কাজ নিয়ে আরো একটি বিরক্তিকর কথা হলো সহকর্মীকে বলা বা বোঝানো যে আমি সবসময় কাজ করি কিন্তু আপনি কাজ করেন না।

আপনার অধীনস্থ লোকদের দিয়ে বেশি কাজ করাতে চাইলে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে কোন পদ্ধতিতে আপনার লোকেরা ভালো কাজ করে। এবং সেই পদ্ধতি অনুযায়ী তাদের দিয়ে কাজ করাতে হবে।

কাজ কাকে বলে বা কাজের সংজ্ঞা নিয়ে বেশি কথা বলা খুবই হতাশাজনক। কে বেশি পরিশ্রম করছে, কে ভালো কাজ করছে অথবা কে আদৌ কাজ করছে না এসব কথাবার্তা প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের দিয়ে বেশি কাজ আদায় করাতে পারে না। কাজ নিয়ে আরো একটি বিরক্তিকর কথা হলো সহকর্মীকে বলা বা বোঝানো যে আমি সবসময় কাজ করি কিন্তু আপনি কাজ করেন না।

এইক্ষেত্রে সবচেয়ে দরকারি হলো আপনার কাজের ইউনিক একটা স্টাইল এবং আপনার সহকর্মীদেরকে নিজস্ব রকম কাজের স্টাইল খুঁজে পেতে সাহায্য করা।

কাজ করার মৌলিক স্টাইল হলো চারটা—কাজ করা, নেতৃত্ব দেওয়া, ভালোবাসা এবং শেখা।

work style 4

কোনো একটা দল বা প্রতিষ্ঠান কাজের ক্ষেত্রে সেরা হয় এই ৪টা স্টাইল দিয়ে। সেরা সংস্থাগুলিরও এরকম লোক থাকে যারা কাজের স্টাইলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এবং কাজের বৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে। সুতরাং আপনিও আপনার কাজের স্টাইলের ব্যাপারে সচেতন হোন।

১) কাজ করা
যারা কাজ করে তারা কাজের সময় মৃতের মত নীরব হয়ে যায়। কাজ শেষ হলে, লিস্ট চেক করা হয়ে গেলে তারা আবার জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে। তাদের নিজেদের কাজের প্রতি তীব্র ফোকাস থাকে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সবসময়।

যারা কর্মী তারা কাজে এতই ফোকাসড থাকে যে তারা আশেপাশের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারা যেকোনো কাজ শুরু করার আগে কিছুটা চিন্তা করে নেয় কাজ সম্পর্কে বা কীভাবে করবে সে সম্পর্কে। তারা বিশ্বাস করে কাজের ক্ষেত্রে উচিৎ, লক্ষ্য স্থির করা, লক্ষ্যের দিকে নিজেকে তাক করা, লক্ষ্য সম্পূর্ণ করা। তারা কাজের ক্ষেত্রে পরিকল্পনাকে খুব গুরুত্ব দেয়।

২) নেতৃত্ব দেওয়া
নেতৃত্ব প্রদানকারীরা একটি ভিশন তৈরি করে এবং সবাইকে তাতে বিশ্বাস করার জন্য অনুপ্রাণিত করে। ফলে নেতৃত্ব যে দেয় তার কথা আপনাকে শুনতে হয়, মানতে হয় এবং অনুসরণ করতে হয়। নেতৃত্ব দানকারী না থাকলে কোনো ভিশন এবং লক্ষ্য ছাড়া শূন্যে ওঠা চাকার মত আপনাকে বিফলে ঘুরতে হয়।

তারা সাধারণত অন্যদের থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন থাকে, এবং ভিশন সম্পূর্ণ করতে অনেক সময়ই তাদের কাজের সব কিছু বোঝা যায় না। সব সময় সামনে থাকার জন্য কখনো কখনো তারা পিছনের লোকজনের দিকে তাকাতে ভুলে যায়।

৩) ভালোবাসা
যারা ভালোবাসে তারা কাজের ক্ষেত্রে আসলে সম্পর্ক তৈরি করে। “একসাথে আমরা অনেক মজবুত” বা “একতাই শক্তি” এরকম কথায় বিশ্বাস করে তারা সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করে।

যাদের কাজের স্টাইল হলো ভালোবাসা বা সম্পর্ক তৈরি করা তারা খুব স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল হয়ে থাকে। অবচেতনভাবে তাদের সহকর্মীদের ওপর তাদের এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকে। যদি আপনি জানতে চান আপনার সহকর্মীরা কে কেমন আছে তাহলে এই ভালোবাসা প্রদানকারীদের জিজ্ঞেস করুন। তবে তারা বিস্তারিতভাবে কাজ করে থাকে, অর্থাৎ সম্পূর্ণ কাজ করে। অন্যদেরকে তাদের জায়গা থেকে না সরিয়ে তারা সবাইকে কাজের ব্যাপারে উদ্যমী করে তুলতে পারে।

৪) শেখা
যারা শেখে তারা আসলে গবেষণা করে। এ ধরনের কর্মীদের শেখার প্রতি ভালোবাসা থাকে এবং তারা নিখুঁত ভাবে কাজ বা সমস্যার তারতম্য বুঝতে পারে। তারা খোলামেলা, নিয়মানুবর্তী হয় এবং বেশিরভাগ লোকের থেকে পদ্ধতিগতভাবে চিন্তা করে থাকে। তবে বাকিদের ছাড়া তারা একা একা কাজ সমাধা করতে পারে না। তাদের পদ্ধতি এবং কাজের প্ল্যান বাস্তবায়ন করার জন্য সবসময় সক্রিয় একটি দল প্রস্তুত থাকতে হয়। তারা কোনো সমস্যার সমাধান যত ভালোভাবে করে তাদের কাজ সমাধান করার পদ্ধতিও সেরকম ভালো হয়, এটি শুধু তাত্ত্বিকভাবে নয়, বাস্তবিক অর্থেও।

ধর্মতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড থারম্যান বলেছেন, জগতের কী কী দরকার তা জিজ্ঞেস কোরো না। যা তোমাকে প্রাণবন্ত করে তাই জিজ্ঞেস করো এবং তাই করো। কারণ জগতের শুধু প্রাণবন্ত মানুষেরই প্রয়োজন।

সুতরাং, সবাইকে এক পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসুন। কারণ এতে কাজ হয় না। আপনার অনেকগুলি কাজ সম্পন্ন করতে অনেকগুলি মানুষের অনেকগুলি কাজ করতে হবে।

সবারই নিজস্ব শক্তি ও সামর্থ্য আছে এবং অন্যের শক্তি-সামর্থ্যের সংস্পর্শে এলেই তার স্ফূরণ ঘটে। কাউকে “তুমি কাজ করছো না” বলে সমালোচনা বা অভিযোগ করার আগে নিশ্চিত করুন আপনি নিজের বিশেষ অবদানটুকু খুব কার্যকরভাবে দিয়েছেন। আপনাকে যা প্রাণবন্ত করে সেই কাজটিই করুন, যেভাবে করলে প্রাণবন্ত হবেন, ঠিক সেভাবেই করুন।