page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মোশতাক আহমেদের ৭ সায়েন্স ফিকশন ও ১টি ভৌতিক

mustak

ফেব্রুয়ারি ২০১৪ বইমেলায় মোশতাক আহমেদের প্রকাশিত ভৌতিক উপন্যাস কালা পিশাচ এবং সায়েন্সফিকশন সিরিজ রিবিটের জীবন সহ ৮টি বই আসছে।

রিবিটের জীবন সিরিজটি ৬বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে বের হচ্ছে।

ভৌতিক উপন্যাস কালা পিশাচের কাহিনি দুই বান্ধবী ও এক কুকুররূপী কালা পিশাচের মানুষের রক্ত খাওয়া নিয়ে।

দুই বান্ধবী কক্সবাজার ঘুরতে যায়। সেখানে তারা এই কালা পিশাচটাকে দেখতে পায়। সেই কালা পিশাচের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত দুই বান্ধবী নিজেদের বাঁচাতে পারে কি না সেটাই পল্পের কাহিনি।

১. ‘কালা পিশাচ’ বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে

বিশাল দেহের কালো কুচকুচে কুকুরটাকে দেখে আঁতকে উঠল লিয়া। এই কুকুরতাকে সে খুব ভয় পায়। কারন সে জানে এই কুকুরটা কুকুর নয়, ভয়ঙ্কর এক কালা পিশাচ। কখনো কখনো মানুষের অবয়ব নিয়ে আসে। কুকুরটার পাগুলো দেখতে মানুষের হাতের মতো। যেভাবেই হোক এই কালা পিশাচটা তার ডান পা থেকে রক্ত খাবে। এ উদ্দেশ্যে কুকুররূপী কালা পিশাচটা কামড়ে তার ডান পায়ে দুটো ক্ষতেরও সৃষ্টি করেছে। সেই ক্ষত থেকেই চেটে চেটে রক্ত খায় পিশাচটা। লিয়ার মুক্তির কোনো উপায় নেই। কারণ রক্ত খেতে দিতে না চাইলে তার পায়ে ভয়ঙ্কর অসহনীয় ব্যথা হয়। তখন সে উন্মাদ হয়ে যায়। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে নিজের পা-টা নিজেই কেটে ফেলার চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না। শেষে পিশাচ তাড়ানোর জন্য ‘তীর বাবা’ কে ডাকা হয়। কিন্তু প্রথম দিনের পর আর হদিস পাওয়া যায়নি ’তীর বাবার’।

আরও একজন ফকিরকে ডাকা হলে ফকিরও নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে। এদিকে কালা পিশাচ জানিয়ে দেয় সে খুব শিঘ্রী লিয়াকে নিষ্ঠুর আর নির্মমভাবে হত্যা করবে। তাই তো লিয়াকে সে নিয়ে যেতে থাকে গভীর জঙ্গলে, যেখানে তাকে সাহায্য করার কিংবা উদ্ধার করার মতো কেউ নেই। লিয়া সেখানে একা, একেবারেই একা।

কালা পিশাচের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত লিয়া কী নিজেকে বাঁচাতে পেরেছিল?

 

২. ‘রিবিটের জীবন’-এর ফ্ল্যাপ থেকে

হাইকোর্টের সামনে থেকে রিবিট ‘জীবন’ নামের পঙ্গু অর্ধমৃত এক ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এনে ভর্তি করে। জ্ঞান হারানোর আগে ছেলেটি লোমহর্ষক এক জীবনকাহিনীর গভীরে ঢুকতে গিয়ে রিবিট জানতে পারে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক অন্ধকার জগতের কথা। অন্ধকার সেই জগতে প্রবেশ করে রিবিট বুঝতে পারে তাকে একটা ভয়ঙ্কর ঘরের অনুসন্ধান করতে হবে। কারণ ঐ ঘরেই লোমহর্ষক কাহিনীগুলোর জন্ম হয়, ছোট্ট শিশুদের জীবনের স্বপ্নকে ধূলিস্যাত করে দেয়া হয়, তাদের চিরতরে পঙ্গু করে দেয়া হয়, তাদের জীবনকে শেষ করে দেয়া হয়। রিবিট মনে প্রাণে প্রতিজ্ঞা করে যেভাবেই হোক ভয়ঙ্কর ঘরটাকে সে খুঁজে বের করবেই।

রিবিট যখন ভয়ঙ্কর সেই ঘরটাকে খুঁজছে, ছোট্ট নাদিয়া তখন সেই ঘরে জীবন বাঁচাতে চিৎকার করে যাচ্ছে। কিন্তু তার চিৎকার শোনার মতো কেউই যে নেই। ধীরে ধীরে নাদিয়া একসময় উপলব্ধি করে তার দুটো পা-ই অবশ হয়ে যাচ্ছে। সে আর কোনোদিন হাঁটতে পারবে না। শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ছুটে পালাতে গিয়েও পারে না সে। কারণ তাকে যে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। অন্ধকার সেই ঘরে তার সঙ্গী একটা ইঁদুর আর কিছু তেলাপোকা, আর আর দুঃসহ জীবন আর যন্ত্রণাময় নারকীয় মৃত্যু।

শেষ পর্যন্ত রিবিট কী খুঁজে পেয়েছিল নাদিয়াকে। আর কী সেই লোমহর্ষক জীবনকাহিনী যা শুনে বার বার রিবিটের শক্তিশালী প্রোগ্রামের ইলেক্ট্রণ প্রবাহও অসম হয়ে যেত, নিজের আবেগকেও সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না?

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক