চারদিকে এত দ্রুত গতিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে যে এ সময় নিজেকে সুস্থ রাখা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য সকলেরই কিছু প্রয়োজনীয় এবং সময় উপযোগী কৌশল জানা থাকা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যের তালিকায় প্রচুর ফল এবং সবজি রাখতে হবে যা আপনার ইমিউন সিস্টেম সচল রাখবে।


সুমাথি রেড্ডি
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


চিকিৎসকরা বলছেন, ইমিউন সিস্টেম দ্রুত উন্নত করে এমন জিনিসপত্র বা ভিটামিন কিনতে অত তাড়াহুড়ার করার দরকার নেই। কারণ, এগুলি আসলেও কাজ করে কিনা তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো নেই। বরং তার বদলে এমন প্রাকৃতিক খাবার খান যা নিশ্চিতভাবে আপনাকে এ অবস্থা সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে সাহায্য করবে।

চিকিৎসকদের মতে যে নিয়মগুলি এক্ষেত্রে মেনে চলতে হবে এখন:

  • আতঙ্কিত হবেন না। এইটা কিছুটা দুষ্টচক্রের মত, ভাইরাস নিয়ে যত দুশ্চিন্তা করবেন, ততই আপনার ক্ষতি হবে । জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগের সহকারী অধ্যাপক মর্গ্যান কায বলেন, দুশ্চিন্তা আপনার ইমিউন সিস্টেমের ক্ষতি করবেই। ঘাবড়ে না গিয়ে, দুশ্চিন্তা কমানোর চেষ্টা করুন।

আমেরিকার প্রাথমিক চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক ওয়ান মেডিকেলের প্রধান মেডিকেল অফিসার অ্যান্ড্রু ডায়মন্ড বলেন, স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ আপনার ইমিউন সিস্টেমে থাকা কোষের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তিনি এমন কাজগুলির সঙ্গের যুক্ত থাকার পরামর্শ দেন যা আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, যেমন মেডিটেশন।

ব্যায়াম: অল্প ও মাঝারি লেভেলের ব্যায়াম প্রাকৃতিকভাবেই কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ইমিউন সিস্টেমের কাজে সাহায্য করে, ডক্টর ডায়মন্ড বলেন। এক চিকিৎসক দিনে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। আপনি যদি জিমের জীবাণু নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তাহলে বাইরে হাঁটুন বা দৌড়ান।

কিন্তু তা অবশ্যই অতিরিক্ত মাত্রায় নয়। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সেন্টার ফর ফাংশনাল মেডিসিনের মেডিকেল ডিরেক্টর এলিজাবেথ ব্র্যাডলি বলেন, নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে সংক্রমণের ঝুঁকি অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। ব্যায়াম ইমিউন সিস্টেম উন্নত করতে সাহায্য করে, কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে তা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় না করি। কারণ তা আবার আপনার ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে দিতে পারে।

  • পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে আমাদের। বড়দের ক্ষেত্রে রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা। শিশুদের বেশি ঘুমানো উচিত, তা বয়সের উপর নির্ভর করছে।
  • ভ্যাকসিন যেটা নিয়েছিলেন সেটা আপ-টু-ডেট কিনা নিশ্চিত করুন, বিশেষ করে ফ্লু’র ভ্যাকসিন।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ টক দই খান। ড. কায বলেন, এটা প্রোবায়োটিক ও মাইক্রোবায়োম বাড়ানোর সহজ উপায়। আপনার শরীরে যে ভালো ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে তাকে সাহায্য করে টক দই, সঙ্গে আবার খারাপ ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও লড়তে সাহায্য করে।

ড. কায আরো জানান, ডাক্তারের পরামর্শে খেতে না হলে অ্যান্টিবায়োটিক এড়িয়ে চলুন। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমিয়ে দেয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে অন্যান্য সংক্রমণের জন্যে পথ করে দেয়।

ডক্টর ব্র্যাডলি বলেন, মাইক্রোবায়োম তৈরিতে সাহায্য করতে পারে এমন খাবারগুলির মধ্যে আছে টক দই, কাঠ বাদাম, অলিভ অয়েল, কলা, মটর, রসুন, পেঁয়াজ, আদা ও ফার্মেন্টেড খাবার।

  • নিজের খাওয়া দাওয়া খেয়াল করুন: আপনি জিংক, ভিটামিন ডি, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ যথেষ্ট খাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন রঙিন ফলমূল এবং সবজি ভর্তি একটি স্বাস্থ্যময়, সুষম খাদ্যের তালিকা করুন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনকার খাবার থেকেই আপনি শরীরের জন্যে দরকারি ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলি পেতে পারেন। এর জন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে, আজকাল যেহেতু মানুষের মধ্যে ভিটামিন ডি’র অভাব খুবই কমন ব্যাপার হয়ে গেছে, বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টের পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খেতে হবে।
  • ড. ব্র্যাডলি প্রচুর সবুজ, পাতাযুক্ত শাক-সবজি এবং বেরি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাদাম ও বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি চিনি এবং ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার (ফাস্ট ফুড, বেক করা খাবার, প্রভৃতি) কমিয়ে আনতে বলেছেন। এগুলি স্বাস্থ্যকর নয়।
  • ইমিউন সিস্টেমের জ্বালানীর প্রয়োজন হয়। এই জ্বালানী আসে কার্বোহাইড্রেট থেকে। তাই প্রতিদিনকার খাবার তালিকায় কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার (ভাত, আলু, রুটি, মিষ্টি, ডাল, দুধ) রাখুন।
  • প্রচুর পানি পান করুন ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। অ্যালকোহল ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
  • ধূমপান বন্ধ করুন। ধূমপায়ী ও যাদের শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত রোগ আছে তাদের কোনো রোগ হলে শারীরিক ঝুঁকি বেশি। ড. ডায়মন্ড বলেন, ফুসফুসের জন্যে ক্ষতিকর এমন যেকোনো জিনিসই আপনাকে বিপদের দিকে নিয়ে যাবে।

অনুবাদ. জোবেদা ঊর্মি

Recommended Posts