এই লেখাটি আপনাকে অফিসে কিংবা বাসায় কম বসে থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করবে। কারণ বসে থাকার স্বাস্থ্যগত দিক খুব ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম বসে থাকলে দেহের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধীরে কাজ করে, আর তাই গবেষকরা দাঁড়িয়ে থাকার উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তাতে মানুষের উপকার হয়।

বর্তমান জীবন-যাপন পদ্ধতিটাই এমন যে, বেশিরভাগ সময় আমাদের বসে থাকতে হয় এবং আমরা অনেকেই প্রতিদিন গড়ে আট থেকে দশ ঘণ্টা বসে থাকি। এমনকি যেসব মানুষ নিয়মিত ব্যায়াম করে তারাও দিনের অধিকাংশ সময় বসেই কাটিয়ে দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যত বেশি সময় বসে কাটায় তত বেশি তার ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অন্যান্য কারণে আয়ু কমতে থাকে। যদি সে নিয়মিত ব্যায়াম করে তবুও তার আয়ু কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

গবেষকরা প্রথম দিকে  একজন মানুষ বসে থেকে কীভাবে রোগাক্রান্ত হতে পারে তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তথ্যটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি ব্রিটিশ জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর সুইডেনের বিজ্ঞানীরা নতুন পরীক্ষা শুরু করে। সেখানে তারা  মানুষের ব্যায়ামের পরিধি, বসে থাকার সময় আর তাতে করে মনস্তাত্ত্বিক ফলাফল বের করে আনার চেষ্টা করেছেন।

এই পরীক্ষায় মূলত বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে দেখাতে চেয়েছেন যে, মানুষের টেলোম্যারে বসে থাকার সময়কাল প্রভাব ফেলে কি না। টেলোম্যার হচ্ছে ছোট ক্যাপের মতো যা ডিএনএর একদম লেজের দিকে থাকে। কোষ যত মৃত্যুর দিকে আগায় এই টেলোম্যার তত ছোট হয়।

অবসন্নতা, অসুখ এবং অন্যান্য কারণে এই কোষগুলির আয়ু তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় এবং অকালেই এরা মৃত কোষে পরিণত হয়। স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থেকে জীবনযাপন করলে মানুষের টেলোম্যারের দৈর্ঘ্য, আর এর আয়ু বা সময়কাল বেড়ে যায়।

সুইডিশ বিজ্ঞানীরা এক দল মানুষের উপর এই পরীক্ষা চালান যারা প্রত্যেকেই বেশ মোটা, বসে থাকার প্রতি আকৃষ্ট এবং তাদের বয়স ৬৮। এরপর তাদের আলাদাভাবে উন্নত ব্যায়ামের নিয়মাবলি আর স্বাস্থ্যসম্মত কিছু জীবনযাপনের উপায় বলে দেয়া হয় যাতে তারা তাদের স্বাস্থের উন্নতি ঘটে।

তাদেরকে কম বসে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এবং অন্যদের তাদের আগের জীবনযাপন চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে, যদিও তাদের বলে দেয়া হয়েছে যাতে তারা তাদের ওজন কমানোর চেষ্টা করেন।

৬ মাস পর দল দুইটি আবার পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। তাদের দৈনিক জীবনযাপন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তাদের। স্বাভাবিকভাবেই যাদেরকে ব্যায়াম করতে বলা হয়েছিল তারা আগের থেকে অনেক বেশি পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু তারা বসে থাকা কমান নি। আর যে দলকে বসে থাকতে বারণ করা হয়েছিল তারা বসে থাকার পরিমাণ কমিয়েছিলেন।

এরপর তাদের টেলোম্যার পরীক্ষা করে দেখা যায় যে যারা কম বসে থেকেছিল তাদের কোষ লম্বা আর তরুণ অবস্থায় রয়েছে। আর যারা ব্যায়াম করেছে কিন্তু কম বসে থাকে নি তাদের টেলোম্যার তুলনামূলকভাবে ছোট হয়ে গিয়েছে।

আসলে এই টেলোম্যারের দৈর্ঘ্যের সাথে ব্যায়ামের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং এটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণিত যে কম বসলে মানবদেহের টেলোম্যারের দৈর্ঘ্য বাড়ে এবং সাথে সাথে আয়ুও বাড়ে।