খেজুরে পুষ্টিকর উপাদানের সংখ্যা হয়ত কম, কিন্তু খেজুরের স্বাস্থ্যগত উপকারীতা অনেক বেশি।

date palm 2
স্কেচ: খেজুর গাছ

পৃথিবীর ইতিহাস খেজুর অন্যতম পুরাতন ফল। যীশু খ্রিস্টের জন্মের ছয় হাজার বছর আগে থেকে খেজুর চাষ হয়ে আসছে। ওপরে ওপরে খেজুরকে শুষ্ক দেখালেও আপনি শুকনো অথবা ফ্রেশ যে ধরনের খেজুরই খান না কেন তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণভাবে উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য  দূর করে
খেজুরকে ভালো রেচক পদার্থ বিবেচনা করা হয়। আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ভালো সমাধান হলো খেজুর খাওয়া। আপনি সরাসরি খেজুর খেতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী হলো সারারাত ধরে খেজুর পানিতে ডুবিয়ে রাখা। সকালে উঠে সেই খেজুর খেয়ে ফেলা। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, আর ফাইবার পরিপাক তন্ত্রের জন্য খুবই দরকারী।

হাড় শক্ত ও সুগঠিত করে
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল থাকে। এই মিনারেল হার সুগঠিত করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। খেজুর অস্টেওপরোসিস রোগের ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজে দেয়। খেজুরে সেলেনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং কপার থাকে। এগুলি হাড় সুগঠিত ও শক্ত করে। যাদের বয়স বাড়ছে বা যারা বৃদ্ধ হচ্ছেন তাদের হাড় যেহেতু ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে, তাই তাদের জন্য খেজুর খুব উপকারী।

আন্ত্রিক সমস্যা দূর করে
খেজুরে নিকোটিন থাকে। এই নিকোটিন বিভিন্ন ধরনের আন্ত্রিক সমস্যা দূর করে। খেজুরের এই উপকার পেতে হলে আপনাকে নিয়মিত খেজুর খেতে হবে, ফলে পরিপাকতন্ত্রের অর্গানিজমে তার প্রভাব পড়বে। নিকোটিন ছাড়াও খেজুরে দ্রবণযোগ্য ও অদ্রবণযোগ্য ফাইবার থাকে যেগুলি হজমের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। খেজুরে অ্যামিনো এসিড থাকে, এই অ্যামিনো এসিড হজমের গতি বৃদ্ধি করে ফলে শরীর খাবার থেকে বেশি পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।

অ্যানেমিয়া রোধ করে
খেজুরে প্রচুর আয়রন থাকে। যাদের রক্তে সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য আয়রন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আপনার যদি অ্যানেমিয়া থাকে তাহলে খেজুর খেলে আপনি আয়রন পাবেন এবং খেজুর আপনাকে প্রচুর শক্তি ও স্ট্যামিনা দিবে।

অ্যালার্জি থেকে মুক্তি
মজার একটি বিষয় হলো, খেজুরে অর্গানিক সালফার থাকে। অনেক খাবারেই এটি পাওয়া যায় না। অর্গানিক সালফারের উপকারীতা অসংখ্য। এটি সিজনাল অ্যালার্জি বা অ্যালার্জি ধরনের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। ২০০২ সালে একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যাদের সিজনাল অ্যালার্জি রয়েছে তাদের তাদের জন্য খুবই উপকারী এই অর্গানিক সালফার।

শক্তি বৃদ্ধি করে
খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, যেমন ফ্রুকটোজ, সুক্রোজ ও গ্লুকোজ। এগুলি যারা আলসেমি বোধ করেন বা কাজে উদ্যম পান না তাদের জন্য মারাত্মক উপকারী।

অন্য ফলগুলির তুলনায় খেজুরে পুষ্টিকর উপাদানের সংখ্যা হয়ত কম, কিন্তু খেজুরের স্বাস্থ্যগত উপকারীতা অনেক বেশি।