কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ

মহামারির এই পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের খেয়াল রাখার জন্যে একজন ডাক্তারের পরামর্শই সবচেয়ে কার্যকরী। স্বাস্থ্য বিষয়ক আমেরিকান ওয়েবসাইট ওয়েব এমডিতে সাইটটির লিড মেডিকেল ডিরেক্টর ব্রুনিল্ডা নাজারিও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে কিছু সময়োপযোগী পরামর্শ প্রদান করেছেন। তিনি একাধারে একজন  ইন্টার্নিস্ট, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ও অ্যাডভান্সড ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে আমেরিকান বোর্ড অফ ওবিসিটি মেডিসিনের পরামর্শদাতা হিসেবে কর্মরত আছেন।

আপনার যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে, তাহলে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়টা আপনার জন্যে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকের সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করুন।

এর বাইরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্যে নিয়মিত ডায়াবেটিসের তদারকি করা আর ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই সময়ে প্রস্তুত থাকার জন্যে ডা. নাজারিওর কিছু পরামর্শ:

  • স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডায়াবেটিসের মাত্রা আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। স্ট্রেসের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, তা ঘন ঘন পরীক্ষা করুন।
  • অতিরিক্ত ওষুধ মজুদ করে রাখুন। যেসব ওষুধ শেষ হয়ে গেছে বা শেষ হওয়ার পথে, সেগুলি এখনই কেনার জন্যে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। ব্যবহার করা না লাগলেও ইনসুলিনের শিশি এবং সিরিঞ্জের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি কিনে রাখুন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে এক সপ্তাহের মত সময় যাতে চালানো যায় এই পরিমাণে প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখুন। যদি বাইরে যেতে না পারেন, তাহলে ফার্মেসি থেকে ডেলিভারি দিয়ে যেতে বলুন কিংবা প্রতিবেশীর কাছে সাহায্য চান।
  • যোগাযোগ রাখুন। পরিচিত মানুষদের সংস্পর্শে থাকলে আপনি মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকবেন। এই সঙ্কটের সময় সবার সাথে যোগাযোগ রাখতে ওয়েবক্যাম, ওয়াইফাই কানেকশন বা যোগাযোগের জন্যে যা যা দরকার, সব ঠিকঠাক রাখুন। হাতের কাছে এইসব সুবিধা না থাকলে অন্তত ফোনটা সবসময় অন রাখুন।
  • সঞ্চয় করে রাখুন। বাসায় প্রচুর পরিমাণে প্রিজার্ভ করে রাখা হিমায়িত ফল এবং শাকসবজি জমা রাখুন। টিনের বাক্স বা ক্যানে রাখা পণ্য প্রিজার্ভ করার জন্যে প্রচুর লবণ বা চিনি দেয়া থাকে। সেই অতিরিক্ত লবণ বা চিনিটুকু খেলে ডায়াবেটিস খারাপ দিকে যেতে পারে। তাই, খাওয়ার আগে এই ধরনের ক্যানড খাবারগুলি ধুয়ে নিন।
  • কার্বস বা শর্করা জাতীয় খাবারের কথা ভুলবেন না। ছোটখাটো শর্করা জাতীয় খাবার হাতের কাছে রাখুন। যদি ডায়াবেটিস অনেক নেমে যায় বা সাধারণ খাবার খাওয়ার মত অবস্থায় না থাকেন তাহলে সোডা, মধু, জ্যাম, জেলি, ক্যান্ডি বা আইসক্রিমের মতো টুকিটাকি খাবার যাতে হাতের কাছে পান তা নিশ্চিত করুন। এগুলি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
  • খাবারের ব্যাপারে ক্রিয়েটিভ হোন। রান্নাঘরে গিয়ে ডায়াবেটিস-বান্ধব বিভিন্ন রেসিপি তৈরির এক্সপেরিমেন্ট করুন। ইন্টারনেটে অথবা ডায়াবেটিক রোগীদের খাবার নিয়ে লেখা বইগুলিতে এই ধরনের প্রচুর রেসিপি পাবেন।
  • দৈনিক ব্যায়াম করুন। এখন যেহেতু নিয়মিত জিমে যেতে পারছেন না বা হাঁটতে বা ব্যায়াম করতে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না, ঘরে বিভিন্ন রকম ব্যায়াম করুন। রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে এবং স্ট্রেস কমানোর জন্য ব্যায়াম আবশ্যক। সুতরাং, শরীরচর্চার জন্যে বাসার একটা জায়গা নির্ধারণ করুন। সেখানে আপনার ব্যায়ামের সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখুন বা নিয়মিত সেখানেই ওয়ার্কআউট করুন। ওয়ার্কআউটের জন্য অনেক ধরনের অ্যাপ্লিকেশন আছে। আপনার জন্যে ভালো এমন অ্যাপ ইনস্টল করে আজই ব্যায়াম শুরু করে দিন।
  • পর্যাপ্ত ঘুমান। নির্বিঘ্ন আর একটানা একটা ঘুম দিয়ে ওঠার জন্যে রাতে ঘুমানোর আগে মেডিটেশন করুন। আর ঘুমানোর আগে ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার, টিভি দেখা ইত্যাদি বন্ধ রাখুন। মন শান্ত রাখার জন্যে সন্ধ্যার পর একটা নির্দিষ্ট সময়ে বাসার তীব্র আলো দেওয়া লাইটগুলি বন্ধ করে দিন। সেই সময় টেবিল ল্যাম্প বা ডিম লাইট অন রাখতে পারেন।
  • সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকুন। সংবাদ খুব দ্রুত পুরনো হয়ে যায়। তাই আপনার এলাকা বা অঞ্চলের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের বিবৃতি আর খবরাখবরের দিকে নজর রাখুন।

সূত্র. ওয়েবএমডি