ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা সড়কের তালতলা ডোলাদিয়া, খাগডহরে হোটেল সিলভার ক্যাসেলের বিপরীত দিকে চর জেলখানার চর। পাশেই একটা ছোট নৌকাঘাট আছে, লোকে চর জেলখানার ঘাট বলে ডাকে। চরে আরেক দিক দিয়ে যাওয়া যায়, তা হলো কাঠগোলা গুদারা ঘাট। সেখান থেকে হাতের বামে যেতে হয়। চর জেলখানায় আছে ওয়েস্টার্ন রিসোর্ট। চর থেকে মানুষ শহরে যায় বিভিন্ন কাজে। কেউ কাজ করতে কেউ সবজি বিক্রি করতে। যারা চর থেকে বাইকে যায় তারা বাইক পাড় করে নৌকা দিয়ে। তাছাড়া সাইকেল ভ্যানও পাড় হয়। চরের ভেতর দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের একটি ছোট নালা ঢুকেছে। সেটার পাড় ধরে সামনে গেলে বেড়ি বাঁধ। নদের সাথেই একটা টিনের চালার মত আছে। সাথে বাঁশ দিয়ে তৈরি বসার বেঞ্চ।

একেক চরের একেক নাম। কাউকে জিজ্ঞেস না করলে ধরার উপায় নেই। সাইন বোর্ড নেই কোনো যে শনাক্ত করা যাবে। তবে সব জায়গাতেই কিছু না কিছু সব্জি আবাদ করা হয়।

নদের পাড়ে কলাই খেত। তা থেকে একটু ভেতরে গেলে চোখে পড়ে লাউ, শিম, ঢেড়স, মুলা, লালশাক ও খিরার খেত। ঋতুভেদে হরেক রকম শস্য। ধানও চাষ হয়।

আমি প্রথম গেলাম ৩০ জুন ২০১৭। চর জেলখানার ঘাট দিয়ে বাইক পাড় করলাম। মাঝিরা সাহায্য করলো। সেখান থেকে টানে উঠে একটা মাটির রাস্তা।

লোকের চলাচলের কারণে সেই রাস্তার মাঝখানের ঘাস মরে গেছে। দুই  দিকে ঘাস আছে। কিছু দূর গিয়ে কিছু বাড়ি দেখতে পেলাম। গৃহস্থ বাড়ি। বাড়ি পাড় হয়ে যেতে যেতে দেখলাম ঢেড়স খেত। বিশাল জায়গা জুড়ে তখন ঢেড়সের ফুল ফুটেছে। কিছু ঢেড়সও হয়েছে। আর কিছু জমিতে হাল চাষ করা হচ্ছে।

আমার চাচাতো ভাই বাপ্পি দেখাল কোন জায়গায় মাছ ধরত বড়শি দিয়ে। পুঁটি মাছ। আমার বাপ-চাচারাও মাছ ধরতে যেত। রঙিন পুঁটি। ছোট বেলায় পুঁটির গায়ে সেই লাল রঙ দেখে জিজ্ঞেস করলে বলতো পুঁটি মাছের বিয়ে হয়েছে, তাই লাল।

যেতে যেতে বেড়ি বাধের রাস্তায় উঠলাম। একটা স্লুইস গেট আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে দেখলাম সব কিছুই সুন্দর লাগছে। দূরের ভিউগুলি আরো বেশি সুন্দর। ফাঁকা মাঠ। কিছু জায়গায় সব্জি চাষ করা। একটা লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মহিষ গোসল করাচ্ছে। কলাগাছে কলা ধরেছে।

রাস্তাটা ছায়ায় ঘেরা। একটা বাড়ির পাশে দেখলাম সাদা রঙের ঘোড়া বাঁধা। আমরা ঘোড়া ধরে ছবি তেলার চেষ্টা করলাম, কিন্তু ঘোড়া কিছুতেই কাছে যেতে দিচ্ছে না, পিছনের পা দিয়ে লাথি মারার চেষ্টা করছে। আমাদের আওয়াজ শুনে বাড়ি থেকে একজন মহিলা বের হয়ে আসলেন। উনি বললেন, কাছে যান কিছু করবে না। মহিলা আমাদের সাহায্য করলেন। মুখের লাগাম ধরে রাখায় ঘোড়াটা শান্ত হয়ে গেল। আমরা ভয়ে ভয়ে দুই একটা ছবি তুলে চলে আসলাম মহিলাকে ধন্যবাদ দিয়ে।

এরপর গেলাম ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭। সব্জি খেত দেখতে। যে জায়গাগুলি সেবার পতিত দেখেছিলাম এবার সেখানে সব্জি চাষ হয়েছে। শিম চাষ বেশি করা হয়েছে। আমি একটা মুলা খেতের পাশে রাখা ভ্যানের ছবি তুলছিলাম এমন সময় দু’জন যুবক বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করল ভ্যানের ছবি তুলছেন!  তার সাথে কথা হল। তার দুইটা খিরা খেত আছে, এখনো খিরা হয় নি। তবে তার ফাঁকে ফাঁকে মুলা সে বিক্রি করছে।

দূর থেকে চর জেলখানার চর
নদ, নৌকা ও ভ্যান
ঘাটে শোয়ানো সাইকেলগুলিতে দুধ বহন করা হয়, পেছনে একটা দুধের ড্রামও আছে
কলাই খেত ও কুকুর
বাইক নিয়ে নৌকার দিকে যাচ্ছেন চালক
মাথায় করে সবজি বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
ভ্যানে কাঁঠাল টানছেন কৃষক
কাঠাঁলের দরদাম হচ্ছে
নালার ওপারে ধইঞ্চা খেত
বেড়ি বাধ
মহিষের গোসল
ঢেড়স খেত
পতিত খেত
নতুন ফসল বোনা
মাছ ধরছে বাচ্চারা
মাছ ধরা হচ্ছে, পাশে ঢেড়শ খেত
নারিকেল গাছে বাঁধা সাদা ঘোড়া
খিরা খেত
বেগুন খেত
খিরা খেতে মিষ্টি কুমড়ার লতা ও ফাঁকে ফাঁকে লাল শাকের গাছ
মুলা খেত
একই খেতে মুলা শাক ও লাল শাকের চাষ
লাউ খেত
শিমের বাগান
বাছুর দুধ খাচ্ছে
লাল শাক খেতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছেন একজন, দুইজন শাক তুলছেন

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *