কোভিড-১৯ এর অ্যান্টিবডি টেস্ট তৈরি করেছেন গবেষকরা 

মাউন্ট সিনহা হেলথ সিস্টেমের গবেষকেরা এমন টেস্ট তৈরি করতে পেরেছেন যার মাধ্যমে কেউ নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিংবা আগে হয়ে থাকলে তা জানা সম্ভব।

এই টেস্টকে বলা হচ্ছে “সেরোলজিকাল এনজাইম-লিংকড ইমিউনোসরবেন এ্যাসে” সংক্ষিপ্তে ‘এলিসা’।

আমাদের রক্তে নিউ করোনা ভাইরাস এর জন্য কোনো অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না তা দেখা এর কাজ। এই নিউ করোনা ভাইরাস যার কারণে আমাদের কোভিড-১৯ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম সার্স-সিওভি-২।


জোনাথন মিন্টজ
ওয়েবএমডি, ২৭ মার্চ ২০২০


রিসার্চাররা বলছেন হেপাটাইটিস বি কিংবা অন্যান্য ভাইরাসের জন্য যেভাবে অ্যান্টিবডি টেস্ট কাজ করে, এলিসা ঠিক একইভাবে কাজ করবে। এটা থেকে জানা যাবে আমাদের ইমিউন সিস্টেম (জীবাণুর বিরুদ্ধে আমাদের যে শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) সার্স-সিওভি-২ এর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল কি না। এমনকি কয়েক মাস আগেও যদি আক্রান্ত হয়ে থাকে—এই টেস্টের মাধ্যমে তা জানা যাবে।

এই টেস্টের মাধ্যমে কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির (প্যানডেমিক) বিপক্ষে বিজ্ঞানীরা অনেক রকম সুবিধা পেতে পারেন। প্রথমত, রিসার্চাররা নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি সঠিক ভাবে জানতে পারবেন। এছাড়াও, যে সব স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯ এর লক্ষণ/উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু টেস্ট করা হয় নি, তারা তাদের এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজে ফিরতে পারবেন যে তাদের শরীর কোভিড-১৯ প্রতিরোধী।

আর এই টেস্ট কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য কনভালেসেন্ট প্লাজমা বলে যে পদ্ধতি আছে তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতিতে ডাক্তাররা সেসব ব্যাক্তির রক্ত সংগ্রহ করেন যারা এই রোগ থেকে সেরে ওঠেছেন। রিসার্চারদের আশা করছেন যারা কোভিড-১৯ এ ভুগছেন এই পদ্ধতিতে তাদের ট্রিটমেন্ট করা যাবে। এলিসা পদ্ধতিতে কাদের শরীরে এই অ্যান্টিবডি আছে তা জানা সম্ভব হবে, এবং তারা চাইলে ব্লাড ডোনেট করতে পারবে।

ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গবেষকদের কোভিড-১৯ এর জন্য কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য উৎসাহিত করছেন। কিন্তু এই প্যানডেমিকের জন্য, সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু ডাক্তারকে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার অনুমতি দেয়া হতে পারে।