১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু আমার পড়ায় মন নেই। মন শহীদ মিনারে। যে করেই হোক একুশের আগেই শহীদ মিনার বানাতে হবে। পাড়ার সব ছেলে-মেয়েকে জড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলাম, মুখলেস মিয়ার ফাঁকা প্লট, যেখানে একটি শ্যাওড়া গাছ দাঁড়িয়ে আছে, ওখানেই শহীদ মিনার বানানো হবে।

কাগজে এঁকে ডিজাইন করলাম। রাতের বেলা নির্মাণাধীন বাড়িগুলো থেকে ইট চুরি করে এনে জড়ো করতে শুরু করি। ইটের পরে ইট গেঁথে তৈরি করি শহীদ মিনার।

আমরা থাকতাম উত্তর বাড্ডায়, সাতারকুল রোডের পাশে। তখন ওখানে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ি ছিল আর পুরো অঞ্চল ফাঁকা। হাঁটতে হাঁটতে শাহজাদপুর পেরিয়ে গুলশান দুই নম্বর চলে যাই দল বেঁধে। যেসব বাড়িতে বাগান আছে, ডালিয়া, গোলাপ, গাঁদা আর সূর্যমুখী আছে, সেইসব বাড়িতে অপারেশন চালাই। ২/৩ জন বন্ধু দারোয়ানের সাথে আলাপ জমিয়ে তোলে আর ২/৩ জন বাগানে ঢুকে টপাটপ ফুল চুরি। সেই ফুলে আমাদের শহীদ শ্রদ্ধানিবেদন।

পাড়ার ছেলেমেয়েদের বলি কবিতা লেখো, গল্প লেখো, এক দুইজন লিখতে পারত, বেশির ভাগই পারত না। নিজেই অনেকগুলো লেখা তৈরি করে বন্ধুদের নাম দিয়ে দিই। তারপর একটি বড় কাগজে রঙিন পেন্সিল দিয়ে সারারাত জেগে সেগুলো লিখে তৈরি করি দেয়াল পত্রিকা। একুশের দেয়াল পত্রিকা। এগুলোই ছিল আমার সেই সময়ের খেলা।

এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ধুমসে কবিতা লিখতে শুরি করি। একটি উপন্যাসেও হাত দিই, ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’। রোজ এক/দুই পৃষ্ঠা করে লিখি (পরে এটি পল্লব পাবলিশার্স প্রকাশ করে)। সেই উপন্যাসের নায়ক চারু হায়দারের জীবনে যা যা ঘটে পরবর্তী দশ বছর আমার জীবনে তা তা-ই ঘটেছে।

এই সময়ে আমাদের বাড়ির সামনের ফাঁকা জমিতে একটি পরিবার আসে। পরিবার-প্রধানের নাম মোজাম্মেল হক, তিনি যৌবনে রিক্সা চালাতেন, পরে হয়েছেন রিক্সার মেকানিক। বয়স তার সত্তরের কাছাকাছি, গায়ে অসুরের শক্তি, দেখতেও ছিলেন গরিলার মত। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, এই ঘরে প্রতি বছরই একটি করে বাচ্চা হয়। প্রথম ঘরে সাত পুত্র এক কন্যা, দ্বিতীয় ঘরে তিন পুত্র এক কন্যা। বড় তিন ছেলে বিয়ে করেছেন, বাচ্চা-কাচ্চা আছে, কিন্তু সকলেই এক বাড়িতে থাকেন, একান্নবর্তী পরিবার।

বড় ছেলেও বাবার মত রিক্সার মেকানিক। পরের তিন ছেলে গাড়িচালক, তারা সবাই কুয়েতে থাকেন। কুয়েত থেকে ছেলেরা পালা করে আসেন, হাতে তাদের কাঁচা পয়সা। বেশ বড়সড় একটি দালানঘরে তারা থাকলেও আমাদের জীর্ণ ঘরের দিকে কখনো তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকান নি। বরং এই ঘরের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়, একজন কলেজে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছে, এসব দৃষ্টান্ত তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে। তারাও স্কুলের প্রতি আগ্রহী হতে শুরু করে।

এই পরিবারের এক তরুণের নাম নুরুল ইসলাম, অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। বয়সে সে আমার চেয়ে বড় হলেও আমি ওকে পড়াতে শুরু করি। যদিও আমরা দুজন দুজনকে ‘তুমি’ করে বলতাম। একদিন নুরুল ইসলাম বলে, আমাদের এক আত্মীয় আছে খুব বড় কবি, তুমি চাইলে আমি তোমাকে তার কাছে নিয়ে যেতে পারি। আমি চাই মানে, রীতিমত আমি পাগল হয়ে যাই বড় কবির সাথে দেখা করার জন্য। উত্তেজনায় সারা রাত আমি ঘুমুতে পারি না।

পরদিন বিকেলে নুরুল ইসলাম আমাকে নিয়ে যায় উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের কাছে এক জড়াজীর্ণ বস্তিতে। এইখানেই কবি থাকেন।

লুঙ্গি পরা, খালি গায়ে, কুচকুচে কালো শ্মশ্রুমণ্ডিত কবি বের হয়ে আসেন। তার চোখ জ্বল জ্বল করছে। আমার মনে হল বস্তির ভেতর থেকে একজন বাদশাহ বেরিয়ে এলেন। বাদশাহ তখন গলা চড়িয়ে ডাকছেন, শাহজাদা। হ্যাঁ, শাহজাদা তার পুত্রের নাম। তিনি বলেন, এই আমার রাজপ্রাসাদ, ভেতরে এসো।

আমি ভেতরে যাই, ঘুটঘুটে অন্ধকার এক ঘর। ঘরে দর্শনীয় কিছু বলতে একটি খাট আর একটি স্টিলের আলমারি। আর কিছু নেই। নুরুল ইসলাম আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েই বিদেয় হয়ে যায়। আমি কবির চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেই অনেকগুলো ঘণ্টা।

তাকে দেখাই আমার কবিতার খাতা। পড়ে শোনাই অনেকগুলো কবিতা। তিনি চোখ বন্ধ করে মন দিয়ে শোনেন। হঠাৎ তিনি নিজের কবিতা আওড়ান, “ভুলের মাঝে জন্ম যাহার সারা জীবন হল ভুল/ ভুল করলেই তোমরা কেউ হবে না আর আমিনুল।”

আমি তার কাছ থেকে ‘অভিষিক্ত সেই তুমি’ কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে পড়তে থাকি। তিনি আমাকে গদ্য কবিতা কী তা বোঝান। ছন্দ কী তা বোঝান। অক্ষরবৃত্ত ছন্দে আধুনিক কবিরা, বিশেষ করে শামসুর রাহমান, যে কবিতা লেখেন সেগুলিকে পয়ার বলা হয়, এইসব বলেন। আমাকে বলেন তোমার কবিতায় স্বরবৃত্ত ছন্দ আছে। কিন্তু আধুনিক কবি হতে চাইলে তোমাকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ শিখতে হবে। আর শুদ্ধ অন্তমিল দিয়ে কবিতা লেখা শিখতে হবে। তিনি আমার কবিতার ভুলগুলো ধরিয়ে দেন।

শুরু হয় আমাদের প্রতিদিনের আড্ডা। আমি বলি, আপনি জসীম উদদীন পুরস্কার পেয়েছেন, সোনার মেডেল, কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থা এত খারাপ কেন? বাংলাদেশের সব কবিই কি গরীব?

তিনি এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে আমাকে একটি গল্প বলেন। একদিন রাজা এক কবিকে নিমন্ত্রণ করেন। নিতান্তই দরিদ্র কবি রাজার নিমন্ত্রণ পেয়ে খুব খুশি হন। রাজা হয়ত তাকে কিছু ধন-রত্ন দেবেন, তার অভাব ঘুঁচে যাবে। কবি রাজদরবারে উপস্থিত হলে রাজা ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাকে নিয়ে। রাজসিক ভোজ, রাজ দরবার ঘুরে দেখানো, রানি, শাহজাদা, শাহজাদির সাথে পরিচয়ের পর বিদায়ের পালা।

কবিকে বিদায়কালে কী উপহার দেয়া যায়, কী পেলে কবির মন খুশিতে ভরে উঠবে? ভেবে চিন্তে রাজা দেখলেন ধন-রত্ন দিয়ে কবিকে খুশি করা যাবে না। কবির মন খুশি হয় ফুলে। তিনি রাজ্যের সবচেয়ে সুন্দর ও সুগন্ধি গোলাপগুচ্ছ কবির হাতে তুলে দিলেন। কবি রাজদরবার থেকে বেরিয়ে মনের কষ্টে সেই ফুলের তোড়া ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। বুঝলা বাদল (তিনি আমাকে ডাক নাম ধরে ডাকতেন), কবির কষ্ট কেউ বোঝে না।

আমিনুল হক আনওয়ারের বাড়ি ভোলায়। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে তিনি ১৯৬৮ সালে বিএ পাশ করেন। তোফায়েল আহমেদ, মোশারফ হোসেন শাজাহান তার খুব কাছের মানুষ, বন্ধু। ১৯৯২ সালে তিনি যখন লিভার সিরোসিসে মারা যান মোশারফ হোসেন শাজাহান তখন মন্ত্রী। কিন্তু তার অর্থনৈতিক অবস্থা আমৃত্যু একই রকম ছিল। তিনি বাংলাদেশ ফর্মস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের একজন কেরানি হিসেবেই জীবন পার করে দেন।

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অভিষিক্ত সেই তুমি’-র জন্য তিনি যৌথভাবে আল মুজাহিদীর সাথে কবি জসীম উদদীন পুরস্কার পান ১৯৮০ বা ৮১ সালে।

লিখে লিখে তিনি শুধু পাণ্ডুলিপি বানাতেন আর স্টিলের আলমারিতে তুলে রাখতেন। এভাবে তিনি চল্লিশটার ওপরে পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। জীবদ্দশায় তার দ্বিতীয় বইটিও বের হয় নি।

মৃত্যুর পরে তার ছেলে আরো দুটি বই বের করেন। আমাকে সব সময় বলতেন, জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলার পাণ্ডুলিপি তার মৃত্যুর পরে পাওয়া যায় সোফার ভেতরে। আমি তো অন্তত আলমারিতে রেখে যাচ্ছি।

আমি রোজ বিকেলে তার বাসায় যেতাম। কিছুক্ষণ তার বাসায়, এরপর বাড্ডার প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকানে এবং তারপর কবি জসীম উদদীন পরিষদের মহাসচিব রম্য রচয়িতা ড. এস জিয়াউদ্দিন আহমদের বাসায়।

ওখানে একটি বৈঠকঘর ছিল, আমাদের আড্ডার জন্য। জিয়াউদ্দিন সাহেব যেটিকে ‘রামবুদ্ধুর বৈঠকখানা’ বলতেন। পরবর্তী ছয় বছর, ঝড়-বাদল যাই থাকুক না কেন প্রতিদিন বিকেলে আমি আর আমিনুল হক আনওয়ার ‘রামবুদ্ধুর বৈঠকখানা’য় বসে আড্ডা দিয়েছি।

অনিয়মিত ভাবে অনেকেই আসতেন। রোজ আমি হক সাহেবকে জিজ্ঞেস করতাম, আজ কোথায় যাবেন?

তিনি বলতেন, কোথায় আবার মোল্লার দৌড় তো মসজিদ পর্যন্ত, ডাক্তার সাহেবের বৈঠকখানায়।

একদিন আমি বলি, আজ উঠছেন না কেন? মসজিদে যাবেন না? তিনি বলেন, না, আজ মসজিদ এসেছিল। চলো অন্য কোথাও যাই। তিনি আমাকে নিয়ে যান বনানী, খোশনূর আলমগীরের বাসায়। খোশনূর আলমগীর নায়ক আলমগীরের স্ত্রী। তার তিন সন্তান। আঁখি, তুলতুল খুবই ছোট,বনানী বিদ্যানিকেতনে যায়, তাসবীর একেবারেই শিশু।

খোশনূর আপার সাথে আমার নিবিড় সখ্য গড়ে ওঠে, আমরা তার বাসায় অনেক সাহিত্যের আড্ডা দিয়েছি এবং এক পর্যায়ে ‘অনুপ্রাস’ নামের একটি সংগঠন গড়ে তুলি। এই সময়ে পরিচয় হয় কাজী সালাহ উদ্দিন এবং শেখ সামসুল হকের সঙ্গে। সালাহ উদ্দিন ভাই ছিলেন দৈনিক আজাদ এর সাহিত্য সম্পাদক এবং সামসু ভাই ছিলেন দৈনিক নব অভিযান পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক। এই দুটি পত্রিকায় আমার প্রচুর কবিতা ছাপা হয় আশির দশকে।

বাংলা সাহিত্যে শামসুর রাহমান ছাড়া আর যে ক’জন কবিকে দেখেছি শুদ্ধ অক্ষরবৃত্ত ছন্দে কবিতা লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আমিনুল হক আনওয়ার। ছন্দ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি কবিতার শব্দ বদলাতেই থাকতেন। আমাকে প্রায়শই ধমক দিতেন ছন্দে ফাকি দিলে। তিনি একটি দুর্বল শব্দ মেনে নিতেন কিন্তু দুর্বল ছন্দ মেনে নিতেন না।

তবে অক্ষরবৃত্ত ছাড়া আর অন্য কোনো ছন্দে তার তেমন দখল ছিল না বা অন্য কোনো ছন্দে তিনি লিখতেন না। উপমার ক্ষেত্রে ‘মত’ শব্দটি ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। বলতেন, উৎপ্রেক্ষা ব্যবহার করো।

সেটা কী জিনিস? “ঢেউয়ের মত দুলছে তাহার চুল” এটা না বলে বলো, “চুলের ঢেউয়ে দুলছে দুপুরবেলা।” তিনি সারা পৃথিবীর কবিতার খোঁজ রাখতেন। দাদাইজম, স্যুররিয়ালিজম, হাংরি জেনারেশন, বিট জেনারেশন ইত্যাদির খোঁজ তিনিই আমাকে দেন। প্রচুর বিদেশি কবির কবিতার উদাহরণ দিতেন। বাংলা ভাষার এমন কোনো বড় কবি ছিল না যার কবিতা তিনি আদ্যোপান্ত পড়েন নি। আধুনিক কবিতার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে তার খুব সুস্পষ্ট ধারণা ছিল।

কিন্তু ছিলেন একেবারে নিভৃতচারি, কেউ না চাইলে তিনি কাউকে কবিতা ছাপতে দিতেন না। আর ছিলেন ভীষণ অভিমানী। বাংলার লাজুক, অভিমানী এবং উদাসীন কবি বলতে আমরা যা বুঝি তিনি ছিলেন তার ষোল আনা। তার মানবিক গুণাবলী ছিল এক অন্য উচ্চতায়। নিজের পকেটে পয়সা নেই কিন্তু ধার করে মানুষকে সাহায্য করতেন।

প্রতি বছর কোরবানীর ঈদের দিন বিকেলে আমি তার বাড়িতে মাংস নিয়ে যেতাম। তার অর্থনৈতিক অবস্থা এত খারাপ ছিল যে কোরবানি দিতে পারতেন না। যে ছাপড়া ঘরটিতে থাকতেন, সেটি তার নিজের ছিল না। অন্য একজনের জমিতে ঘর তুলে থাকতেন। একবার আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়ানক খারাপ হয়। ঈদের আগের দিন বলি, হক সাহেব এবার আমরা কোরবানি দিচ্ছি না। তিনি আমাকে কিছুই বলেন না। ঈদের দিন বিকেলে আমি খালি হাতে তাদের বাসায় গেলে তিনি বেশ বড় সড় একটি গোশতের প্যাকেট আমার হাতে দিয়ে বলেন, এবার আমরা কোরবানি দিয়েছি।

আজ আমার হাতের কাছে তার কোনো কবিতার বই বা কবিতা নেই। তবে তার একটি কবিতার কয়েকটি লাইন আমার মুখস্থ আছে তা দিয়েই এই লেখাটি শেষ করছি—

বুঝি না তবুও বুঝি

খুঁজি না তবুও খুঁজি

বোঝাবুঝি খোঁজাখুঁজি শেষ হলে

সব ভার তোমাকেই সঁপে দিয়ে

শুয়ে থাকি সোজাসুজি।

(কবিতার নাম অজ্ঞাত, কবি আমিনুল হক আনওয়ার)

হলিসউড নিউইয়র্ক, ১ মার্চ ২০১৮

আড্ডার সব গল্প >>

 

Recommended Posts

2 Comments

  1. কবিতা কাউকে কাউকে ফকির বানায়া ছাড়ে!

    আমিন কবির নাম আগে শুনি নাই। হয়তো কালের গহ্বরে হারায়া গেছে।

    ওনার কোনো চাকরিবাকরি? বউ ছেলেমেয়ে? অন্ন আসত কোত্থেকে?

  2. বাংলাদেশ ফর্মস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সে চাকরি করতেন, তা আছে এই রচনায়। কেরানি ছিলেন।


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *