page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মৃত্যু একটি উদ্ভাবন

এ মুহূর্তে আমি এক সঙ্গে যে তিনটি বই পড়ছি, সেগুলো হলো:
১. নাথিং টু বি ফ্রাইটেন্ড অফ – জুলিয়ান বার্নস
২. মেলোনি ডাইজ – স্যামুয়েল বেকেট
৩. হাউ উই ডাই – শেরউইন বি ন্যুল্যান্ড

সব কটির বিষয়বস্তু মৃত্যু। কাকতাল নয়। মৃত্যুচিন্তা আমার ফেভারিট পাসটাইম।

shibbratalogo

১.
নাথিং টু বি ফ্রাইটেন্ড অফ বইটি জুলিয়ান বানর্সের এক বিশেষ ধরনের স্মৃতিচারণ, যেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন, কীভাবে মা-বাবা আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যু আর বিচ্ছেদ অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজের মৃত্যু সংক্রান্ত চিন্তার মুখোমুখি হয়েছেন। বইটির কেন্দ্রীয় থিম মৃত্যুভয়। জুলিয়ান বানর্স বলার চেষ্টা করেছেন, মৃত্যু নামক অমোঘ নিয়তি বিষয়ে একটা বুদ্ধিবৃত্তিক ফয়সালায় উপনীত হওয়া প্রত্যেক চিন্তাশীল ব্যক্তির কতর্ব্য। মৃত্যু অমোঘ। সমস্যা নেই। কিন্তু মৃত্যু তো আবার সবকিছুর পরিসমাপ্তি। সবকিছু যদি ধুয়েমুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, যদি কিছুই পড়ে না থাকে, তাহলে ব্যক্তির এখনকার এই থাকাটার অর্থ কী?

Nothing to Be Frightened Ofবার্নসের বই এটার কোনো জবাব খোঁজার চেষ্টা নয়। বরং নিজ জীবনে তিনি কীভাবে একটা নাথিংনেসের গুহায় ঢুকে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, সেটার বিবরণ আছে। বার্নস মৃত্যুচিন্তা এবং মৃত্যুভয় দ্বারা অবসেসড ছিলেন। তিনি এখনও বেঁচে আছেন।

এটা ঠিক যে, যারা ধর্ম ও পরকালে বিশ্বাস করেন না, মৃত্যু ব্যাপারটা তাদের অনেকের মধ্যে একটা চৈতন্যগত সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়। দার্শনিকভাবে সেই সংকটের মুখোমুখি দাঁড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প খোলা নেই।

বইটি শুরু হয়েছে এই বাক্য দিয়ে: I don’t believe in God, but I miss him। বাক্যটা সম্ভবত বার্নসের নিজের নয়। তবে তিনি এই বাক্যটির ব্যাপারে তার বড় ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যিনি সোরবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্র পড়ান। পুরো বইতে এই ভাইয়ের সঙ্গে তার কিছু কথোপকথন ঘুরেফিরে আসে। এই ভাইয়ের সূত্র ধরেই আসে মতেঁর (Montaigne) প্রসঙ্গ।

বার্নস অক্সফোর্ডে পড়তে গিয়ে প্রথম মতেঁ পড়েন। তিনি বলছেন, মৃত্যু বিষয়ে মানুষের আধুনিক চিন্তা মতেঁ থেকে শুরু। ষোড়শ শতাব্দির এই ফরাসি দার্শনিক হলেন প্রাচীন যুগের প্রজ্ঞাবানদের বক্তব্য আর আমাদের কালে মৃত্যু নামক নিয়তিকে মেনে নেওয়ার একটি আধুনিক, পরিণত ও অধার্মিক অ্যাপ্রোচের মধ্যেকার যোগসূত্র। মতেঁ বলছেন, To be a philosopher is to learn how to die। এটা আবার মতেঁর নিজের কথা না। তিনি সিসেরোকে উদ্ধৃত করছেন। সিসেরো এই কথা বলছেন সক্রেটিস সম্পর্কে বলতে গিয়ে। সক্রেটিস মৃত্যু নিয়ে প্রচুর কথা বলেছেন। সক্রেটিস যে-সময়ে বেঁচে ছিলেন, তখন মানুষের গড় আয়ু চল্লিশের বেশি ছিল না। রোগ, শোক, মহামারী উজিয়ে যারা পরিণত যুবা বয়স পর্যন্ত টিকে যেতে পারতো, তাদের জন্য অপেক্ষা করতো যুদ্ধ আর হানাহানি। অধিক বয়স পর্যন্ত বেঁচে থেকে একটু একটু করে প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় মারা যাওয়ার অভিজ্ঞতা বিরলই ছিল। তখন মৃত্যুভয় ব্যাপারটার চেহারা ভিন্নরকম ছিল বই কি।

ইতিহাসবিদ ফিলিপ আরিয়েস দেখিয়েছেন, মানুষ যখন থেকে মৃত্যুকে সত্যিকারভাবে ভয় পেতে শুরু করলো, তখন থেকে মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলাও সে বন্ধ করে দিয়েছে। যেভাবে আর দশটা জৈবকর্ম আমরা ঢেকে রাখি, গোপন করি, মৃত্যু বিষয়ক আলাপও সেরকম একটি গোপন বিষয়ে পরিণত হয়। এ বিষয়ে কথা বলা অভদ্রতা হিসেবে সমাজে পরিগণিত হতে থাকে। ঠিক ওই সময়টাতেই চিকিৎসাশাস্ত্রের বিকাশের বদৌলতে মানুষের গড় আয়ু বাড়তে শুরু করেছে।

মতেঁ বলছেন, যেহেতু মৃত্যুকে পরাভূত করার কোনো রাস্তা নেই, সেক্ষেত্রে সবচেয়ে মোক্ষম প্রতিশোধ এই হতে পারে যে, আমরা সারাক্ষণ মৃত্যুচিন্তা করতে থাকবো। মৃত্যু বিষয়ে আগাম প্রস্তুত হওয়া মানে এর দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়া। কীভাবে সম্মানজনকভাবে মরতে হয়, এটা যদি আপনি কাউকে শিখিয়ে দিতে পারেন, তো আপনি তাকে শেখালেন কীভাবে ভালো করে বাঁচতে হয়। সারাক্ষণ এই মৃত্যু-চেতনা মতেঁকে বিষণ্ন করে না, বরং তিনি মৃত্যুর সঙ্গে সখ্য তৈরি করেন।

২.
malone diesমেলোন ডাইজ স্যামুয়েল বেকেটের একটি ক্ষুদ্রকায় উপন্যাস। ম্যালোন নামে অশীতিপর এক জরাগ্রস্ত বৃদ্ধ হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর প্রতীক্ষা করতে করতে ঠিক করলেন, তিনি একটি তালিকা তৈরি করবেন। তার জীবনে তিনি কী কী বিষয়বস্তুর অধিকারী হয়েছেন, সেগুলোর তালিকা। ম্যালোন নগ্ন অবস্থায় বিছানায় এই তালিকার বিবরণ লিখছেন। এই বিবরণ কোনো সুশৃঙ্খল প্লট বিন্যাসে সাজানো নয়। স্বপ্নের মতো মাঝে মাঝে চরিত্রগুলো নাম পাল্টে ফেলে।

 

৩.
তৃতীয় বইটির নাম হাউ উই ডাই। লেখক শেরউইন বি ন্যুল্যান্ড শল্য চিকিৎসা এবং ঔষধশাস্ত্রের ইতিহাস পড়াতেন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াতেন বলছি, কেননা এ বছরের মার্চে তিনি মারা গেছেন।

বইটির উদ্ধৃতিপত্রে জন ওয়েবস্টারের একটি উদ্ধৃতি: “Death hath ten thousand several doors for men to take their exits”। ন্যুল্যান্ডের বই এই দরজাগুলোর কয়েকটির বিবরণ।

আমরা কীভাবে মরি? এর জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো কী?

ন্যুল্যান্ড এর বিবরণ লিখতে বসেছেন। ভিভিড বিবরণ। একজন চিকিৎসকের দৃষ্টিকোণ থেকে।

How We Dieতিনি বলছেন, আমরা সকলেই মৃত্যুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জানতে চাই, যদিও মুখে সেটা স্বীকার করতে রাজি থাকি না। আমাদের অন্তিম মুহূর্তটি কেমন হবে, কোনসব শারীরিক আর মানসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা মারা যাবো, সেই বিবরণের প্রতি আমরা দুর্বার আকর্ষণ বোধ করি। ফ্রয়েডিয়ান মনোগঠনের কারণেই করি। মৃত্যু আমাদের কাছে ভয়মাখানো এক গোপন যৌনাকর্ষণ। একটা আদিম এষণা। পতঙ্গের সঙ্গে আগুনের যে সম্পর্ক, মৃত্যুর সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও তাই।

তবে কিনা আমরা কিছুতেই নিজ নিজ মৃত্যুমুহূর্ত চিন্তা করতে পারি না। একটা চিরস্থায়ী অচৈতন্য, একটা অন্তহীন ‘নাস্তি’ বরণের চিন্তা দুরূহ কর্ম। এটা বলে কোনো সান্ত্বনা পাওয়া যাবে না যে, আমার জম্মের আগে আমি অনন্তকাল অস্তিত্বহীন ছিলাম। কেননা আমার জন্মের আগের সময়কার যে নাস্তি, তার সঙ্গে আমার মৃত্যুর পরবর্তীকালের নাস্তির কোনো ভাবগত মিল নেই।

ভূমিকায় ন্যুল্যান্ড বলছেন, “We seek to deny the power of death and the icy hold in which it grips human thought. It’s constant coolness has always inspired traditional methods by which we consciously and unconsciously disguise its reality, such as folk tales, allegories, dreams and even jokes।”

সাম্প্রতিককালে আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার আধুনিক পদ্ধতি চালু করেছি। আমরা এখন আর আগের মতো করে মরি না। কীভাবে মরি? আমরা মরি আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির সজ্জায় সজ্জিত হাসপাতালে, আইসিইউ নামক এক বিশেষ ঘরে, মৃত্যু আর জীবনের মধ্যবর্তী একটি জীবন্মৃত দশার দোলাচলে বেশ কিছুকাল কাটিয়ে, এক অপরিচিত অ্যাটেনড্যান্টের অকরুণ দৃষ্টির সামনে। শেষ বিদায়ের ক্ষণে এখন আর প্রিয় মানুষজনের প্রিয় মুখ আমাদের দিকে সজল চোখে তাকিয়ে থাকে না।

ন্যুল্যান্ড পশ্চিমা সমাজে আর্স মরিয়ান্ডি (Ars Moriendi) বলে একটি ধারণার প্রসঙ্গ টেনেছেন, যেটির আক্ষরিক অর্থ হলো মৃত্যুবরণ করার শিল্প। ধর্মীয় ভাবধারা থেকে উদ্ভূত এই শব্দটি পরিবর্তীকালে সুন্দর মৃত্যু, শিল্পিত মৃত্যু ইত্যাদি ধারণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এর মূলে আছে মৃত্যুকে এক মহীয়ান প্রস্থান হিসেবে দেখার তাড়না। আর্স মরিয়ান্ডি মানে হলো মর্যাদাশীল মৃত্যু। ন্যুল্যান্ড বলছেন, সুন্দর মৃত্যু বলে কিছু নেই। এটি এক মিথ। মৃত্যু অত্যন্ত কদাকার এবং মৃত্যুমুহূর্তটি মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির জন্য ভীষণ অমর্যাদাকর, ব্যক্তিত্ববিনাশী।

নিজের একটি অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়েছেন ন্যুল্যান্ড। একদিন তার চেম্বারে দেখা করতে আসেন ৪৩ বছর বয়সী এক অ্যাটর্নি। তিন বছর আগে এই মহিলার স্তন ক্যান্সার অপারেশন করেছেন ন্যুল্যান্ড। ক্যান্সার প্রাথমিক দশায় ছিল। মহিলাটি প্রায় সেরে উঠেছেন। কিন্তু ওইদিন মহিলাটিকে খুবই বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। মহিলাটি বললেন, রোগী দেখা শেষ হলে আলাদা করে তিনি ডাক্তারের সঙ্গে একটু কথা বলতে পারেন কিনা। ঠিক আছে, কথা বলা যাবে। পরে নিভৃতে মহিলা জানালেন, ভিন্ন আরেক শহরে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে। একই অসুখে। “আমার মা প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে মারা গেছেন,’ বললেন মহিলা। ‘ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কিছুই সহনীয় করে তুলতে পারেন নি। আমি একটা শান্তিময় প্রস্থান আশা করেছিলাম। ভেবেছিলাম, ব্যাপারটা কিছুটা আধ্যাত্মিক হবে। আমরা তার জীবদ্দশা নিয়ে কথা বলবো। কথা বলবো দুজনের একসঙ্গে কাটানোর স্মৃতি নিয়ে। কিন্তু এগুলোর কিছুই হয় নি। এত কষ্ট, এত যন্ত্রণা উনি ভোগ করছিলেন, একটার পর একটা বেদনানাশক দেওয়া হচ্ছিলো।’ এটুকু বলে মহিলা থামলেন। তারপর কান্না আর ক্রোধে ভেঙে পড়ে বলতে থাকলেন, ‘ড. ন্যুল্যান্ড, আমার মায়ের মৃত্যু চূড়ান্তরকম অমর্যাদাকর ছিল।’

 

Ars moriendi2

আর্স মরিয়ান্ডি – টেম্পটেশন অব লেক অব ফেইথ, খোদাই
শিল্পী: মাস্টার  ই. এস. (অনামা জার্মান খোদাইকার, সোনারু ও প্র্রিন্টমেকার); জানুয়ারি ১, ১৪৫০

ন্যুল্যান্ড এই মহিলাকে কিছুতেই বোঝাতে পারছিলেন না, তার মায়ের এই তরিকার মৃত্যুর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছুই নেই। এখানে কর্মফলের কোনো প্রশ্ন নেই। ড. ন্যুল্যান্ড তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, একটা মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুমুহূর্ত আসলে আধুনিক সমাজের একটা কল্পনা। এক ভয়াবহ বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা। মৃত্যু এমন একঝাঁক বিধ্বংসী ঘটনার সিরিজ, যা মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির মনুষ্যত্বকে চূর্ণবিচূর্ণ করে, পিষে ফেলে। আমরা যেভাবে মারা যাই, তার মধ্যে মর্যাদাকর কিছুই আসলে অবশিষ্ট থাকে না। আর্স মরিয়ান্ডি এক মিথ্যা ধারণা।

হাউ উই ডাই বইটি ন্যুল্যান্ড লিখেছেন মৃত্যুর প্রক্রিয়াটিকে ডি-মিথোলাইজ করার জন্য। তাই বলে, মৃত্যুকে এক বীভৎস যন্ত্রণাদায়ক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করাও তার অভিপ্রায় নয়। মৃত্যুকে তিনি এর সত্যিকার জৈবিক আর ক্লিনিক্যাল বাস্তবতায় স্থাপন করতে চান, যারা এই মুহূর্তগুলোর সাক্ষী, তাদের বয়ানে। তার মতে, কীভাবে আমাদের দেহের মৃত্যু ঘটে, তার অনুপুঙ্খ বিবরণ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করার মধ্য দিয়ে আমরা ভয়ঙ্কর এই মুহূর্তটির ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারি। মানুষকে মৃত্যু মুহূর্তের ট্রমা থেকে রক্ষা করার এটাই একমাত্র তরিকা।

এই বলে ন্যুল্যান্ড শুরু করেন তার দীর্ঘ স্তরিভূত বয়ান। কীভাবে আমরা মারা যাই, তার বয়ান। কীভাবে শরীর ক্ষয়ে ক্ষয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, তার বয়ান। এই বই জন ওয়েবস্টার কথিত সেই সহস্র দরজার কয়েকটির বিবরণ, যার ভেতর দিয়ে আমরা শূন্যে মিলিয়ে যাই।

যারা মারা যেতে চান, এ বই তাদের অবশ্যপাঠ্য।

৪.
এবার আমি চতুর্থ আরেকটি বইয়ের প্রসঙ্গ টানবো। এটি মৃত্যু বিষয়ক কোনো বই নয়। বরং এটির বিষয়বস্তু জীবন বা প্রাণ।

Life Ascendingনিক লেন নামে এক বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী এটি লিখেছেন। নাম লাইফ অ্যাসেন্ডিং: টেন গ্রেট ইনভেনশনস অফ এভোলিউশন। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘জীবনের উত্থান: বিবর্তনের দশটি মহান উদ্ভাবন’।

বিবর্তনের উদ্ভাবন বিষয়টি কী?

বিবর্তন যদি একটি প্রক্রিয়া হয়ে থাকে, আর সেটার যদি একটা বিকাশমান অভিমুখ থাকে (আছে বলেই জীববিজ্ঞানীরা মনে করেন, এককোষী সারল্য থেকে বহুকোষী জটিলতার দিকে যাত্রা), তাহলে আমরা প্রকৃতির এমন কয়েকটি উদ্ভাবনের মুখোমুখি হবো, যেগুলি জীবজগৎকে বৈপ্লবিকভাবে পাল্টে দিয়েছে। এখানে এরকম দশটি উদ্ভাবনের কথা বলা হয়েছে। আমি প্রথম নয়টি উদ্ভাবনের তালিকা দিচ্ছি:
১. জীবনের সূত্রপাত
২. ডিএনএ
৩. সালোকসংশ্লেষণ
৪. জটিল কোষ
৫. যৌনতা (নারী আর পুরুষে বিভক্তি)
৬. পা
৭. চোখ
৮. গরম রক্ত
৯. চৈতন্য

মেনে না নিয়ে উপায় নেই যে, এই নয়টি উদ্ভাবন জীবজগৎকে আমূল বদলে দিয়েছে, এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিবর্তনের দশম উদ্ভাবনটি কী?

নিক লেন বলছেন, দশম উদ্ভাবনটি হলো মৃত্যু। মৃত্যু বিবর্তনের একটি উদ্ভাবন, কেননা জীবজগতে মৃত্যু আগে থেকে বহাল ছিল না। জীবের কোষভিত্তিক বিকাশের একটি পর্যায়ে ঘটেছে মৃত্যুর আগমন। মৃত্যুকে তৈরি করে নিতে হয়েছে। প্রকৃতি এটি বানিয়েছে। বানিয়েছে নিজের সুবিধার জন্যে। মৃত্যুর একটি বিশেষ বিবর্তনবাদী ভূমিকা আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মৃত্যু মোটেও অবশ্যম্ভাবী নয়, তবে কাম্য।

বিবর্তনের নিচের স্তরে অনেক জীবেরই মৃত্যু বলে কিছু নেই। এমনকি উচ্চ স্তরেও, জৈবিকভাবে তাকালে, মৃত্যু কথাটিকে আর পরিসমাপ্তি হিসেবে দেখার যো নেই। এটি প্রবহমানতার, জীবপ্রকরণের একটি কৌশল মাত্র।

বিবর্তনের রাস্তায় কীভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যু নামক এই বিশেষ কৌশলের উদ্ভাবন ঘটলো, তার বিবরণ রয়েছে দশম চ্যাপ্টারে।

মোহাম্মদপুর, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

শিবব্রত বর্মনের আরো লেখা »

ব্লগ

About Author

শিবব্রত বর্মন

কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক ও সাংবাদিক। জন্ম : ১৯৭৩, ডোমার, নীলফামারী। প্রকাশিত গ্রন্থ : ছায়াহীন; মিগুয়েল স্ট্রিট (অনুবাদ) ভি এস নাইপল; কদর্য এশীয় (অনুবাদ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ; পাইয়ের জীবন (অনুবাদ) আয়ান মার্টেল