page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মদ্যপান থেকে যে ৭ ধরনের ক্যান্সার হয়ে থাকে!

alcohol32

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের ক্ষতি শুধুমাত্র মাতাল হওয়া, নিয়ন্ত্রণহীনতা কিংবা মাথা ধরায় সীমিত থাকে না।  নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান আপনাকে মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয় এবং এ থেকে ক্যান্সারের মতো রোগের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

যুক্তরাজ্যে একটা পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে ২০১১ সালে ৪ হাজারের বেশি লোক মারা গেছে কেবল লিভার ক্যান্সারের কারণে। প্রতি দিন গড়ে প্রায় ১১ জন। এমন না যে মদ্যপান করলেই ক্যান্সার হবে, কিন্তু যারা মদ্যপান করেন তাদের অনেকেরই ক্যান্সার হয়ে থাকে।

মদ্যপানের কারণে নিচের ৭ ধরনের ক্যান্সারের যে কোনোটি হতে পারে আপনার:

  • লিভার ক্যান্সার
  • পাকস্থলীর ক্যান্সার
  • স্তন ক্যান্সার
  • মুখ গহ্বরের ক্যান্সার
  • গলার ক্যান্সার
  • খাদ্যনালীর ক্যান্সার
  • বাকযন্ত্রের ক্যান্সার

প্রচুর মদ্যপানের কারণে লিভারে সিরোসিস হয়ে থাকে, পরে তা ক্যান্সার কোষে রূপান্তরিত হয়। ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে শুধুমাত্র লিভার ক্যান্সারে মারা গেছে ৩,৭৮৯ জন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে খুব অল্প পরিমাণ মদ্যপানেও পাকস্থলীর ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। ১০টি ইউরোপীয় দেশে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের মদ্যপানের ফলে প্রতিদিন পাকস্থলীর ক্যান্সারের আশঙ্কা ৮% বৃদ্ধি পায়।

আর মদ্যপানের সাথে ধুমপানের অভ্যাস থাকলে ঝুঁকি আরো বেশি। মদ্যপান আর ধুমপান শরীরের কোষ নষ্ট করে ফেলে। একসাথে মদ্যপান আর ধূমপান গলা আর মুখে ক্যান্সারের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে। কারণ অ্যালকোহল মানুষের গলা ও মুখকে তামাকের মধ্যস্থিত রাসায়নিক পদার্থ শুষে নিতে সাহায্য করে। যারা দিনে ৫ পেগ মদ আর ৮টি সিগারেট পান করে তাদের ক্যান্সার হবার আশঙ্কা বেড়ে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বাড়ে ১৩ গুণ আর নারীদের ক্ষেত্রে ১৯ গুণ।

যে কোনো ধরনের অ্যালকোহলই ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। অনেকের ধারণা, কম অ্যালকোহল যুক্ত মদ বা রেড ওয়াইনে ক্যান্সারের ঝুঁকি নেই। কিন্তু সব ধরনের অ্যালকোহলই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর আর আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সেটা বিয়ার হোক আর অন্য মদই হোক। দীর্ঘ সময়ের জন্য এগুলি আমাদের শরীরকে ঝুঁকির মধ্যে রাখে। যারা ইতিমধ্যে মদে আসক্ত হয়ে পড়েছেন তারা অ্যালকোহল কমানোর মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। যত বেশি অ্যালকোহল কমাবেন আপনার ঝুঁকি তত কমবে। তাছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান হৃদরোগ, স্ট্রোক, ব্লাড প্রেসার, পাকস্থলীতে ঘা এসব রোগের জন্যও দায়ী।

noalcঅ্যালকোহল পান কমানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার মুখ ও খাদ্যনালীর ক্যান্সার ঝুঁকি কমতে শুরু করবে। সুস্থ থাকার জন্য এর সাথে দরকার ব্যায়াম ও ভাল খাবার। মদ্যপান কমিয়ে এর সাথে ভাল খাবার, পরিমিত পানি আর ব্যায়াম আপনাকে রোগ থেকে দূরে রাখবে। কমপক্ষে পাঁচ বার খেতে হবে নিয়ম মেনে। তাজা ফল, শাকসবজি শরীরে ক্যান্সার, হৃদরোগ হওয়া প্রতিরোধ করে। আর মাত্র ৩০ মিনিটের শারীরিক পরিশ্রম দিতে পারে সুস্থ হৃদযন্ত্র আর পাকস্থলী। গবেষকরা এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়ে ৩০০০ জনের ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ ও রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে তারা সেভাবে নিশ্চিত না, অ্যালকোহলের কোন উপাদানের কারণে এভাবে ক্যান্সার বৃদ্ধি পায়। তবে সম্ভাব্য কিছু কারণ তারা ব্যখ্যা দিয়েছেন, তার মধ্যে একটি হল একেটেল্ডিহাইড। এটি মানব দেহে প্রবেশের পর বিষাক্ত কেমিক্যালে রূপান্তরিত হয়। এটা ডিএনএর ক্ষতি করে এবং কোষকে শরীরের ক্ষতিপূরণ করতে বাধা দেয়। পরে কোষগুলি ক্যান্সার কোষে পরিণত হয়। অ্যালকোহল থেকে অস্ট্রিজেন এবং অন্যান্য হরমোন বৃদ্ধি পায়। এই হরমোন স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী। আর লিভার সিরোসিস হওয়ার পরেও মদ্যপান করলে লিভার ক্যান্সার হওয়াটা নিশ্চিত।

অ্যালকোহল যারা সেবন করে তাদের দেহে ফোলেটের পরিমাণ কমে যায়। ফোলেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, এটি আমাদের কোষের ডিএনএ সুগঠিত রাখতে সাহায্য করে। ফোলেটের পরিমাণ কম যাদের রক্তে তাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কম।

অ্যালকোহলের কারণে যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ৪% ক্যান্সার হয়ে থাকে, যার সংখ্যা ১২,৫০০ এর মত। মিলিওন ওমেন স্টাডিতে বলা হয়, যে ১.৩ মিলিয়ন নারীর স্তন ক্যান্সার হয় যার কারণ অ্যালকোহল। ১০ গ্রাম অ্যালকোহলের জন্য ক্যান্সারের ঝুঁকি ৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক