page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

সঠিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার

অ্যান্টিবায়োটিক কি?
অ্যান্টিবায়োটিক এক ধরনের ওষুধ যেটা ব্যাকটেরিয়া হত্যা করে। ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন ঘটায়। জ্বর, কাশি, গলা খুসখুস করা, মূত্রনালীর ইনফেকশন, সাইনুসাইটিস ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়ার কারণেই হয়।

অনেক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আছে। প্রতিটা অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ আলাদা আলাদা এবং প্রতিটাই আলাদা আলাদা ব্যাকটেরিয়ার ওপর কাজ করে। চিকিৎসকেরা জানেন কোন ধরনের সমস্যায় কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে।

অ্যান্টিবায়োটিক সবকিছুর উপশম ঘটাতে পারে না?
অ্যান্টিবায়োটিক শক্তিশালী ওষুধ। কিন্তু এগুলি সব ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রেই কাজ করে না। ভাইরাসের কারণে যেসব অসুখ হয় অ্যান্টিবায়োটিক সেসব অসুখ সারাতে পারে না। নিচের অসুখগুলিতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না:

  • সাধারণ ঠাণ্ডা
  • ইনফ্লুয়েন্জা (ফ্লু)
  • বেশিরভাগ ধরনের তীব্র ব্রংকাইটিস
  • গলা বসে যাওয়া
  • সর্দির কারণে নাক বন্ধ হয়ে আসা
  • অধিকাংশ কানের ইনফেকশন

এইসব অসুখগুলি একা একাই সেরে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা যাবে না?
আপনার যখন প্রয়োজন নাই তখনও যদি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন তাহলে যখন প্রয়োজন তখন আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না।

আপনি প্রতিবার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার পরে কিছু ব্যাকটেরিয়া থেকে যায় যেগুলি মরে না।

এইসব ব্যাকটেরিয়া পরে নিজেদের পরিবর্তন ঘটায় এবং এগুলিকে মারা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে, এইসব ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী অ্যান্টিবায়োটিক আর এগুলিকে হত্যা করতে পারে না। এইসব ব্যাকটেরিয়াকে বলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া।

এই ব্যাকটেরিয়াগুলি বড় ধরনের ইনফেকশন ঘটাতে পারে। এইসব ব্যাকটেরিয়া থেকে নিরাময়ের জন্য তখন আরো শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়, এবং সেইসব অ্যান্টিবায়োটিকের আরো বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে আর এইসব অ্যান্টিবায়োটিকের দামও বেশি হয়ে থাকে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া কারো শরীরে থাকলে তা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মাঝে অথবা সহকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে এই ব্যাকটেরিয়া থেকে বেশি সংখ্যক লোকের সংক্রামিত হওয়ার আশংকা থাকে। চিকিৎসকেরা আগে সাধারণ সমস্যায় পরামর্শ দিতেন এমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এখন আর কাজ করে না।

প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নিলে তা আপনার কোনো কাজেই আসে না, বরং ক্ষতি করে। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নিলে নিচের সমস্যাগুলি হতে পারে:

  • বমি বমি ভাব
  • ডায়রিয়া
  • পেট/ পাকস্থলী ব্যথা
  • এলার্জি

তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণত না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে মেডিকেলের ভাষায় ক্লোস্ট্রিডিয়াম ডিফিচিলেকোলাইটিস হতে পারে। এটা হলে পরিপাকতন্ত্র বা কোলন ফেঁপে যায় এবং অস্বস্তি তৈরি করে।

এটা হয় কারণ, অ্যান্টিবায়োটিক পরিপাকতন্ত্রের নরমাল ব্যাকটেরিয়াগুলিকেও মেরে ফেলে এবং এতে আরেক ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। এর ফলে, ডায়রিয়া, জ্বর, পেটা ফাঁপা ইত্যাদি হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার কারণে নারীদের যোনিতে ছত্রাকের ইনফেকশন হতে পারে।

আপনি কীভাবে বুঝবেন যে এখন অ্যান্টিবায়োটিক আপনার জন্য সঠিক চিকিৎসা?
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান হোন। জেনে রাখুন, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সমস্যায় কাজ করে, ভাইরাস ঘটিত সমস্যায় কাজ করে না।

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিচের কাজগুলি করবেন।

  • চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন আপনার সমস্যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকই সবচেয়ে ভালো সমাধান কিনা। তাকে জানান একেবারে প্রয়োজন না হলে আপনি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে চান না।
  • আপনার সমস্যায় যদি কাজ না করে বা আপনার নিরাময়ের জন্য যদি দরকার না হয় তাহলে চিকিৎসককে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার জন্য চাপ দিবেন না।
  • অন্য কোনো সমস্যার জন্য প্রেসক্রাইব করা অ্যান্টিবায়োটিক আরেক সমস্যার বা অসুখের ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না, অথবা একজনের অ্যান্টিবায়োটিক আরেকজনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না। এতে সমস্যা আরো জটিল হতে পারে।
  • ব্যাকটেরিয়াঘটিত সমস্যা যাতে না হয় সেজন্য সচেতন থাকুন। ভালো করে সাবান দিয়ে ও বেশি পানি দিয়ে হাত ধুবেন।
    দরকারি সব ভ্যাকসিন নিয়ে রাখবেন।

অ্যান্টিবায়োটিক দিলে চিকিৎসককে আপনি যেসব জিনিস জিজ্ঞেস করতে পারেন

  • আমার অ্যান্টিবায়োটিক কেন প্রয়োজন?
  • এই অ্যান্টিবায়োটিকের সাইড এফেক্টগুলি কী কী?
  • সাইড এফেক্টগুলি যাতে না হয় সেজন্য আমি কী করতে পারি?
  • এই অ্যান্টিবায়োটিক আমি কোন পদ্ধতিতে গ্রহণ করব? দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে? খাবারের সাথে? খাওয়ার আগে নাকি পরে?
  • আমি অন্যান্য যেসব ওষুধ খাই এই অ্যান্টিবায়োটিক কি সেগুলির জন্য সমস্যা করবে?
  • কোনো নির্দিষ্ট খাবারের জন্য কি এই অ্যান্টিবায়োটিক সমস্যাজনক?
  • এই অ্যান্টিবায়োটিক কি ফ্রিজে রাখতে হবে? এগুলি আমি কীভাবে রাখব, বিশেষ কোনো উপায়ে নাকি সাধারণভাবেই?

আপনার যদি অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া প্রয়োজন হয় তাহলে সেগুলি সম্পর্কে ভালোভাবে নিশ্চিত হন। আপনি যদি বিশেষ কোনো খাবার বা ডায়েট পদ্ধতি ফলো করেন বা কোনো ওষুধ খান নিয়িমিত  অথবা আপনার যদি কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে তা আপনার অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য সমস্যাজনক কিনা তা নিশ্চিত হোন। আর আপনি যদি গর্ভাবস্থায় থাকেন বা সন্তান ধারণের চেষ্টার মধ্যে থাকেন তাহলে সেটাও চিকিৎসককে জানিয়ে রাখুন।

কোন পদ্ধতিতে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন?
আপনার চিকিৎসক যখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের পরামর্শ দিবেন তখন

  • যেভাবে চিকিৎসক বলবেন সেই নিয়ম মেনে চলুন। যে পরিমাণের কথা চিকিৎসক বলবেন সেই পরিমাণই বা সেই মাত্রায়ই গ্রহণ করুন। নির্দিষ্ট সময়ের কথা বললে একেবারে সেই সময়ই মেনে চলুন।
  • চিকিৎসক যতদিন গ্রহণ করতে বলবেন ঠিক ততদিনই গ্রহণ করুন। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার কিছুদিন পরে আপনি ভালো বোধ করতে পারেন। কিন্তু যতদিনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ততদিনই গ্রহণ করুন। ব্যাকটেরিয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া জন্য আপনাকে প্রেসক্রিপশন মেনে চলতেই হবে। আপনি যদি আংশিকভাবে প্রেসক্রিপশন মেনে চলেন তাহলে কিছু ব্যাকটেরিয়া থেকে যাবে, পরবর্তীতে এরা শক্তিশালী হবে এবং আবার আপনাকে অসুস্থ করে তুলবে।

সাধারণত, অ্যান্টিবায়োটিক নিরাপদ। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সাইড এফেক্টগুলি খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি হল—বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা। নারীদের ক্ষেত্রে, অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে যোনিতে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।

সাধারণত হয় না, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক থেকে এলার্জির সমস্যা হতে পারে এবং তা মারাত্মক পর্যায়ে যেতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি আপনার জন্য সমস্যাজনক হয় তাহলে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য আলাদা চিকিৎসার ব্যাপারে আপনার চিকিৎসককে বলুন। কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো অনেক কঠিন এবং অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক পর্যায়ে যেতে পারে।

এগুলি নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন, এমন কোনো উপায় আছে কিনা যাতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে কিন্তু কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক