টেকনোলজির ক্রমাগত উন্নতির ফলে অনেক জটিল কাজও সহজ হয়ে গিয়েছে। উৎপাদন আর বিপণনের প্রায় সবকয়টা ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির অবদান ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রযুক্তির এই সময়ে বিভিন্ন দেশ তাদের আভ্যন্তরীণ অনেক ক্ষেত্রে টেকনোলজির ব্যবহার বাড়িয়েছে। থাইল্যান্ড এদিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে।

উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্যে থাইল্যান্ড অনেক আগ থেকেই ‘পৃথিবীর রান্নাঘর’ নামে পরিচিত। কৃষিতে জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি। থাইল্যান্ডের জিডিপির সিংহভাগ আসে কৃষি থেকে।

কয়েক বছর ধরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেড়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়ে যাওয়া মানে খাদ্যের চাহিদাও বেড়ে যাওয়া, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন সেই হারে বাড়ছে না।

তাই তা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ দেশ নানান উপায়ের সন্ধানে আছে। উন্নত দেশগুলি খাদ্য ঘাটতি পূরণে প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে বেশি।

বিশ্বের অন্যতম চাল রপ্তানিকারী দেশ থাইল্যান্ড। কৃষিক্ষেত্রে উন্নতির ফলে চালের পাশাপাশি আরো কিছু চমৎকার কৃষিপণ্যও তারা রপ্তানী করছে। থাইল্যান্ডের কাসাভা, আনারস কিংবা টিনজাত টুনা মাছের চাহিদা বিশ্বে অনেক বেশি।

আয়তনের তুলনায় থাইল্যান্ডের মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৩৪ শতাংশ। অন্য দিকে কৃষিতে ব্যবহারের জন্য পানির রিসোর্সও দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা দেশটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় থাইল্যান্ড কৃষিক্ষেত্রে জৈবপ্রযুক্তি কিংবা বায়োটেকনোলজির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

থাইল্যান্ড বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট, ২০১৭ সালে কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা জমা নেয়। মোট ২১৫টি দরখাস্ত জমা পড়েছিল সেখানে। প্রায় সবগুলিই ছিল প্রযুক্তিগত আইডিয়া। এমনকি নির্বাচিত পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নে তারা প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব প্রজেক্ট কৃষি আর খাদ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কোম্পানিগুলিকে সাহায্য করবে।

বর্তমানে থাইল্যান্ড সরকার কৃষিক্ষেত্রে টেকনোলজির ব্যবহার বাড়াতে একটা জাতীয় নীতিমালাও গ্রহণ করেছে ‘ন্যাশনাল পলিসি বায়োটেকনোলজি ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে। উক্ত নীতিমালা অনুসারে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। যেমন:

  • গবাদিপশু ও খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি।
  • আবাদি জমিতে অণুজীবের অস্তিত্ব বাড়াতে জৈব সারের ব্যাপক প্রচলন।
  • খামার বা জমির উচ্ছিষ্টকে বিভিন্ন জৈব ক্ষেত্রে ব্যবহার। এসব বর্জ্যকে জৈব রাসায়নিক পদার্থ, জৈবশক্তি কিংবা বায়োপলিমার ইত্যাদি উৎপাদনে কাজে লাগানো।

থাইল্যান্ডে কৃষি নিয়ে কাজ করা কোম্পানিগুলি অনেক আগ থেকেই কৃষি পণ্যের গুণ আর পরিমাণগত উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদেরকে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে তাদের কৃষকরাও জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠছে।

‘ইডেন এগ্রিটেক’ নামে একটা থাই কোম্পানি বাজারজাত করার সময় ফলমূল টাটকা রাখতে একটি স্প্রে’র উদ্ভাবন করে। এই স্প্রে’র কারণে স্প্রে করা ফলমূল অন্যান্য স্প্রে না করা ফলমূলের তুলনায় প্রায় ১৫ দিন বেশি তাজা থাকে।

কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে থাইল্যান্ড সরকার পাবলিক-প্রাইভেট দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাথেই কাজ করছে। কৃষিপণ্যে ট্যাক্স মওকুফ আর কৃষিক্ষেত্রে কাজ করার জন্য বিদেশীদের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রদান এমনই কিছু পরিকল্পনার উদাহরণ। এসব উদ্যোগ দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হচ্ছে।

সূত্র: থাইল্যান্ড বিজনেস নিউজ

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *