কোনো বিষয়ে নতুন অভ্যাস তৈরির কথা ভাবলে আগের চেয়ে সহজে আর তাড়াতাড়ি করা যাবে এমন অভ্যাসের কথা ভাবি আমরা। বই পড়ার ক্ষেত্রে  বই পড়ে শেষ করাই শেষ কথা নয়, বই থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই ‘স্পিড-রিডিং’ এর মাধ্যমে কোনো বই শেষ করা সবসময় কাজে দেয় না, বিশেষ করে যদি টেক্সটের ধরন জটিল হয়ে থাকে। এতে বরং আপনার বুঝতে আরো সমস্যা তৈরি হয়।

তাই বলে এমন ভাবার কারণ নাই যে বই পড়া বাড়ানোর অভ্যাস তৈরিতে কোনো রকম কৌশলের কথাই আমাদের জানা নাই।

#০১. খাটে শুয়ে পড়বেন না

আমরা সবাই শুয়ে শুয়ে পড়তে পছন্দ করি। এভাবে পড়তে আরাম লাগে, রিল্যাক্সিং অনুভূতি হয়। কিন্তু দুই মিনিট পর দেখা গেল আপনি ঘুমিয়ে পড়লেন। সেই ঘুম হয়ত ভাঙল চার ঘণ্টা পর—আপনি কনফিউজড তখন, হাতের বইটাও কুঁচকে গেছে।

বই পড়ার অভ্যাস আরো কার্যকরী করে তুলতে চাইলে এখন থেকেই শুয়ে শুয়ে পড়া বাদ দিন।

চেয়ার, সোফা বা ডেস্ক, যেখানেই থাকেন না কেন, পিঠ টানটান রেখে বসে থেকে বই পড়ার চেষ্টা করুন। এমনকি খাটের উপর থাকলেও শুয়ে পড়বেন না। পড়ার সময় শরীরের উপরের অংশ খাড়া অবস্থায় রাখাটা জরুরি।

#০২. একা একা পড়ুন

দরকার হলে বই পড়ার জন্য আলাদা একটা রুম বেছে নিন, যেখানে টেলিভিশনের শব্দ বা ফ্যামিলি মেম্বারদের কথাবার্তা আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনার ডিভাইসটাও বন্ধ রাখুন। ফেসবুক নোটিফিকেশন, টুইটার মেনশন, ইমেইল, স্ন্যাপচ্যাটের নতুন কোনো বন্ধুর পাঠানো স্ন্যাপ বা ইন্সটাগ্রাম লাইক—এসব অনবরত আসতে থাকলে আর পড়া হবে না।

অনলাইনে কানেক্টেড থাকা আমরা এতটাই অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছি যে, দুই পাতা পড়লেই মনে হয়, দেখি তো, ওই পোস্টটাতে কয়টা লাইক পড়ল। শেয়ার করার মত নতুন কিছু মিম আছে কিনা!

#০৩. সম্ভব হলে কাগজের বই পড়ুন

ডিভাইসের স্ক্রিনে ই-বুক পড়ার চাইতে কাগজে প্রিন্ট করা বই পড়লে লেখা বুঝতে ও মস্তিষ্কে সংরক্ষণ করতে সুবিধা হয় বেশি; এটা বিভিন্ন গবেষণা থেকে ইতোমধ্যেই জানা গেছে। তাই যেসব বইয়ের বিষয়বস্তু বেশি বিস্তৃত ও জটিল, সেগুলি প্রিন্টেড ভার্শনে পড়ার চেষ্টা করবেন।

#০৪. দাগ দিয়ে দিয়ে পড়ুন

বই কোনো পবিত্র জিনিস না যে তাতে দাগাদাগি করা যাবে না। এ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসুন। যেসব লাইন ভালো ও স্মরণীয় লাগে অথবা একটু বেশি কনফিউজিং মনে হয়, সেগুলির নিচে দাগ দিন। কলমের খোঁচা দিতে দ্বিধাবোধ করলে পেন্সিল ব্যবহার করুন। এভাবে মার্ক করে আপনি আসলে মস্তিষ্ককে সেসব নিয়ে চিন্তা করার জন্য জোর দিচ্ছেন। ফলে আপনার অবধারণ ক্ষমতা বাড়বে।

#০৫. চিন্তাভাবনা নোট করে রাখুন

দরকার হলে বই পড়ার সময় পৃষ্ঠার ফাঁকা জায়গাগুলিতে নোট করে রাখুন। অনেকদিন পর বইটা খুলে হয়ত নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়াগুলি দেখে নিতে পারবেন।

যে বইটা পড়ছেন সেটার কাগজেই না, আলাদা নোটবুক বা প্যাডেও নোট নিন। এতে করে লেখক ও পাঠকের মধ্যে একটা সক্রিয় লেনদেন ঘটে৷ ফলে লেখকের বক্তব্য বোঝা যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমনি কোনো লেখা সম্বন্ধে আপনি এমন কিছু ভাবনার জন্ম দিতে পারেন যা হয়ত লেখকের উদ্দেশ্যও ছিল না।

#০৬. আবার পড়ুন

একই জিনিস দুই-তিনবার করে পড়লে আপনার পড়ার গতি বাড়বে না ঠিকই, তবে কোনো বই আপনাকে সহজে দিশাহারাও করতে পারবে না। লেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি বাদ দিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কমে যাবে এতে।

#০৭. আওয়াজ করে বা মুখ নেড়ে নেড়ে পড়ুন

জোরে জোরে পড়লে আপনি আঁতেল হয়ে যাবেন না। এতে বিব্রত বোধ করার কিছু নাই; বরং সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, আওয়াজ করে পড়া আপনার ফোকাস ও মনোযোগ বাড়ানোর সহায়ক।

মুখ দিয়ে আওয়াজ করতে গিয়ে আপনি কাজটার সাথে শারীরিকভাবে জড়িত হতে পারছেন।  যে কারণে পড়ার সময় মনোযোগ অন্যদিকে বিক্ষিপ্ত হবে না। ভিন্ন একটি গবেষণা তো এমনটাও বলছে, যে শব্দগুলি আপনি উঁচুস্বরে পড়ছেন, সেগুলি মনে থাকে বেশি। তাই লেখার যে অংশ বেশি জরুরি বলে মনে হয়, সেটা আওয়াজ করে বা মুখ নেড়ে নেড়ে পড়ার চেষ্টা করবেন।

Recommended Posts

1 Comment

  1. ইন্টারেস্টিং


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *