page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মদ্যপান যেভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে

drink2

নতুন এক পরীক্ষায় জানা গেছে, মদ্যপানের ফলে শরীরে ক্ষতির পরিমাণ আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি।

অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে অ্যালকোহলিক হবার ঝুঁকি, দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগ, এবং সর্বোপরী সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার সাথে সাথে এটা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ধ্বংস করে দেয়।

শিকাগোর লয়োলা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Loyola University) ড. মাজিদ আফসার পরিচালিত সমীক্ষায় জানা যায় অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমীক্ষাটি Alcohol নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সমীক্ষাটি ২৭ বছরের আশেপাশে ১৫ জন অংশগ্রহণকারীর উপর পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের ওজনভেদে চার থেকে পাঁচ পেগ ভদকা পান করতে বলা হয়েছিল।

অল্প সময়ে এই মাত্রার মদ পান করাকে “অতিরিক্ত” হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ২০ মিনিট পর যখন রক্তে মাদকের প্রভাব চূড়ান্ত তখন তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়, এছাড়াও যথাক্রমে দুই এবং পাঁচ ঘণ্টা পর পুনরায় রক্তের নমুনা নেয়া হয়।

আফসার লক্ষ্য করেন ২০ মিনিট পরে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা “মাদক বিষক্রিয়ার” বিপরীতে বেশ শক্ত প্রতিরোধ করতে থাকে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা অসুস্থ্য হয়ে না পড়ে। কিন্তু এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুই এবং পাঁচ ঘণ্টা পরে লক্ষ্য করার মত দুর্বল হয়ে যায়।

ঘটনাটির আরো বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের জন্য ড. আফসার তাদের রক্তের নমুনায় “প্রতিরোধ ব্যবস্থার” গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রোটিন ও হোয়াইট ব্লাড সেল (শ্বেতকণিকা) বিশেষ করে লিউকোসাইটস, মনোসাইটস এবং “ন্যাচারাল কিলার সেল” ইত্যাদির মাত্রা পরিমাপ করেন।

মদ্যপানের ২০ মিনিট পর এই উপাদানগুলি রক্তে স্বাভাবিক মাত্রায়ই ছিল, কিন্তু দুই এবং পাঁচ ঘণ্টা পরের রক্তসমীক্ষায় বিপরীত ঘটনা দেখতে পান ড. মাজিদ আফসার।

তিনি পরের রক্তের নমুনায় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় অনেক কম মাত্রার মনোসাইটস ও ন্যাচারাল কিলার সেলের উপস্থিতি দেখেন। এই গোটা প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় “বাইফেজিক ইমিওনোলজিকাল রেসপন্স।” বাস্তবে যার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে চূড়ান্ত মাতাল হবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়া।

ড. আফসারের মতে আমাদের ইমিউন সিস্টেম (রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা) আমাদের শারীরিক প্রতিরক্ষার প্রথম সীমানা। এটা দুর্বল হয়ে পড়লে আমাদের অসুখ যেমন বুকে কফ বসে যাবার মত ব্যাপারগুলি আপনাআপনি সারে না। তিনি জানান তার এই পরীক্ষায় শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় রকমের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।

এটা সবার জানা (এবং এটা উপেক্ষিতও) যে অতিরিক্ত মদ্যপান শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে আফসারের সমীক্ষার পরে তাৎক্ষণিক বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া যেমন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অসংলগ্ন আচরন ইত্যাদির বাইরেও মদ্যপানের প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

ড. আফসার জানান, আমরা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার ভেতরে চার পাঁচ পেগ মদপানকে স্বাভাবিক ধরি, কিন্তু এই পরীক্ষায় ব্যাপারটা অন্যভাবে ধরা পড়েছে। তারপরও অতিরিক্ত মদ্যপানের কেবল একটা দিকই এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে সেটা হল আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়া, যার ফলে সাধারণ অসুখ-বিসুখ থেকে আমরা সেরে উঠতেও অনেক সময় নিয়ে থাকি।
মূল: ম্যাক্স উফবার্গ

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক