page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

বিশ্ব খাদ্যসংকট মোকাবেলায় জিন প্রযুক্তির কলা নিয়ে বিল গেটস

Banana

ক্ষুধা এবং অনাহারের সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য দি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। উগান্ডা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের সাথে নিয়ে জিনগতভাবে উন্নত (GMO) এক ধরনের কলা তৈরি করেছে তারা। বিল গেটস এবং তার স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনটি এই বায়োটেক শিল্পে ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (QUT) সেন্টার ফর ট্রপিকাল ক্রপস অ্যান্ড বায়োকমোডিটিজের (CTCB) পরিচালক জেমস ডেল বলেছেন, উন্নত বিজ্ঞান উগান্ডান কলার মত কোনো অঞ্চলের প্রধান  ফসলে প্রো-ভিটামিন A যোগ করে উন্নত প্রজাতি তৈরি করতে পারে। উন্নত পুষ্টিমানের এই খাদ্য গরীব ও খাদ্য সমস্যার কারণে অস্তিত্বের লড়াই করা জনগণকে দেওয়ার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

ডেল আরো বলেন, আমরা জানি আমাদের বিজ্ঞান কাজ করবে। যে জিনগুলি কলাতে দেওয়া হয়েছে এবং এখানকার (QUT) কলাতে রাখা হয়েছে সেইসব জিনগুলি আমরা তৈরি করেছি। জিনগুলির শত শত বিন্যাস মাঠে পরীক্ষা করার জন্য উত্তরে চলে গেছে এবং আমাদের বিজ্ঞান কাজ করেছে কিনা তা দেখার জন্য আমরা এখানে কুইন্সল্যান্ডে সবকিছু পরীক্ষা করছি।

এই কলাগুলির জিন গঠনে পরিবর্তন আনার ফলে অনেক বেশি ঘনত্বের ভিটামিন-A থাকবে। জিন গঠনে উন্নয়ন ঘটানোর কারণে প্রাণিদেহ ভিটামিন-A তে রূপান্তর করতে পারে সেই ধরনের উদ্ভিদ সংশ্লেষিত আলফা ও বেটা ক্যারোটিন থাকবে এই ফলগুলিতে।

banana 2

বিল গেটস।

আইওয়াতে মানুষের উপর এই কলার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষা সফল হলে উগান্ডান চাষীদের সে দেশের সরকারের মাধ্যমে জিনগতভাবে উন্নত এই কলা চাষে উৎসাহিত করা হবে।

তাদের খাবারের প্রধান উৎস হিসাবে ৭০ শতাংশ উগান্ডান কলার উপর নির্ভর করে।

এই উদ্যোগে জড়িত গবেষকরা দাবি করেছেন এই GMO কলা উগান্ডায় মৃত্যু ও অন্ধত্বের হার কমাতে সাহায্য করবে। সেইসাথে এটি প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন খাবারের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে অন্যান্য ফল ও সবজি জিনগতভাবে উন্নত করতে বায়োটেক ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য নতুন একটি ধারার সূচনা করবে।

এখনই পড়ুন: কলা সম্পর্কে যা যা আপনি জানেন না!

সাংবাদিক ডেভিড রটম্যান ম্যাসাচুয়েটস ইন্সটিউট অব টেকনোলজির রিভিউতে বলেছেন, মানুষের সৃষ্টি করা আবহাওয়া পরিবর্তন ফসল উৎপাদনের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে কম জায়গা এবং কম কাঁচামাল সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এ সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।

২০১৪ সালের মে মাসে হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যগুলির পুষ্টিমান কমে যাওয়ার কারণ হলো পরিবেশে বেশি মাত্রার কার্বন ডাই অক্সাইড। এই গবেষণাটিতে জিনগতভাবে পরিবর্তিত খাদ্যশস্যগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। দেখা যায়, এগুলির জিনগত পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের প্রভাবে এগুলির পুষ্টিমান কমে যায়।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক