আছে মাত্র। তবে রোবটটি যেহেতু কোনো প্রোগ্রামের নির্দেশনায় নয় বরং কেঁচোর অনুকরণেই চলে সে দিক থেকে এই রূপান্তর সন্তোষজনক।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক