গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন শুধুমাত্র অসুখী থাকার কারণেই মানুষ আগে মারা যায় কিনা।

কয়েক হাজার নারীর ওপর একটি গবেষণায় দেখা গেছে সুখী এবং অসুখীদের মধ্যে আয়ুর কোনো পার্থক্য নেই।

যারা প্রচার করে থাকে সুখী হওয়া-ই আপনার আয়ু বাড়াতে পারে তাদেরকে এখন বলতে হবে—সুখ আপনাকে মৃত্যু থেকে বাঁচাতে পারবে না।

অবশ্যই সুখ আপনাকে মৃত্যু থেকে বাঁচাবে না। হাসতে হাসতে মারা যান অথবা কাঁদতে কাঁদতে, মৃত্যু আপনার হবেই। গত কয়েক বছরে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে এবং মনে করা হয়েছে সুখী মানুষ হয়ত বেশিদিন বাঁচে। আরো মনে করা হয়েছে সুখী থাকা হৃদরোগ সহ আরো অনেক রোগ প্রতিরোধ করে।

কিন্তু নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে সুখ অথবা সুখী থাকার এই ধরনের ক্ষমতা নেই। দ্য ল্যান্সেটে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে মিলিয়ন উইমেন নামক একটি গবেষণা থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ৫০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী ৭ লাখ ২০ হাজার নারীর ওপর এই দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালানো হয়েছে।

গবেষণায় অংশ নেয়ার তিন বছর পরে প্রত্যেক নারীই তারা সুখী না অসুখী এই বিষয়ে একটি ফর্মে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ১০ বছর ধরে গবেষণায় অংশ নেয়া নারীদের পর্যবেক্ষণ করা হয়, এই ১০ বছরে একটি ইলেকট্রনিক রেকর্ডের মাধ্যমে গবেষকরা জানতে পেরেছেন কেউ মারা গেল কিনা এবং কীভাবে মারা গেল।

যেসব নারীর ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা দীর্ঘমেয়াদী কোনো অসুখ আছে তাদেরকে গবেষণা থেকে বাদ দিয়েছেন। গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন শুধুমাত্র অসুখী থাকার কারণেই মানুষ আগে মারা যায় কিনা।

দেখা গেছে, অসুখী থাকা মৃত্যুর কারণ নয়।

একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণে এই গবেষণাটি আয়ু এবং অসুখী থাকার মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখিয়েছে। কিন্তু গবেষণা প্রতিবেদনের পরের দিকে যখন তারা স্বাস্থ্যের বেজলাইনটি ঠিক করেন তখন এই সম্পর্কটি নাই হয়ে যায়।

গবেষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে যতদূর সম্ভব আমরা কিছু বিষয় পেয়েছি যেগুলি আসলেই ম্যাটার করে। তারা জানান, ধূমপান এবং ওবেসিটি বা স্থূলতা আয়ুর দুইটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক । কিন্তু অসুখী থাকা আয়ুর ক্ষেত্রে অত ভূমিকা রাখে না।

গবেষকদের একজন, পেটো, বলেন, খিট খিটে মেজাজ যাদের তাদের জন্য এটাকে ভালো খবর বলতে পারেন আপনি।