page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

৩ ঘণ্টা একনাগাড়ে বসে না থাকলে আপনি যা থেকে রক্ষা পাবেন

টানা ৩ ঘণ্টা  বসে থাকলে পায়ের আর্টারিস বা ধমণীর ক্ষতি হয়। পাঁচ মিনিটের একটি ছোট হাঁটা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।

গবেষকরা দীর্ঘ সময় বসে থাকার সাথে উচ্চ কোলেস্টোরেল, মোটা হয়ে যাওয়া এবং হৃৎপিণ্ডের পেশীর সমস্যার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।

দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরের পেশীগুলি অলস, অসাড় এবং সংবেদনহীন হয়ে যায়। যে কারণে রক্ত হৃদযন্ত্রে ফেরত না গিয়ে পায়েই জমাট বাঁধতে থাকে। তবে এই ক্ষতিটা স্থায়ী কিছু নয়।

পায়ে রক্ত জমাট বেধেঁছে

পায়ে রক্ত জমাট বেধেঁছে

আমেরিকার ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা তাদের নতুন একটি গবেষণায় দেখেছেন, তিন ধাপে ধীরে ধীরে ৫ মিনিটের হাঁটাহাঁটিতে আমরা এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারি।

গবেষকরা স্বাভাবিক ওজনের ১২ জন মোটা নন এমন লোককে ২টি ভাগে ভাগ করেন। একদলকে একটি ডেস্কে ৩ ঘণ্টা টানা বসিয়ে রাখেন। সাধারণত আমরা যেমন নড়াচড়াহীন বসে থাকি সেরকম। অন্য দলটির সদস্যদেরও ডেস্কে বসিয়ে রাখা হয়, কিন্তু এই দলটির সদস্যরা নিশ্চল বসে না থেকে ৩ ঘণ্টায় মোট ৩ বার ৫ মিনিট করে  হাঁটাহাটি করেন।

তারা ঘণ্টায় মাত্র ৩.২ কিলোমিটার বা ২ মাইল বেগে হাঁটেন। তিন ঘণ্টার সর্বমোট  সময়ে এই দলটিকে আধা ঘণ্টায় একবার, দেড় ঘণ্টায় একবার এবং আড়াই ঘণ্টায় একবার এভাবে হাঁটার সুযোগ দেয়া হয়।

৩ ঘণ্টা পর, আলট্রা সাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে ১২ জনের ফেমোরাল আর্টারিওর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। ফেমোরাল ধমনী পায়ের উরুতে থাকা সব থেকে বড় ধমনী। এটি পায়ে রক্ত সংবহন করে থাকে।

যে দলটি নিশ্চল বসে ছিল তাদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়, বসে থাকার আগের স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে তাদের ধমনী ৫০% কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। রক্ত সঞ্চালনের মাত্রাও অনেক কমে গেছে।

আর যে দলটি ৩ ঘণ্টার পরীক্ষাপর্বে ৩ ধাপে ৫ মিনিট করে হেঁটেছিল, তাদের ধমনীর কার্যক্ষমতার কোনো হেরফের ঘটে নি।

খুব স্বল্প নমুনায় পরীক্ষাটি করা হলেও, সমীক্ষার ফলাফল এতটাই চমকপ্রদ যে তার পরিসংখ্যানগত তাৎপর্য অস্বীকার করার উপায় নাই। ‘মেডিসিন অ্যান্ড জার্নালে’ এই সমীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

অরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং এই সমীক্ষার প্রধান সৌরভ থসার জানান, চিকিৎসা পরিসংখ্যানগত জায়গা থেকে দেখলে নিশ্চল বসে থাকার সাথে বিভিন্ন ক্রনিক ডিজিজের সম্পর্ক নিয়ে চিকিৎসকদের ধারণা আছে। একটানা বসে থাকার চেয়ে বসে থাকার সময়ের মাঝে একটু ওঠাবসা করলে কার্ডিওভাসকুলার রোগের কিছু ঝুঁকি কমে।

প্রেস রিলিজে থসার বলেন, তাদের গবেষণায় তারা এটাই দেখিয়েছেন দীর্ঘক্ষণ টানা বসে থাকার ফলে শরীরের এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন ব্যাহত হয়। এই এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন হৃদযন্ত্রের সমস্যার প্রাথমিক উপসর্গ।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বিশেষত পেশাগত কারণে একটানা বসে থাকার যে বাস্তবতা, তা থেকে রক্ষা পেতে এই গবেষণা আশাপ্রদ একটি ব্যাপার।

একটানা বসে না থেকে, বসে থাকার মাঝে খানিক হাঁটাচলা, সেটা প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিটের জন্য হলেও, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

থসার জানান, একজন চাকুরিজীবী বা অফিসে কাজ করা লোক প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা বসে থাকেন। ১ ঘণ্টা একনাগাড়ে বসে থাকলেই এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন হয়। তাই প্রতি ঘণ্টায় অল্প শারীরিক নড়াচড়াই এই সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক