page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ব্যাক পেইন বা পিঠে ব্যাথার ১০টি অভ্যাসজনিত কারণ

back1

back2

অসুস্থ না হলে পিঠে ব্যথা হয় এই ধারণা ঠিক নয়। অনেক স্বাস্থ্যবান লোক আছেন যারা কিছু অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত এ ধরনের সমস্যার শিকার হন।

নিচে পিঠ ব্যথার এমন ১০টি কারণ দেয়া হল যা অনেকেরই হয়ত অজানা।

১) পুরাতন তোশকে ঘুমালে
একটি ভালো তোশক ৮ থেকে ১০ বছর টিকে। আপনি যদি একটি তোশক ১০ বছরের বেশি ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার মেরুদণ্ড সুস্থ রাখার জন্য তোশকের যে সাপোর্ট দরকার তা পাবেন না। তাই এমন তোশক ব্যবহার করুন যা খুব বেশি শক্তও না আবার খুব বেশি নরমও না।

২) ভারি ব্যাগ বহন করলে
কাঁধের একপাশে ভারি ব্যাগ বহন করলে, আপনার মেরুদণ্ড ও শরীর ভারসাম্য হারাবে। হালকা ব্যাগ ব্যবহার করা শুরু করুন। মনে রাখবেন, আপনি যে ব্যাগটি ব্যবহার করেন তার ওজন কখনোই আপনার শরীরের ওজনের ১০ ভাগের বেশি হওয়া উচিত না।

৩) বেশি উঁচু জুতা অথবা একদম বেশি ফ্ল্যাট জুতা পরলে
যেসব জুতা অথবা স্যান্ডেলের হিল আপনার তুলনায় অনেক বেশি উঁচু সেগুলি আপনার হাড়ের সংযোগের উপর চাপ প্রয়োগ করে পিঠ বাঁকা করে দেয়। তেমনভাবে আপনার গোড়ালির জন্য ফ্ল্যাট স্যান্ডেলগুলিও ক্ষতিকর হতে পারে। যেসব স্যান্ডেলের তলা হালকা সেগুলি ক্ষতি করে। এতে হাঁটার সময় পা এদিক ওদিক নড়াচড়া করে বলে শরীরের ওজন মেরুদণ্ডের ওপর সমানভাবে পড়ে না।

৪) ক্রোধ ধরে রাখলে
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ দয়ালু তাদের মধ্যে মানসিক তিক্ততা, বিষণ্ণতা, রাগ এই ধরনের আবেগ কম হয়। আপনার আবেগ, পেশীর উত্তেজনা এবং চিন্তা সরাসরি আপনার পিঠের ব্যথাকে প্রভাবিত করতে পারে। আক্রোশ বা ঘৃণা শারীরিক মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই খারাপ।

৫) সারাদিন বসে থাকলে
সারাদিন বসে কাজ করলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। বসে কাজ করার কারণে পেশী দুর্বল হয়ে যায়। দাঁড়ানোর চেয়ে বসে থাকলে আপনার মেরুদণ্ড ৫০%-এর আরও বেশি চাপে থাকে। আপনার অফিসে যদি উঁচু ডেস্ক না থাকে তাহলে কাজ করার সময় বার বার আপনার পিঠ ১৩০ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেল এ ঘোরান। আর কাজের মাঝখানে কয়েকবার উঠে দাড়ান ও হাঁটাহাঁটি করলে পিঠে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

৬) মানসিক চাপে থাকলে
আপনি যদি মানসিক চাপে থাকেন, আপনার শরীরের যেসব অংশ সক্রিয় থাকে সেগুলিও চাপে থাকে। যেমন আপনার ঘাড় ও পিঠ। এর ফলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে শক্ত পেশীগুলো আর রিলাক্সড হওয়ার সুযোগ পায় না, এর কারণে ব্যথা হয়।

back3

৭) শারীরিক পরিশ্রম কম করলে
নিয়মিত ব্যায়াম করলে পেশীর নড়াচড়ায় স্বাচ্ছন্দ্য আসে, এটা পিঠের কোনো রকম সমস্যা হতে দেয় না। যখন আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন না তখন আপনার শরীরের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে,এবং পেশীর স্বাচ্ছন্দ্য চলে যায়। এর ফলে মেরুদন্ডের স্পাইনগুলি পুরোপুরি কাজ করে না। শারীরিক পরিশ্রম করলে পিঠে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না।

৮) অতিরিক্ত খাবার খেলে
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং কম পুষ্টির খাবার খেলে ওজন বাড়ে। এই অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি আপনার পিঠে চাপ তৈরি করে। পশ্চাদ্দেশের অতিরিক্ত ওজনও আপনার পিঠে চাপ তৈরি করে। বেশি ওজনের ব্যক্তিদের অস্টিওআর্থারাইটিসের ঝুঁকি থাকে। আপনার শরীরের ওজন শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ কমালে পিঠের সহ্যক্ষমতা আগের চেয়ে উন্নত হতে পারে।

৯) কম্পিউটার অথবা ফোনে সারাদিন ঝুঁকে কাজ করলে
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রতিদিন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব অথবা মোবাইল ফোনে ঝুঁকে কাজ করলে মেরুদন্ডের স্পাইন এবং তার আশেপাশের পেশীতে চাপ পড়ে। এর ফলে পিঠে ব্যথা তৈরি হতে পারে। এবং ভবিষ্যতে মেরুদন্ডের মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

১০) ভুল সাইজের ব্রা পরার কারণে
যাদের স্তন বড় স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওজন বেশি হয়। স্তন বড় থাকলে ঘাড় এবং পিঠের পেশী সামনে ঝুঁকে থাকে। এর ফলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। সঠিক সাইজের ব্রা পরলে পিঠের পেশী সামনের দিকে ঝুঁকে আসা বন্ধ হয়। যেসকল নারীরা বেশি ঢোলা ব্রা অথবা ভুল সাইজের ব্রা পরে তাদের পিঠে ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক