page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

শাহ রুখ খানের সাক্ষাৎকার (১) – “মানুষ আমাকে দেখার জন্যে বাইরে অপেক্ষা করবে।”

srk-int-cov

শাহ রুখ খানের সিনেমায় অভিনয়ের দুই যুগ অর্থাৎ ২৪ বছর পূর্তি হয়েছে ২০১৬ এর ২৫ জুন। এই উপলক্ষ্যে তে দ্য হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়া শাহ রুখ খানের একটি ইন্টারভিউ প্রকাশ করেছে। এই ইন্টারভিউর দুইটি অংশ। প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়েছে ১ জুলাই, ২০১৬ তে। এখানে শাহ রুখ খান তার ক্যারিয়ার, অভিনয় জীবনের উদ্দেশ্য, তার প্রফেশনাল নীতি, আর্টিস্ট হিসেবে বভিন্ন কাজের ধরন, ব্যবসা, অতীত ইত্যাদি অনেক বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন।

এই সাক্ষাৎকারটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ একজন আর্টিস্টের জায়গা থেকে শাহ রুখ খান তার কাজের বিভিন্ন ধরন ও কোয়ালিটি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন খোলামেলাভাবে। শাহ রুখ খানের এ ধরনের ইন্টারভিউ দুর্লভ। এই ইন্টারভিউটি নিয়েছেন হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়ার বলিউড এডিটর অঙ্কুর পাঠক। তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়ায়ও কাজ করেন।

সাম্প্রতিক ডটকমে শাহ রুখ খানের ইন্টারভিউটি দুটি অংশে প্রকাশিত হচ্ছে।


সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ভূমিকা

srk-int-1

অঙ্কুর পাঠক

শাহ রুখ খানের সাথে সামনাসামনি কথা বলাটা সম্মোহিত হয়ে যাওয়ার মত। আপনি যদি মনোযোগ না দেন তাহলে তিনি তা বুঝতে পারবেন এবং তার সাথে যদি কখনো আপনার আলাপ হয় তাহলে আপনার মনোযোগ অন্য দিকে যাবেই না। বড় বড় কথা বলা অভিনেতারা যে ইন্ডাস্ট্রিতে ছড়ানো ছিটানো, সেখানে তিনি প্রতিটা ইন্টার‌্যাকশনকেই আলাদা করে তোলার আর্ট তৈরি করেছেন।

তার সাথে অভিজ্ঞতা খুব ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে (তিনি নিয়মিতভাবে কিছুক্ষণ পর পর আপনার নাম উচ্চারণ করতে থাকেন), আপনার মনে হবে আপনি এই লোকটাকে যেভাবে আকর্ষণ করেছেন এর আগে কেউ কখনো তা করে নি, এমন গভীর ও মূল্যবান কিছু তার ভিতর থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন যে তা এই লোকটির অন্তর্গত জগৎ সম্পর্কে পাঠকদের একটি দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তাদের প্রচণ্ড আবেগকে জাগিয়ে তোলে।

এবং সেখানেই আসলে তার ট্যালেন্ট। তিনি ভগবদ গীতা থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারেন এবং হিন্দু মিথলজির ভিতর থেকে অ্যাপলের টিম কুকের মত লোককে বের করে নিয়ে আসেন, আর তার এই উপমা সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক মনে হবে।

তিনি সম্প্রতি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ২৪ বছর পূর্ণ করেছেন—তার প্রথম ছবি দিওয়ানা ১৯৯২ সালের ২৫ জুন মুক্তি পেয়েছিল।

আমি যখন ৫০ বছর বয়সী এই অভিনেতার সাথে তার মুম্বাই এর বাংলো মান্নাত-এ দেখা করি—দেখে মনে হচ্ছিল গত রাতে তার উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে এবং আজকে খুব সকালেই দিন শুরু করতে হয়েছে। তিনি ক্যাজুয়াল পোশাকে ছিলেন—নীল জিন্স এবং একটা নেভি ব্লু টি শার্ট। তিনি যখন তার হালকা আলোর লাইব্রেরিতে বসলেন তখন তার মুখ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। লাইব্রেরির জায়গাটি একটু চাপা, সেখানে বিল ব্রাইসন ও হারুকি মুরাকামি থেকে পাওলো কোয়েলহো ও উডি অ্যালেন; খালেদ হোসেইনি থেকে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বই।

তখন বিকাল শেষ, সন্ধ্যার আগে আগে। আকাশে দিনের শেষ রোদ, মৃতপ্রায়। সেই আলো খুব আস্তে পিছনের সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে। তিনি আসলেন কিছুটা দুর্বল অবস্থায়—তবে তিনি একবার কথা বলা শুরু করলে ট্রাম্পের মত আত্মবিশ্বাস দেখা যায় (মাত্র এই একটা ব্যাপারেই হয়ত তাদের মধ্যে মিল থাকতে পারে)।  ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ আসল, আর আমাদের ইন্টারভিউ শুরু হল।

—অঙ্কুর পাঠক


“আমরা যতদিন পর্যন্ত সিনেমা বানাব, মানুষ আমাকে দেখার জন্যে বাইরে অপেক্ষা করবে।”

অঙ্কুর পাঠক

আপনি ২৪ বছর পার করেছেন হিন্দি সিনেমার অংশ হিসেবে। আপনার ক্যারিয়ারে খুব ভালো সময় গেছে এবং কিছু খারাপ সময়ও গেছে। সবকিছু মিলিয়ে এখন যে অবস্থায় এসেছেন তাতে কি  সন্তুষ্ট আপনি?

শাহ রুখ খান

আমি খুশি হওয়ার মত বোকা না। আমি আমার জীবনের ২৫ বছর সিনেমায় কাজ করেছি। এর মানে আমার জীবনের অর্ধেক উৎসর্গ হয়েছে সিনেমা তৈরিতে। সাধারণ মৃত্যুর হার অনুযায়ী আমার জীবনের চার ভাগের তিনভাগ ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে।

সিনেমা করার কারণ অবশ্যই বদলায়। আপনি যখন বয়সে তরুণ তখন আপনি চেষ্টা করেন কোনো কাজের শেষ দেখার। আমার ক্যারিয়ারের প্রথম কয়েক বছর আমি তাড়িত ছিলাম বস্তুগত ইচ্ছা দ্বারা। আমি তখন জাস্ট একটা বাড়ি কিনতে চেয়েছি। হয়ত একটা বাগানওয়ালা বাড়ি, কারণ আমি আমার বাচ্চাদের সাথে একটা বাগানে হাঁটতে চেয়েছি।

এখন কারণটা আলাদা। এই পর্যায়ে এসে আমি শুধু সিনেমা বানাতে চাই। আপনি যখন দীর্ঘ সময় ধরে একটা কাজ করতে থাকেন তখন বদলে যায় অনেক কিছু। দুইটা জিনিস ঘটে—আপনার দর্শকদের অবাক করে দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, এবং আপনার ব্যর্থ হওয়ার ক্ষমতা আপনার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়।

দর্শকরা আশা করে সব সময় সফল হবেন আপনি। যখন একজন শচীন টেন্ডুলকার ২০০ রান করেন, তখন তিনি আমাদের তার গ্রেটনেস জানিয়ে দেন। কিন্তু একই সময়, তিনি নিয়মিতভাবে ১০০ রানও করেন। তখন ১০০ রান করা আর খুব বড় কোনো ব্যাপার থাকে না।

srk-int-2

অঙ্কুর পাঠক

ফ্যান নিয়ে আপনি খুব আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু এটা বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এটাকে আপনি কীভাবে নিয়েছেন?

শাহ রুখ খান

আমার খুব খারাপ লেগেছে। আদি (আদিত্য চোপড়া, প্রযোজক), মনীশ (মনীশ শর্মা, ডিরেক্টর) এবং আমি জানতাম এটা আয় করবে না, আমরা বোকা নই। এই সিনেমায় কোনো নায়িকা ছিল না, কোনো গান ছিল না। তাছাড়া, আমরা ছবিটা মুক্তি দিয়েছি উৎসব ছাড়া খুব সাধারণ একটা উইকেন্ডে । কিন্তু তারপরও ফ্যান আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। এটা বলার পর বলব যে, এই ছবিটা নিয়ে আমরা খুব ফান্ডামেন্টাল একটা ভুল করেছি।

অঙ্কুর পাঠক

ফান্ডামেন্টাল একটা ভুল মানে?

শাহ রুখ খান

আমরা এই ছেলেটার (গৌরব চান্দনা) যে প্যাশন তার আইকনের জন্য, সেটাকে ছোট করে দেখিয়েছি। আমরা তার কাছে খুব ছোট একটা জিনিস চেয়েছি তার জীবন শেষ করে দেওয়ার বিনিময়ে। সে তার আইকনের কাছে একটা ‘স্যরি’ চায়, তার আসলে সেই সুপারস্টারের কাছে সেই স্টারের জীবন চাওয়া উচিৎ ছিল। তার বলা উচিৎ ছিল, তুমি আমার ভিতরের ফ্যানকে মেরে ফেলেছ, আমি তোমার ভিতরের স্টারকে হত্যা করতে চাই। গৌরব চরিত্রটিকে হত্যা করে তার বিনিময়ে স্যরি চাওয়া পুরো সিনেমার বেজ হিসেবে যথেষ্ট শক্ত ছিল না। অথবা হয়ত সিনেমাটাই যথেষ্ট ভালো ছিল না। এটা উদ্দেশ্যহীন হয়ে গেছে। তাই মানুষ এটাকে বাতিল করে দিয়েছে।

অঙ্কুর পাঠক

এটা বক্স অফিসে আগুন না জ্বালালেও, ফ্যান এখনো আপনার সাম্প্রতিক কিছু কাজের চেয়ে সম্মানজনক ছবি। একটা ধারণা আছে যে শাহ রুখ খান উইটি, তীক্ষ্ণ মেধার, ভালো পড়াশোনা করা, বুদ্ধিমান সুপারস্টার—আপনার ইদানিং কালের অনেক ছবির ক্ষেত্রে এইসব কথা বলা সম্ভব হয় না। এর ফলে, অনেক মানুষ কনফিউজড হয়ে যায় যখন তারা দিলওয়ালে (২০১৫) এবং হ্যাপি নিউ ইয়ার (২০১৪) দেখে। এই ছবিগুলি দেখে এনজয় করে, ছবিগুলি প্রযোজনা করে আপনাকে সে ধরনের কেউ মনে হয় না।

শাহ রুখ খান

আমি বলব যে আমি দিলওয়ালেতে ফ্যানের চেয়ে ভালো অভিনয় করেছি। এবং আপনি সঠিক। আমি এ রকম কেউ নই যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ রকম লাইন বলবে—‘হাম শারীফ ক্যায়া হুয়ে, পুরী দুনিয়া হি বাদমাশ হো গ্যায়ে’—এটা আমার জগৎ না। আমার কাছে, একজন ফ্যান হিসাবে বসে ‘কাচ্চে ওয়ালে ফ্যান তোহ দূর সে হি কারতে হ্যায়’ বলার চাইতে রাস্তায় একশ জন এক্সট্রার সাথে নাচার জন্য বেশি প্ররোচনার দরকার হয়। এটাতেই আমি বেশি। এটাই আমার জায়গা।

কিন্তু আমি শুধু আমার মনের জন্য ছবি বানাতে পারব না। আমাকে ছবি বানাতে হবে মানুষের জন্যে,  যাতে তারা দেখে।

আমার কাছে, দিলওয়ালে খুব জমকালো, স্থূল, রঙিন বাণিজ্যিক ছবি। এবং আমার সমস্যা হল আমি সব ছবিই ভালোবাসি। এটা কি আমার ধরনের সিনেমা? না, এটা তা না। আরো অনেক সূক্ষ্ম জিনিস পছন্দ করি আমি। আমি ইন্টারন্যাশনাল শো এবং সিনেমা দেখি এবং সেগুলির সাথে আমার সংযোগ ঘটে খুব সহজে। কিন্তু তারপরও আমি এটা করতে চাই কারণ আপনি নিজের সাথে জড়াতে পারেন না এমন একটা জায়গায় নিজেকে স্থাপন করা এবং সফলভাবে সেটাকে নাড়া দেওয়া বেশি চ্যালেন্জিং কাজ।

এটা ছাড়া আর কী চ্যালেন্জ আছে আমার কাছে? চাক দে ইন্ডিয়ার (২০০৭) পরে শুধু অসাধারণ অভিনয় করে যাওয়া? আমি এটা করতে পারি। কিন্তু যেটা আমি আগে করি নি এমন কোনো ধরনের ছবি করতে পারি আমি? আমি এটা খুঁজে দেখতে আগ্রহী।

অঙ্কুর পাঠক

কিন্তু আপনি কি উপলব্ধি করেন, কোনোকিছু শুরু করার পর, সেই কাজ চলতে থাকার মাঝখানে আপনার নিজের কাছেই মনে হয় যে এটার কোনো আর্টিস্টিক ভ্যালু বা শিল্প মূল্য নেই? এবং আপনার কি উদ্বেগ হয় না যে মানুষ এটাতে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে?

শাহ রুখ খান

মানুষ কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটা নিয়ে আমি কটাক্ষ করতে পারি না। আমি বাজে ছবি করেছি, আমি ভালো ছবি করেছি এবং আমি কিছু খারাপ ছবিও করেছি। আমি যা করেছি তার ব্যাপারে প্রচুর গ্রহণযোগ্যতা আছে।

একজন অভিনেতা হিসেবে, আমি যে ছবি করতে চাই সেই ছবি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আমার থাকা উচিৎ। আপনি যখন একটা গল্প নিয়ে বসবেন, কখনো কখনো এমন হয় যে আপনি এটা অবশ্যই করতে চান। আমি যেমন আগেই বলেছি, তেমনি কখনো কখনো আমি মনে করি এটা আমার জগৎ নয়, কিন্তু আমি এটাকে নাড়া দিতে পারি কিনা তা দেখার জন্য ওই জায়গায় মিশে যাই। কখনো আমি ব্যর্থ হই, বাকি সময় আমি সফল। সফলতা আমাকে একই জিনিস পুনরায় করতে দিতে চায় না। অথবা ব্যর্থতা চায় না আমি এই জিনিসটা কখনো না করি। বরং ব্যর্থতা চায় এটা আমি পুনরায় করি। কারণ সম্পূর্ণ হতে হবে ওই অংশটি। আমি এটাকে ভুলভাবে নিতে পারব না।

srk-int-3

অঙ্কুর পাঠক

আপনি একজন আর্টিস্ট হিসেবে আপনার সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার কাছে এটাকে রাখলে, কোনো একজন মনে করতেই পারে আপনি যখন কম গুরুত্ব দিচ্ছেন আপনি আসলে খারাপ ছবি তৈরি করার দায় নিচ্ছেন না?

শাহ রুখ খান

না, এটা তা না। আমি সব ছবি ভালোবাসি। আমার মনে আছে আমি এই ছবিটা দেখছিলাম খুব কাছের এক বন্ধুর সাথে। দুইবার দেখার পর, আমরা সবাই জানতাম ছবিটা খারাপ করবে। আমি তাকে বললাম আমি ছবিটা পছন্দ করেছি। সে আমাকে বলল, আমাকে খুশি করার জন্য কেন বলছ? কিন্তু আমি আসলেই ছবিটা পছন্দ করেছি। আমি একজন ফিল্ম লাভার। আর জীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, আপনি যদি কোনো কিছু ভালোবাসেন, তাহলে আপনি অন্ধ।

আমি এখানে বসে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ছবিটা নিয়ে এবং বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ছবিটা নিয়ে একই রকম আগ্রহের সাথে কথা বলতে পারি। এর মানে আমি কি স্টুপিড? না। আমি সব কিছুর মধ্যে সৌন্দর্য দেখার চেষ্টা করি।

আমি ছোট একটা গল্প বলব আপনাকে। এটা আসলে ভগবদ গীতার একটি অংশ। গল্পটা অর্জুন এবং কৃষ্ণকে নিয়ে। তারা দুজন রাস্তায় হাঁটছিল একসাথে, তখন দেখে রাস্তায় একটা কুকুর মরে পড়ে আছে। এটা দেখে কৃষ্ণ অর্জুনকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কী দেখতে পাচ্ছ?

অর্জুন উত্তর দিল, খুবই কুৎসিত একটা দৃশ্য। শরীরের সম্পূর্ণ মাংস পচে যাচ্ছে।

তখন কৃষ্ণ বলল, তুমি কি দাঁতগুলি দেখছ না? দাঁতগুলি মুক্তার মত ঝক ঝক করছে। দেখো কী সুন্দর ওগুলি।

আমি শুধু দাঁত দেখি। দার্শনিকতা করছি না আমি।

অঙ্কুর পাঠক

আপনি যেহেতু সব ধরনের সিনেমা পছন্দ করেন, আপনার কি মনে হয় যে শেষপর্যন্ত কিছু বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিজেকে যুক্ত করেছেন এমন কিছু ছবির সাথে যেগুলি নিয়ে আপনি হয়ত গর্ব করবেন না?

শাহ রুখ খান

কখনো কখনো আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এবং আমি ভুলও করেছি আমার পছন্দের ব্যাপারে।

কারান অর্জুন (১৯৯৫) একটা বড় উদাহরণ। আবারও, এগুলির ‘কুত্তে কামিনে’ মারামারির কারণে এটা সেইসব ছবিগুলির মধ্যে পড়ে যেগুলি আমার জগৎ না। আমি সিনেমাটাকে বুঝতে পারি নি এবং রাকেশ জি (রাকেশ রোশন) আমাকে নিশ্চিত করে আসছিল যে এটা কাজ করবে। আমি যখন ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে সিনেমাটি দেখতে গেছিলাম, এমন একটা মুহূর্তও ছিল না যেখানে দর্শকরা তালি দিচ্ছিল না বা কাঁদছিল না। আমার সবচেয়ে সফল ছবিগুলির মধ্যে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের পরেই এটা। এবং তখন আমি বুঝতে পারি যে একটা ছবি কীভাবে বের হয়ে আসবে সেটা আমি জানি না।

srk-int-4

এই কারণে, আমি কখনোই ভাবি নি স্বদেশ (২০০৪) একটা অসাধারণ সিনেমা হবে। আমি তার বদলে যোধা আকবর (২০০৮) করতে চেয়েছিলাম আশুতোষের সাথে। আমি বলেছিলাম স্বদেশ খুব সুন্দর ছবি কিন্তু এটা ব্যবসায়িকভাবে ভালো করবে না। কিন্তু সে আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে কেন এই ছবিটা করতে চায়, সে আমাকে বলেছিল তার বাবা চায় সে যেন এ রকম একটি ছবি বানায়। এবং আমাকে রাজি করিয়েছিল এই জিনিসটায়। তাছাড়া, আমি খুব বেশি কমার্শিয়াল লাভ দেখেছিলাম না স্বদেশের ক্ষেত্রে। আমরা এটা করেছি কারণ এটা আশুকে তার বাবাকে গর্বিত বানানোর একটা সুযোগ দিয়েছিল।

অঙ্কুর পাঠক

কিন্তু আশুতোষ হয়ত বুঝতে পেরেছিলেন যে নির্দিষ্ট কিছু ফিল্ম অন্য ফিল্মগুলির চেয়ে আপনার সেন্সিবিলিটির সাথে বেশি মানায়। এর মানে এই নয় যে আপনি একেবারে চূড়ান্ত ধরনের মূলধারার ছবি করতে অপারগ।

শাহ রুখ খান

হয়ত। একদিন এই লোক আমাকে কল করে বলেছিল যে তার মনে হয় আমি অভিনেতা হিসেবে ইন্টারেস্টিং কারণ আমি কুৎসিত। আমি তাকে বলেছিলাম, ফাক অফ। আমি কুৎসিত এই কারণে আমাকে সিনেমায় কাস্ট কোরো না। আমাকে কাস্ট করো কারণ আমি ট্যালেন্টেড। আমাকে কাস্ট করো কারণ আমি যখন চাই তখন কুৎসিত অথবা হ্যান্ডসামের অভিনয় করতে পারি। আমার দুই হাত যতদূর যায়, আমার নিঃশ্বাস যতদূর পৌঁছায়, আমার জায়গা সে পর্যন্ত। আপনি সেটা আমার কাছ থেকে নিতে পারবেন না।

আমি মনি রত্নমের সিনেমার অংশ হতে পারি। আমি ফাইট মাস্টারদের সাথে তাদের ভাষায় কথা বলতে পারি। আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশটার হেড অব স্টেটদের সাথে বসতে পারি এবং ফর্মাল ডিনারে আলাপ করতে পারি। আমি মি. টিম কুকের সাথে দুই ঘণ্টা ধরে কথা বলতে পারি। এবং আমি আবরামের ন্যানি (যে আবরামকে দেখাশোনা করে/ বেবিসিটার) এর সাথে বসতে পারি এবং উপভোগ করতে পারি আমার মত করে। আপনি কে, আমি সেটা হতে পারি। এবং সিনেমা এ রকমই।

কোনটা আমার জায়গা নয় এটা বলার স্পর্ধা আপনি করবেন না। কোনো ডিরেক্টর, লেখক, অথবা ফিল্মমেকার আমাকে বলতে পারবে না যে আমি আপনাকে এই ছবিতে দেখতে পছন্দ করতাম এবং ওটা আপনার জায়গা নয়।

আপনি যদি মনে করেন এটা আমার জায়গা নয়, তাহলে আমি ছবি করব না। কিন্তু আপনি এমন একজন অভিনেতার ক্ষেত্রে এই কথা বলছেন যে ভার্সাটাইল অভিনেতা। আমি একটা কাভি হা কাভি না (১৯৯৪) করতে পারি, আমি একটা চাক দে করতে পারি, আমি একটা রাওয়ান (২০১১) করতে পারি, আমি একটা চেন্নাই এক্সপ্রেস (২০১৩) করতে পারি, আমি একটা অশোকা (২০০২) করতে পারি, আমি একটা স্বদেশ করতে পারি, আমি একটা ইয়েস বস (১৯৯৭) করতে পারি, আমি একটা বাজিগর (১৯৯৩) করতে পারি, আমি একটা ফ্যান করতে পারি—এবং ইন্ডিয়ার সিনেমার ইতিহাসে আমার সবচেয়ে বড় হিটগুলি—কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮), ডিডিএলজে (১৯৯৫) এবং কাভি খুশি কাভি গাম (২০০৩)—এগুলি গোনায়ও ধরতে চাই না।

আমি শাহ রুখ  খান, এবং আমি সব কিছু করতে পারি।

srk-int-5

অঙ্কুর পাঠক

শাহ রুখ খানের জগতে সবকিছু করার মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচাও পড়ে। এখন বিয়ের অনুষ্ঠানে তারকাদের পারফরম্যান্স খুবই কমন একটা পর্ব, ৯০-এর দশকে যখন এটার কথা শোনাও যায় নি তখন আপনি এটা শুরু করেছিলেন। আমার ধারণা সেই সময় শুরুর দিকে এটার জন্য প্রবল বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন আপনি।

শাহ রুখ খান

দেখেন, আমি শ্রমের মর্যাদায় বিশ্বাস করি। আপনি যে কাজই করেন, এটা মর্যাদাপূর্ণ। আর কেউ যদি আমার সাথে এই ব্যাপারে একমত না হয়, আমি সেটা বুঝতেও পারি না। আমি অনেক শ্রম দিয়ে এটা করি, সম্পূর্ণ সঠিক অর্থে। ফলে, লোকজন যদি বলে আমি এটার জন্য নিজেকে বিক্রি করছি, আমি দেখতেও পাই না এটা। কী এটা কোনো শো-তে নাচা হোক, কোনো প্রোগ্রাম হোস্ট করা হোক, একটা টিভি শো করা হোক অথবা ফ্যান ছবি করা হোক।

আমার বাসায় যে ভদ্রমহিলা পরিষ্কার করার কাজ করেন, আমি সেরকম একই মর্যাদার সাথে এটা করি। আমি তাকে ২০ বার ধন্যবাদ জানাই। আমি তাকে এমন দৃষ্টিতে দেখি না যে সে আমার চেয়ে নিচে আছে। আসলে, আমি সব সময় মানুষকে বলি যে আমি সবচেয়ে বেশি সম্মান করি আমার ড্রাইভারকে। আমি ৬টায় বাসায় আসি এবং ঘুমাই, তাকে ১২টায় কল করা হয়, এবং আমাকে যে কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সে তখন রেডি। আমার একজন ২৪x৭ (সপ্তাহের সাতদিনই ২৪ ঘণ্টার জন্য) সিকিউরিটি গার্ড আছে, আমি জানিও না সে কখন খায় অথবা কখন ঘুমায়।

অঙ্কুর পাঠক

কিন্তু আপনি কি বলবেন যে বিয়ের অনুষ্ঠানে আপনার নাচার ইচ্ছা অথবা এন্ডোর্সমেন্ট করার প্রবণতা শুরু করার ব্যাপারটি আপনার বস্তুগত ইচ্ছা থেকে উঠে এসেছে, যে বস্তুগত ইচ্ছার কথা একটু আগে আপনি বলেছেন? নাকি সম্পদ অর্জনকে আগের  দারিদ্র্যই আপনার অ্যাম্বিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বানিয়েছে?

শাহ রুখ খান

তরুণদের মনে রাখা উচিৎ—আপনাদের স্বপ্নকে অনুসরণ করলে, আপনাদের ওপর যেসব মানুষের দায়িত্ব আছে তাদের হয়ত সেটল করতে পারবেন না। আমি খুব গরীব ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি। আমি আমার বাবা মাকে ডাল দিয়ে খেতে দেখেছি, সে ডালে পানির পরিমাণ ডালের চেয়ে বেশি ছিল। তারা এটা নিয়ে কৌতুক করত—“আজকে চলো পানিতে ডোবানো ডাল খাই।” অথবা আমার মা বলতেন, “না, আমার আজকে ক্ষুধা নেই, আমি বাইরে খেয়েছি।” সে যে বাইরে খায় নি এটা বোঝার মত বোকা ছিলাম না আমরা। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা জানতাম। আমরা খুব শিক্ষিত একটা পরিবার ছিলাম, খুব বিনয়ের সাথে কথা বলতাম, সেক্যুলার এবং সুখী এবং ছোট পরিবার। কিন্তু গরীব ছিলাম আমরা। এবং আমি এটা পছন্দ করতাম না। আমি খুব করে এই জিনিসটা বদলাতে চাইতাম, যদিও আমার স্কুল খুব সুন্দর ছিল। আমরা কে ছিলাম সে কারণে আমাদের কখনো অপমানিত হতে হয় নি। আমার স্কুলের জন্য জুতা ছিল না কারণ আমার বাবা মা একজোড়া কিনে দিতে পারত না। আমি এটা বুঝতে পারতাম, ফলে আমিও এটা নিয়ে তাদের সাথে ঝামেলা করতাম না। আমার বাবা মারা গিয়েছিল কারণ অসুখ সারানোর মত দামি ইনজেকশনগুলি আমরা তাকে দেই নি। তাই আমার মা বলত, তোমাকে একটু প্র্যাকটিকাল হতে হবে। এবং এটাই আমাকে বদলে দিয়েছে।

এখন আমি সবাইকে বলি, ধনী না হয়ে একজন দার্শনিক বা শিক্ষক হবেন না। টাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ—যখনই পারেন এটা উপার্জন করুন।

srk-int-6

আমি প্রথম অভিনেতা যে বিজ্ঞাপনে কাজ করা শুরু করেছে। আমার প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল টাটা চায়ের। আমার মনে হয় শুধু হেমা মালিনী এবং ডিম্পল কাপাডিয়া সীমা লাইট ও বাল্বের বিজ্ঞাপনে কাজ করত, এবং তাও কিছু মানুষের সাথে বন্ধুত্বের খাতিরে তা করত।

তখন সবার প্রতিক্রিয়া ছিল, আপনি কি পাগল? নিজেকে এত হালকা ভাবে ছড়াচ্ছেন কেন?

তারপরও আমি সামনে এগিয়ে গেছি।

এখন অবস্থা অনেক ভালো। আমার এই বাড়িতে অনেকগুলি রুম আছে, তার মধ্যে কয়েকটাতে আমি কখনো যাইও নি। আমার একটা সুন্দর বাগান আছে যেখানে আমি আমার তিন বাচ্চাকে নিয়ে অনেক সময় কাটাই।

আরো পড়ুন: ‘একজন খান হিসাবে’—শাহ রুখ খানের আত্মজৈবনিক রচনা

এই সবকিছু আমার ভিতরের মূল এসেন্সের সাথে আমাকে কখনো আপস করায় নি, সেটা হল সিনেমা করা।

হ্যাঁ, আমি খারাপ সিনেমা করি। আমি ভালো সিনেমা করি। আমি খুব অসন্তোষজনক কিছু ছবি করি এবং খুব সন্তোষজনক কিছু ছবি করি। এবং লোকজন কী ভাবে সে বিবেচনা ছাড়াই, আমি কোনো টাকা দাবি করি না ফিল্মে অভিনয় করার জন্য।

অঙ্কুর পাঠক

এটা কি সত্যি?

শাহ রুখ খান

অবশ্যই। না হলে আমি কখনোই এটা বলতাম না এবং আপনি চেক করে দেখতে পারেন এটা। আমি আমার সব প্রডিউসারদের বলি, যদি পারেন তাহলে আমাকে টাকা দেন। আর তাদের যদি টাকা লোকসান হয়, তাহলে আমি এটা নেই না। এটা প্রথম দিন থেকেই। এবং আমি আহ্লাদ করে বলছি না।

আমি কিং, রাজারা কখনো টাকা নেয় না, তারা টাকা দেয়। কিন্তু একজন রাজা টাকা উপার্জন করে কোথা থেকে? তার কাছে আসা প্রতিটা সুযোগ থেকে সে টাকা উপার্জন করে।

পৃথিবীর যে কাউকে জিজ্ঞেস করুন—শাহ রুখ খান কীভাবে বিজনেস করে? তারা বলবে তিনি কখনো টাকার কথা বলেন না। যদি তিনি কাজটা পছন্দ করেন তাহলে তিনি কাজটা করবেন।

এবং আমি যথেষ্ট দয়ালু থেকেছি যে আমার বড় বড় কিছু ব্যবসা আছে। আমার ব্যবসার যুক্তি হল এমনকি এটা যদি ভেঙেও পড়ে আমি এটা পছন্দ করি। আমার আইপিএল টিমের মত, কলকাতা নাইট রাইডার্স কয়েক বছরে এই প্রথম লাভের মুখ দেখেছে। আমরা হলাম মানি-মেকিং কোম্পানি।

এটা খুব বেশি না। খুবই সামান্য। সম্ভবত আমি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শুধু হাজির হয়েই যত পাব, সেই পরিমাণ।

তরুণদের প্রতি আমার মেসেজ হল, যদি কোনো সাইড বিজনেস থাকে যেটা আপনাকে জীবনের মৌলিক প্রয়োজনগুলি পূরণ করতে সাহায্য করে, তাহলে আপনি আপনার পাশে আর্টকে রাখার বিলাসিতা করতে পারেন।

srk-int-7

অঙ্কুর পাঠক

আপনি মান্নাতের ব্যালকনিতে দাঁড়াবেন এবং আপনাকে এক নজর দেখার জন্য বাইরে মানুষ আর অপেক্ষা করবে না এমন কোনো দিনের ভয় পান আপনি?

শাহ রুখ খান

হ্যাঁ। কিন্তু—এবং খুব বড় একটা কিন্তু—সেটা এমন একটা দিন হবে যখন ইন্ডিয়া আর সিনেমা বানাবে না। একমাত্র এভাবেই এটা হতে পারে। আমরা যতদিন পর্যন্ত সিনেমা বানাব, মানুষ আমাকে দেখার জন্যে বাইরে অপেক্ষা করবে।

অঙ্কুর পাঠক

বাস্তবতার বাইরে আইভরি টাওয়ারে বসে থাকা বেশিরভাগ লোক এই ধরনের কিছু বিশ্বাস করতে পছন্দ করে, সে রকম কিছু?

শাহ রুখ খান

হয়ত। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে না। যদিও আমি সচেতন যে মানুষ আমার সম্পর্কে এ রকম ভাবে। মানুষ ভাবে আমি মোহের মধ্যে আছি এবং আমি একটা বুদ্বুদের ভিতরে আছি। আমার বন্ধুরা বলে আমি বাস্তবতা স্পর্শ থেকে দূরে। এবং এটা হয়ত সত্যও, ইয়ার। আমি হট ফেরারি চালাই, আমি প্রাসাদের মত বাংলোতে থাকি। বাস্তব মানুষের সাথে আমার ইন্টার‌্যাকশন শুধু একটা সিনেমাতেই হয়—একটা ফিকশনের জায়গায়। তারা আমার দিকে হাত নাড়ে এবং অটোগ্রাফ চায়। মাঝে মাঝে আমি অনুগ্রহ করি, মাঝে মাঝে আমি করি না। এবং তারপর আমি বাড়িতে আসি ও ঘুমাই।

কিন্তু আপনি জানেন? আমি ওই সব মানুষকে অনুভব করতে পারি। যখন একটা সিনেমা ভালো করে, তখন ৭০০, যখন করে না তখন এর চেয়ে কম। এবং অনেক বছর ধরেই এটা হয়ে আসছে। বাইরে এখনো তারা আছে। এটা বাস্তব, কোনো মোহ না।

srk-int-8

অঙ্কুর পাঠক

এটা কি আপনাকে তাদের আরো ভালো বিনোদন দেওয়ার দায়িত্ব অনুভব করায় না, মূল্যবান  কিছু, হালকা হাবিজাবি জিনিস নয়?

শাহ রুখ খান

অবশ্যই এটা করায়। আর যতগুলি বছর পার হয়েছে, আমি আগের চেয়ে আরো কঠোর পরিশ্রম করে আসছি। আর্ট না হলেও আমি আমার ক্রাফট আরো তীক্ষ্ণ করে যাচ্ছি। আমি আরো লিখি, আমি আরো পড়ি। আমি আলাদা কিছু করার চেষ্টা করি, এমনকি এটা যদি একই ধরনের জিনিস হয় তার ভিতরেই। রাজ, রাহুল, আরিয়ানের মধ্যে কিছু ভিন্নতা অবশ্যই আছে যেটা মানুষ পছন্দ করে, ঠিক? একই জিনিস বার বার পছন্দ করার মত বোকা তারা? তারা এই সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরতে পারার মত এবং অ্যাপ্রিশিয়েট করার মত যথেষ্ট স্মার্ট। আমার সমালোচকেরা অভিযোগ করে যে আমি শুধু প্রেমের গল্পই করি। আপনি কখনোই একজন লাভার বয় হিসেবে আমাকে গাণিতিকভাবে নাকচ করে দিতে পারবেন না। যদি মায়েরা আমাকে একজন আদর্শ ছেলে হিসেবে দেখে এবং নারীরা আমাকে বিয়ে করতে চায়, এর কারণ তারা শাহ রুখ খানের সূক্ষ্মতা দেখে, আমার যে ক্যারিকেচার দুই হাত মেলে প্রসারিত করে তারা শুধু সেটাই দেখে না।

অঙ্কুর পাঠক

কিন্তু আরো বড় পরিসরে দেখলে, আপনি আপনার নিজের ক্যারিকেচার রূপ দাঁড় করিয়েছেন। আপনি দুই হাত প্রসারিত করা লাভার বয় ইমেজ তৈরি করেছেন এবং এটাকে আরো ভালোভাবে পরিচর্যা করেছেন।

শাহ রুখ খান

হ্যাঁ, এবং এর কারণ আমি আত্মসচেতন অভিনেতা এই সেন্সে যে আমি জানি আমার দর্শকেরা আমার কাছে কী চায়। এবং এটা তাদেরকে দারুণ আনন্দিত করে বলেই আমি তাদেরকে এটা দিব। আমি এটাকে কৌতুক হিসেবেও দেখি। আপনি যদি মনে করতে পারেন, আমি এই ক্যারিকেচার করেছিলাম ম্যা হু না (২০০৪) ছবির একটা ফানের দৃশ্য হিসাবে, যখন সুস্মিতা সেনের চরিত্রটি আসে।

এটা ছিল আমার নিজের ওপর আমারই তৈরি করা একটা জোক। সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে আত্ম-মূল্যায়নহীন তারকা আমি। এবং এর কারণ আমি ভালো। আপনি ভালো না হলে আপনি আদৌ আত্ম-মূল্যায়নহীন হতে পারবেন না। এবং আমি অ্যারোগেন্ট হচ্ছি না, আমি সৎভাবে বলছি। আমি বিনয়ী হওয়ার মত যথেষ্ট ভালো।

আমি জোক করে বলি যে আমার মাত্র পাঁচটি এক্সপ্রেশন আছে কারণ আমি জানি আমার ৫০টি আছে। আমার জোরে চিৎকার করে প্রমাণ করতে হবে না যে আমি কতটা ভালো। এমনকি আমি সেই স্টারও না যে নিজের প্রশংসাগুলিও রিটুইট করে, যে সব টুইটগুলিতে বলা হয় ও মাই গড! আমরা আপনাকে ভালোবাসি! আপনি গ্রেট।

আমার একটা কাজ আছে, যেটা আমি ভালোভাবে করি, এটাই আমার একমাত্র কাজ। আমি যদি ভালোভাবে না করতাম তাহলে আমি ব্যর্থ হতাম।

(পরের অংশ)

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক