ময়মনসিংহ শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। আমরা স্থানীয়রা শুধু ভার্সিটি নামেই ডাকি। অনেকে আবার শুধু বোটানিক্যাল গার্ডেন হিসেবে চিনে। সেখানে অনেক গাছ আছে, সাধারণ মানুষ যার নামও শোনে নাই কখনো।

জায়গাটা বিশাল। ঘুরে মজা লাগে। প্রায় ১২০০ একর জায়গা নিয়ে এর অবস্থান। বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ বয়ে গেছে। গার্ডেনের ভেতরে প্রায় সব রাস্তাই বাঁধানো।

দুই পাশে ছোট গাছ বড় গাছের সারি। আমার যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো হলুদ বাঁশে সবুজ দাগটানা ব্যাপারটা। ভার্সিটির মেইন গেট দিয়ে ঢুকে কিছু দূর আগালে ডান দিকে বিশাল পুকুর, পুকুরের পাড়ে মসজিদ। আরো সামনে গেলে বাম দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন।

যেই রাস্তার পাশে গার্ডেন তার  ডানদিয়ে একটা রাস্তা আছে, সেটা ধরে গেলে কিছু ভাতের হোটেল, কেন্দ্রীয় মসজিদ।

হোটেলগুলির পাশ দিয়ে রেললাইন গেছে । ভার্সিটির একটা রেলস্টেশনও আছে তবে সেখানে কোনো ট্রেন থামে না এখন। শিক্ষার্থীদের ট্রেনে উঠতে ময়মনসিংহ জংশনে যেতে হয়। শুনেছি এই স্টেশন বন্ধ থাকার একটা ঘটনা আছে। অনেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ট্রেনের এক টিটির দ্বন্দ্ব হয় এবং সেই টিটি নিহত হন। এর পর সারা দেশে ৩৬ ঘণ্টা সব স্টেশন বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে সব স্টেশন খুলে দিলেও খোলে নি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অামবাগানে গেলে একটু বসতে ইচ্ছে করে। দুই পাশে বিশাল ধানক্ষেত আর নীরব রাস্তা। আরও অাছে পেয়ারা বাগান, নারকেল বাগান ।

এবার গেলাম আমরা তিন বন্ধুতে, পুরোনো একটা বাইক নিয়ে। সে কী কাণ্ড! মাটির রাস্তায় দুই মিনিট পর পর স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। পাকা রাস্তায় আবার ঠিকঠাক। শহরের ভেতর দিয়ে যাই নি, গেছি অন্য রাস্তায়, গাড়ির কাগজ ছিল না।

ঢাকা থেকে আসতে মহাখালি বাসস্ট্যান্ড গিয়ে সোনার বাংলা, সৌখিন দিয়ে আসা যায়। তাদের বললেই ব্রিজে নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে অটোতে করে ভার্সিটি। তা না হলে মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে নেমেও ওখানে যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে দুইটা অটো বদলাতে হবে। একটা দিয়ে ব্রিজ পর্যন্ত,  অন্যটায় ভার্সিটি। ট্রেন দিয়ে এলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়েই ট্রেন আসে ময়মনসিংহ জংশনে। সেখান থেকে আবার অটোতে করে আসা যায়।

স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের তালিকা, পিছনে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তন
বোটানিক্যাল গার্ডেনের টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথ
জাম গাছ, পেছনে পানির পাম্প
বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ, হোটেলে যেতে রাস্তা
ভার্সিটির কেন্দ্রীয় মসজিদ
খাবার হোটেল
গার্ডেনের একটি ব্রিজ
শেওড়া গাছ দিয়ে তৈরি গুহার মতো রাস্তা
অর্কিড হাউজ
ক্যাকটাস হাউজ ও চারটি চেয়ার
হাঁটার রাস্তা
বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরা
গার্ডেনের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদ
কৃষ্ণচূড়া ও ব্রহ্মপুত্র
মাটির পথ
বসার জন্যে বেঞ্চ
গাছের সারির ভেতর দিয়ে হাঁটার রাস্তা
ভার্সিটির ভেতর দিয়ে রেললাইন
স্টেডিয়াম
কৃষি মিউজিয়াম
আমবাগানের দুই পাশে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত
গাছ থেকে আম পাড়ছেন এলাকার ভাইয়েরা
আমবাগানের পাশে রাস্তায় শুকানো হচ্ছে ধান
তিন রাস্তার মোড়ে একটি শালিক
মাঠ গবেষণাগার
কৃষিতত্ত্ব খামার
ধানের বীজতলা
একটি লোকের তিনটি ছাগল

 


ইউটিউব ভিডিও – কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *