page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

সন্ধ্যার পর পর প্রিয়াঙ্কাদের বাসায়

লাকসামের ওই ইয়াং ছেলেটা, যে আমারে বাসা পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিছিল; পরেও সে আমারে দেখবার নাম কইরা নিয়মিত বাসায় আসতে থাকে। দৃশ্যত আমারে উপলক্ষ করলেও প্রকৃত প্রস্তাবে সে আসলে আপুর সাথে প্রেম করতে চায়—কোনোভাবে এই সত্য বুঝতে পাইরা আম্মু তারে চিরতরে আর বাসায় আসতে না করে একদিন। আর তাতে সবচে বেশি দুঃখ পাই আমি, কারণ আমি তো ভাবছিলাম সে আমারেই দেখতে আসে! আমার হয় দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েগির সাইড নায়িকা মন্দিরা বেদির দশা—মূলত কাজলরে উদ্ধার করতে গিয়া বিয়া বাড়ির বাস্তব পরিস্থিতির কারণে শাহরুখরে যার সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের অভিনয় করতে হইছিল। স্বাভাবিকভাবেই আমি প্রতারিত হই আর অপমানে জ্বলজ্বল কইরা আম্মুরে সাপোর্ট দিই। সেদিনের পর ওই ইয়াংরে আর দেখি নাই কখনো। কিন্তু ওই ইয়াংয়ের মতোই একটা কাজ পরবর্তীতে আমারে করতে হইছিল, আর সেই ঘটনার সাথেও সম্পৃক্ত ছিল আমার ঘরপলায়ন। তবে তার আগে অন্য একটা ঘটনা বইলা নেওয়া দরকার।

tanimlogo2

নেপাল আঙ্কেল ছিল আব্বুর বন্ধু—আর তার ছিল মাজারে মাজারে ঘুইরা বেড়ানোর অভ্যাস। অনেকদিন পরপর সে আব্বুর সাথে দেখা করতে আসতো। এরমধ্যে একবার আইসা শোনে আমার এই দশা—খালি ঘর-পালাই। তখন আব্বুরে সে—আমারে মাইজভাণ্ডার ঘুরাইয়া আনার প্রস্তাব করে। বলে ওইখানকার মুজিব বাবা (সাজ্জাদানশীন শাহ্‌সূফী হযরত সৈয়দ মুজিবুল বশর আল-মাইজভাণ্ডারী) একবার যদি আমারে দেইখা দেয় তো এই সমস্যা আর থাকার কথা না। আব্বুও রাজি হয়।

ভোররাতে ডাউন তূর্ণা নিশিথায় নেপাল আঙ্কেলের সাথে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হইয়া ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই আমরা চট্টগ্রাম পৌঁছাইয়া যাই। আসলে বিভিন্নখানে নেপাল আঙ্কেলের ছিল অস্থায়ী কিছু থাকার জায়গা, ফেনীতে আমাদের বাসাও সেরকমেরই একটা জায়গা ছিল তার জন্য। যেমন স্টেশনে নাইমাই তত ভোরে ভোরে সরাসরি মাইজভাণ্ডার (যেহেতু সেটা ছিল মূল শহরের বাইরে এবং যাইতে আরো বেশ কিছু সময় লাগে) না গিয়া আমারেসহ নেপাল আঙ্কেল চইলা গেল বটতলী রেল কলোনিতে—তার আরেক পরিচিতের বাসায়।

বটতলী রেলস্টেশন, চট্টগ্রাম (ছবি. লেখক, ২০০৯)

বটতলী রেলস্টেশন, চট্টগ্রাম (ছবি. লেখক, ২০০৯)

রেলকলোনি হইলেও তারা কেউ রেলওয়ের লোক ছিল না। রেলওয়ের লোকদের কাছ থেইকা কোয়ার্টার ভাড়া নিয়া থাকতো। ওইখানে সেদিন দুপুর পর্যন্ত আমরা স্টে করি। আর ততক্ষণেই ঘইটা বসে এক কাহিনী।

যে রুমে আমরা রেস্ট নিতেছিলাম, সেখান থেকে বাথরুমে যাইতে হয় মাঝের আরেকটা রুম পার হইয়া, আর সেটা পার হইতে গিয়াই আমি একনজরের তরে প্রিয়াঙ্কারে দেইখা ফেলি। অথচ বাথরুম সাইরা আবারও ওই রুম পার হইয়া আসার সময় তারে আর দেখি না! কিন্তু কীভাবে কারে বোঝাই—আমার যে তারে আরেকবার দেখার ইচ্ছা। নির্ধারিত রুমে ফেরত আইসা সোফায় বইসা থাকি, আর ভিতর থেইকা তারে ডাকার শব্দ শুনি—‘প্রিয়াঙ্কা!’ এবং তার কণ্ঠস্বরও শুনতে পাই, সে বলে, সে টেইলারের কাছে গেছিল, এখনো বানানো (জামা) হয় নাই। কিন্তু আমি তারে দেখবো না আর—তা তো হয় না। ফলে দুপুর পর্যন্ত সময়ে বেশ কয়েকবার বাথরুমে যাওয়া আসা করি। আবার, কেউ যেন বুইঝা না ফেলে প্রিয়াঙ্কারে দেখার জন্যই এ যাওয়া আসা—সেজন্য ওই রুম পার হওয়ার সময় ডানে বামে একেবারে না তাকাইয়াও দুয়েকবার যাই আসি।

আর সোফার রুমে ফেরত আইসা আফসোস করি, হায় হায় এইটা আমি কী করলাম! ছিলই তো এখন, পরে যদি না থাকে! আর যদি না দেখি…

এরপরের সবটা সময়—কিছুই তেমন আর টের পাই না। কোয়ার্টার থেইকা বাইর হয়ে বাসে চইড়া আমরা মাইজভাণ্ডার পৌঁছাই। ওইখানে নেপাল আঙ্কেলের বিরাট নেটওয়ার্ক, নিজস্ব থাকার জায়গাও ছিল তার। সে ছিল মাইজভাণ্ডারের বার্ষিক ওরস শরীফের একজন আয়োজক গোত্রের লোক—তৃণমূলে কাজ করতো। গিয়া সাইরাই আমারে সহ ওরস আয়োজনের কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে অংশ নেয় সে।

রাশি রাশি আতরের গন্ধওয়ালা হুজুরদের মধ্যে বেকার বইসা আমি প্রিয়াঙ্কার মুখচ্ছবি কল্পনা করতে থাকি। হাজারও বাক্যালাপ কানের আশপাশ দিয়া দ্রুতলয়ে চলাচল করে। কেমন একটা হিজিবিজি হট্টগোল—তার মধ্যে প্রিয়াঙ্কার গোলগাল চেহারাটারে কতই না আপন লাগে আমার। আমি ভাবি, নেপাল আঙ্কেল একজন হিন্দুলোক হইয়া মাইজভাণ্ডার করতে পারলে আমারেও প্রিয়াঙ্কারে পারতে হবে!

মাইজভাণ্ডার দরগা শরীফ, চট্টগ্রাম (ছবি. সংগ্রহ)

মাইজভাণ্ডার দরগা শরীফ, চট্টগ্রাম (ছবি. সংগ্রহ)

রাতে, পাশাপাশি শুয়ে নেপাল আঙ্কেলরে আমি জিগাই, আচ্ছা আঙ্কেল আপনে তো হিন্দু, আর মাইজভাণ্ডার তো আমাদের ধর্মের (ইসলাম) ব্যাপার, তাইলে আপনার এখানে কী কাজ?

যেন খুবই বোকাসোকা একটা প্রশ্নের সামনে পড়া গেল—এই ভঙ্গিতে সে হাসে। বলে, সৃষ্টিকর্তা একজনই, বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ভাবে তারে ডাকে, তার কাজকর্ম করে—হিন্দু মুসলিম বইলা আলাদা কোনো ব্যাপার নাই।

তার জবাব আমার কাছে সন্তোষজনক লাগে, মনে হয় হিন্দু হইলেও প্রিয়াঙ্কা আমার!

সকালে মুজিব বাবার সঙ্গে দেখা হয়। সেখানেই গায়ক শরীফের সাথেও পরিচয়, বাবার উপস্থিতিতে কান্নাকাটি কইরা সে গান গাইতে থাকে—‘আমি পাপী অপরাধী বাবা তোমার দয়া চাই / তুমি দয়া না করিলে আমার হবে কী উপায়।’

সেখানে একটা ব্যাপারে আমি ভয়ঙ্কর অবাক হই, দেখি নেপাল আঙ্কেলসহ প্রায় সকলেই মুজিব বাবারে সেজদা করতেছে। এবং এক পর্যায়ে আমারেও—মুজিব বাবারে সেজদা করতে বলা হয়। করবো কি করবো না—এ নিয়া দ্বিধান্বিত আমারে মুজিব বাবাই মুক্ত করে। নেপাল আঙ্কেলরে সে—আমারেও সেজদা করতে বলতে নিষেধ করে। তার কথা হইলো, মন থেইকা ভক্তি না আসলে সেজদা কইরা ফায়দা নাই।

আমি তখন বোকার মতো শরম পাইয়া ফেলি আর কাছে গিয়া তারে সেজদা করি, সে আমারে বুকে জড়ায়ে নেয়। নেপাল আঙ্কেল আমার সমস্যাগুলির কথা মুজিব বাবারে বলে। কিন্তু মুজিব বাবা ওগুলিরে সমস্যা হিসেবেই কাউন্ট করে না, উনি বলে, দেশ বিদেশে ঘুইরা বেড়ানো কোনো সমস্যা হইতে পারে না। তবে আমার প্রতি উনি পরামর্শ দেয়, ঘুইরা বেড়ানোর অনেক সময় পাওয়া যাবে পরে, তার আগ পর্যন্ত সবুর করতে হবে।

দরবার শেষে গায়ক শরীফসহ আমরা মাইজভাণ্ডারের বাগানে যাই। শরীফ ছিল মূলত ওই বাগানের মালি। শত ধরনের হাজার হাজার ফুল ছিল সেই বাগানে, সেখানেই ছোট একটা ঘরে সে থাকে। জগৎদুনিয়ার ব্যাপারে তার দার্শনিক মনোভাব আমারে মুগ্ধ করে সেইসময়। সে জানায় মাইজভাণ্ডারই নাকি আমার প্রকৃত জায়গা। মানে আমি যেই মানসিকতার—একই মানসিকতার মানুষেরাই এইখানকার প্রাণ।

জিজ্ঞেস করি, কোন মানসিকতা সেটা? তখন সে আমারে জানায়—সেটা হচ্ছে শিল্পী মানসিকতা।

পরবর্তী কয়েক দিনে ওই মালি আমারে ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করে। একপর্যায়ে নেপাল আঙ্কেল না—দেখা গেল শরীফের সাথেই আমি মাইজভাণ্ডারের সমস্ত কিছু ঘুইরা ঘুইরা দেখতেছি। কিন্তু সবটা সময়ে তারে আমি এক ওয়াক্তও নামাজ পড়তে না দেইখা বিরক্ত হইছিলাম। মনে হইছিল সে একটা ভণ্ড। ফেরত আসার দিন তার থেকে বিদায় নিতে বাগানে গেলে সে আমারে একটা তারনাইওয়ালা একতারা গিফট করে। বলে, আর কখনো দেখা নাও হইতে পারে—তবু আমি যেন একটা তার কিন্যা নিই আর একতারাটা বাজাই। সবচে গুরুত্বপূর্ণ কথা যেটা সে বলছিল, সেইটা হইলো—মুর্শিদ আমারে চায়, এখন ক্যামনে আমি তার পর্যন্ত পৌঁছাবো, পুরাপুরিই আমার ব্যাপার।

সবুর, মুর্শিদ আর মোটাদাগে প্রিয়াঙ্কা—এ তিন বিষয় মাথায় নিয়া নেপাল আঙ্কেলসহ আবার আমি ফেনী ফেরত আসি।

এবার আসি মূল ঘটনায়। তো মাইজভাণ্ডারের এই ট্যুর আমার মধ্যে কী কী সব যেন ঘটাইয়া দিলো, আমি অনবরত মিথ্যা বলতে শুরু করলাম। গায়েবি অনেক কিছু আমি দেখতে পাই—এরকম একটা গুজব উঠাইয়া দিলাম নাজির রোডে, আমাদের পাড়ায়।

শুরুটা ছিল মহানবীরে স্বপ্ন দেখাকেন্দ্রিক। মানে দেখি নাই আসলে, কিন্তু সবাইরে বললাম যে—দেখছি। তো কী দেখলাম সেই স্বপ্নে? দেখলাম আমি আর মহানবী একটা জঙ্গলে হাঁটতেছি, জঙ্গলের মধ্যে একটা নদী, খুবই ছোট সাইজের, হাঁটাপথেই আমরা সেই নদী পার হইতেছি। মানুষে জিগাইলো—উনি যে মহানবীই ছিলেন সেটা আমি বুঝলাম ক্যামনে। মৃদু হাইসা আমি বললাম, স্বপ্নের মধ্যে সেটা আগেই জানা ছিল। মানে স্বপ্ন যেটুকু দেখছি সেখানে নাটকীয় ভাবে ওইরকম কোনো পরিচয়পর্ব ছিল না—নবীও জানতো আমি তানিম, আর আমিও জানতাম উনি মহানবী। নাটকীয়তামুক্ত হবার কারণেই হয়তো—অনেকেই ঘটনাটা বিশ্বাস করলো। তখন আমার সেইসময়কার বন্ধু বাপ্পির এক ফুপু (পাখি ফুপু) একদিন আমাদের বাসায় আইসা হাজির, ঘটনা হইলো উনি পানিপড়া চান—আমার কাছ থেইকা!

ঘটনা যখন এই জায়গায় আইসা ঠেকে, আব্বু চইলা যায় জিরো টলারেন্স লেভেলে। ভালো কইরা আমারে ধরে, এসব আমি কী বইলা বেড়াইতেছি! সত্যিই আমি এধরনের কোনো স্বপ্ন দেখছি কিনা। আর আব্বুরে হচ্ছে যে আমি জমের চেয়েও বেশি ভয় পাইতাম, ফলে তার চোখের দিকে তাকাইয়া মিথ্যা বলার সাহস তো পাইলামই না—উল্টা কান্দা শুরু করলাম।

তখন সে বুঝতে পারলো যে ঘটনা পুরাই বানোয়াট, ফলে দুইটা রামচড় দিয়া সে বাইরে চইলা গেল বেত বা গাছের চিকনা ডাইল টাইল কিছু পায় কি না—খোঁজার জন্য। আর সেই সুযোগে তড়িৎ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একদৌড়ে আমি আবারো ফেনী জংশনের দিকে। ভাগ্য ভালো যে ট্রেনও পাইয়া গেলাম, তবে উল্টা দিকে। মানে সাধারণত ঘর পালানোর কল্পনায় আমি ঢাকা অভিমুখী (যেহেতু একই অভিমুখে অন্যান্য আরো অনেক গন্তব্য আছে, ইনক্লুড লালমনিরহাট) কোনো ট্রেনে ওঠার দৃশ্যই দেখতে পাইতাম। উল্টাদিকে তো একমাত্র চিটাগাং শুধু। কিন্তু বাধ্য হইয়া ওই ট্রেনেই উঠতে হইলো, আর আশ্চর্যজনক ভাবে উইঠা প্রথমেই আমার প্রিয়াঙ্কার কথা মনে পইড়া গেল!

ট্রেনে যাইতে পথে আর বিশেষ কিছু ঘটছিল কিনা মনে নাই। এরপর যে দৃশ্যটা মনে পড়ে, সেটা হইলো—সন্ধ্যার আগে আগে প্রিয়াঙ্কাদের কোয়ার্টারের সামনে মাঠের মতো জায়গাটায় ঘাসের মধ্যে বইসা আমি স্থানীয়দের ক্রিকেট খেলা দেখতেছি। আর ওদের বাসায় রেলওয়ের নিজস্ব শিকের ছোটমত জানালাগুলির দিকে ইতিউতি তাকাইতেছি এই আশায়—যদি প্রিয়াঙ্কারে একটু দেখা যায়। কিন্তু তা যেহেতু আর যায় না ফলে সন্ধ্যার পরে ওই বাসার দরজায় নক করি। সৌভাগ্যবশত প্রিয়াঙ্কাই দরজা খোলে—আর ওরে দেইখা আমি কাঁপতে থাকি, কিছুই বলতে পারি না।

কী?

না মানে আমি আসছিলাম একবার, মনে নাই?

কবে?—(আমি খুব আহত হইছিলাম সে আমারে চিনতে পারে নাই জন্য)

ওই যে নেপাল আঙ্কেলের সাথে।

‘ও! আসো’—বইলা সে আমারে ঘরে ঢোকায় বটে, কিন্তু তা কইরাই ভেতরে চইলা গিয়া তার মায়েরে পাঠাইয়া দেয়। ওর মা আসার ফাঁকে ওইটুকু সময়ে আমি ভাবতেছিলাম ‘প্রিয়াঙ্কা তো মনে হয় বয়সেও আমার চেয়ে বড়!’

আদাব আন্টি, আমি, চিনছেন?

হ্যাঁ, কী ব্যাপার?

তো বললাম যে, না মানে এইদিকে আসছিলাম একটা কাজে। ভাবলাম আপনাদের সাথে দেখা কইরা যাই।

‘আচ্ছা বসো’—বইলা উনিও সোফায় বসেন।

তোমার মা বাবা ভালো?

জ্বী।

এদিকে কোথায় আসছিলা?

মানে, আসলে ঘুরতে আসছি, ট্রেনে। আবার চলে যাবো।

উনার সাথে এরকমেরই কিছু বিক্ষিপ্ত ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা চলার একপর্যায়ে শরবত আর মেরি বিস্কুটসংবলিত ট্রে নিয়া প্রিয়াঙ্কা আসছিল। আইসা সে তার মায়ের হাত ধইরা সোফার মধ্যে চুপচাপ বইসা থাকে, আমি শুধু তারেই শুধু তারে দেখি—দশা। তো এরচেয়ে বেশি বা বিশেষ কিছুই আর ঘটে না সেখানে। ওদের থেকে বিদায় নিয়া আমি বাইর হইয়া আসি।

[ctt tweet=”সন্ধ্যার পর পর প্রিয়াঙ্কাদের বাসায় । তানিম কবির (ব্লগ: ঘরপলায়নসমূহ) http://ctt.ec/h8fTB+” coverup=”h8fTB”]

কলোনির মাঠ পার হইয়া স্টেশনে ঢোকার জন্য একটা ওভারব্রিজ ব্যবহার করা লাগে, ওই ওভারব্রিজের সিঁড়ি আবার স্টেশনের একদম প্ল্যাটফর্মে আইসা মিশে—ওইটুকু পথ হাঁইটা আসার সমস্ত আলো অন্ধকার কোনো ভাবে এমন শক্ত কইরা আমার মনে গাঁইথা যায় যে চাইলে এখনো আমি ওই সময়টারে একই রকম ভাবে ফিল কইরা ফেলতে পারি।

ওভারব্রিজে উইঠা বাঁ-দিকে গেলে প্রিয়াঙ্কাদের বাসা, চট্টগ্রাম (ছবি. লেখক, ২০০৯)

ওভারব্রিজে উইঠা বাঁ-দিকে গেলে প্রিয়াঙ্কাদের বাসা, চট্টগ্রাম (ছবি. লেখক, ২০০৯)

স্বাভাবিক ভাবেই বিষণ্ন ছিলাম আমি, আশ্চর্যজনক ভাবে আমার এমন মনে হইতেছিল যে এইসব বড় বড় বেদনা তো আরো যারা বড় বড় মানুষ—তাদের! আমি তো কতই ছোট! ক্লাস থ্রি-তে কি ফোরে পড়ি মাত্র। তখন, মুজিব বাবা যে আমারে সবুর করতে বলছিলেন—সেই কথাটা কি মনে পড়ছিল একবারও? নট শিওর। মে বি—না, কারণ ঠিকঠাক সময়মতো ঠিকঠাক সেই কথা মনে পড়ার জন্যও আরেকটু বড় হওয়ার ব্যাপার বাকি থাকে!

তো যেহেতু জগতের আরো বৃহত্তর বিষাদে আক্রান্ত হইছিলাম—সো, সে রাতেই ঢাকার দিকের একটা ট্রেনে চইড়া নিজ উদ্যোগেই ফেনীতে, বাসায় ফেরত আসি।

(তানিম কবিরের আরো লেখা)

About Author

তানিম কবির
তানিম কবির

জন্ম ফেনী জেলার পরশুরাম-বিলোনীয়া এলাকায়। কবিতা ও গল্প লেখেন। প্রকাশিত কবিতার বই তিনটি, ‘ওই অর্থে’ (শুদ্ধস্বর ২০১৪), ‘সকলই সকল’ (শুদ্ধস্বর ২০১৫) ও 'মাই আমব্রেলা' (আদর্শ ২০১৬) এবং একটি গল্পের বই 'ইয়োলো ক্যাব' (ঐতিহ্য ২০১৬)। সম্পাদনা করেন দৈনিক ভোরের পাতার সাপ্তাহিক সাহিত্য ম্যাগাজিন ‘চারুপাতা’। এর আগে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ ও প্রিয়.কমে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রকাশিতব্য বই, ‘ঘরপলায়নসমূহ’ (ফেব্রুয়ারি ২০১৭) ফেসবুক পেজ: Tanim Kabir (Writer)