কভিড-১৯ ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সুপার কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন গবেষকরা

কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার এর জন্য এআই ভিত্তিক সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হবে। আর এ জন্য একযোগে কাজ করবে ফেডারেল এজেন্সি, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান আর টেকজায়ান্টগুলি।


লিসা উইন্টার
দ্য-সায়েন্টিস্ট, ২৭ মার্চ ২০২০


এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে হোয়াইট হাউজ একটি হাই পারফরমেন্স কম্পিউটিং কনসোর্টিয়াম গঠনের ঘোষণা দেয় কভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য। সরকারি এজেন্সি, বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং টেকজায়ান্টের সমন্ব্বয়ে গঠিত এ কনসোর্টিয়ামের কাজ হবে গবেষকদের পূর্ণ সহায়তা দেওয়া। আর এজন্য এআই ভিত্তিক সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হবে যেন সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

এমআইটি, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, এবং নিউইয়র্কের রেন্সেলার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এই তিনটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে কনসোর্টিয়ামে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাসা, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জির রিসার্চ ল্যাবেরেটরি কাজ করবে। আর টেকজায়ান্টদের মধ্যে আছে আইবিএম, গুগল ক্লাউড, মাইক্রোসফট, আমাজন ওয়েব সার্ভিস এবং হিউলেট প্যাকার্ড।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ ‘কভিড-১৯ ওপেন রিসার্চ ডাটাবেইজ’ প্রজেক্ট এর মাধ্যমে সার্স-কভি-২ এর উপর ৪৪,০০০ হাজার এর বেশি আর্টিকেল উন্মুক্ত করে দেয়। যাতে এই আর্টিকেলগুলির ডাটা এআই এনালাইসিসের মাধ্যমে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্যে কাজে লাগানো যায়। তারই পরিক্রমায় হোয়াইট হাউজ থেকে এই কনসর্টিয়াম গঠনের ঘোষণা আসে।

১৬টি সুপার কম্পিউটার বিশিষ্ট এই নেটওয়ার্কে আছে ৩৩০টি পেটাফ্লপস, ৭,৭৫,০০০টি সিপিইউ কোর এবং ৩৪,০০০টি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। বলা হচ্ছে, ১ লক্ষ নতুন ম্যাকবুক প্রো এর সর্বোচ্চ পারফরমেন্সের সমতূল্য এই ১৬টি সুপার কম্পিউটারের পারফরমেন্স। গবেষকরা এই ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করে এআই ভিত্তিক সিমুলেশন চালাতে পারবে এবং কভিড-১৯ ভাইরাসের মিউটেশন এর গতিপ্রকৃতি অনুমান করতে পারবে। যেটা করা সাধারণ কম্পিউটার দিয়ে অত্যন্ত দুরূহ কেননা এই সিমুলেশনে গবেষকদের অসংখ্য ভেরিয়েবল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

আইবিএম রিসার্চের পরিচালক ডেরিও গিল এর মতে, “আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য এখন এর প্রতিষেধক বের করা। আর এই জন্য বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। নষ্ট করার মত কোনো সময় নেই আমাদের হাতে।”

এদিকে এআই কোম্পানি C3.ai  এবং মাইক্রোসফট এর উদ্যোগে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ইন্সটিটিউট (DTI) নামের আরো একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করা হয়েছে প্যানডেমিক মোকাবেলার জন্য। এই দুই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিসার্চ ইন্সস্টিউট যুক্ত আছে এই কনসোর্টিয়ামে। শুরুতে ডিটিআই তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে। যদিও বর্তমানে এখন তাদের সকল মনোযোগ কভিড-১৯ এর দিকে। ইন্সটিটিউটটির পরিচালনায় আছেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এস. শংকর শাস্ত্রী এবং ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় এর ইলেক্ট্রিকাল ও কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক রায়দুর্গম শ্রীকান্ত। নিউইয়র্ক টাইমস এই দুইজনকে এআই সুপারকম্পিউটার বিষয়ে পুরোধা ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করেছে।

টাইমস এর কাছে C3.ai এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও থমাস সাইবেল দাবি করে বলেন, এই উদ্যোগ থেকে ভালো কিছু আসবে না এমন আশঙ্কা শূন্য।

আরো পড়ুন: কোভিড-১৯: বানরের শরীর সার্স-কোভ/সিওভি-২ সংক্রমণে প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি তৈরি করে

ইতোমধ্যে  DTI তাদের সুপার কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য গবেষকদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা শুরু করেছে। DTI মনে করে তারা প্রতিবছর মোট ৫,০০,০০০ ডলার মূল্যমানের অন্তত ২৬ টি গবেষণা সহায়তা প্রদান করতে পারবে। আবেদন করার জন্য মূল গবেষককে অবশ্যই পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য হতে হবে। তবে অন্য সদস্যরা বাইরের হলে অসুবিধা নেই। তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গবেষণালব্ধ ফলাফল DTI পরবর্তীতে পাবলিকের জন্য উন্মুক্ত করে দিবে।

অনুবাদ. আমিন আল রাজী