page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ভার্চুয়াল খাবারে এখন সত্যিকারের স্বাদ

virtual-taste-1

প্রযুক্তি এখন এতদূর চলে গেছে যে ভার্চুয়াল খাবারের মাধ্যমে সত্যিকারের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। টেকনোলজির মাধ্যমে কোনো খাবার মুখে না দিয়েই ক্যান্ডি চাবানোর স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর ও ইউনিভার্সিটি অব টোকিও’র কয়েকটি দল প্রযুক্তিগতভাবে কৃত্রিম মিষ্টি স্বাদ তৈরি করার ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়েছে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের একজন রিসার্চ ফেলো নিমেশা রানাসিংহে বেশ কিছুদিন ধরেই ভার্চুয়াল টেস্ট নিয়ে কাজ করছেন।

২০১৩ সালে তিনি এবং তার সহকারীরা একটি টেস্ট সিমুলেটর তৈরি করেছিলেন, ইলেক্ট্রোড দিয়ে তৈরি এই সিমুলেটরটি নোনতা, মিষ্টি, তিতা ও টক স্বাদ তৈরি করতে পারত। পরের বছর তিনি একটি বিশেষ ধরনের চামচ তৈরি করেন, সেই চামচ বয়স্ক লোকদের জন্য খাবারের স্বাদ বা ফ্লেভার বাড়াতে পারত।

এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিন্তু রানাসিং সমস্যায় পড়েন ইলেক্ট্রো-সিমুলেশন ব্যবহার করে মিষ্টি স্বাদ তৈরি করতে গিয়ে। তখন তিনি এবং তার সহকর্মী ইয়ি-লুয়েন ব্যাপারটা অন্যভাবে করার চেষ্টা করেন। তারা থার্মাল-স্টিমুলেশন পদ্ধতিতে মিষ্টি স্বাদ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।

তারা নতুন একটি ডিভাইস তৈরি করেছেন। এর বাইরের অংশ প্লাস্টিকের এবং বিভিন্ন রঙের তার জড়ানো। দেখতে অনেকটা ছোটোখাটো বোমার মত।  এই ডিভাইসে থার্মো-ইলেক্ট্রিক সলিড স্টেট ডিভাইসের একটা গ্রীড আছে, এটাকে বলে পেলটিয়ার এলিমেন্টস। এই ডিভাইসে জিহ্বা ছোয়ালে পেলটিয়ার এলিমেন্টস খুব দ্রুত জিহ্বাকে গরম ও ঠান্ডা করে, এবং এটি করে খুব নিয়ন্ত্রিতভাবে। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি যে এইভাবে তাপমাত্রা ম্যানিপুলেট করার ফলে এই ডিভাইস দিয়ে অনেকেই তাদের জিহ্বায় মিষ্টি স্বাদ পেয়েছেন।

টোকিওতে ইউজার ইন্টারফেস অ্যান্ড সফটওয়ার টেকনোলজি সিম্পোজিয়ামের বার্ষিক অনুষ্ঠানে রানাসিং ও ইয়ি-লুয়েন এই ডিভাইসটি প্রদর্শন করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব টোকিও’র আরিনবু নিজ্জিমা ও তাকেফুমি ওগাওয়া কাছাকাছি ধরনের একটি ডিভাইস প্রদর্শন করেছেন। তাদের ডিভাইসের নাম ইলেক্ট্রিক ফুড টেক্সচার সিস্টেম।

নিজ্জিমা বলেছেন, মুখে কোনো খাবার নেই কিন্তু ইউজার বা ব্যবহারকারীর মনে হবে তারা খাবার চাবাচ্ছে। ইলেক্ট্রিক্যাল পালস ফ্রিকোয়েন্সি এডজাস্ট করে ভার্চুয়াল খাবারের টেক্সচার বা ধরন বদলানো যাবে। সিম্পজিয়ামে আসা যেসব দর্শকরা এই সিস্টেমটি ব্যবহার করেছেন তারা সত্যিকারের ক্যান্ডি চাবানোর স্বাদ পেয়েছেন।

এই ডিভাইসগুলির প্রায়োগিক ব্যবহার কি হবে তা স্পষ্ট করেছেন গবেষ্করা। তারা বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল খাবার তৈরি করতে চান। যাতে যেসব মানুষজন বিভিন্ন খাবারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সত্যিকারের খাবার খেতে পারেনা অথবা কোনো কারণে স্বাদ বুঝতে পারে না তারা পছন্দমত খাবারের স্বাদ পাবে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক