অ্যাপল এই বিলটি যেন পাশ না হয় সেজন্য লবিস্ট নিয়োগ করছে।

বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা গেছে চীন সরকার কমপক্ষে ৮০ হাজার উইঘুর মুসলিমকে জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে বের করে বিভিন্ন শিল্পকলকারখানায় কাজ করতে বাধ্য করছে।

এর মধ্যে ইলেক্ট্রনিক্স, টেক্সটাইলস, অটোমোটিভস ইত্যাদি শিল্প অন্যতম। চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জিনজিয়াং এইড’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে এমন জবরদস্তিমূলক শ্রমের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই শ্রমের সুবিধা নিয়েছে নামিদামি অনেক ব্র্যান্ড। তার মধ্যে অ্যাপল অন্যতম।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনায় ব্র্যান্ডগুলির অংশীদারিত্বকে রুখতে মার্কিন কংগ্রেস ‘উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ নামের একটা বিল তুলতে যাচ্ছে।

এই বিলটি হাউস রিপ্রেসেনটেটিভ জেমস ম্যাকগভারন উত্থাপন করেছেন।

বিলটিতে বলা হয়েছে মার্কিন কোম্পানিগুলি যেন কোনো ভাবেই চীন যেসব জায়গায় বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার লংঘন করছে সেখানে তাদের পণ্য বা সেবার কিছুই উৎপাদন না করে।

প্রস্তাবিত এই আইনটিতে বলা হয়েছে, জিনজিয়াং এ যাই তৈরি হোক সেটাকে ফোর্সড লেবার বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি ধরে নিতে হবে, যদি না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বোর্ডার প্রটেকশন বিভাগ জানায় এটা ফোর্সড লেবারের মাধ্যমে তৈরি নয়।

রিপোর্টে জানা যায়, এই বিলটি নিয়ে স্বস্তিতে নেই টেক জায়ান্ট অ্যাপল। অ্যাপল এই বিলটি যেন পাশ না হয় সেজন্য লবিস্ট নিয়োগ করছে।

এএফএল-সিআইও চেয়ারম্যান ক্যাথি ফেইনগোল্ড বলছেন, অ্যাপল এবং আরো কিছু কোম্পানি উইঘুর মুসলিম শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে, আর ব্যাপারটায় অ্যাপল “বিস্মিত” হয়েছে।

তার মতে অ্যাপল আশা করছিল, কংগ্রেস কেবল বসে কথাই বলবে, যখনই এটা বাস্তবায়ন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তখনই তারা নড়েচড়ে বসছে এবং অ্যাপল কর্মকর্তারা “বিস্মিত” হতে শুরু করেছেন।

যদিও অ্যাপল বলছে উইঘুর মুসলিমদের বাধ্যতামূলক শ্রম বিষয়ে আইনটি তারা সমর্থন করেন। আর তারা যাদের কাছে শ্রমিক নেন, তারা কেউই মানবাধিকার পরিপন্থী উপায়ে শ্রম নেন না।