page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মান্দার গাছের চিপায় স্বদেশ আটক

art shadhu1

ইলেকশান জিতা দুই কমিশনার আসগর আলী আর গজর নফরের সমর্থকের পাল্টাপাল্টি অবস্থান। তাই নিয়া ছালাপাড়া এলাকায় চাপা উত্তেজনা। ফাঁকা সুনসান। পুলিশের গাড়ির টহল।

‘এ’ টিমের ছোট একটা মিছিল আসে।

এইসময় বাজার করে ব্যাগ হাতে ফিরছিল স্বদেশ সরকার। ছালাপাড়ায় ঢুকেই আচমকা গায়ের উপর মান্দার গাছ পড়ে স্বদেশ চাপা পড়ে।

ব্যাগ থেকে আলু গড়িয়ে যায়, কই মাছ বেরিয়ে লাফাতে থাকে। পাশেই নালা, ওখানে পড়লে মাছগুলা বেঁচে যায়।

কজন স্বদেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলে ‘বি’ টিমের কর্মী সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছুটে আসে। লোকগুলা পালায়। মিছিলকারীরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে দিকবিদিক ছুটতে থাকে। ভাঙচুর হয়। গাছের নিচে চাপা পড়া স্বদেশ কোঁকায় আর দেখে। পুলিশ আসে। পুলিশ কাউকে পায় না, পায় স্বদেশকে।

whomayun alik2

পুলিশ – আপনি এখানে কী করেন?

স্বদেশ – কোঁ কোঁ আমি জানি না কোঁ কোঁ।

পুলিশ ১ –  (সিনিয়রকে) স্যার, দেখেন ব্যাগ। মনে হয় নাশকতাকারী, বোম মারতে এসে চাপা পড়ছে।

পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিমকে খবর দেয়।

স্বদেশ – ওহহ আমাকে বাঁচান… কোঁ কোঁ।

পুলিশ – (ওয়াকি টকিতে) চার্লি ওয়ান, আমাদের একটা ক্রেন লাগবে ওভার…।

তড়িৎ গতিতে চ্যানেল, প্রেসের সাংবাদিকরা উদয় হয়। তারা পুলিশকে গতানুগতিক প্রশ্ন করে বিস্তারিত জানতে চায়।

পুলিশ বলে, এ মুহূর্তে বলতে পারছি না কারা মারামারি, ভাঙচুরের সাথে জড়িত। বিশৃংখলা করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিকারীরা অবশ্যই সন্ত্রাসী। সে যেই হোক আমরা তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করব।

সাংবাদিক ১ – আপনারা শান্তিশৃংখলার কাজে নিয়োজিত, এখানেই টহল দিচ্ছিলেন, আপনারাই জানেন না?

পুলিশ – আমাদের লোকবলের অভাব। আমরাও তো মানুষ। সংসার, বৌ-বাচ্চা আছে।

সাংবাদিক ২ – আপনারা নেক্সট কী অ্যাকশানে যাচ্ছেন?

পুলিশ – ওনাকে উদ্ধারের জন্য ক্রেন এমভি হামজা আসছে…।

“চার্লি ওয়ান, ক্রেন কই? মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য ফাইল গেছে?” কথা বলতে বলতে পুলিশ ফ্রেম আউট।

এই সময় স্বদেশ কোঁ কোঁ করে ওঠে। সাংবাদিকরা কে কার আগে তার কাছে যাবে প্রতিযোগিতা লাগিয়ে দেয়।

চ্যানেল 69 – আপনি কি প্রথম থেকেই এভাবে চাপা পড়ে ছিলেন? কী কী দেখেছেন আমাদের বলেন।

চ্যানেল হেড-আপ – কেমন লাগছে আপনার? আপনি দেখতে পান নি গাছটা পড়ছে? ঠিক যখন গাছটা আপনার উপর পড়ে তখন কেমন লেগেছিল?

দৈনিক চীৎকার – আপনি কোন টিমের লোক? কারা করেছে এটা? এই পথ দিয়ে কেন যাচ্ছিলেন?

ক্যামেরা, লাইটের আলোয় আর কিছু বলতে পারে না। কোঁ কোঁ করে স্বদেশ।

সাংবাদিক নিমকি – দর্শক, আপনারা দেখতে পারছেন উনি বাকহারা। যতটুকু জানা গেছে উনি স্বদেশ সরকার। উনারও নিশ্চয় সংসার আছে। তারা স্বদেশের জন্য অপেক্ষা করছেন। মানুষ কোথায় যাবে? মানুষ কার কাছে যাবে? আপনাদের আমরা যতটুকু সম্ভব নতুন এবং তাৎক্ষণিক তথ্য ও সংবাদ তাৎক্ষণিক ভাবে দেবার চেষ্টা করছি। আপাতত স্টুডিওর টকশোতে চলে যাচ্ছি।

পরদিন নিউজ: “ঐতিহ্যবাহী মান্দার গাছের নিচে চাপা পড়ে আছে সোনার স্বদেশ”।

‘এ’ টিমের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম সাংবাদিকদের বলেন, স্বদেশ আমাদের কর্মী। আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করে যাচ্ছিলাম, ‘বি’ টিমের লোকজন আমাদের উপর হামলে পড়ে। গাছ কেটে ব্যারিকেড দেয়। তাতে স্বদেশ চাপা পড়ে। তার প্রতিবাদে অনির্দিষ্ট কালের অবরোধ ডেকেছি আর স্বদেশের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করছি।

সাংবাদিক – কিন্তু উনি তো মারা যান নি।

জসিম – যান নি, মর মর অবস্থা তো। ওরা অস্ত্রসহ আমাদের শান্তশিষ্ট নিরীহ লোকদের ধাওয়া করে। স্বদেশকে হাসপাতালেও নিতে দেয় নি। এভাবে সে কতক্ষণ সারভাইব করবে? এই শোক নেয়া যায় না, আমরা কেস করব।

‘বি’ টিমের ত্যাগী নেতা জালাল বলেন, এলাকা শান্তই ছিল। ‘এ’ টিম মিছিল করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তাতেও কোন সমস্যা ছিল না। তারা মিছিল থেকে হামলা ভাঙচুর করে। ওই গাছ কাদের? আমাদের নেতা গজর নফরের নিজ হাতে লালিত শতবর্ষী পুরনো ঐতিহ্যবাহী মান্দার গাছ। গাছ কেটে ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত করার জন্য আমরা কেস করছি। আর চুপ করে থাকতে পারি না।

ক্রেন এমভি হামজা অবরোধে আটকা পড়ে গেছে। পুলিশ করাত নিয়ে আসার জন্য বললেন। তার আগে কেউ বডি আর গাছের গায়ে হাত দিবেন না। খবরদার!

সাংবাদিকরা আপডেট রাখতে স্বদেশের কাছে যান। ছবি তোলেন। ৪৮ ঘণ্টা আটকে পড়ে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়া স্বদেশ যাকে দেখে উলটাপালটা বকছেন। “দূর হ, দূর হ… গাছ ঢুকায়া দিমু!”

এভাবেই গাছের চিপায় পড়ে আছে স্বদেশ। এভাবেই চলছে, চলবে যতদিন ‘এ’ টিম আর ‘বি’ টিম ছালাপাড়ার মানুষের সেবায় জান দিচ্ছেন।

আপাতত আমরা গুরুত্বপূর্ণ টপিক ‘বাংলাদেশ সেলফিতে বিশ্বরেকর্ড করছে’ ওইটা নিয়া ভাবি।

About Author

হুমায়ূন সাধু
হুমায়ূন সাধু