page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

সমুদ্রের নিচে শহর বানাবে জাপান

japan-under-w-city-1

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় পৃথিবীর দ্বীপ-রাষ্ট্রগুলির বিলীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বসবাসের জন্যে এখন বিকল্প জায়গার প্রয়োজন।

তেমনই একটি প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি কন্সট্রাকশন কোম্পানি শিমিজু কর্পোরেশন। তারা পানির নিচের একটি শহরের বিস্তারিত মডেল প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটি এর নাম দিয়েছে ওশেন স্পাইরাল। তাদের মতে, এই শহরে ৫,০০০ মানুষ বসবাস করতে পারবে।  শহরের প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা মেটানো হবে সাগরের তলদেশ থেকে। শহর তৈরি করতে সময় লাগবে ৫ বছর।

আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে পৃথিবীর ৫২টি ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ওশেন স্পাইরাল নামের এই শহরটি এই হুমকির জন্য জরুরি বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে ঘন ঘন ভূমিকম্প এবং সুনামির ঘটনা বাড়ছে। এ দিক থেকে জাপানও ভৌগলিকভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

শিমিজু কর্পোরেশন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাথে ও জাপানের এনার্জি কোম্পানিগুলির সাথে কাজ করছে। তারা জাপান সরকার ও বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে থেকে ফান্ড আশা করছে। তারা বলছে, ওশেন স্পাইরাল তৈরি করার প্রযুক্তি ১৫ বছরের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। এই প্রযুক্তি ব্যয়বহুল হবে। তাদের অনুমান এই প্রযুক্তি প্রস্তুত করতে সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ২৫ বিলিয়ন ডলার।

কন্সট্রাকশন ফার্মটির পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতের এই শহরটির তিনটি অংশ থাকবে।

সবার উপরে থাকবে একটি গোলক। গোলকটি প্রায় সম্পূর্ণই সমুদ্রের পানির নিচে ডুবে থাকবে। আর এই গোলকের ভিতরে থাকবে বাড়িঘর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং হোটেল।

তারপর থাকবে একটি পড। এটি ১৫ কিলোমিটার স্পাইরাল শহরটির সাথে যুক্ত থাকবে। এটি সমুদ্রের তলদেশে ৪ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এখানেই থাকবে এই ব্যবস্থাপনাটির পরিবেশ-বান্ধব আর্থ ফ্যাক্টরি।

এই ফ্যাক্টরিতে মাইক্রো অর্গানিজমের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড মিথেনে পরিণত হবে। আর সমুদ্রের পানির তাপমাত্রার পার্থক্য কাজে লাগিয়ে ‌ওশেন স্পাইরালের পাওয়ার জেনারেটর বাড়তি শক্তি তৈরি করবে। এই প্রক্রিয়ার নাম ওশেন থার্মাল এনার্জি কনভারশন বা সামুদ্রিক তাপীয় শক্তি রূপান্তর। হাইড্রলিক প্রেশার ব্যবহার করে লবণমুক্ত করা পানি আবাসিক পডের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

শিমিজু কর্পোরশনের মুখপাত্র হিডেও ইমামুরা বলেন, এটি কেবল স্বপ্ন মাত্র নয়,  বাস্তব লক্ষ্য। মোবাইল আবিষ্কারের বহু আগেই অ্যাস্ট্রো বয় কার্টুন চরিত্রের মোবাইল ফোন ছিল। এই প্রযুক্তিটি সে রকমই। আমাদের এই প্রযুক্তির চাহিদা কেমন তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এটি সহজলভ্য হয়ে যাবে।

এ ধরনের অদ্ভুত প্রজেক্টের সব সময়ই তীব্র সমালোচনা থাকে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান ডিমার বলেন, এই ধরনের অনেক প্রজেক্ট ১৯৮০ সাল থেকে প্রস্তাবিত হয়ে আসছে, কিন্তু এগুলি সবসময়ই ‘এলিটস-অনলি’ ধরনের বা শুধুমাত্র বড়লোকদের জন্যই হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, এটা ভাল যে অনেক সৃষ্টিশীল ব্রেইন আবহাওয়ার পরিবর্তন, সমুদ্র-পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, পুনর্বাসিত সমাজ এসব নিয়ে চিন্তা করছে। কিন্তু আমি আশা করি, কোনো কর্পোরেশনের সিল মারা ইউটোপিয়ান লক্ষ্যের যাত্রী হওয়ার চেয়ে যেখানে নাগরিকরা তাদের সৃষ্টিতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবে এমন উন্মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক আরবান ভবিষ্যতের চিন্তা করতে আমরা ভুলে যাব না।

উদ্ভট ধরনের স্থাপত্য ব্যবসায় শিমিজু কর্পোরেশন বেশ নাম করেছে। এর আগে তারা ভাসমান বোটানিক্যাল শহর, স্পেস এলিভেটর এবং লুনার বেস-এর প্রস্তাব করেছিল।

 

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক