page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

শীত

fire dekha 3a

সেই কবে স্কুলে পড়ে জেনেছিলাম ছয় ঋতুর কথা। কিন্তু আমাদের দেশে শুধু পাই লম্বা গরমকাল, বর্ষাকাল আর সামান্য একটু শীতকাল। শরৎকাল, বসন্তকাল কী আমি দেশে কোনোদিন টের পাই নাই। আমেরিকায় এসে টের পেয়েছি ঋতুর ভিন্ন ভিন্ন রূপ। বাংলাদেশের মত এখানে আলাদা কোনো বর্ষাকাল দেখি না। বৃষ্টি এখানে সব ঋতুতেই হয়।

শীতের শেষে গরমের আগে আসে গরমের মতই ক্ষণিকের বসন্ত। এই সময়ে হালকা শীত থাকলেও সেটা আরামদায়ক। শীতে কংকালসার হয়ে যাওয়া সব বৃক্ষরাজিতে সবুজের কলি ফুটতে শুরু করে। বসন্তকালে গাছের রেনু অনেক মানুষের এলার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের ভিতর আমিও একজন।

murad hai 3 logo

এখানে আসার আগে আমি এই পোলেন এলার্জির কথা শুনি নাই। এখানে এসে কারো পোলেন এলার্জি হয়েছে শুনলে খুব হাসতাম। মনে মনে বলতাম, মশা, মাছি, কাকের দেশ থেকে এসে দুইদিনেই আমেরিকান হয়ে গেছে—পোলেন এলার্জি হয় বলে আজাইরা ভাব নিচ্ছে। নিজে ভুক্তভোগী না হওয়া পর্যন্ত বুঝতেই পারি নাই এই এলার্জির ভয়াবহতা কেমন।

শীতের শেষে স্প্রিং সিজন শুরু হলেই আমার খুব হাঁচি শুরু হয়। আমি তো দেশী স্টাইলে হাঁচি এলে দাঁতমুখ খিঁচে মুখের কাছে হাত এনে বিকট আওয়াজ করে ‘হ্যাচ্চো’ ‘হ্যাচ্চো’ করে ৫-১০টা হাঁচি দিতেই থাকি।

হাঁচির এই বিটকেলে আওয়াজ শুনে রাস্তাঘাটে,বাসে,ট্রেনে মানুষ এমন অদ্ভুত ভাবে আমার দিকে তাকাতো যেন নতুন কিছু দেখছে। ওরা যেন কখনো হাঁচি দেয় না আর কি!

একদিন এমন হাঁচি দেয়া দেখে বন্ধু মুনির আমাকে বলে,তুই বেটা হাঁচি দেয়াও শিখস নাই এখনো। তারপর নিজের নাক-মুখ হাতের কনুইতে চেপে ধরে খুব সামান্য আওয়াজ করে হাঁচি দিয়ে দেখালো। তখন বুঝলাম,জোরে হাঁচি দিলে রাস্তায় মানুষ কেন বিরক্ত চেহারা নিয়ে আমার দিকে তাকায়।

এই হাঁচি বন্ধ করার জন্য ওভার দি কাউন্টার এলার্জি মেডিসিন খাওয়া শুরু করলাম। এতে কাজ না হওয়ায় এলার্জি ডাক্তারের কাছে গিয়ে এলার্জি টেস্ট করে জানতে হয়েছে কী কারণে আমার এলার্জি হয়। ডাক্তার আমার দুই হাতে দশটা করে ফুটা করে এলার্জির কারণ আবিষ্কার করে জানিয়ে দিল কোন গাছের নিচে সকালবেলায় হাঁটা যাবে না। কারণ ওই সময়ে ওই গাছের পোলেন ডেলিভারি বেশি হয়। কোন ফল খাওয়া যাবে না, কোন বাদাম খাওয়া যাবে না—জানিয়ে দিল। তারপর বসন্তকাল শেষ হওয়া অবধি খাওয়ার জন্য ঔষধ,নাকের জন্য স্প্রে দিল।

mh 1

নিয়ম মেনে চলে এই পোলেন এলার্জির অত্যাচার থেকে বেঁচেছি আমি।

কয়েক সপ্তাহের বসন্ত খুব দ্রুত শেষ হয় এখানে। গাছপালা সবুজ হতে শুরু করে। মানুষের মনেও যেন বসন্ত আসে। মানুষ অনেক লম্বা আর কর্কশ শীতের পর বসন্ত এলেই শীতের ভারি কাপড় ছেড়ে বসন্তের রঙে হালকা কাপড় পরে। বসন্তকাল যেন গরমের পূর্বাভাস।

এই সময়ে মানুষ নিজের আঙিনায় ফুলের বাগান করা নিয়ে মেতে ওঠে। আমি নিজেও বাগান করার নেশায় আসক্ত। চারিদিক থেকে নাকে এসে লাগে বারবিকিউর গন্ধ।
বাড়ির ব্যাক ইয়ার্ডে, পার্কে সবাই দল বেঁধে পার্টি করে বন্ধুবান্ধব,আত্মীয়স্বজন নিয়ে।

জুনের শেষে গরম আসে। জুলাই-আগস্ট এই দুই মাস ভাল গরম থাকে তাপমাত্রা।

এই শহরের মানুষগুলি তখন সবাই খাঁচামুক্ত পাখির মত এদিক-সেদিকে ঘুরে বেড়ায় মনের আনন্দে। সবার কাছেই এই শর্ট সামার অনেক বেশি প্রিয়। ভরে ওঠে শহরের অনেক পার্ক, সী বিচ মানুষের আনাগোনায়। শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলিতে জমে ওঠে স্ট্রিট শো, ফেয়ার, প্যারেড। সবার বাড়িঘরের আঙিনা, রাস্তার আইল্যান্ড,পার্ক সবখানেই কত বাহারের ফুলের গাছ রঙের বাহার নিয়ে যেন হেসে-খেলে বেড়ায়।

এই নগরীতে যখন পা রেখেছিলাম,মাসটা ছিল সেপ্টেম্বর। আসার দুই দিন পরেই সুন্দর ফুরফুরে ওয়েদার আচমকা বদলে গিয়ে হীম শীতল বাতাস বইতে শুরু করেছিল। এখনও মনে আছে। শীতের কাপড় পরে বের না হওয়াতে ‘রসিক ভাতে নয়, শীতেই মরে’ অবস্থা হয়েছিল।

সেপ্টেবর মাসে গরম চলে গিয়ে আবহাওয়া খুব আরামদায়ক হয়ে যায়। গরমকাল থেকে শীতকাল শুরু হবার আগের সময়টুকু অটাম মানে শরৎকাল হলেও এরা বলে ফল সিজন। আমার কাছে বছরের এই সময়টা সবচেয়ে আরামের।

mh 3

দিনের বেলায় হালকা গরম কিন্তু সন্ধ্যা হলেই খুব আরামদায়ক তাপমাত্রা থাকে। ঠাণ্ডা হয়ে যায় বাতাস কিন্তু জ্যাকেট বা স্যুয়েটার পরার মত ঠাণ্ডা নয়। বলা যায় শার্টের হাতা গুটানো থাকলে সন্ধ্যার পর হাতা নামালে ভাল লাগে। আরো সহজ করে বলা যায়, এই দেশের শরৎকাল বাংলাদেশের শীতকালের মত। দেশে এমন শীতে আমরা শীতের কাপড় পরতাম। কিন্তু এখানে পরতে হয় না। হয় অনেকদিন এই পরিবেশে থাকার ফলে সহ্যক্ষমতা বেড়েছে না হয় চামড়া মোটা হয়ে গেছে বলা যায়।

শরৎকালে প্রকৃতির রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হই। শহর থেকে অনেক দূরে থাকি আমি অনেক গাছ-গাছালিতে ভরা আবাসিক এলাকায়। দোকানপাট, বাস-ট্রেনের আওয়াজ, মানুষের কোলাহল, আলোর ঝলকানি, গাড়ি ঘোড়ার আওয়াজ, দোকান পাটের ভিড় কোনো কিছুই নাই এখানে। আছে শুধু রাস্তার দুই পাশে সারি বেঁধে দাঁড়ানো চোখজুড়ানো মেপল, বার্চ, ওক, এল্ম গাছ।

আমার বাসার কাছেই হল ‘ Alley Pond park’। শীতকাল ছাড়া বছরের বাকি সময়ে বলা যায় প্রায় প্রতিদিন আমি এই পার্কে না গেলে পেটের ভাত হজম হয় না। আমার খুব প্রিয় এই পার্ক। প্রতিদিন আমি হাঁটি এখানে আর প্রকৃতির শোভা দেখে নিজেকে ধন্য করি।

এই পার্কের প্রতিটা গাছ যেন আমার বন্ধু হয়ে গেছে। এদের সবার চেহারা আমার মনে থাকে। আমি নিজের মত করে এদের নাম দেই। সম্ভব হলে নেমপ্লেট বানিয়ে সবার গেয়ে পেরেক ঠুঁকে লাগিয়ে দিতাম। কিন্তু গাছের গায়ে কিছু লাগানো এই দেশে রীতিমত বড় অপরাধ। তাই পারি না।

কিন্তু হাঁটতে গিয়ে আমি ওদের সাথে কথা বলি। কারো নাম ‘সুন্দরী’,কেউ বা ‘তেজস্বী’। এমন অনেক নাম দেয়া আছে আমার। সবার ছবি তুলি আমি। ওদের গায়ের সাথে হেলান দিয়ে বসে কত কথা বলি। ওরাও ডালপালা নেড়ে ওদের আনন্দ প্রকাশ করে। কাঠবেড়ালীরা ঘুরে বেড়ায় এসব গাছের ডালে-ডালে। কত পাখি গান করে গাছের ডালে বসে। কারো ডালে দেখি মৌমাছির বাসা। এদের ভিন্ন ভিন্ন রঙের পাতার বাহার দেখে কার না মন উদাস হবে।

পার্কে সাইকেল চালানো যায় কিন্তু ধুমপান নিষিদ্ধ। একবার একজন তার সাইকেল চেইন দিয়ে এক গাছের গায়ে বেঁধে মাঠে খেলতে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি পার্ক-পুলিশ এসে হাজির। চেইন কেটে সাইকেল গাছ থেকে মুক্ত করে ওখানেই অপেক্ষা করল সাইকেল মালিকের জন্য। খেলা শেষ করে হেলেদুলে বেচারা যখন সাইকেল নিতে গাছের কাছে এলো পুলিশ সাথে সাথে তার হাতে হাতকড়া পরালো।

এই দৃশ্য দেখে চারিদিকে সবাই ভিড় জমালো। সাইকেল মালিক তো একদম হতভম্ব। অনেক বার ‘সরি’ বলল, আর কোনোদিন এমন করবে না কথা দিল। পার্ক-পুলিশ তখন বলে, মানুষের মত গাছেরও প্রাণ আছে। তারপর সাইকেল মালিককে বলল,”তোমার কোমরে যদি চেইন দিয়ে কেউ এই সাইকেল আটকে রাখে,তুমি তখন কেমন অনুভব করবে?”

মালিক তার ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইল। পুলিশ সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলে, “আমার কাছে নয়,তুমি গাছের কাছে ক্ষমা চাও।” সেই লোক তাই করলো।

২.
সংক্ষিপ্ত সময়ের গরমকাল শেষ হতে থাকার সাথে সাথে পার্কের সব গাছের পাতা রঙ বদলাতে থাকে। সামারে সবাই থাকে সবুজ পাতা নিয়ে। কিন্তু আস্তে আস্তে কেউ হয়ে যায় লাল, কেউ বা হলুদ, কেউ বা বাদামি। সে এক চোখজুড়ানো, হৃদয়-কাড়া অপরূপ দৃশ্য।

সেপ্টেম্বরে শুরু হয়, নভেম্বরে পাতা রঙ বদলায়, তাপমাত্রা কমতে থাকে। ডিসেম্বরে পাতা ঝরতে থাকে। শীত বাড়তে থাকে। এক সময় গাছে আর একটা পাতাও অবশিষ্ট থাকে না। গাছ হয় পাতাশূন্য। দেখলে মনে হয় যুধবিধ্বস্ত পরাজিত কোন ভূমি। পার্ক হয়ে যায় জনমানবশূন্য। শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকে, পার্কে হাঁটার মানুষও কমতে থাকে।

এই শহরের শীতকাল সব চাইতে লম্বা। সেই অক্টোবরে হালকা শীত দিয়ে শুরু হয়। ‘থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’ থেকে শীত জাঁকিয়ে বসতে শুরু করে। ঘরে, গাড়িতে হীট চালু করতে হয়।

mh 2

ডিসেম্বরে বড়দিনে ওরা আশা করে বরফ পড়বে, ওটা তাহলে খুব শুভ বলে ধরে নেয়া হয়। বরফ কখনো পড়ে, কখনো পড়ে না। ২০১৪-এর বড়দিনে বরফ তো পড়েই নাই, উপরন্তু অবাক করে দিয়ে একদিনের জন্য তাপমাত্রা অনেক বেশি গরম হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কয়দিন পরেই নিউ ইয়ার্স ইভে হাড় কাঁপানো শীত।

এই শীত সব চাইতে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে জানুয়ারিতে। যেমন ঠাণ্ডা বাড়তে থাকে, তার সাথে কয়দিন পর পর শুরু হয় বরফ পড়া। কখনো ২-৩ ইঞ্চি, কখনো ২-৩ ফুট।

প্রতি বছর এই মাসেই হয় বড় ধরনের তুষার ঝড়। এমন কিছু হলে শহর, জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে।

গত বছর এই জানুয়ারিতেই হয়েছিল ভয়ঙ্কর তুষার ঝড়। শহরের বর্তমান মেয়র তখন সবে নির্বাচিত হয়েছে। ভয়ঙ্কর ঝড়ের পূর্বাভাস দেয়া সত্ত্বেও মেয়র বোকামি করে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে নাই। মানুষের চরম ভোগান্তি হয়েছিল। মেয়রের বোকামিতে ভোগান্তির কারণে বেচারা এত সমালোচিত হয়েছিল যে তার চাকুরি যায় যায় অবস্থা। অনেক ক্ষমাপ্রার্থনা, কান্নাকাটি করে বেচারা সে যাত্রা রক্ষা পেয়েছিল।

গতকাল মানে ২৬ জানুয়ারি ২০১৫ সোমবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল ভয়ঙ্কর তুষার ঝড়ের। এবার আর মেয়র কোনো ভুল করে নাই। আগে-ভাগে ঘোষণা দিয়ে পরদিন মঙ্গলবার সব স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। রাত এগারোটার পর রাস্তায় যেন কোন ব্যক্তিগত যানবাহন না চলে, সে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের গভর্নর ‘স্টেট অব ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছিল।

সব মানুষ এই আদেশ মানল। তাতে করে শহরের সেনিটেশন বিভাগ নির্বিঘ্নে রাস্তাঘাট থেকে বরফ সরিয়ে লবণ ছিটাতে পেরেছে। বাবামা’রা স্বস্তি পেয়েছে এই বিরূপ আবহাওয়ায় ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় পড়তে হয় নাই বলে।

যেমন পূর্বাভাস দিয়েছিল ঠিক অতটা ভয়ঙ্কর হয় নাই তুষারপাত। ঝড় পাশ কাটিয়ে গেছে। কিন্তু তুষারপাত হয়েছে ২ ফুটের মত।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বাইরে তাকিয়ে দেখি সব সাদা। গাড়ি সব ডুবে গেছে বরফের নিচে। খেয়ে-দেয়ে শক্তি সঞ্চয় করে আমি আর আমার দুই ছেলে মোটা জ্যাকেট জুতা পরে,শাবল হাতে নেমে গেলাম বরফ পরিষ্কার করার যুদ্ধে। চার ঘণ্টা অক্লান্তভাবে শাবল চালিয়ে নিজের বাসার সামনে চলাচল করার মত রাস্তা বের করলাম বরফ সরিয়ে। গাড়ি পরিষ্কার করে ইঞ্জিন গরম করলাম।

আমার বাসার উলটা দিকে দুই বাসায় দুই বৃদ্ধ থাকে। এরা খুব ভাল মানুষ। একজন সাউথ আমেরিকান অরিজিন ভদ্রলোক, বর্তমানে রিটায়ার্ড,একা থাকে। আরেক বাসায় থাকে জার্মান অরিজিন এক বৃদ্ধা। একা। কেউ নাই আর।

হঠাৎ খেয়াল হল, ওদের মেইন ডোরের সামনে বরফ জমে পাহাড় হয়ে আছে। এগিয়ে গেলাম, পরিষ্কার করে দিলাম দুজনের বাসার সামনের বরফ। খুব খুশি হল ওরা।

আমি যখন দেশে যাই কিংবা কোথাও বেড়াতে যাই, এরা তখন আমার বাসা দেখে রাখে, চিঠিপত্র উঠিয়ে রাখে, বাগানে পানি দেয়। কোন অনাহুত আগন্তুক দেখলে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে, কী চাই। এমন সুহৃদ মানুষ নিজের দেশে কখনো পাই নাই আমি।

৩.
মাত্র জানুয়ারির শেষ প্রান্ত। শীত আরো রয়ে গেছে বাকি। ফেব্রুয়ারি আরো জঘন্য। কয় দিন পর পর বরফ পড়বে নইলে বৃষ্টি হবে।

শীতকালে বরফের চেয়ে বৃষ্টি বেশি বিপদজনক। বৃষ্টির পানি রাতের অন্ধকারে ফ্রিজিং পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় জমে গিয়ে কাচের মত স্বচ্ছ পিচ্চিল বরফে পরিণত হয় যাকে এরা বলে ‘ব্ল্যাক আইস’। এই ব্ল্যাক আইস সবচেয়ে বিপদজনক। হাঁটতে গিয়ে না দেখে পা ফেললে নির্ঘাত বেমক্কা পড়ে গিয়ে কোমর ভাঙতে হবে। গাড়ি চালাতে গিয়ে হয় নিজের ভুলে না হয় অন্যের ভুলে কেউ একজন কাউকে ধাক্কা দিলে চেইন এফেক্টের মত সামনে-পিছে অনেক গাড়ি একের পরে এক এক্সিডেট করে বিশাল ঝামেলা তৈরি হয়ে যায়।

তারপর আছে ঠিক কাপড়, জুতা, মোজা, হ্যান্ড গ্লাভস, স্কি হ্যাট, স্কার্ভস পরার ব্যাপার। ঠাণ্ডার গভীরতার উপর নির্ভর করে ড্রেস পরতে হয়। সেজন্য প্রতিদিন ভোর বেলায় সবার আগে ঘুম থেকে উঠেই চেক করতে হয় সেদিনের ওয়েদার কেমন যাবে।

গাড়ির ইঞ্জিন গরম করতে হয় অনেকক্ষণ ধরে। শীতের আগেই চেক করে নিতে হয় গাড়ির সব কিছু ঠিক আছে কিনা। নইলে শীতের রাতে বাড়ি ফেরার সময় নিরিবিলি রাস্তায় গাড়ি বিগড়ে গেলে যে কষ্ট হয় তার চেয়ে দোযখের আজাব মনে হবে অনেক কম।

তারপর চেক করতে হয় বাসার হিটিং সিস্টেম। সিজন শুরুর আগেই লোক ডেকে দেখিয়ে নিতে হয় সব কিছু ঠিক আছে কিনা। নইলে শীতের রাতে আচমকা হিটিং থেমে গেলে ঘরবাড়ি এত ঠাণ্ডা হয় যে, লেপের পর লেপ গায়ে দিয়েও শীত কমে না।

শীত থাকে সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, মে থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বছরের বেশির ভাগ সময়েই শীত থাকে এই শহরে।

জুনের মাঝামাঝি যখন শীত কমতে থাকে, অনেক রোদ, গাছে পাতা ধরতে শুরু করে, তখন আমরা ভুলে যাই মাত্র চলে যাওয়া রক্ত পানি করা শীতের কষ্টের কথা।

আকাশের মত মানুষগুলিও আনন্দে ঝলমল করে। শীতকালের কথা বেমালুম ভুলে যাই। মোটা কাপড়-চোপড় সরিয়ে রাখি, খুঁজে বের করি পাতলা টি শার্ট, জিন্স।

২৭ জানুয়ারি ২০১৫

About Author

মুরাদ হাই
মুরাদ হাই

জন্ম হাতিয়ায়। ১৯৬০ সালের ৯ অক্টোবর। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পড়তেন মার্কেটিং বিভাগে। থাকতেন সূর্যসেন হলে। ১৯৮৯ সালে পাড়ি জমান নিউইয়র্কে। সে অবধি সেখানেই আছেন। দুই ছেলে রেশাদ ও রায়ান ছাত্র, স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা স্কুলের শিক্ষিকা।