ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের একটি অঞ্চলে কুকুরদের ধরে ধরে হত্যা করছে সেখানকার বানররা। মহারাষ্ট্রের বিড জেলার লাভুল গ্রাম ও মাজালগাঁও নগরের আশেপাশে অবস্থিত আরো কিছু গ্রামে গত প্রায় এক মাস ধরে এই হত্যাকাণ্ড চলছে। বেশিরভাগ কুকুরকেই উঁচু দালানের ছাদে বা গাছের ওপর তুলে নিয়ে গিয়ে নিচে ছুড়ে ফেলে মারা হচ্ছে। লাভুল গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, এলাকায় আর প্রায় কোনো কুকুরই বেঁচে নেই।

একদল কুকুর মিলে একটা বানরের বাচ্চা মেরে ফেলার পর থেকে এই হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। গত এক মাসে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশো কুকুর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। ভারতের পত্রিকা ও টিভিতে প্রকাশিত বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিওতে বানরদের এই ভয়াবহ কাণ্ড দেখা গেছে। একটি ছবিতে দেখা যায়, দালানের কিনারায় কুকুরছানা হাতে ধরে একটি বানর দাঁড়িয়ে আছে। আরেক ভিডিওর দৃশ্যে একটি মানবশিশুকে বানরদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে স্থানীয় কুকুররা মিলে বানরদের তাড়া করছে।

ছাদে বসে আছে একদল বানর

আশেপাশের এলাকাগুলির আতঙ্কিত বাসিন্দারাও বেশ কয়েকবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে স্কুলে পড়া ছেলেমেয়েদেরকে আক্রমণ করছে উত্তেজিত বানররা। সম্প্রতি একবার ৮ বছর বয়সের এক শিশুকেও তুলে নিয়ে যাচ্ছিল বানররা। কিন্তু গ্রামবাসী সেই বানরকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারাতে ভয় পেয়ে পশুটি পালিয়ে যায়।

লাভুল গ্রামে প্রায় ৫,০০০ মানুষ থাকে। বানরের আক্রমণ শুরু হওয়ার পরপরই তারা বনবিভাগে খবর দেয়। পরে বনবিভাগের কর্মকর্তারা আসলেও তারা কোনো বানরই ধরতে পারেননি।

এদিকে বনবিভাগে জানানোর পরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এলাকার অনেক বাসিন্দারাও কয়েকবার বানরদের হাত থেকে কুকুরদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বানররা পাল্টা আক্রমণ করাতে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এমনকি উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া কুকুরদের বাঁচাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সেখান থেকে পড়ে আহতও হয়েছেন।

বানরদের হাতে দলগতভাবে ঘটা এমন ভয়ংকর ঘটনায় গ্রামবাসীরা নিজেদের, আর বিশেষ করে ছোটদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ের মধ্যে আছে।