কাউপক্স ভাইরাসের আদলে নতুন এক ভাইরাস উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা সব ধরনের ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ভাইরাস উৎপাদনের নেতৃত্বে ছিলেন অ্যামেরিকান ক্যান্সার এক্সপার্ট অধ্যাপক ইউম্যান ফং।

নতুন ভাইরাসটিকে কেন্দ্র করে সাজানো ‘সিএফথ্রিথ্রি’ নামক চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে ইঁদুরের দেহে থাকা টিউমার পুরাপুরিভাবে সংকুচিত করে ফেলা গেছে। ২০২০ সাল থেকে ট্রিপল নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার, মেলানোমা স্কিন ক্যান্সার এবং ফুসফুস, অন্ত্র, গ্যাস্ট্রিক ও মূত্রথলির ক্যান্সারের রোগীদেরকে পরীক্ষামূলকভাবে এ চিকিৎসার আওতায় আনা হবে।

অধ্যাপক ইউম্যান ফং

এসবকিছুর দায়িত্বে আছে অস্ট্রেলিয়ান বায়োটেক কোম্পানি ‘ইমিউজিন’। তারা ইতোমধ্যেই উদ্ভাবিত ভাইরাসটি লাইসেন্স করিয়ে নিয়েছে।

তবে ইঁদুরের শরীরে কাজ করেছে বলে যে এটি মানুষের দেহেও একই রকম প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিতভাবে বলে দেওয়া যায় না। কেননা চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন ও অভূতপূর্ব অনেক উদ্ভাবনই হিউম্যান ট্রায়ালের শুরুতে এসে অকার্যকর প্রমাণিত হয়।

কিন্তু অধ্যাপক ফং তাদের উদ্ভাবনের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী, কারণ এর আগে বেশকিছু ধরনের ভাইরাস—যেগুলি নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্যান্সার রোধে সক্ষম, সেগুলি মানুষের ওপর বেশ ভালোই কাজ করছে বলে দেখা গেছে।

নতুন এ চিকিৎসাপদ্ধতিতে ক্যান্সার রোগীদের টিউমারে সরাসরি ভাইরাসটি প্রবেশ করানো হবে। এর ফলে সেখানকার ক্যান্সার কোষে ভাইরাসটি প্রথমে সংক্রমিত হয়ে যাবে৷ তারপর কোষটাকে ধ্বংস করে আবার বের হয়ে আসবে সেই ভাইরাস। এরপর সেটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দেহের বাকিসব ক্যান্সার কোষের ব্যাপারেও সতর্ক করে দিবে, যাতে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার অধীনেই আক্রান্ত কোষগুলিকে ধ্বংস করে ফেলা যায়।

অ্যামেরিকান বিজ্ঞানীরা এর আগে সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার ভাইরাসকে কাজে লাগিয়ে ব্রেইন ক্যান্সারের চিকিৎসা উদ্ভাবন করেছিলেন। সেই ট্রিটমেন্টের সাহায্যে অনেক রোগীর শরীর থেকে ক্যান্সার কোষ একটা লম্বা সময়ের জন্য দূর করে ফেলা সম্ভব হয়েছিল। এর প্রয়োগে কিছু রোগীর টিউমারের সাইজ বেশ খানিকটা ছোট হয়ে যায়। এছাড়া আগে থেকেই সাধারণ চর্মরোগের ভাইরাসকে মডিফাই করে তার সাহায্যে মেলানোমা স্কিন ক্যান্সারের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে৷

প্রোফেসার ফং জানান, “বিশ শতকের প্রায় শুরুর সময় থেকেই এরকম প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল যে ভাইরাস ক্যান্সার ধ্বংস করতে পারে। কারণ সে সময় দেখা গেছে, রেবিসের ভ্যাক্সিন নেওয়ার পর অনেকেরই ক্যান্সার গায়েব হয়ে যেত। সমস্যা হলো ভাইরাসটা যদি ক্যান্সার ধ্বংস করার মতো বিষাক্ত হয় তাহলে সেটা মানুষের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে যাওয়ার চান্স থাকে।”

তবে কাউপক্স ভাইরাস মানুষের জন্য নিরাপদ বলেই প্রমাণিত। তাছাড়া নতুন ভাইরাসটি উদ্ভাবনে এর সাথে ক্যান্সার প্রতিকারী অন্যান্য ভাইরাসেরও সংমিশ্রণ করা হয়েছে৷

সূত্র. নিউজ ডট কম—অস্ট্রেলিয়া

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *