করোনাভাইরাস আক্রান্তদের হজম সংক্রান্ত সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার

গত বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২০) সংবাদ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সিএনএন অনলাইনে করোনা সংক্রান্ত একটি নতুন গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, হজম সংক্রান্ত জটিলতা করোনা ভাইরাসের একটি সাধারণ উপসর্গ।

কোভিড-১৯ এর কনফার্মড ২০০ কেইসে প্রধান অভিযোগ দেখা গেছে—ডায়রিয়া আর খাওয়ায় অরুচি।

এই গবেষণায় আরো বলা হয়েছে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ অফিশিয়াল যা যা চিহ্নিত করেছিলেন—জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট—তার বাইরেও অন্য লক্ষণগুলির প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা শুরুর দিকে ডায়রিয়া, অ্যানোরেক্সিয়া এবং বমির লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারে।

খাবারে অরুচি বাদ দিলেও প্রতি ৫ জনের ১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ডায়রিয়া, বমি বা পেট ব্যথার কারণে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

গুরুতর বা তীব্র করোনাভাইরাস রোগীদের ক্ষেত্রে হজম সংক্রান্ত উপসর্গগুলি আরো স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হজম সংক্রান্ত সমস্যা যাদের ছিল বা আছে তাদের হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করা হচ্ছে না। ‘আমেরিকান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি’তে প্রকাশিত এই গবেষণায় চীনের হুবাই প্রদেশের ২০৪ টি কনফার্মড কেইস স্টাডি করা হয়েছে। এই রোগীদের ৭ জনের হজম সংক্রান্ত সমস্যা ছিল কিন্তু শ্বাস প্রশ্বাস সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল না।

গবেষকরা বলছেন, এই তথ্য নিশ্চিত করতে আরও বড় মাত্রার গবেষণার প্রয়োজন। কিন্তু শুধুমাত্র শ্বাস প্রশ্বাস সংক্রান্ত লক্ষণ দেখে কোভিড-১৯ চিহ্নিত করা হলে, যাদের শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা না দিয়ে হজমে সমস্যা দেখা দেয় তারা বাদ পড়বে। দেখা যাবে শ্বাস প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আর শনাক্ত করা হয়ে উঠবে না।

গবেষকদের মতে, এটা দিয়ে করোনাভাইরাস ছড়ানোর একদম শুরুর দিকে চীনের স্বাস্থ্যকর্মীরা কেন আক্রান্ত হয়েছিলেন তার ব্যাখ্যাও দেওয়া যায়। তাদের মতে, স্বাস্থ্যকর্মীদের যথার্থ সুরক্ষা বা প্রোটেকশনের অভাবের পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা ছাড়া অন্য কোনো সমস্যাকে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত না করার কারণেই এই বিপদ হয়েছে।

সূত্র. সিএনএন