page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

DIY (do it yourself)—মানে নিজের কাম নিজে করেন…

সেলেব্রিটিদের আমার ভাল লাগে, আমি তাদের পছন্দ করি।

এই যে আমরা বসবাস করি একটা বেচাবেচির সমাজে, সবাই এইখানে আইছি, কিছু না কিছু বেচতে,  কেউ গতর, কেউ মগজ, কিংবা দুই চোয়ালের চাপা। মার্কেটে আইসা বেচাবিক্রি যাতে উচিত মতো হাসিল হয়, এইটা নিয়া সবার মনে মনে একটা টেনশন থাকে।

আপনার সেলসের টার্গেট যদি ঠিকঠাক রাখতে চান, তার জন্য  আপনার একটা সাইনবোর্ড ঝুলানো লাগবে। আপনি যা বেচতে আইছেন, তার একটা ব্রান্ডিং লাগবে। সেলেব্রিটিরা হইলো আমাদের এই সমাজের ব্রান্ড অ্যাম্বাসাডার, আপনার ঝুলায়া রাখা সাইনবোর্ড। সেলেব্রিটিদের মুখের কথায় আম জনতা প্রভাবিত হয়, তাদের মুখের দিকে তাকায়া পাবলিক নানান বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তাতে কইরা মার্কেটে আপনার আমার বেচাবিক্রি স্মুথ হয়।  নয়া তত্ত্বকথা থিকা দাঁতের মাজন, যা কিছুই আপনি বেচতে চান, সেলেব্রিটি আপনার লাগবে।

biswajit-munshi-logo

সেলেব্রিটিদের মর্ম আমি বুঝি। আমি তাদের দাম দেই। তারা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকটা আর্টের মতো। যাকে বলে শিল্পকলা। আর্ট দেখতে হয়, একটু দূর থিকা। আর্ট গ্যালারির পেইন্টিং, বা ধরেন ফটোগ্রাফ যখন ঝুলায়া রাখে, খুব কাছ থিকা দেখলে আপনি তার কিছু বুঝতে পারবেন না। আর্ট এনজয় করার জন্য একটা ডিস্ট্যান্স লাগে। এমন কি আপনার ম্যুভিও…। ফ্রন্ট রোতে বইসা ঘাড় উঁচা কইরা ম্যুভি দেখা, এর চাইতে বড় শাস্তি আর হয় না। আপনি নিশ্চয়ই দেখছেন, থিয়েটারের সবচেয়ে বেশি দামি টিকিটগুলা সব দূরে দূরে হয়, যাতে আপনি দূর থিকা এই সব শিল্পকর্ম উপভোগ করতে পারেন।

সেলেব্রিটিদের আমার দূর থিকা বেশি ভাল লাগে। সেলেব্রিটিরা দূর আকাশের তারা। আকাশের তারাদের সান্নিধ্য পাইতে হইলে মাধ্যাকর্ষণ উপেক্ষা কইরা পৃথিবীর বাইরে গিয়া পড়তে হয়, এইটা মহাকাশ বিজ্ঞানের নিয়ম। সেই নিয়মে আস্থা রাইখা, মাধ্যাকর্ষণ ভেদ করাতে আমার আপত্তি নাই।

আমার দুশ্চিন্তা এই মাটির পৃথিবীতে ঠিকঠাক সহি সালামতে ফিইরা আসা নিয়া। সেই সাত আসমানের আকাশ আর সেইখান থিকা মাটির পৃথিবীর দুনিয়া… ডিসট্যান্সটা তো কম নয়। ফলে জখম হওয়ার বিপদের ঝুঁকি এড়াইতে সেলেব্রিটিদের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য আমি সব সময় এড়ায়া চলি।

তারকাদের খুব কাছাকাছি ঘেষি না। সেলেব্রিটিদের  নাগালের কাছে গিয়া, সেখান থিকা সব কিছু বাঁচায়া অক্ষত অবস্থায় ফিরা আসা কঠিন। বন্ধুদের কাছে তাদের সেলেব্রিটি হ্যান্ডল করার অভিজ্ঞতা শুইনা, আমার এই রকমই মনে হইছে। অসাবধানে হীরা নাড়াচাড়া করলে আঙুল ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেলেব্রিটিদের সামলানোর জন্য আপনার এক ধরনের দক্ষতা লাগবে। আমার এই দক্ষতার ঘাটতি আমি টের পাই। আমার বন্ধুদের এইটা মন্দভাগ্য নিশ্চয়ই, যারা তাদের জীবনে সেলেব্রিটিদের নিয়া ডিল করতে গেছিলেন, আর এই বিশেষ নৈপুণ্যের ঘাটতিতে তারা কেউ কেউ জখম হওয়া এড়াইতে পারেন নাই।

টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালের প্রধান ভেন্যু —লেখক

টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালের প্রধান ভেন্যু —লেখক

টরন্টোতে (TIFF) টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিম ফেস্টিভ্যাল সবার কাছে ‘উৎসবের উৎসব’ নামে পরিচিত। দুনিয়ার নানা প্রান্তের সিনেমা পাগল মানুষদের নিয়া প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই উৎসবের আসর বসে। গত দুই তিন বছর আগের এক TIFF ফেস্টিভ্যালের টাইমের ঘটনা এইটা। পশ্চিমবঙ্গের এক খ্যাতিমান চিত্রপরিচালক টরন্টো আসছিলেন এই চলচ্চিত্র উৎসবে সামিল হইতে। আমার এক বন্ধু আর তার ফিল্ম লাভিং বন্ধুদের দল, বাঙালি এই চিত্র পরিচালকের সাথে ঘনিষ্ঠ আড্ডায় অনেক সময় কাটাইছিলেন। দেশের বাইরে আইলে সবারই শপিং করার একটা বিষয় তো থাকেই, সেলেব্রিটি পরিচালক টরন্টো থিকা কিছু ফটোগ্রাফি ইকুইপমেন্ট (মূলতঃ বিভিন্ন মাপের লেন্স) কিনার বাসনা প্রকাশ করেন। বন্ধুদের একজন, যিনি নিজেও সিনেমাটোগ্রাফার হিসাবে এইখানে ফ্রি লান্সিং করতেন, (করতেন বলতেছি, কারণ ভদ্রলোক কিছুদিন আগে এক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন) তিনি এই শপিং এর কাজে হেল্প করতে আগায়া আসছিলেন। পেশাদার সিনেমাটোগ্রাফার  হিসাবে কানাডার মার্কেট থিকা, উনি যে কোনো ফিল্ম  ইকুইপমেন্ট কিনার সময় কিছু ছাড় পাইতেন, সেই মূল্য ছাড়ের সুবিধাটাই উনি আমাদের শহরে আসা মেহমান চিত্রপরিচালক ভাইকে দিতে চাইছিলেন।

শপিং ছিল প্রায় দেড় হাজার ডলারের মতো, নিজ পেশাদার পরিচয়ে নিজের নামে সেই কিনাকাটা করায়, প্রায় তিন থিকা চারশত ডলারের ছাড় পাইছিলেন। এইটা ছাড়াও যেহেতু এই ইকুইপমেন্ট কানাডার বাইরে ব্যবহৃত হবে, ফলে সেলস ট্যাক্স (এইখানে HST কয়) যার পরিমান ৭০ থিকা ৮০ ডলারের মতো, সেইটাও এয়ারপোর্ট দিয়া যাওনের সময় ক্লেইম করলে কাস্টম থিকা ফিরত পাওয়ার কথা।

সেলেব্রিটি পরিচালক পিয়ারসন এয়ারপোর্ট দিয়া ফিরত যাওনের কালে, এয়ারপোর্টে এই ট্যাক্সের পয়সাটা ফিরত চান, আর তখন সরকারি রাজস্ব বিভাগের লোকজনের সাথে সেই পয়সা ফিরত পাওয়া নিয়া উনার একটা ঝামেলা বাইঁধা যায়। এয়ারপোর্ট কাস্টমস ট্যাক্সের পয়সাটা ফিরত দিতে রাজি হয় না, তাদের যুক্তি ছিল, এই জিনিসটা তো তোমার নিজের নামে কিনা নয়, (যার অর্থ কাস্টমস বলতে চাইতেছে, কিনার সময় ট্যাক্সটা তো তুমি দাও নাই) তাইলে তোমারে এই ট্যাক্স কেমনে ফিরত দেই।

বলা বাহুল্য, কাস্টমসের লোকজনের এই যুক্তি সেই চিত্রপরিচালক ভাইয়ের পছন্দ হইল না। উনি ভাইবা নিলেন, উনারে ঠকানো হইতেছে, উনি যারপরনাই ক্ষুব্ধ হইলেন।

আমার বন্ধু তার ফিল্মি বন্ধুদের নিয়া মেহমানকে সি অফ করতে সেইদিন এয়ারপোর্টে হাজির ছিলেন। টেলিফোনে এয়ারপোর্টের কাস্টমস এরিয়া থিকা মেহমান সাহেব কোনো রাখ ঢাক ছাড়াই তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছিলেন, কেন উনারে এইভাবে ঝামেলায় ফেলা হইলো। উনার অনেক টাকা গচ্চা গেল। কিনাকাটার সময় উনি যে তিন থিকা চারশত ডলারের ছাড় পাইছিলেন, সেইটা উনার কাছে মুখ্য ছিল না, উনি আপসেট হইলেন, ক্যান উনি HST-টা ফিরত পাইলেন না।

উনি বুঝতে চাইতেছিলেন না,  ট্যাক্স ফিরত পাওয়ার বিষয়ে উনি কোয়ালিফাই করেন না। ফলে কারও পক্ষে উনাকে হেল্প করা সম্ভব ছিল না।

সেলেব্রিটিদের নিয়া এই টরন্টো শহরে আমারে একবারই ডিল করতে হইছিল। এই বিষয়ে আমার ভাগ্য আমার বন্ধুদের থিকা ভালো ছিল। এই টরন্টো লাইফে এক ছুটির দিনের সকালে, আমার ঘাড়ে এক সেলেব্রিটিরে চাপায়া দেওয়া হইছিল, আর খুবই অবাক হওয়ার মতো বিষয়, আমার এই একমাত্র অভিজ্ঞতা মোটেই ভয়ঙ্কর কিছু ছিল না। বরং কিছুটা ফানি, মজার।

bishyajit china 1

কয়েক মিনিটের ভিত্তরে, আপনার মাথার চুল হইবো লন মোয়ার দিয়া ছাঁটা লনের ঘাসের মতো।—লেখক

আমার সময়টা খারাপ কাটে নাই।  এই টরন্টো শহরে মাঝে মাঝে ছুটির দিনে এক বড়ভাইয়ের বাসায় আমি আড্ডা মারতে যাই। এই ভদ্রলোক রিটায়ার্ড, নিজের বড় সড় একটা বাড়িতে থাকেন। ছেলে বড় হইয়া পাশ দিয়া, এখন জব করে, বাপের সাথেই বাসা শেয়ার করে। বড়ভাইয়ের হাতে প্রচুর সময়, এই সময়ের একটা বিশাল অংশ উনি ব্যয় করেন দেশ থিকা আশা সেলেব্রিটিদের আপ্যায়ন আর আদর-যত্নে।

এই দিলদার বড়ভাইটির সাথে আমি পারিবারিক ভাবে ঘনিষ্ঠ প্রায় ২৫ বছরের বেশি। উনার ছোটভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার দোস্ত ছিল। টরন্টো আইসা আমাদের ঢাকার সেই পুরানো সম্পর্ক আবার গাঢ় ভাবে দানা বাঁধছে। বাসার সিঁড়ি দিয়া নামতে গিয়া উনি পা মচকায়া ফেলছেন, টেলিফোনে এইটা শুইনা আমি এক সকালে তারে দেখতে তার বাসায় গেছিলাম। সেইদিন সোফার উপর দুই পা টান টান কইরা রাইখা উনি পায়ের যন্ত্রণায় কোঁকাইতেছিলেন… আর আমারে দেইখা উনি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাইলেন। উনার সাথে বইসা অল্প স্বল্প কথাবার্তার মাঝেই টের পাইলাম, উনার বাসায় এক জলজ্যান্ত, আস্তা একটা সেলেব্রিটি উপস্থিত আছেন।  উপরতলায় সেই তারকা মেহমান নাস্তা খাইয়া রেডি হইতেছেন, আমাদের বড়ভাইয়ের সাথে উনার মেহমানের সেই দিন দুপুরে  চায়না টাউনে শপিং করতে যাওয়ার প্রোগ্রাম বানানি হইছিল। এরই মাঝে আমাদের বড়ভাই পা মচকায়া শয্যাশায়ী হয়া পড়ছেন, এখন আমি যদি উনার মেহমানকে সঙ্গ দিয়া কয়েক ঘণ্টার জন্য চায়না টাউন থিকা ঘুইরা আসি।

ঢাকার টেলিভিশন নাটকের খ্যাতিমান এই তারকা অভিনেতার চেহারা ছিল অতি পরিচিত। ৯০ এর দশকে হুমায়ূন আহমেদের নাটকেও আমি উনাকে অনেকবার দেখছি। বড়ভাইয়ের সন্মানিত এই মেহমানটি ছিলেন বন্ধুবৎসল আর বেশ বিনয়ী। একটা পুরা বিকাল তার লগে মোটামুটি নিরুপদ্রব একটা সময় কাটাইছিলাম। উনি শুনছিলেন চায়না টাউনে নাকি সুলভ মূল্যে সিল্ক পাওয়া যায়…। উনি কিছু সিল্ক ফেব্রিক কিনতে চাইছিলেন। আমার কাছে যেইটা খুব স্মার্ট লাগছিল, উনি গুগল ঘাইটা কারা কারা চায়না টাউনে সিল্ক বিক্রি করে, এমন কিছু দোকানের নাম ঠিকানাও বাহির করছিলেন। ফলে উনার সাথে সাথে থাকা ছাড়া সেইদিনের শপিং অনুষ্ঠানে আমারে বিশেষ কিছু ভূমিকা নিতে হয় নাই, আমারেও মেহমান সাহেব তেমন কোনো যন্ত্রণা দেন নাই। তবে আমার মজা লাগছিল যে কোনো কিছুর দাম শুইনা উনি সেইটাকে ডলারের কনভারসন রেট দিয়া মাল্টিপ্লাই করতেছিলেন। আমরা যখন কফি খাইতে ঢুকছিলাম তখনও।

—আপনাদের এভরি সিঙ্গল ডলার, হার্ড আর্নড মানি…। খুবই হিসাবের পয়সা। আই লাইক দ্যাট…। কফি খাইতে খাইতে আমরা টাকা/ডলার নিয়া কথা বলতেছিলাম। উনি বলতেছিলেন, আমি ছিলাম মনোযোগী শ্রোতার ভূমিকায়।

—এইটার বরকতটা কী জানেন?  এইখানে আপনার খরচ করা প্রতিটা হার্ড আর্নড ডলারের ভ্যালু পাইবেন। মাপা পয়সায় চলতে পারবেন, কারণ এখানে আনফোরসিন খরচ প্রায় নাই বলতে গেলে। বাংলাদেশে আপনি হিসাবের পয়সায় চলতে পারবেন না। সেইখানে হামেশা বাজেট ফেইল। আপনাকে সব সময় হিসাবের বাইরে বাড়তি কিছু ইনকাম করতেই হবে। সমস্যা হইতেছে এই বাড়তিটা যে কত, আমরা কেউ তা জানি না। সব কিছু সেইখানে আনলিমিটেড।

টরন্টোর চায়না টাউন।—লেখক

টরন্টোর চায়না টাউন।—লেখক

২.
যেই সব কারণে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো শস্তা শ্রমের দেশগুলাতে গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রির রমরমা বাজার, তারই উল্টা পরিস্থিতি দেখা যায় এইখানে। যেই সার্ভিসগুলা শারীরিক শ্রম নির্ভর, সেইগুলা এইখানে খুবই উচ্চমূল্য। ফলে এইখানে মেরামতির কোনো কারবার নাই। ছিঁড়া জুতা থিকা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, কোনো কিছু আর মেরামত কইরা পুষায় না। সব কিছু রিসাইকল হইবো, এই সান্ত্বনা নিয়া তারা বাতিল জিনিসরে ডাস্টবিনে ফালায়া দেয়। আর মেরামতি করতে যা খরচ হইত, তার চাইতে বাড়তি কিছু বেশি দিয়া নয়া একটা কিইনা আনে। এইখানে বাঁইচা থাকতে গেলে আপনার শার্টের বোতাম লাগাইতে জানতে হয়, গাড়ির খুচরা মেরামতি বুঝতে হয়। জীবনে যেই যেই কাজ করেন নাই, আশা করছিলেন না কইরা পার পাইবেন, এখন এই বুড়া বয়সে আইসা আপনার সেই সব কাজে স্কিল বাড়াইতে হয়। দেশের থিকা ব্যাংক লুট কইরা আনা টাকাপয়সা যদি না থাকে, তবে এই সব খুচরা খরচ বাঁচানির কথা আপনারে ভাবতেই হবে। এই দেশে ফাইনানসিয়ালি সারভাইভ করার সবচেয়ে ভাল উপায়, যত পারা যায়, নিজের কাম নিজে করা। সুবিধার দিকটা হইলো, প্রায় সব কিছুতেই DIY (do it yourself) ভিডিও আপনি ইন্টারনেটেই পাইবেন।

আমার নিজের জীবনের পয়লা DIY আছিল—আমার নিজের চুল ট্রিম করা। এই দেশে চুল ছাটার খরচ সাংঘাতিক। মিনিমাম আট দশ ডলার, আর একটু পছন্দ মতো করতে চাইলে, টিপস সমেত সেইটা পঁচিশ থেকে ত্রিশ ডলারে গিয়া দাঁড়ায়। ফলে এই চুলের বিষয়টা আমারে পয়লা হেস্তনেস্ত করতে হইছে। নিজের চুল নিজে ছাটার সিদ্ধান্ত নিতে হইছে। চুল ছাটা শিখার জন্য আমার অবশ্য DIY ভিডিও দেখা লাগে নাই। কারণ ভিডিও দেইখা হেয়ার স্টাইলিস্ট হওয়ার এলেম আমার ছিল না। তার বদলে চুলের এমন একটা ছাঁট খুইজা বার করছি, যেইটা আসলে কোনো ছাটই না।

আপনেরা জানেন, the best design is no design. এই ফর্মুলাকে লিটারারি সেন্সে ‘শিরোধার্য্য’ মানে মাথায় তুইলা নিতে পারলে আপনার চুল ছাটা ইজ রিয়েলি ইজি জব। এই ফর্মুলায় চুল ট্রিম করার যন্ত্রকে গনতান্ত্রিক পন্থায় মানে মাথার সকল অংশকে সমান গুরুত্ব দিয়া একবার ঘুরাইয়া আনলেই হয়। কয়েক মিনিটের ভিত্তরে, আপনার মাথার চুল হইবো লন মোয়ার দিয়া ছাঁটা লনের ঘাসের মতো। কিংবা ফুটবলারের বুটের নিচের স্পাইকের মতো।

bishyajit china 3

এই ছবিতে দেখতেছেন, নাজনীন, আমার শ্যালিকা… একজন উঠতি হেয়ার স্টাইলিস্ট—লেখক

এইভাবেই এযাবৎ কাল পর্যন্ত্য আমার চুল ছাঁটা চইলা আসতেছিল, আনটিল লাস্ট সোমবার। আমার বউভাগ্য বরাবরই ভালো, আর টরন্টোতে আমার শ্যালিকা ভাগ্য ঈর্ষা করার মতো। এই ছবিতে দেখতেছেন, নাজনীন, আমার শ্যালিকা… একজন উঠতি হেয়ার স্টাইলিস্ট। মেয়েদের চুল সে খুব ভাল বোঝে, চুলের যত্ন আর পরিচর্চা বিষয়ে তার দক্ষতা প্রচুর। এইবার সে একই সাথে ছেলেদের চুলের বিষয়েও দক্ষ হইতে চায়। ফলে আমাকে যখন সে তার চুল ছাঁটা প্র্যাকটিসের মডেল বানাইতে চাইল, আমি সাগ্রহে রাজী হয়া গেছি। বলা যায় তার এই প্রস্তাব আমি মাথা পাইতা নিছি।

হাজার হোক, শ্যালিকা তো, আমার মাথার উপরে তার তো একটা হক আছেই।

About Author

বিশ্বজিৎ মুনশি
বিশ্বজিৎ মুনশি

জন্ম বাংলাদেশের দিনাজপুরে, ১৯৬২ সালে। ছোটবেলার দীর্ঘ সময় কেটেছে বাংলাদেশের বাইরে। ১৯৭৬ সাল থেকে ছিলেন বাংলাদেশে। ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সমাজকল্যাণে অনার্স এবং মাস্টার্স। সক্রিয় ভাবে ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বাইরে। প্রথমে ছিলেন লন্ডন ইউনাইটেড কিংডম, সেখানে বাংলা ইংরাজি ইন্টারপ্রেটিং-এ ডিপ্লোমা করেন। ২০১০ সাল থেকে আছেন কানাডার টরন্টো শহরে।