page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

শাহ রুখ খানের সাক্ষাৎকার (২) – “প্রতিটা নারী পুরুষদের চেয়ে তিনগুণ বেশি পরিশ্রম করে এবং পারিশ্রমিক পায় দশগুণ কম।”

srk-int-2-cov

(আগের অংশ)

শাহ রুখ খানের ইন্টারভিউয়ের দ্বিতীয় অংশ। প্রকাশিত হয়েছে ১ জুলাই, ২০১৬ তে। এখানে শাহ রুখ খান তার বলিউড ইন্ডাস্ট্রি, প্রতিযোগিতা, তার সন্তান, স্টারডম ইত্যাদি অনেক বিষয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন। এই সাক্ষাৎকারটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ শাহ রুখ খান কী ভাবেন, তার ব্যক্তিগত জীবন কেমন, অন্যদের থেকে তিনি কীভাবে আলাদা তা ব্যাখ্যা করেছেন। শাহ রুখ খানের এ ধরনের ইন্টারভিউ দুর্লভ। এই ইন্টারভিউটি নিয়েছেন হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়ার বলিউড এডিটর অংকুর পাঠক। তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়ায়ও কাজ করেন।


“ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিটা নারী পুরুষদের চেয়ে তিনগুণ বেশি পরিশ্রম করে এবং পারিশ্রমিক পায় দশগুণ কম।”

অঙ্কুর পাঠক

আপনি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আসার মানুষ না—আপনি সব সময় সামনে থেকে মোকাবিলা করেন। আপনি কীভাবে আপনার পরবর্তী ছবি ‘রায়ীস’ এর মুক্তি পিছিয়ে আগামী বছর মুক্তির সিদ্ধান্ত নিলেন, যে ছবির সুলতান-এর (সালমান খান অভিনীত সিনেমা) সাথে সংঘর্ষ হওয়ার কথা ছিল?

শাহ রুখ খান

আমরা বন্ধু—আদি (আদিত্য চোপড়া, ইয়াশ রাজ ফিল্মসের প্রধান), সালমান আর আমি। স্ক্রিনস আছে মাত্র ৩৫০০, আর দুটি বড় ছবির জন্য যথেষ্ট না এটা। আমরা চাই নি দরজার পিছনে কোনো খেলা হোক, অনেক স্বচ্ছ ছিল সবকিছু। যশরাজ ফিল্মসের একটা ছবি মাত্র শেষ করলাম আমি। আমরা জড়িয়ে ধরছি, চুমু দিচ্ছি একজন আরেকজনকে, আর আমি চুপি চুপি মিরুতে গিয়ে একটা থিয়েটার বুক করতে পারি না আমার ছবির জন্য। এটা হয় না। এটা আমার জন্য খুব অপ্রীতিকর হয়ে যায়।

srk-int-9

অঙ্কুর পাঠক

গত ক্রিসমাসে একই দিনে মুক্তি পাওয়ায় বাজিরাও মাস্তানির সাথে দিলওয়ালের যেভাবে লড়াই করতে হয়েছে, এর কারণে এটা হয়েছে কিনা?

শাহ রুখ খান

সেটা ছিল আলাদা—ওটা প্রতিযোগী প্রোডাকশন হাউজ ছিল। মুক্তির দিন পরিবর্তন করার জন্য আমি দশ বার কথা বলেছি তাদের সাথে। এই সংঘর্ষ নিয়ে আমি দশ বার কথা বলেছি সঞ্জয় লীলা বানশালীর সাথে। আমি এরোসের লস অ্যান্জেলস অফিসে গিয়েছিলাম মীমাংসা করার জন্য। কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছিল। তখন রোহিত শেঠিকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাদের মুক্তির দিন পিছানো যায় কিনা, কিন্তু সে তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। আমরা ফ্লেক্সিবল ছিলাম সব সময়, কিন্তু তারা মনে করেছে যে প্রথম ঘোষণা তারাই দিয়েছে। একটা ঘোষণার মানে কিছুই না ইয়ার। আপনি যখন চান তখন আপনার ছবি মুক্তি দিবেন।

আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা এক সপ্তাহ আগে মুক্তি দিতে পারে কিনা… তারা যা চেয়েছে। আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব। তখন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। তাদের একজন আমাকে বলেছিল, “পণ্ডিত-জি ডেট ফিক্স করেছে।” এখন, আমি এমন কোনো অবস্থায় যেতে চাই নি যে আমাকে একজন পণ্ডিতের সাথে একটা ছবি মুক্তির তারিখ নিয়ে ফাইট করতে হয়। সম্পূর্ণ আর্গুমেন্ট এমন অবস্থায় চলে গেছিল যে কোনো যৌক্তিক আলাপ আর সেখানে ছিল না।

এখানে যুক্তির চেয়ে উপরে ছিল বিশ্বাস। এমন অবস্থায় চলে গেছিল যে একজন আরেকজনের ছবিকে খাটো না করে আমরা কোনো আলাপের মধ্য দিয়ে যেতে পারি নি। শেষের ফলাফল ছিল খুবই দুর্ভাগ্যজনক—দিলওয়ালেকে আমরা আমাদের দাঁতের চামড়া দিয়ে বাঁচিয়েছি, আমাদের আন্তর্জাতিক ব্যবসাকে ধন্যবাদ।

অঙ্কুর পাঠক

আপনি যে সময়ে বেঁচে আছেন, সে সময়ের অংশ হিসেবে নিজেকে কীভাবে দেখেন?

শাহ রুখ খান

যখন আপনি একজন অভিনেতা, একটা আলাদা এনটিটি হিসেবে আপনি সময় সম্পর্কে ভাবেন না। আপনি নিজেই সময়। আপনি নিজেই তৈরি করেন সময়কে। আমি মুগ্ধ হয়ে যাই যখন অভিনেতারা বলে, “দর্শকরা ম্যাচিউর হয়ে গেছে। আপনি সব ধরনের কাজ করতে পারেন। মেইনস্ট্রিম আছে, ইন্ডি আছে, ওহ অসাধারণ!” হোয়াট দ্য হেল ম্যান। আগে কি দর্শকরা বোকা ছিল? না, আমরা ছিলাম। দর্শকরা সবসময়ই জানত। আর এমন নয় যে তারা জানত কারণ তারা চিন্তা করে, তারা জানত কারণ তারা অনুভব করে। আর সবসময়ই একটা অনুভূতি একটা চিন্তার চেয়ে বিলিয়ন গুণ বেশি শক্তিশালী। একটা চিন্তা অঙ্কুরিত হয় এর ভিতরের অনুভূতি থেকেই।

অঙ্কুর পাঠক

কিন্তু আমরা যে সময়ে বাস করি আপনি তাকে ভয় পান না? মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ আছে এবং আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান—FTII, CBFC, অথবা খুব সাম্প্রতিক সময়ে NIFT-কে কিছু রক্ষণশীল জিনিস দখল করছে। একজন প্রযোজক হিসেবে ফিল্মের সেন্সরশিপ সরাসরি আপনাকে প্রভাবিত করে। আপনি এটার প্রতিবাদ করছেন না কেন?

শাহ রুখ খান

আমি এইসব বিষয়ে মন্তব্য করা থামিয়ে দিয়েছি, এবং আমি স্বীকার করি এটা দুর্ভাগ্যজনক।

srk-int-10

২০১৫’র ১৮ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ার দিল্লীর বারাখাম্বা রোডে হিন্দু সেনা সংগঠনের কর্মীরা শাহ রুখ খান অভিনীত ‘দিলওয়ালে’ সিনেমার প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। কারণ, শাহ রুখ খান বলেছিলেন, একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হল ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ না হওয়া।

অঙ্কুর পাঠক

এটা যথাযথভাবেই এক ধরনের সেন্সরশিপ—চিন্তার সেন্সরশিপ—আমি যেটা নিয়ে কথা বলছি, আমাদের সবার ক্ষেত্রেই এটা ঘটছে মনে হয়।

শাহ রুখ খান

কিছু সময় ধরে সেন্সরশিপ একটা সমস্যা হয়ে গেছে। একজন প্রযোজক হিসেবে আমি নিজেই এ ধরনের কিছু ইস্যুর মধ্য দিয়ে গেছি, যদিও খুব বেশি না, যেহেতু আমি কখনো অ-পারিবারিক ছবি তৈরি করি নি। ভিন্ন ভিন্ন সরকার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত ভিন্ন কমিটির আলাদা আলাদা ইন্টারপ্রিটেশন থাকে।

দেখেন, একটা নিয়মের বিভিন্ন ইন্টারপ্রিটেশন থাকাটা সঠিক, কিন্তু যখন মিস ইন্টারপ্রিটেশন আছে তখন নিয়ম চেন্জ করার সময় এসে গেছে। উড়তা পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে, পাহলাজ-জি এবং তার টিম নিয়মের একটা ইন্টারপ্রিটেশন অনুযায়ী এগিয়েছে, এবং আপনি হয়ত তাতে প্রশ্ন করতে পারবেন না। তবে নিয়ম এমন জিনিস যেটা নিয়ে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং এটা পরিবর্তন করার জন্য কাজ করতে পারবেন। নিয়ম বা সংবিধান খুব ভালোভাবে লিখিত হওয়া উচিৎ, খুব স্পষ্টভাবে লিখিত হওয়া উচিৎ, এখানে মিস ইন্টারপ্রিটেশনের কোনো সুযোগ থাকা উচিৎ না।

তাছাড়া, ইন্ডাস্ট্রির মানুষ অবশ্যই মনে রাখুক যে টুইটার যুদ্ধ আর টিকার ফাইট করে নিজেদের লড়াইয়ের অবমূল্যায়ন করছেন আপনারা। আপনাদের লড়াই একটা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রধানের বিরুদ্ধে না, বরং সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়মগুলির বিরুদ্ধে। প্রধান ব্যক্তিকে হয়ত সরে যেতে বলা হবে এবং নতুন আরেকজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে, কিন্তু নিয়মগুলি একই থেকে যাবে, রাইট?

আরো পড়ুন: আমার নিরাপত্তা কখনোই আমার উদ্বেগের বিষয় না—শাহ রুখ খান

অঙ্কুর পাঠক

হ্যাঁ, কিন্তু একজন প্রগতিশীল চিন্তাকারী সাধারণত আর্টের ক্ষেত্রে উদার থাকে, এমন একটা চিন্তা থাকে যে আর্ট এমন কিছু যেটাকে নৈতিকতার শিকল দিয়ে বাঁধার প্রয়োজন নেই।

শাহ রুখ খান

হয়ত। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যার মানুষও কিছু ব্যাপার আকৃষ্ট হয় খুব সহজে। শহরে থেকে আমরা হয়ত এটা বুঝতে পারি না। যদি কিছু জিনিস থাকলে সমস্যা হয় এবং যদি আপনার ছবি থেকে বাদ দিলে আপনার সিনেমায় তেমন কোনো পার্থক্য না হয় তাহলে তা ঠিক আছে। আমার ছবি বিল্লু (২০০৯) নিয়েও আমার একই সমস্যা হয়েছিল, এটার আসল নাম ছিল বিল্লু বার্বার। অস্ট্রেলিয়াতে বার্বার (নাপিত) টাইটেল একজন অধ্যাপক হওয়ার মতই সম্মানজনক, কিন্তু আমি এখানে যাদের দেখেছি তারা এটাতে অসম্মান বোধ করেছে। তারা বলেছে তারা বিব্রত হয় এতে। আমি বলেছি এটা সরিয়ে নিব। এতে প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে আমার, আমি ব্যথাও পেয়েছি। কিন্তু আমি এটা করেছি, কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও। তবে ছবিটি কাজ করে নি। অতএব আমার পয়েন্ট হচ্ছে, যদি আপনি মানুষের সাথে বসেন এবং আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন, তাহলে স্বৈরতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারীভাবে আগানোর চাইতে বোঝা সহজ। স্বৈরতান্ত্রিকতা ও স্বেচ্ছাচার মানুষকে রাগিয়ে তোলে।

srk-int-11

অঙ্কুর পাঠক

হ্যাঁ, আমার মনে আছে কিছুদিন আগে যখন আপনার মেয়ের সমুদ্র সৈকতে বিকিনি পরা একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল তখন আপনি একটা নিউজ অফিসে চলে গেছিলেন। আপনি চেয়েছিলেন সেটা সরানো হোক।

শাহ রুখ খান

ঠিক। সে একটা বিকিনি পরা ছিল, সে একটা সমুদ্র সৈকতে ছিল, এবং সে তার ছোট্ট ভাইয়ের সাথে ছিল। আপনারা অনেকদূর এগিয়ে গেছেন এবং শিরোনাম দিয়েছেন, শাহ রুখ খানের মেয়ে শরীর প্রদর্শন করেছে। এটা কি খুবই সস্তা কাজ? আমার মনে হয়েছে হয়ত তাই। আমি সুন্দরভাবে সেখানে গেছি এবং বলেছি, ড্যুড, আপনাদের ওয়েবসাইট আমার মেয়ের বিকিনি বডির উপর চলতে যাচ্ছে না, আপনারা কি এটা সরিয়ে নিবেন প্লিজ? মানুষ দেখেছে আমি কোথা থেকে আসছিলাম। আমার মেয়ে এতে কিছুটা হতভম্ব হয়েছে। তার বয়স ১৬ বছর। আর কিছু সাইট শিরোনাম করে… ওয়াও। আমরা খুব লিবারেল মানুষ এবং এমনকি এটা নিয়ে আমরা হেসেছিও। কিন্তু তারপরও এটা অপ্রীতিকর।

অঙ্কুর পাঠক

আপনার মনে হয় মিডিয়ার আরো সংযম চর্চা করার প্রয়োজন আছে, বিশেষ করে এই ধরনের ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে?

শাহ রুখ খান

সেখানে আছে সেটা। তবে আমার মেয়ের ছবি যখন অনলাইনের সব জায়গায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং আমি এটা থামানোর জন্য লাফিয়ে পড়েছিলাম, আমি মিডিয়া থেকে তাকে রক্ষা করছিলাম না আসলে—আমি তাকে রক্ষা করছিলাম আমার নিজের থেকে। আমার স্টারডমের কারণেই সংবাদে পরিণত হয়েছে এই ছবি—সে যদি শাহ রুখ খানের মেয়ে না হত তাহলে এটা হত না। কেউ সেখানে নগ্ন হয়ে দৌড়াতে পারে এবং সেটা নিউজ হবে না।

অঙ্কুর পাঠক

একটা সময় ছিল যখন আপনি একজন সাংবাদিকের, অপসংবাদকারী রিপোর্টারদের দরজায় হাজির হতেন এবং সাধারণত প্রেসকে ডেকে বলতেন তারা আপনাকে কীভাবে উপস্থাপন করেছে। বয়সের সাথে সাথে কি আপনার টেম্পারমেন্ট অনেক শান্ত হয়ে গেছে?

শাহ রুখ খান

আমি দুটি চরম অবস্থার মধ্যে দোল খাই। হয় আমি শান্ত অথবা আমি ঝড়। আমি এর মাঝামাঝি থাকি না। আর কিছু সময় আছে যখন আমার শান্ত অবস্থা হঠাৎ করে চরম পাগলামিতে বিস্ফোরিত হয় এবং এটা খুব ডার্ক। আমি সব জায়গায় গেছি—আমি চিৎকার করেছি এবং মানুষকে মেরেছি, এবং আমি মার খেয়েছিও। তবে এটা ভালো পরিস্থিতি না (হেসে)। আমি এটার জন্য ক্ষমা চাই না এবং আমি এটার জন্য লজ্জিতও না। আমি যখন মাঝে মাঝে জীবন নিয়ে উপদেশ দিই আমার ছেলেকে—“ তোমাকে ধর্য্যশীল হতে হবে, তোমাকে সংযম দেখাতে হবে। ” আর তারপরই প্রচণ্ড জোরে হাসতে থাকি আমরা দুজন, সে যখন বলে, “আসলেই, পাপা? তুমি এটা বলছো?” আর আমার অবস্থা—“ওকে, তোমার যেটা করতে হবে তাই করো।”

srk-int-12

অঙ্কুর পাঠক

২০১০ এ ফেব্রুয়ারিতে GQ এর একটি ইন্টারভিউতে আপনি বলেছিলেন, “মাঝে মাঝে আমি নিজের ভিতরে একা অনুভব করি। আমার ধারণা আমি এরকম। আমি কখনো সম্পর্কে জড়াই নি কারণ আমি ভয় পেয়েছি তা করতে। আমার একটি আবরণ আছে। আমি আমার বাবা-মাকে হারিয়েছি, তাই আমি সম্পর্ক হারাতে পছন্দ করি না। এই ৪৪ বছর বয়সে আমার স্বীকার করতে হবে যে আমি সামাজিকভাবে এবং ইমোশনালভাবে অদক্ষ। ” আব্রাম এসে কি সেই শূন্যস্থানটা পূরণ করেছে, অথবা আপনার সেই দিকটি বদলাতে সাহায্য করেছে?

শাহ রুখ খান

আপনার সন্তানের বয়স যতক্ষণ সাত বছর না হয়, তারা আপনার জীবনে একটা সমুদ্রের সমান পরিবর্তন নিয়ে আসে। তারপর এই ইডিয়টরা বড় হয়ে যায় এবং ত্যাগ করে আপনাকে এবং নিজেদের কাজ করে। এখন, প্রতি সাত বছরে আমি একটা বাচ্চা নিতে পারি না, যদিও এটা এরকম শোনায় যে এটা আমার একাকীত্বের একটা সমাধান (হেসে)। শিশু হিসাবে তারা যা করে আমি তা ভালোবাসি—খারাপ আচরণ, চিৎকার, কসম খাওয়া—আপনি শুধু তাদের জন্য ভালোবাসাই অনুভব করবেন। অসাধারণ অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটে, আমি বিশ্বাস করি অভিনেতা হিসেবে আমার চূড়ান্ত গন্তব্য হলো আমার মধ্যে শিশুর মত সততা থাকা।

তাদের বিশুদ্ধ, সৎ ভাবে কথা বলার মধ্যে প্রচণ্ড সৌন্দর্য আছে। এমনকি তারা যখন ‘ফাক অফ’ বলে, এটা শব্দের আসল অর্থ দ্বারা নষ্ট হয় না। আমার সন্তানদের পিছনে আমার অনেক সময় যায়। আমি প্রচুর সময় কাটাই আব্রামের সাথে, তার তিন বন্ধুর সাথে এবং আরিয়ান ও সুহানার বন্ধুদের সাথেও। আমি খুশি যে আমি তাদেরকে অপ্রতিভ বানাই না।

অঙ্কুর পাঠক

কিন্তু এখনকার দিনে একজন তারকার মধ্যে সব সময়ই প্রবেশ করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। টুইটারে, ফেসবুকে, ইন্সটাগ্রামে, স্ন্যাপচ্যাটে। সামাজিক কারেন্সির এই আধুনিক ধরনগুলির উপরে থাকার চাপ অনুভব করেন আপনি?

শাহ রুখ খান

আমি পারি না, ইয়ার। আমি জানি না টুইটারে কীভাবে একটা ‘শাউট আউট’ দিতে হয় অথবা লোকজনকে বলতে হয়, ‘আপনারা এটা হত্যা করছেন।’ আমি এটাতে খারাপ এবং উইয়ার্ড। আমি রিটার্ন কল অথবা টেক্সট মেসেজ করতে পারি না। আমি যদি কিছু পছন্দ করি, আমি আপনাকে যখন দেখব তখন তা বলব যে আমি এটা পছন্দ করেছি। আমি সামাজিকভাবে পুরোপুরি অদক্ষ, যদিও আমি কথা বলায় ভালো। মাঝে মাঝে আমি এমন জায়গায় যেতে চাই যেখানে আমার কাছে কিছু প্রত্যাশা করা হবে না। একজন তারকা হিসাবে, একটা তিন বছরের বাচ্চার সঙ্গ ছাড়া এটা প্রায় অসম্ভব। সব অ্যাডাল্ট-রিলেশনশিপই প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। আমি যতটা কল্পনা করেছিলাম তার চেয়েও বেশি পূরণ করেছে আব্রাম।

অঙ্কুর পাঠক

আপনি কি ভয় পান সেই প্রত্যাশাগুলি নিয়ে, নাকি মানুষের মধ্যে ইনভেস্ট করার মত কোনো ইচ্ছা আর আপনার মধ্যে অবশিষ্ট নেই?

শাহ রুখ খান

রিলেশনশিপ ভালোবাসা হত্যা করে। রিলেশনশিপে নিয়ম থাকে। আর নিয়মগুলি মিসইন্টারপ্রিটেড হয়। রিলেশনশিপের কিছু শর্ত এবং সীমানা থাকে। এবং হ্যাঁ, প্রত্যাশা থাকে। অন্যরা কীভাবে এক্সপেক্ট করে সেভাবে আপনি চলতে পারেন না। তারা হয়ত আপনার জন্য অনেক করেছে কারণ তারা করতে পারে বা তাদের সেই সময় আছে। কিন্তু সবচেয়ে ভালো ধরনের সম্পর্ক হলো যেগুলিতে কোনো শর্ত থাকে না। কেউ এরকম বলতে পারে না যে “আমাদের সপ্তাহে একবার দেখা করতে হবে”, নো ম্যান, আমাদের তা করতে হবে না। তারপরও আমরা ভালো থাকব। ভালোবাসা শর্তমুক্ত থাকা উচিৎ, নাহলে এটা আদৌ ভালোবাসা-ই না।

আমার খুব ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু লস অ্যান্জেলসে থাকে এবং কখনো কখনো আমাদের কয়েক বছর দেখা হয় না, জন্মদিন ভুলে যাই, অ্যানিভার্সারি গ্রিটিংস ভুলে যাই, কিন্তু আমাদের যখন দেখা হয় আমরা আগেরবার যেখানে শেষ করেছিলাম ঠিক সেখান থেকেই শুরু করি। এমনকি যদিও আমার বিপদের সময়ে আমার পিছনে থাকে না, তারপরও সে আমার বন্ধু। “কিন্তু আমার বিপদের সময়ে তুমি কোথায় ছিলে” তারা বলে। “আমি আমারটা নিয়ে ছিলাম।” “তোমারটা হচ্ছে কাজ সংক্রান্ত, আমারটা হচ্ছে ইমোশনাল।” “ফাক ইউ।”

অনেক মানুষের জন্য আমার অনেক ভালোবাসা আছে কিন্তু তাদের সাথে যদি আমার সম্পর্ক থাকত তাহলে আমি তা তাদেরকে বলতে পারতাম না।

srk-int-13

অঙ্কুর পাঠক

সারা পৃথিবীতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ভালোবাসা হারানো, ভাঙা সম্পর্ক, বিশ্বাসঘাতকতার হটবেড। আপনার বিয়ে কীভাবে টিকল?

শাহ রুখ খান

আমি আপনাকে বলি—মুভি স্টারের স্বামী অথবা স্ত্রী হওয়াটা কঠিন। আমাদের জীবন আমাদের পার্টনারের কাছে বিলং করে না। তারা সারা পৃথিবীর কাছে বিলং করে। আমাদেরকে পাবলিক ফিগার বলা হয় কারণ প্রাইভেট লাইফ বলতে যা বোঝায় আমাদের তা আর থাকে না।

অনেক বছর ধরে এটা নিতে পারা এবং নিজের একটা পরিচয় দাঁড়া করানো এবং নিজের একটা জায়গা তৈরি করা আসলেই কঠিন। আর নিজের জন্য একটা জায়গা তৈরি করার ক্ষেত্রে, যেখানে সে শাহ রুখ খানের স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত না, সেই কাজে গৌরি গ্রেট। সন্দেহ না করে, কথা না বলে, কিছু না করে সে নিজের একটা আইডেন্টিটি তৈরি করেছে এবং এটা করতে অনেক বড় একটা হৃদয়ের প্রয়োজন।

মুভি স্টারের পার্টনার হওয়া মানে তারা আপনার দখলে নেই। আর নিজেকে ছোট, ক্ষুদ্র ও অগুরুত্বপূর্ণ মনে না করে এই জিনিসটা চালিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন।

গৌরি এবং আমার সম্পর্ক পুরোপুরি আমাদের সন্তানদের বড় করার দিকে এগিয়েছে। আসলে তাই ঘটে শেষপর্যন্ত। বাবা-মা একটা সময়ে বাবা-মা হয়ে যায় এবং এটাই সবকিছু বদলে দেয়। আমাদের একটা ১৮ বছর বয়সী ব্যাডঅ্যাস, একটা ১৬ বছর বয়সী মিষ্টি এবং তারপরে একটা ৩ বছর বয়সী ছোট গ্যাংস্টার আছে। আমাদের কথাবার্তা, আমাদের একসাথের জীবন আমাদের সন্তানদের প্রিজমের মধ্য দিয়ে। তারা আমাদের ফোকাল পয়েন্ট এবং আমাদের পৃথিবীটাকে নতুন রেখেছে তারাই।

অঙ্কুর পাঠক

আপনি কি চেয়েছিলেন এটা অন্য রকম হোক?

শাহ রুখ খান

আমি জানি না। এটা আলাদা। আমার বাজে শুক্রবারগুলির কারণে আমি তাদের উইকএন্ডগুলি নষ্ট করতে পারব না। আমার যখন খুব ভালো একটা সোমবার থাকে তখন আমি তাদেরকে দিয়ে উল্লাস করাতে পারব না। আমার আইপিএল দল যখন ফাইনালে এক রানে হেরে যায় তখন আমি তাদেরকে বাথরুমে নিয়ে কাঁদাতে পারব না। আমি কেন এই রোলার কোস্টার রাইডে তাদেরকে নিব? তারা সাইন আপ করে নি এটার জন্য। ফ্যান ছবিটি আমার কাছে অনেক কিছু এবং এই ছবিটা ভালো করে নি—আমি তাদেরকে উপলব্ধি করাতে পারব না এই জিনিসটি। আমি জানি এটা তারা বোঝে। কিন্তু তারপরও আমি আমার দিনকে আমার বাড়িতে ঢুকতে দেই না। এই ব্যালেন্স রাখাটা অনেক কঠিন। আর আমাকে নিঃসঙ্গ করে এই ব্যাপারটাই। আমি তাদেরকে—আমার পরিবারকে—আমার ইমোশনাল চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে পারবও না। এটা ভালোবাসার অভাবের জন্য না। তারা এটাকে বেছে নেয় নি, তাদেরকে বেছে নিতে হয়েছে।

একজন অভিনেতা হিসেবে, আমি স্বপ্ন বিক্রয়কারী। কিন্তু তার মানে এই না যে যদি স্বপ্ন বিক্রি না হয় তাহলে আমি দুঃস্বপ্নগুলি আমার বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে নিয়ে আসব। না, আমি কখনোই তা করব না। বলিউডের অনেক অনেক ফ্যামিলিগুলিতে এটা ঘটে। কিন্তু আমার ফ্যামিলিতে না।

অঙ্কুর পাঠক

সুহানা অভিনেত্রী হতে চায় এটা নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। যখন সময় আসবে তখন আপনিই কি তাকে নিয়ে আসবেন?

শাহ রুখ খান

আমি একজন সেলফিশ অভিনেতা। আমি শুধু নিজেকেই নিয়ে আসি (হেসে)। আমার বাচ্চারা যা-ই হতে চায়, তাদের নিজেদের শিক্ষিত করা প্রয়োজন। এই বাড়িতে একটা মিনিমাম শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যাপার চালু আছে। আপনি যদি আমার সাথে আলাপ ধরে রাখতে না পারেন তাহলে আপনি এটার জন্য না। আমি শিক্ষায় বিশ্বাসী—আমি যা তার ৮০ শতাংশ শিক্ষার কারণে। আমার বাচ্চাদের খুব ভালোভাবে বড় করা হয়েছে, তারা অনেক মর্যাদাবান। সুহানা একজন অভিনেত্রী হতে চায় এবং সে আমার কাছে থেকে এটা শিখতে চায় না। এটা খুব অসাধারণ চিন্তা। কারণ সে আমার মত একই জিনিস করতে চায় কিন্তু একটা স্বাধীন ও আলাদা স্বরে।

srk-int-14

অঙ্কুর পাঠক

আপনার সাথে তার সম্পর্ক কীসের মত?

শাহ রুখ খান

আমি তার জন্য একটা বই লিখেছি। আমার মনে হয়েছে শুধুমাত্র এইভাবেই আমি তাকে অ্যাপ্রোচ করতে পারি। আমি বেখাপ্পা, এমনকি আমার ফ্যামিলির সাথেও। কখনোই একটা মেয়ের জায়গায় আমি অনধিকারে প্রবেশ করব না, ফলে তার প্রাইভেসি আছে। এর কিছুটা অদ্ভুত, কিছুটা টেকনিকাল এবং কিছুটা জাস্ট বাবা-মেয়ের আলাপ। সে কিছুদিন আগে এটা পড়ে শেষ করেছে এবং আমাকে এ রকম আরো কিছু লিখতে বলেছে। আমি এটা নিয়ে ভাবছি।

অঙ্কুর পাঠক

আপনি তার অভিনয় দেখেছেন?

শাহ রুখ খান

হ্যাঁ, সে অনেক থিয়েটারে অংশগ্রহণ করে এবং সে একজন ভালো অভিনেত্রী। আসলে, সে মাত্রই একটা প্লে শেষ করেছে এবং যে কোনো সময়ে আমি হয়ত একটা কল পাব যে সে কেমন করেছে। আমি মনে করি আপনার বাবা অথবা মা চায় তাই বলে অবশ্যই আপনার একজন অভিনেতা হওয়া উচিৎ নয়—আপনি অন্য কিছু হতে পারেন নি এই কারণে আপনার একজন অভিনেতা হওয়া উচিৎ।

অঙ্কুর পাঠক

ইন্ডাস্ট্রিতে পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক অসমতার বিষয়ে বলিউডের টপ স্টাররা একটা দার্শনিক নীরবতা অবলম্বন করেছে।

শাহ রুখ খান

আমি মনে করি এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিটা নারী পুরুষদের চেয়ে তিনগুণ বেশি পরিশ্রম করে এবং পারিশ্রমিক পায় দশগুণ কম। কিন্তু আমার কোম্পানিতে না। আমি যেসব ছবি প্রযোজনা করি না তবে অভিনয় করি সেগুলিতে আমি জোর করে এটা প্রয়োগ করতে পারব না—কিন্তু আমি যেগুলি প্রযোজনা করি, সেখানে সমান ভাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। সেইসাথে টাইটেল ক্রেডিটে আমার আগে তাদের নাম আসে।

আমি পরিবর্তন নিয়ে কথা বলি না। আমিই পরিবর্তন। আমার ছবিগুলিতে, মেয়েদের নাম সব সময়ই আমার নামের আগে আসে। আমার ফিল্মের সেটে মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে উঁচু অবস্থানে—কেউ তাদেরকে ‘তুই’ বলতে পারে না, এটা সব সময়ই ‘আপনি’।

অঙ্কুর পাঠক

আপনাকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুভি স্টার বলা হয়, এই দাবি উপযুক্ত। আপনি একটা মনোমুগ্ধকর জীবন কাটান। আপনি ব্যবহার করেছেন এর চেয়েও বেশি রুমওয়ালা বাড়ি, দামি গাড়ি, অভিজাত ভ্রমণ—এত বিশাল ঐশ্বর্য্যের একটা জীবন যে এই জীবনের অধিকারী হওয়াটা কীসের মত তা অধিকাংশ মানুষ জানবেও না। এটা কি বড় ধরনের একটা বিষণ্ণতাজনিত ক্লান্তি নিয়ে আসে না যে এমন কিছুই আর বাকি নেই যেটা আপনি চান অথচ পাবেন না…

শাহ রুখ খান

আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে সচেতন যে আমি মানুষের হৃদয়ে আলাদা একটা স্থান পাওয়াটা এনজয় করি এবং আমার যা প্রাপ্য আমি তার থেকে সম্ভবত বেশি ভালোবাসা পাই।

কিন্তু প্রতিদিন সকালে আমাকে এই জিনিসটা জাগিয়ে তোলে—এই ভালোবাসাটা যেন থাকে তা নিশ্চিত করা। আমার ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ বছরে আমার কোনো দিশা ছিল না। আর এখনকার এই পাঁচ বছরে আমি নিশ্চিত করতে চাই আমি এমন জিনিস করব যাতে মানুষ আমাকে আরো বেশি ভালোবাসে এবং নিজের কাছে প্রমাণ করতে চাই আপনি যেগুলির কথা বললেন সেগুলির প্রতিটা আমার প্রাপ্য। আমি এই সব মানুষের সাথে বসতে চাই—এই ৩ বিলিয়ন—যারা আমাকে ভালোবেসেছে, তাদেরকে প্রত্যেককেই অনুভব করাতে চাই যে তারা স্পেশাল এবং তারা যে সময় ও ভালোবাসা আমাকে দিয়েছে তা অর্থপূর্ণ। আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, “আপনারা যে ভালোবাসা আমাকে দিয়েছেন তার জন্য আমি কি আপনাদের যথেষ্ট এন্টারটেইন করেছি? আমরা কি ঠিক আছি?” আমি জানতে চাই যে আমি সম্ভবত তা করেছি এবং ভালো অনুভব করতে চাই আমি। এই উদ্বেগ আমাকে বাঁচিয়ে রাখে, আমাকে জাগিয়ে রাখে, আমাকে বিছানায় নিয়ে যায় এবং আবার জাগিয়ে তোলে একটা মুভি সেটে যাওয়ার জন্য।

এটা বিশাল ক্লান্তি ছাড়া আর সবকিছু। এটা উত্তেজনা।

অঙ্কুর পাঠক

কোনো সত্যিকার মুহূর্ত আছে, একেবারে নিরেট প্রাইভেসির একটা মুহূর্ত যেখানে শাহ রুখ খান একেবারে স্টারডোম ছাড়া থাকেন?

শাহ রুখ খান

ওহ, হ্যাঁ। যখন আমি অভিনয় করি না, পুরাতন একটা জিন্স পরা, এলোমেলো চুলের আমি খুবই আনন্দপ্রবণ একটা মানুষ। অনেকেই আমাকে বলে, “এরকম চেহারা বানিয়ে তুমি কী করছো?” আর আমি বলি, প্লিজ। এটা এমন একটা মুহূর্ত যখন আমি অভিনয় করি না এবং এই সময়টাতে আমি হওয়ার স্বাদটা আমি নিতে চাই।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক