গন্ধ বা স্বাদের অনুভূতি পাচ্ছেন না—হতে পারে আপনি করোনা ভাইরাসের ‘গোপন বাহক’

অ্যানোসমিয়া

হঠাৎ করে ঘ্রাণশক্তি চলে যাওয়ার লক্ষণকে বলা হয় ‘অ্যানোসমিয়া’ বা ‘হাইপোসমিয়া’। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় রাইনোলজিস্টদের বিবৃতি অনুসারে, কেউ যদি আকস্মিকভাবে ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলে বা তার মধ্যে অ্যানোসমিয়ার লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে হতে পারে সে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত।

সেইসব চিকিৎসকদেরকে সাধারণত ‘রাইনোলজিস্ট’ বলা হয়, যারা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলাদাভাবে নাক ও নাসারন্ধ্র বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্যের রাইনোলজিস্টদের কাছে থাকা তথ্য অনুসারে, অ্যানোসমিয়া দেখা দেয়ার পরে যদি কারো দেহে অন্য কোনো লক্ষণ দেখা না যায়, তাহলেও সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ইতালিতে ডাক্তারি পরীক্ষায় কোভিড-১৯ রোগ ধরা পড়া রোগীদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ জানিয়েছেন তাদের ঘ্রাণশক্তি চলে গেছে। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞরা এই লক্ষণকে অ্যানোসমিয়া বা হাইপোসমিয়া বলছেন।

ব্রিটিশ রাইনোলজিকাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ক্লেয়ার হপকিন্স এবং ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব অটোরাইনোল্যারিঙ্গোলজির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নির্মল কুমার এই বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় রোগীদের শনাক্ত করার জন্যে যথেষ্ট পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হচ্ছে। সেখানকার ৩০ শতাংশ রোগীর মধ্যেই অ্যানোসমিয়া প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা গেছে। তবে যাদের মধ্যে অ্যানোসমিয়ার লক্ষণই প্রধান, তারা সাধারণত গুরুতর রোগী নন।

এই দুই অধ্যাপক জানান, কোভিড-১৯ পরীক্ষায় বিশ্বজুড়ে এমন অনেক রোগীই পাওয়া গেছ, যারা শুধুমাত্র স্বাদ আর ঘ্রাণশক্তি হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত জ্বর অথবা কাশির মত প্রচলিত লক্ষণগুলি দেখা যায় নাই।

বিবৃতিতে বলা হয়, রিপোর্ট অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এর অন্যান্য লক্ষণগুলি বাদে শুধুমাত্র অ্যানোসমিয়া দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেখানে আরো বলা হয়েছে, ইরানে হঠাৎ করেই অ্যানোসমিয়ার লক্ষণ বেড়ে গেছে। এছাড়া আমাদের সহকর্মীদের মধ্যে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং উত্তর ইতালিতে কাজ করছেন, তারাও একই ধরনের রিপোর্ট করেছেন।

যাদের শুধুমাত্র অ্যানোসমিয়া দেখা গেছে, প্রচলিত আর সাধারণভাবে স্বীকৃত অন্যান্য লক্ষণগুলি তাদের মধ্যে দেখা না দেওয়ায় যথাসম্ভব তাদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি। আর পরীক্ষা না করানোয় তাদেরকে আলাদা থাকার পরামর্শও দেয়া হয়নি। এর মানে, তারাও কোনো না কোনোভাবে বিশ্বে করোনা ভাইরাসের এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে দায়ী।

তারা আরো বলেন, আমরা মনে করি অ্যানোসমিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া রোগীরা এই পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে কোভিড-১৯ এর ব্যাপক বিস্তারে সহায়তা করেছে। তারা ভাইরাসটির গোপন বাহক হিসেবে কাজ করছে।

অধ্যাপক কুমার স্কাই নিউজকে জানান, বিশেষত কম বয়সী রোগীদের মধ্যে অতিরিক্ত জ্বর এবং অবিরাম কাশির মতো প্রচলিত লক্ষণগুলি নাও দেখা দিতে পারে। বরং ভাইরাস আক্রমণের ফলে তাদের শুধুমাত্র গন্ধ বা স্বাদের অনুভূতি চলে যেতে পারে।

তার মতে, তরুণদের মধ্যে কাশি আর জ্বরের মতো উল্লেখযোগ্য লক্ষণ না দেখা দেওয়াটা স্বাভাবিক। অথচ তারা স্বাদ বা ঘ্রাণের অনুভূতি হারাতে পারেন। এর অর্থ হচ্ছে, ভাইরাসগুলি তাদের নাকের মধ্যে অবস্থান করছে।

যারা স্বাদ বা ঘ্রাণের অনুভূতি পাচ্ছেন না, এই দুই অধ্যাপক তাদের সাত দিনের জন্যে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে করে ভাইরাসটির আরো সংক্রমিত হওয়া রোধ করা যাবে।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here