Subscribe Now
Trending News

Blog Post

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো রিভিউ
প্রযুক্তি

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো রিভিউ 

ওয়ানপ্লাস এইট প্রো বাজারে এসেছিল ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। তার প্রায় এক বছর পর আসছে ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো। ওয়ানপ্লাস কম্পানির জন্য এক বছর এক লম্বা সময়। কারণ সংস্থাটি সাধারণত ছয় মাসের মধ্যেই “টি” মডেলের নতুন ফোন বাজারে নিয়ে আসে। কিন্তু নাইন প্রো এর ক্ষেত্রে এবার অনেক দেরি হয়ে গেল। এই অতিরিক্ত সময় লাগার কারণে ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো নিশ্চয়ই স্পেশাল কিছু হওয়া উচিত, তাই না?


অ্যান্ডি বোক্সল
ডিজিটাল ট্রেন্ডস, এপ্রিল ২, ২০২১


আসলে হয়েছেও তাই। খুবই-ব্যয়বহুল ক্যামেরা ব্র্যান্ড হ্যাসেলব্ল্যাডের সঙ্গে অংশীদারিত্বে মুক্তি পাওয়া ওয়ানপ্লাসের প্রথম ফোন এটি। হ্যাসেলব্ল্যাড তাদের অসাধারণ দক্ষতা ঢেলে দিয়েছে এর ক্যামেরায়, ফলে এটি অবশ্যই স্পেশাল কিছু হয়েছে। তবে ওয়ান প্লাসের পণ্য হওয়ায় ওয়ান প্লাস নাইন প্রো এমনিতেও বেশ নির্ভরযোগ্য হওয়ারই কথা। যা খারাপ হতে পারে না। তবে এবার মনে হয় রোমাঞ্চকর কিছুও রয়েছে। আসুন জেনে নেয়া যাক।

সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্মার্টফোন যা আপনি কিনতে পারেন

ডিজাইন

কম ধারালো প্রান্তযুক্ত, তবে একটু বেশি চকচকে এবং কিছুটা বেশি ওজনের ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো দেখতে ওয়ানপ্লাস এইট প্রো থেকে একদমই আলাদা, যা আপনাকে ভিন্ন অনুভূতি দেবে। এইট প্রো এর সুদৃশ্য ম্যাট ফিনিশ এর বদলে এতে সিলভার কালারের চকচকে মিরর ফিনিশ লাগানো হয়েছে। বেশ মোটাসোটা এবং প্রায় ৮.৭ মিলিমিটার পুরু ফোনটি ধরতেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যজনক। তবে এটি হাতের মধ্যে আরো বেশি দৃঢ় অনুভূত হয়। এর ওজন ১৯৭ গ্রাম। অবশ্য ক্যামেরার কারণে ওপরের দিকটা কিছুটা ভারি মনে হয় এর।

এর ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি অন্যান্য বেশিরভাগ স্মার্টফোনের তুলনায় স্ক্রিনের সত্যিই একটু নিচের দিকে সেট করা হয়েছে। এটি অপ্পো ফাইন্ড এক্স থ্রি প্রো-এর মতো একই অবস্থানে রয়েছে। পরে আমরা যখন স্ক্রিন নিয়ে কথা বলব তখন আবার আমরা এই বিষয়ে ফিরে আসব। পাশেই রয়েছে ওয়ানপ্লাসের সিগনেচার, সদা স্বাগতম এবং নোটিফিকেশনগুলিকে সাইলেন্ট করার জন্য অ্যালার্ট স্লাইডার রয়েছে।

ক্যামেরা মডিউলটি রয়েছে পেছনের প্যানেলের উপরের বামদিকে। যা হ্যাসেলব্ল্যাডের ব্র্যান্ডিংয়ে দ্যুতিমান। এতে চারটি ক্যামেরা, একটি সেন্সর, একটি ফ্ল্যাশ এবং একটি মাইক্রোফোন রয়েছে। তবে এটি ওয়ানপ্লাস এইট প্রো বা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ২১ প্লাস এর মতো স্বতন্ত্র-চেহারার নয়। এটি পুরোপুরি ঝরঝরে এবং কার্যকর, তবে খুব বেশি অনন্য বৈশিষ্ট্য নেই। ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো এর চেহারার এই একটাই সমস্যা—এটি অনাকর্ষণীয় নয়, তবে এর খুব বেশি স্বতন্ত্র পরিচয়ও নেই।

সম্ভবত এটা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং এর নির্মাণের গুণগত মানটাই আপনার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে আপনার উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কেননা এর অ্যালুমিনিয়াম কাঠামোটি গরিলা গ্লাসের দুটি প্যানেলের মধ্যে স্যান্ডউইচ করে লাগানো হয়েছে, যা খুবই সুন্দরভাবে তৈরি। কাচের বডি বাদে পর্যাপ্ত গ্রিপ রয়েছে। তবে এটি কিছু কিছু জিনিসের ওপর থেকে পিছলে যেতে পারে।

এর শুধুমাত্র একটি বৈশিষ্ট্য দেখে বোঝা যায় যে, এটি একটি ওয়ানপ্লাস ফোন। আর তা হল এর অ্যালার্ট স্লাইডার। 

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো এর স্টাইল এবং ডিজাইনের বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই। তবে এটি কিছুটা জেনেরিক। এর শুধুমাত্র একটি বৈশিষ্ট্য দেখে বোঝা যায় যে, এটি একটি ওয়ানপ্লাস ফোন। আর তা হল এর অ্যালার্ট স্লাইডার। বাকি সব কিছুর কথা ভুলে গেলেও চলবে।

 

স্ক্রিন

এমন না যে ওয়ানপ্লাস কখনো এর ডিজাইনগুলিতে একেবার কোনো ভুল করেনি। তবে স্ক্রিনের বেলায় খুব কমই ভুল করেছে। ৬.৭ ইঞ্চি অ্যামোলেড স্ক্রিনটিতে প্রতি ৫২৫ পিক্সেল-ইঞ্চি-ঘনত্বের জন্য ৩২১৬ x ১২২০ পিক্সেল রেজুল্যুশন রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১ হার্টজ থেকে ১২০ হার্টজ এর মধ্যে পরিবর্তনশীল রিফ্রেশ রেট। অযাচিতভাবে স্ক্রিন অ্যাকটিভ হওয়া এড়াতে ওয়ানপ্লাস এইট প্রো এর তুলনায় প্রান্তগুলির চেয়ে বেজেল একটু উঁচু রাখা হয়েছে। তবে এরপরও স্ক্রিনটি পাশ থেকে সামান্য ছোঁয়ায়ও অত্যন্ত সংবেদনশীল মনে হয়েছে। এবং প্রায়শই দুর্ঘটনাক্রমে ক্যামেরা অ্যাপটি খুলে যায়। অথবা কেবল ফোনটি হাতে ধরলেই স্ক্রিনের ওয়ালপেপার বদলে যেতে চায়।

এটি একটি সুন্দর স্ক্রিন। এর রয়েছে সমৃদ্ধ রঙ এবং একটি ন্যাচারাল টোন যা শীতলতার পরিবর্তে উষ্ণতার দিকেই ঝুঁকে থাকে। বাই ডিফল্ট এটি সেট করা থাকে এফএইচডি প্লাস রেজুল্যুশনে। তবে ভিডিও দেখার সময় তা বদলে কিউএইচডি প্লাস করা যায়।

এইট প্রো এর সাথে তুলনায় ভিজ্যুয়াল বিভাগে এটি ভাল বা খারাপ নয়, তবে এটি আলাদা। এইট প্রো-র স্ক্রিন কিছুটা বেশি প্রাণবন্ত, অন্যদিকে নাইন প্রো আরও সামান্য বেশি স্বাভাবিক, যার মধ্যে কিছুটা কোমলতা রয়েছে। ফলস্বরূপ এইট প্রো কখনো কখনো এর তীক্ষ্ণ এবং স্পষ্ট প্রান্তগুলির কারণে আরও ডিটেইলড দেখায়। নাইন প্রো-এর স্ক্রিন কোনোভাবেই এইট প্রো এর চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে নয়। আপনি যখন এটিকে অপ্পো ফাইন্ড এক্স থ্রি প্রো এর পাশে রাখবেন তখন এটি অভিন্ন দেখাবে। ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং হোল-পাঞ্চ ক্যামেরার  অবস্থান এবং পাশাপাশি ১০-বিট রঙ গভীরতা এবং এইচডিআর টেন প্লাস এর মতো ফিচারগুলি দেখে মনে হবে সম্ভবত এটি একই প্যানেল।

ক্যামেরা

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো-এর জন্য অপেক্ষার বছরগুলিতে কোম্পানিটি এর ক্যামেরা নিয়ে কাজ করেছে। কোম্পানিটির ক্যামেরা অতীতেও ভাল ছিল তবে কখনো নিজেকে বা প্রতিযোগীদের ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। এই অবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য ওয়ানপ্লাস হ্যাসেলব্ল্যাড এর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। হ্যাসেলব্ল্যাড স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলিতে দামি সব ক্যামেরা সরবরাহ করে থাকে এবং কোম্পানিটির খুব সমৃদ্ধ ফটোগ্রাফিক ইতিহাসও রয়েছে। এটি একটি তিন বছরের অংশীদারিত্ব যা সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা দিয়ে শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হার্ডওয়্যার তৈরিতে সহযোগিতায় উন্নীত হবে।

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো এর অর্থ কী? এতে হ্যাসেলব্ল্যাডের যে ক্যামেরা আছে তার সাথে ন্যাচারাল কালার ক্যালিব্রেশন নামে একটি সফটওয়্যার-ভিত্তিক ফিচার রয়েছে। যা ছবির রঙগুলিকে আরও “বোধগম্যভাবে নির্ভুল” করতে কাজ করবে। হ্যাসেলব্ল্যাড প্রো মোডেও কাজ করেছে। সুতরাং আপনি হ্যাসেলব্ল্যাড ক্যামেরার মতোই কমলা রঙের শাটার বোতাম এবং বিশেষভাবে রেকর্ড করা হাসেলব্ল্যাড-স্টাইলের শাটার বোতামের শব্দ পাবেন।

হতাশ হলেন? তবে অংশীদারিত্বের এটা তো সবে শুরু। হ্যাসেলব্ল্যাড ওয়ান প্লাসের ক্যামেরায় আরো পরিবর্তন আনবে কিন্তু একটু সময় তো লাগবেই। সুতরাং আমাদেরকে একটু রয়ে-সয়েই বড় কোনো প্রত্যাশা করতে হবে। আমি ওয়ান প্লাস নাইন প্রো দিয়ে এখন পর্যন্ত ১০০টি ছবি তুলেছি। এবং এর পারফর্মেন্স দেখে ভিন্ন ভিন্ন মত তৈরি হবে।

আসুন জেনে নেয়া যাক এর ক্যামেরায় কী আছে। এর প্রধান ক্যামেরাটিতে ৪৮ মেগা পিক্সেলের কাস্টম সনি IMX789 সেন্সর রয়েছে, যার অ্যাপারচার f/1.8। এবং অপটিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশনও আছে। এর সঙ্গে আরো যুক্ত করা হয়েছে একটি ৫০মেগা পিক্সেল f/2.2 অ্যাপারচার ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা এবং ৮ মেগাপিক্সেল f/2.4 অ্যাপারচার ও ৩.৩x অপটিক্যাল জুম সহ টেলিফটো ক্যামেরা। এছাড়া আরো রয়েছে ২ মেগাপিক্সেলের একটি মনোক্রোম ক্যামেরা, যেটি নিজে নিজে কাজ করতে সক্ষম। যার সঙ্গে একটি ডুয়াল এলইডি ফ্ল্যাশ এবং ১৬ মেগাপিক্সলের সেলফি ক্যামেরাও রয়েছে।

প্রথমে যা বলা উচিত তা হল ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো এর ক্যামেরা ওয়ানপ্লাস এইট প্রো এর চেয়ে ভাল ছবি তুলবে। তবে সকলেই এই পরিবর্তনের প্রশংসা করবে না। আমার কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিল হ্যাসেলব্ল্যাড ক্যামেরাটিতে কী করেছে তা বোঝা। ন্যাচারাল কালার ক্যালিব্রেশন সব সময়ই ছিল। সুতরাং ছবিগুলিতে “হ্যাসেলব্ল্যাড বৈশিষ্ট্য” আমি ধরতে পারিনি। কেননা হ্যাসেলব্ল্যাড ক্যামেরায় ছবি তোলার কোনো অভিজ্ঞতা আমার ছিল না।

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো এর ক্যামেরাটি আসলেই কেমন তা দেখতে আমি অন্যান্য ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলির সাথে এর ছবিগুলির তুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেছি। এ থেকেই বোঝা যায় ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো এর ছবিগুলিকে বিশেষ করে তুলছে এমন কোনো ফিচার চিহ্নিত করা কতটা কঠিন। এর ফটোগুলি অবিশ্বাস্যভাবে “স্বাভাবিক” দেখায়, যা সাধারণত একটি সুন্দর টোনে এবং ভারসাম্যপূর্ণ থাকে এবং কখনও কখনও একই চিত্র নেয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য ক্যামেরাগুলির চেয়ে ভাল এক্সপোজার হয়। তবে, বেশি স্বাভাবিকতা আনতে গিয়ে অনেক সময় ছবিগুলি জ্বলে যেতে পারে এবং পরিবেশ ঠিকমতো নাও আসতে পারে।

প্রধান এবং আলট্রাওয়াইড ক্যামেরার মধ্যে বিশাল পার্থক্য দ্বারা হাসেলব্ল্যাডের চেহারা আরও শক্ত করে তোলা হয়েছে। মূল ক্যামেরাটি কুল টোনে ছবি নেয়, কিন্তু আল্ট্রাওয়াইড আরও গরম ছবি নেয়। ফলে হ্যাসেলব্ল্যাড আসলে কোন লুকটা চায় সেটা আর বোঝা যায় না। হ্যাসেলব্ল্যাডের কাজের ফলে ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো এর ক্যামেরাটি কোথায় অন্যদের থেকে আলাদা তা নির্ণয় করা খুব কঠিন।

আমি ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো দিয়ে তোলা ছবিগুলি পছন্দ করি। তবে আমি যদি না জানতাম যে হ্যাসেলব্ল্যাড ওয়ানপ্লাসের সাথে কাজ করেছে তবে আমি অত গভীরভাবে কিছু দেখতাম না। এটি আগের ওয়ানপ্লাস ক্যামেরাগুলির চেয়ে অবশ্যই ভাল। তবে ক্যামেরায় হ্যাসেলব্ল্যাডের কেরামতি দেখতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

সফটওয়্যার এবং কর্মক্ষমতা

অ্যান্ড্রয়েড ১১ সহ অক্সিজেনওএস ১১ সংস্করণ ইনস্টল করা আছে এতে, যা খুবই দুর্দান্ত। এটি মূলত ওয়ানপ্লাস এইট টি-তে থাকা একই সফটওয়্যার, সুতরাং নতুন ফোনে এর সঙ্গে নতুন কোনো ফিচার আশা করবেন না। এটা অত গুরুত্বপূর্ণ নয় কেননা অক্সিজেনওএস সবসময়ই আনন্দদায়ক। নতুন চালু হওয়া অলওয়েজ-অন স্ক্রিন, কার্যকর ডার্ক মোড, মসৃণ মেনু, সুন্দর ফন্ট এবং সামগ্রিক নকশা, স্পষ্ট নোটিফিকেশন, গভীর মেমরি এবং পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট টুলস সফটওয়্যারটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন ফিচারগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা।

কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৮৮ প্রসেসরটি আপনি যত শক্তি চান তা সরবরাহ করবে। আর র‍্যাম অপশন রয়েছে ৮ জিবি বা ১২ জিবি সাথে ১২৮ জিবি বা ২৫৬ জিবি স্টোরেজ স্পেস। এটি গেমিংয়ের জন্যও দুর্দান্ত। জেনশিন ইমপ্যাক্ট খুব ভাল খেলে। ব্যস্ত যুদ্ধের দৃশ্যের সময় কেবলমাত্র সামান্য ফ্রেম রেট ড্রপ হয়। তবে ফোনটি দীর্ঘ সময় ধরে খেলার সময় গরম হয়ে যায়। আমি ১২ জিবি / ২৫৬ জিবি মডেলটি ব্যবহার করছি। তবে এর স্পিড ৮ জিবি মডেলের চেয়ে খুব বেশি নয়। এতে কোনো বাড়তি স্টোরেজ স্পেসও নেই।

আমি লক্ষ্য করেছি যে এর ওয়াই-ফাই রেঞ্জ অন্যান্য কয়েকটি ডিভাইসের চেয়ে কম। তবে কলের মান খুব ভাল। ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি স্ক্রিনের বেশ নিচের দিকে সেট করা হলেও সেটিতে কিছুক্ষণ পর পরই আলো জ্বলছে। বিশেষভাবে আরো উল্লেখ করতে হয় যে, এর হ্যাপটিকস ওয়ানপ্লাস এইট প্রো এর চেয়ে আরও সূক্ষ্ম এবং স্পর্শকাতর।

 

ব্যাটারি এবং চার্জিং

এর ব্যাটারিটি ওয়ানপ্লাস নাইন টি-র সমস্ত ভিজ্যুয়াল, গেমিং এবং ক্যামেরা ব্যবহারের যত্ন নেয়ার জন্য একটি ৪,৫০০ এমএএইচ সেল। একবার চার্জ দিলে পুরো একদিন ভালোভাবে চলবে। তবে প্রতি রাতে চার্জ দিতে হবে। জেনশিন ইমপ্যাক্টের নব্বই মিনিট ব্যাটারির ২৫% চার্জ শেষ করে ফেলে। তাই হার্ডকোর গেমারদের দিনে একবারের বেশি চার্জ করতে হবে।

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো ওয়ার্প চার্জ 65T দ্রুত চার্জ সিস্টেম ব্যবহার করে। এজন্য আপনি বাক্সে একটি চার্জার এবং একটি ইউএসবি টাইপ-সি কেবল পাবেন। যা দ্রুত গতি পেতে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। ওয়ানপ্লাস বলে যে এর চার্জ ২৮ মিনিটের মধ্যে শূন্য থেকে ১০০% এ যাবে, তাই কি? হ্যাঁ, প্রায় তাই ঘটে। আমার পরীক্ষায় এটি চার্জ হতে ৩১ মিনিট সময় লেগেছিল।

ওয়ানপ্লাসের ওয়ার্প চার্জ ৫০ ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেমেও গতি বাড়ানো হয়েছে। তবে এর সুবিধা নিতে হলে আপনাকে ওয়ানপ্লাসের নিজস্ব ৭০ মার্কিন ডলার বা ৭০ ব্রিটিশ পাউন্ডের ওয়্যারলেস চার্জিং ডক কিনতে হবে। সেটিও মাত্র ৪৩ মিনিটের মধ্যে ব্যাটারি পুরো চার্জ করে দেয়ার কথা বলে, এবং আমার পরীক্ষায় তা সহজেই হয়েছে। পূর্ববর্তী সংস্করণগুলির মতো ইউএসবি টাইপ-সি কেবলটি চার্জারের ভেতরেই তৈরি করে দেয়া হয়নি, তবে আপনাকে পূর্ণ গতি পেতে ওয়ানপ্লাসের নিজস্ব চার্জিং ব্লক এবং কেবল ব্যবহার করতে হবে।

 

দাম এবং প্রাপ্যতা

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো ৮জিবি / ১২৮ জিবি মডেলের দাম ৯৬৯ ডলার । আর ১২জিবি / ২৫৬ জিবি মডেলের দাম জন্য ১,০৬৯ ডলার। ২৬ মার্চ থেকে এর প্রি অর্ডার শুরু হয়েছে। আর ২ এপ্রিল থেকে বাজারে ছাড়া হবে। যুক্তরাজ্যে ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো-র ৮জিবি/১২৮জিবি মডেলের দাম ৮২৯ ব্রিটিশ পাউন্ড এবং ১২ জিবি/২৫৬ জিবি মডেলের দাম ৯২৯ পাউন্ড। ২৩ মার্চ থেকেই যুক্তরাজ্যের বাজারে এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে।

 

 

আমাদের কথা

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রোতে একটি ওয়ানপ্লাস ফোনে আমি যা চাই তা এবং আমি যা কিছু প্রত্যাশা করেছি এমন সমস্ত কিছুই রয়েছে। এই মুহূর্তে এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল প্রসেসর রয়েছে, সাথে একটি দুর্দান্ত স্ক্রিন, খুবই-মসৃণ এবং নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার, এবং দ্রুত ব্যাটারি চার্জিং রয়েছে। এসবই আমি যা চাই তা এবং ওয়ানপ্লাস তার ঘুমের মধ্যে যা করতে পারে। ক্যামেরাটি পুরোপুরি না হলেও প্রায় প্রত্যাশামাফিক হয়েছে। নকশাটি গ্রহণযোগ্য তবে অনুপ্রেরণামূলক নয়। আর দামটিও আমার প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা বেশি হবে। এসব বিষয় আমি গত এক বছর ধরে ওয়ানপ্লাসের কাছ থেকে আশা করে আসছিলাম। যথারীতি তাই হয়েছে।

আমি ওয়ানপ্লাস ফোনের নির্ভরযোগ্যতা পছন্দ করি। দৈনিক ভিত্তিতে এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ ঝামেলা-মুক্ত। তবে অক্সিজেনওএস এবং শক্তির সংমিশ্রণের অর্থ আপনাকে আজ সবচেয়ে ভালো সামগ্রিক স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা খুঁজে পেতে একটু বেগ পেতে হবে। যাইহোক, ক্যামেরায় হ্যাসেলব্ল্যাডের জড়িত থাকার সুফল এখনই নির্ণয় করা খুব শক্ত। সুতরাং আমি যখন ছবি তুলি তখন উত্তেজনায় মুগ্ধ করে তোলে এমন বিশেষ অতিরিক্ত কিছু নেই এতে। তবে ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়ানপ্লাস নাইন প্রো নিয়ে ওয়ানপ্লাস ভক্তরা খুশি হবেন। ওয়ানপ্লাস এইট প্রো-এর তুলনায় এর ক্যামেরাটি উন্নত। বাকি সব কিছুই শুধু একটু উন্নত। সুতরাং আপনার কাছে এইট প্রো থাকলে সেটা বাদ দিয়ে নাইন প্রো কেনার খুব বেশি কোনো দরকার নেই। তবে আপনি যদি এইট প্রো-র ক্যামেরা দিয়ে হতাশ হয়ে থাকেন তাহলে নাইন প্রো কিনতে পারেন। আর যারা ওয়ানপ্লাসের কমিটেড ভক্ত নন তাদের পক্ষে এটি কেনা আরও কঠিন হবে। কারণ এ বছর অ্যাপল এবং স্যামসাং হয়তো আরো কম দামে এবং আরও ভাল স্মার্টফোন বাজারে আনবে। এরপরও যদি আপনি একটি কিনেই ফেলেন তবে আপনি খুবই সন্তুষ্ট হবেন। কারণ এটি ওয়ানপ্লাসের চেষ্টা-পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য ফোন সূত্র অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। তবে আপনার মনে হতে পারে যে এতে সত্যিই বিশেষ কিছু একটা যেন নাই।

অনুবাদ. মাহবুবুল আলম তারেক

Related posts

সাম্প্রতিক © ২০২১ । সম্পাদক. ব্রাত্য রাইসু । ৮১১ পোস্ট অফিস রোড, বাড্ডা, ঢাকা ১২১২