page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

যে ১০টি শব্দ আপনাকে কম আত্মবিশ্বাসী হিসেবে উপস্থাপন করে

lolly-daskal

আমরা কথা বলতে যে সব শব্দ ব্যবহার করি সেগুলির নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে। যদি সফল হতে চান তাহলে সবসময় আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন।


ললি ড্যাসকাল
প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী, লিড ফ্রম উইদিন


আত্মবিশ্বাস হচ্ছে সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি। আর এই আত্মবিশ্বাস তৈরি ও সেটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ছোট ছোট বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে যাতে এটা দুর্বল হয়ে না যায়। আপনাকে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। শব্দের ক্ষমতা আছে। আপনার ব্যবহৃত শব্দ বুঝিয়ে দেয় আপনি মানুষটি কেমন। এখানে এমন কিছু শব্দ দেওয়া হলো যেগুলি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা উচিৎ।

আপনি যদি দেখেন এই শব্দগুলি আপনার লেখা ইমেইলে, আপনার কথাতে এমনকি চিন্তাতে চলে আসছে তাহলে খেয়াল করতে হবে আপনি আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছেন কিনা।

১. করবো না
এই ‘করবো না’ শব্দটি আপনার পরাজয়ের কথা বলে। এটা সর্বোচ্চ লেবেলের নেতিবাচক শোনায়। এর মারাত্মক ক্ষতিকর দিক হচ্ছে এটা নির্দেশ করে আপনি একটা উত্তরেই আটকে আছেন এবং অন্য কোনো সমাধান নিয়ে আসতে অনিচ্ছুক। ইতিবাচক শব্দের উপর ফোকাস করুন যত পারেন।

‘আমি এটা করবো না’ বলার চেয়ে বলুন “আমি এটা চেষ্টা করে দেখতে চাই।” “এটা কাজ করবে না” বলার চেয়ে বলুন “চলুন আমরা একটু কষ্ট করে কাজটা করে নিই।”

২. হতে পারে
একটা দ্ব্যর্থবোধক শব্দযুগল। যা আপনার প্রতিশ্রুতি, আগ্রহ বা নির্দেশনার অভাব দেখায়। এটা আপনার মধ্যে থাকা অনিশ্চয়তাকে তুলে ধরে । আপনি পুরোপুরি হ্যাঁ বা না বলতে না পারলেও উত্তর দেয়ার বেলায় আত্মবিশ্বাসী থাকুন। বলার চেষ্টা করুন, “আমি আগে দেখে নেই।”

৩. দুঃখিত
যখন দুঃখ প্রকাশের দরকার পড়ে না তখনো কি আপনার মুখ দিয়ে ‘দুঃখিত’ শব্দটি চলে আসে? আপনি কি কিছু জানতে চাইলে বা কোনো অনুরোধ করলে এভাবে শুরু করেন—“আমি দুঃখিত, কিন্তু…?” কোনো ধরনের কৈফিয়ত না দিয়ে আপনার যেটা বলা দরকার সেটা বলুন এবং যেটা চান সেটা চেয়ে ফেলুন । আপনি যখন কোনো কিছুতে তালগোল পেঁচিয়ে ফেলেন বা কোনো মারাত্মক ভুল করেন তখন কেবল ‘দুঃখিত’ বলুন। তখনই এটা বলবেন যখন এটা বলার অর্থ আছে। এছাড়া একদম এই শব্দের ব্যবহার করবেন না।

৪. যেমন
কিছু শব্দ আমাদের জীবনে এমনভাবে লেপ্টে থাকে যে আমরা এটা আর টেরই পাই না। আপনার রাডারে ‘যেমন’ শব্দটি ধরা পরলে সতর্ক হয়ে যান। কারণ এটা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর। এটা আপনার বার্তাকে হালকা করে দেয়। আপনাকে কম সিরিয়াস, কম আত্মবিশ্বাসী হিসেবে উপস্থাপন করে।

৫. শুধু/একটু
এটা অনেকটা ‘যেমন’ এর মতো। এটা প্রায়ই অসচেতনভাবে আপনার চলে আসে। এটা আপনাকে অনিশ্চিত হিসেবে উপস্থাপন করে, খানিকটা ইতস্তত দেখায়। এই শব্দ ব্যবহার করলে মনে হবে আপনি যেন কৈফিয়ত দিচ্ছেন: “আমি শুধু চেক করতে চাই…” “আমি একটু উদ্বিগ্ন…” এই জাতীয় কথা প্রায়ই ইমেইলের মধ্যে দেখা যায়। সেখানে বা অন্য কোনো ক্ষেত্রেও এটা ব্যবহারে সতর্ক থাকবেন।

৬. আসলে
এই শব্দটার টোনটা এমন যেন আপনি সবকিছু জানেন। কিন্তু এই শব্দ ব্যবহার আপনাকে কম স্মার্ট ও বেশি দ্বিধান্বিত হিসেবে উপস্থাপন করে। এ রকম শব্দের ঘন ঘন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারলে আপনার জন্য ভালো হবে।

৭. সাধারণত
অবস্থাদৃষ্টে এই ‘সাধারণত’ শব্দটা ব্যবহার করলে মনে হয় আপনি কোনো জিনিস যেভাবে আছে সেভাবে রাখতেই পছন্দ করেন এবং তা পরিবর্তনের বিরোধী। “এটাকে সাধারণত আমরা এভাবে করি না”—এই শব্দটি প্রায়ই ব্যক্তিকে অলস হিসেবে উপস্থাপন করে বা বোঝায় সেই ব্যক্তির উৎসাহে ঘাটতি আছে। এই  শব্দটি বদলে বলা যায়—”চলুন একটু চেষ্টা করি” অথবা “চলুন দেখি এটা কাজ করে কিনা।” এটা আপনার আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করে এবং আপনি যে পরিবর্তনের ব্যাপারে উদার তা নির্দেশ করে।

৮. অসম্ভব
‘অসম্ভব’ শব্দটি যদি বলে ফেলেন তাহলে আপনি আর যাবেন কোথায়? এই শব্দটি সব দরজা বন্ধ করে দেয়। এটা শুনতে অনেক শক্তিশালী শোনালেও এটা শক্তির জায়গা দেখায় না, পরাজয় দেখায়।

৯. ‍দ্বিধান্বিত
আপনার দ্বিধার কথা স্বীকার করে নেওয়া আত্মবিশ্বাসের পরিচয় নয়। আপনার দ্বিধার পেছনে যে যৌক্তিক কারণই থাকুক না কেন এটা শুনলে মনে হবে যেন আপনি ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন না। যোগাযোগের বেলাতে আপনি “আমি দ্বিধান্বিত” বলার চেয়ে বলুন—”আমার আরও তথ্য প্রয়োজন” অথবা “আপনি এই ব্যাপারটি স্পষ্ট করে বলবেন?”

১০. আশা রাখি
“আশা রাখি আমি এটা করতে পারব।” এর মাধ্যমে আপনি বলছেন আপনি শক্তিহীন, নিরুদ্যম ও কিছুটা অনির্ভরযোগ্য। কোনো প্রতিশ্রুতিতে যদি আপনার শর্ত যোগ করতে হয় তবে সেটা স্পষ্টভাবে বলে ফেলুন, দোদুল্যমানতার মধ্যে থাকবেন না। উদাহারণ—”ঠিক সময়ে হলেই ওই কাজটি আমি করে ফেলবো।”

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা যেসব কথা কোনো চিন্তা না করেই বলে ফেলি সেগুলি আমাদেরকে ছোট করে। নিজের কথা নিজেই শুনুন অথবা আপনার কোনো কাছের বন্ধুকে জিজ্ঞেস করুন কোন শব্দ বা শব্দযুগল আপনি বেশি ব্যবহার করছেন। নিশ্চিত করুন আপনি যেসব শব্দ ব্যবহার করেন সেটা ইচ্ছাকৃতভাবেই করেন এবং সেটা আত্মবিশ্বাসের সাথেই করেন। এটা আপনাকে শক্তিশালী, ক্ষমতাবান ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করবে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক